কোটা আন্দোলন ঘিরে সহিংসতা, কারফিউ, সেনা মোতায়েন, ইন্টারনেট বন্ধ-আরো যা যা ঘটেছে
বাংলাদেশে গত শুক্রবার রাত থেকে জারি করা কারফিউ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। অফিস-আদালত খুললেও নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আলোকে মঙ্গলবার কোটা সংস্কারের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। টানা পাঁচদিন ইন্টারনেট বন্ধ থাকার পর আবার সীমিত আকারে চালু হয়েছে। গত এক সপ্তাহের সহিংসতায় নিহত হয়েছে দেড়শোর বেশি মানুষ, গ্রেফতার হয়েছে সহস্রাধিক। চার দফা দাবি জানিয়েছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
সার সংক্ষেপ
বুধবার এবং বৃহস্পতিবারও বাংলাদেশে কারফিউ বহাল থাকবে এবং এই দুদিন অফিস খোলা থাকবে, তবে নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার
সুপ্রিম কোর্টের দেয়া রায়ের আলোকে কোটা সংস্কার করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে দেশজুড়ে গ্রেপ্তার হাজার ছাড়িয়েছে বলে পুলিশের তথ্যে জানা যাচ্ছে
কোটা আন্দোলন ঘিরে সংঘাত-সহিংসতায় মঙ্গলবার পর্যন্ত অন্তত দেড়শো মানুষের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করতে পেরেছে বিবিসি, আহত হয়েছে কয়েক হাজার মানুষ
টানা পাঁচদিন ধরে ইন্টারনেট বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার রাতে আবার চালু হয়েছে
কারফিউ প্রত্যাহার, নিরাপত্তার ব্যবস্থাসহ সরকারের কাছে চার দফা দাবি জানিয়েছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা
সরাসরি কভারেজ
শুক্রবারের সহিংসতার খবর পত্রিকায় যেভাবে এসেছে
ছবির ক্যাপশান, শনিবারের পত্রিকা
ঢাকা থেকে শনিবার প্রকাশিত সবগুলো সংবাদপত্রে শুক্রবারের ব্যাপক সহিংসতা, বহু মানুষের মৃত্যুর খবর, কারফিউ জারি ও পরিস্থিতি সামলাতে সেনা মোতায়েনের খবর গুরুত্ব পেয়েছে। যদিও হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় বিভিন্নভাবে খবর এসেছে।
কারফিউ জারি করার পর শনিবার সকালে ঢাকার রাস্তায় মানুষের উপস্থিতি ছিল
স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম। কিছু এলাকায় হাতে গোনা কয়েকটি দোকান খোলা দেখা গেছে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সকাল বেলার চিত্র ছিল অনেকটা অন্যান্য দিনের মতই।
শাক-সবজি, মাছ সহ নিত্যপণ্যের ব্যবসায়ীদের সকাল থেকেই বাজারে বসতে দেখা গেছে।
বিভিন্ন এলাকায় রাস্তাঘাটে মানুষের উপস্থিতি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম দেখা
গেছে।
রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা ছিল হাতে গোনা। গণমাধ্যমের গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স বা
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়ি বাদে অন্য গাড়ি ছিল না বললেই চলে। সিএনজি
চালিত অটোরিকশাও ছিল না রাস্তায়।
তবে সব এলাকাতেই রিকশা চলাচল করতে দেখা গেছে।
সকাল থেকে ঢাকার ধানমণ্ডি, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, পল্টন, রাজারবাগ, মগবাজার,
হাতিরঝিল, বাড্ডা, এলাকার কোথাও কোনো ধরনের মিছিল বা সমাবেশ দেখা যায়নি।
তবে রামপুরার পাশে খিলগাও রেলগেটের কাছে রাস্তা আটকে বিক্ষোভকারীদের এক জায়গায়
জড়ো হয়ে থাকতে দেখেন বিবিসি সংবাদদাতা। সেসময় বিক্ষোভকারীদের অনেকের হাতে লাঠি, রড
দেখা যায়।
ধানমণ্ডি, মোহাম্মদপুর সহ বিভিন্ন জায়গায় রাস্তায় আগের দিনের সহিংসতার চিহ্ন
দেখা গেছে। সব জায়গায় রাস্তায় ছড়িয়ে ছিল ইটের টুকরা, রাস্তার ডিভাইডারের ভাঙা রড।
মোহাম্মদপুর, রামপুরা, মহাখালির বিভিন্ন জায়গায় রাস্তায় দেখা গেছে পুড়ে যাওয়া
গাড়ির ধ্বংসাবশেষ।
শাহবাগ, মহাখালি আর সংসদ ভবনের চারপাশে সেনাবাহিনীর অবস্থান দেখা গেছে। সেসব
জায়গা দিয়ে যাওয়া-আসা করা রিকশা, গাড়ির যাত্রীদের পরিচয়পত্র যাচাই করতে দেখা যায়
সেনা সদস্যদের।
ঢাকার মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বর এলাকায়, মানিক মিয়া এভিনিউ, শাহীন কলেজের
সামনের সড়কে সেনা সদস্যদেরচেকপোস্ট দেখতে
পেয়েছেন বিবিসির সংবাদদাতা। সব যানবাহন থামিয়ে তারা যাচাই করছিলেন।
বেলা ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত কারফিউ বিরতি ছিল। এরপর আবার কারফিউ শুরু হয়েছে,
যা রোববার সকাল ১০টা পর্যন্ত চলবে।
নরসিংদীর কারাগারে হামলার পর পালিয়েছে আট শতাধিক আসামী
নরসিংদীর কারাগারে হামলার পর সেখানকার আট শতাধিক কারাবন্দী
পালিয়ে গেছে বলে কারা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বিকাল পৌঁনে পাঁচটার দিকে হাজার হাজার মানুষ নরসিংদী
কারাগারে হামলা চালায়। এরপর তারা কারাগারের দরজা ও লকআপ ভাঙ্গতে শুরু করলে ৮২৬ জন
কারাবন্দী পালিয়ে যায়।
এদের মধ্যে দুজন জেএমবি নারী কয়েদি এবং সাত জন আনসার আল ইসলামের
কয়েদি ছিল। এছাড়া চার শতাধিক বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের বন্দী নেতাকর্মী ছিলেন বলে
জানা গিয়েছে।
শুক্রবার বিকেল পৌনে পাঁচটা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত
কারাগারের ভেতরে এই তাণ্ডব চলে বলে জানিয়েছেন নরসিংদীর জেল সুপার মোহাম্মদ আবুল
কালাম আজাদ।
“ভেতরের অবস্থা ভয়াবহ ছিল। তারা যা পাচ্ছিল তাই ভাঙচুর
করছিল। আমরা জিম্মি হয়ে পড়েছিলাম। পরে কয়েদীরাই আমাদের সাহায্য করে পালাতে। আমরা
কোনভাবে পোশাক বদলে সিভিল ড্রেসে বের হয়ে আসি। আর কতোক্ষণ থাকলে আমাদের মেরেই
ফেলতো,” তিনি বলেন।
মি. আজাদ জানান, শুক্রবার সকাল থেকেই নরসিংদীতে কোটা
সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সমাবেশ, মিছিল চলছিল।
এক পর্যায়ে কয়েক হাজার মানুষ বিকেল চারটার দিকে ভেলানগর
এলাকায় জেলখানা ভবনের দিকে অগ্রসর হতে থাকে।
এসময় তাদের হাতে লাঠিসোটা, হকিস্টিক, রাম দা, পিস্তলসহ
দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ছিল। এক পর্যায়ে পৌনে পাঁচটার দিকে তারা হাতুড়ি দিয়ে মূল ফটকের
লক ভেঙে ফেলে ভেতরে প্রবেশ করতে থাকে।
এসময় পুরো কারাগার জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুর্বৃত্তরা ভেতরে
ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং জেল কর্মীদের থেকে তাদের অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়। এরপর ভেতরে
ঢুকে তারা একে একে লক-আপ ভাঙতে শুরু করে।
চট্টগ্রাম ও রাজশাহী শহরের পরিস্থিতি
চট্টগ্রাম
সারা দেশে সেনাবাহিনী মোতায়েনের
কথা জানানো হলেও বেলা একটা পর্যন্ত চট্টগ্রামের শহরে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি দেখা
যায়নি।
সামাজিক মাধ্যম ও অনলাইন
পোর্টালগুলো বন্ধ থাকায় চট্টগ্রামের অনেকেই কারফিউ জারির কথা জানতে পারেননি বলে
জানান স্থানীয় সাংবাদিক অনুপম শীল।
ফলে সকাল থেকেই বিভিন্ন
পেশার মানুষ সড়কে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বের হন। তবে বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তাদের
সংখ্যা কমতে থাকে।
এদিকে চট্টগ্রামে বেশ
কিছু কলকারখানা খোলা থাকার খবর পাওয়া গেছে।
শহরের বিভিন্ন গলিতে
খাবারের দোকান খোলা হয়েছে এবং এলাকার ভেতরে জনসাধারণের উপস্থিতি দেখা গেছে।
তবে প্রধান সড়কগুলোতে
দোকানপাট বন্ধ রয়েছে।
চটগ্রাম শহরের ভেতরে
গণপরিবহন চলতে দেখা যায়নি। আগে থেকেই বন্ধ ছিল দূরপাল্লার বাস। তবে সীমিত পরিমাণে
স্বল্প দূরত্বের কিছু বাস চলতে দেখা গেছে। এছাড়াও প্যাডেল ও ব্যাটারিচালিত রিক্সা
চলাচল করছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন
পুলিশের কমিশনার সাইফুল ইসলাম, জনসাধারণকে কারফিউ শিথিল
হবার সময় বেরিয়ে জরুরি কাজ শেষ করার এবং বাকি সময়ে ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছন।
এছাড়া কোটা আন্দোলনকারীরা
দুপুর একটার দিকে দুই নম্বর গেট মোড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করলেও সেখানে কাউকে
জড়ো হতে দেখা যায়নি বলে জানান আরেক স্থানীয় সাংবাদিক আব্দুল করিম।
রাজশাহী
শনিবার
বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত রাজশাহীতে কোনো বিক্ষোভ বা সংঘাতের ঘটনা দেখা যায়নি বলে
জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম।
শনিবার
দিবাগর রাত ১২টা থেকে কারফিউ জারি করার ফলে শহরে যান চলাচল এবং দোকানপাট বন্ধ
রয়েছে।
তবে
বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত রাজশাহীতে সেনাবাহিনীর সদস্যদের দেখা যায়নি।
শহরজুড়ে
পুলিশ, বিজিবিসহ একাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যকে
টহল দিতে দেখা গেছে।
হাসপাতাল
কিংবা জরুরি পরিষেবা ব্যতিত কাউকে শহরের দিকে যেতে দেয়া হচ্ছে না।
বিশেষ
করে যে সড়কগুলোতে গত কয়েকদিনে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়েছে, সেখানে যাতায়াতকারীদের তল্লাশি নেয়া হচ্ছে।
এদিকে
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বেলা ১১টায় কোটাবিরোধী শিক্ষার্থীদের
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি থাকলেও সেখানে কাউকে জড়ো দেখা যায়নি।
আশা করছি কারফিউ দিয়ে এই সমস্যার সমাধান করতে পারবো: আইনমন্ত্রী
বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী
আনিসুল হক বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, চলমান সহিংসতা থামানো এবং রাষ্ট্রের
গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো রক্ষা করার জন্য সরকার কারফিউ দিতে বাধ্য হয়েছে।
তিনি বলেছেন, ''যারা কোটা বিরোধী
আন্দোলন করছে তারা এই সহিংসতার সাথে সম্পৃক্ত নয়। তারা এটা পরিষ্কারভাবে এই কথা
জানিয়ে দিয়েছে। আমাদের কাছে আরো পরিষ্কার হয়েছে যে এটা কিছু রাজনৈতিক দলের
সন্ত্রাসীরা তাদের নেতাদের উস্কানিতে এটা করছে।''
“সহিংসতা বন্ধ করার জন্য
এবং জনগণের জানমাল রক্ষা করার জন্য যেটা করার দরকার আমরা সেটা করেছি। আমরা আশা
করছি কারফিউ দিয়ে এই সমস্যার সমাধান করতে পারবো। ”
কারফিউ এমন এক সময়ে জারি
করা হলো যখন পুলিশ, র্যাব এবং বিজিবির সাথে বিক্ষোভকারীদের রক্তাক্ত সংঘাত হয়েছে
টানা চারদিন ধরে। প্রশ্ন উঠেছে, নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
আনতে ব্যর্থ হয়েছে কী না।
আইনমন্ত্রী মনে করছেন, রাস্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী
বাহিনী ব্যর্থ হয়নি।
“সেজন্যই বলা হয়েছে ইন
এইড অব সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তায়)। তারা মোটেও ব্যর্থ
হয় নাই। আমাদের কথা হচ্ছে, যেভাবে কেপিআই গুলো ধ্বংস করেছে এবং জনগণের
ট্যাক্স-এর টাকায় যেসব স্থাপনা বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য করা হয়েছে সেগুলো ধ্বংস
করার চেষ্টা করা হচ্ছে, সেগুলোকে রক্ষা করার জন্য আমরা এটা (কারফিউ) দিতে
বাধ্য হয়েছি,” বিবিসি বাংলাকে বলেন আইনমন্ত্রী।
রংপুরে থমথমে পরিস্থিতি
কারফিউ জারির পর শনিবার সকাল থেকেই
রংপুরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
রংপুরের প্রধান সড়কগুলোতে টহল দিচ্ছে সেনাবাহিনী।
সেখানকার প্রধান সড়কে যান চলাচল দেখা যায়নি বলে জানান
স্থানীয় সাংবাদিক শাহরিয়ার মিম। এছাড়াও শহরের বিভিন্ন মোড়ে সীমিত পরিসরে স্থানীয়
লোকজনকে দেখা গেছে বলে জানান তিনি।
এর আগে শুক্রবার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা
রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সংঘর্ষে রংপুরে তিনজন নিহত হয়।
এছাড়া আগুন দেয়া হয় রংপুর শহরের তাজহাট থানা, ডিবি পুলিশের কার্যালয় এবং একটি উপ-পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে।
এছাড়াও পুলিশ কার্যালয়ে রাখা কিছু গাড়ি লুট করা হয় এবং কয়েকটি গাড়ি সড়কে এনে
আগুন দেয়া হয়।
এসময় ঢাকা ব্যাংকের বুথে ভাংচুর চালায় বিক্ষোভকারীরা।
এদিকে বেলা ১১টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ শহরে সেনাবাহিনী দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক আহসান সাদিক।
এর আগে শুক্রবার সেখানকার সিটি কর্পোরেশন, পিবিআই ভবনসহ একাধিক স্থানে আগুন
দেয়া হয়। ঢাকা- নারায়ণগঞ্জের ঝালকুড়ি এলাকায় শীতল পরিবহনের ২৬টি বাসে অগ্নিকান্ডের
ঘটনা ঘটে।
কোটা আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম আটক
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন-এর অন্যতম কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক নাহিদ ইসলামকে আটক করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
এই আন্দোলনের একজন সমন্বয়ক শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিবিসিকে এক ক্ষুদে বার্তায় জানিয়েছেন যে কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক নাহিদ ইসলামকে শুক্রবার মধ্যরাতে আটক হয়েছে।
বাকি সমন্বয়কদের মাঝে কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে তিনি এখনও নিশ্চিত না বলে জানিয়েছেন।
নাহিদ ইসলামকে যখন আটকের তথ্য জানা যাচ্ছে, অনেকটা কাছাকাছি সময়ে ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় আন্দোলনের দুইজন সমন্বয়কের সাথে সরকারের একটি বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে নাহিদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন না।
তার আগে মি. ইসলাম বিবিসি বাংলাকে বলেছিলেন, ছাত্র হত্যার বিচার না হলে আলোচনার পথ খোলা নেই এবং তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নূর আটক
গণঅধিকার পরিষেদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে আটক
করা হয়েছে বলে তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। শুক্রবার গভীর রাতে তাকে রাজধানীর হাতিরঝিলের
বাসা থেকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী
মারিয়া লুনা।
তিনি জানান, রাত সোয়া তিনটার সময় র্যাব, পুলিশ
ও গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যরা বাসার দরজা ভেঙে ধরে নিয়ে যায়। এ সময় বাসার সিসিটিভি ক্যামেরাও
খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
আটকের সময় বাসা থেকে অন্তত ৭টি মোবাইল ফোন নিয়ে
যাওয়া হয়েছে বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
তবে দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা
রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাকে কোথায় রাখা হয়েছে সেটি নিশ্চিত করতে
পারেনি।
অবিলম্বে মি. নুরের মুক্তির দাবি করেছে গণঅধিকার
পরিষদ। সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক শাকিল উজ্জামান বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘’আইনশৃঙ্খলা
বাহিনী তাকে আটক করলেও কোথায় নিয়ে গেছে তা এখনো জানাচ্ছে না, এটা নিয়ে আমরা
উদ্বিগ্ন।‘’
শুক্রবারে সহিংসতায় সারা দেশে অন্তত ৫৬ জন নিহত
শনিবারের প্রকাশিত জাতীয় পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, সারাদেশে শুক্রবারের সহিংসতায় অন্তত ৫৬ জন নিহত হয়েছে।
এ নিয়ে গত চারদিনের সহিংসতায় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে পত্রিকাগুলো উল্লেখ করেছে। প্রথম আলো পত্রিকা লিখেছে, শুক্রবার ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত তিন দিনে নিহত হয়েছে ১০৩ জন।
শুক্রবার অন্তত ৬৬ জনের মৃত্যুর খবর নিয়ে শিরোনাম করেছে ডেইলি স্টার।
তবে বণিক বার্তায় ৫৮ জনের মৃত্যুর খবর দেয়া হয়েছে।
সমকাল পত্রিকায় বলা হয়েছে, শুক্রবারের সহিংসতায় ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
নিউএজ পত্রিকা ৬৭ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে।
শনিবার সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে সেনাবাহিনীর মোতায়েন
শুক্রবার রাতে কারফিউ জারির ঘোষণার পর শনিবার সকাল থেকে বিভিন্ন স্থানে সেনাবাহিনীর সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে।
ঢাকার বিভিন্ন স্থানে সেনাবাহিনীর চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।
সকাল থেকে ঢাকার বেশিরভাগ রাস্তা ফাঁকা রয়েছে, যানবাহন বা লোক সমাগম দেখা যাচ্ছে না।
সরকারের কাছে 'আট দফা দাবি' কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের
শুক্রবার
মধ্যরাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিনজন প্রতিনিধির সাথে সরকারের তিনজন
প্রতিনিধির একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
যদিও
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় অনুষ্ঠিত ঐ বৈঠক থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট ঘোষণা বা
সিদ্ধান্ত আসেনি।
এ সময়
শিক্ষার্থীরা সরকারের কাছে 'আট দফা দাবি' উত্থাপন করেন।
গণমাধ্যমকে
তারা জানিয়েছেন, এই আট দফা দাবি মানলেই কেবল কোটা সংস্কারের এক দফা দাবি নিয়ে
আলোচনা করতে সম্মত হবেন তারা।
সরকারের
পক্ষে আলোচনায় অংশ নেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী
এবং তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত।
অন্যদিকে
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিরা হলেন সমন্বয়ক সারজিস আলম ও হাসনাত
আব্দুল্লাহ এবং সহ-সমন্বয়ক তানভীর আহমেদ।
তাদের
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, গত কয়েকদিনে হত্যার ঘটনায় দায়ীদের বিচার, উসকানির জন্য
ছাত্রলীগ এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বিচারের আওতায় আনা এবং শিক্ষার্থীদের
ওপর হামলার সময়ে নিষ্ক্রিয় থাকা উপাচার্য ও প্রক্টরের পদত্যাগ।
এছাড়া,
কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের সকল মামলা প্রত্যাহার এবং জড়িতদের ভবিষ্যতে
হয়রানি না করার নিশ্চয়তাও চাওয়া হয়েছে তাদের উত্থাপিত দাবিতে।
বৈঠকের
পর গণমাধ্যমের সাথে কথোপকথনে যৌক্তিক সমাধানের আশাবাদ জানান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
এর আগে বৈষম্যবিরোধী
ছাত্র আন্দোলনের আরেক সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম জানান শনিবারও তাদের ‘শাটডাউন’
কর্মসূচি চলবে।
শুট অ্যাট সাইট হবে: ওবায়দুল কাদের
বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের কারফিউ প্রসঙ্গে বলেছেন “এটা
অবশ্যই কারফিউ। এটা নিয়ম অনুযায়ীই হবে এবং সেটা শুট অ্যাট সাইট হবে”।
অর্থাৎ, দেখা
মাত্রই গুলির নির্দেশের কথা জানিয়েছেন মি. কাদের।
ঢাকায় গণভবনে ১৪ দলের বৈঠকের পর কারফিউ জারি ও সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের একথা বলেন।
তিনি বলেন, “আন্দোলনের
নামে বিভিন্ন জায়গায় হামলা চালানো হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বিটিভি সম্পূর্ণরুপে
পুড়িয়ে দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে”।
তিনি জানান, বৈঠকে ১৪
দলের নেতারা দেশের নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও জনগনের জান-মাল রক্ষায় সারাদেশে
সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের কথা বলেন।
এছাড়াও এই বৈঠকে
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল বর্তমান সংকট উত্তরণে দেশবাসির সহযোগিতা চেয়েছেন
বলেও জানান ওবায়দুল কাদের।
কারফিউ’র পরিপত্র জারি
দেশব্যাপী
কারফিউ এবং সেনা মোতায়েন সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করেছে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়।
এতে বলা
হয়েছে, দেশব্যাপী শান্তি শৃঙ্খলারক্ষা ও জন নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যে বিশেষ
ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ অনুযায়ী আজ হতে সান্ধ্য আইন কার্যকর করা হলো।
জেলা
প্রশাসনের ক্ষেত্রে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং মেট্রোপলিটন এলাকার ক্ষেত্রে পুলিশ
কমিশনার এই প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দেশ বাস্তবায়ন করবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বেসামরিক
প্রশাসনের সহায়তায় সশস্ত্রবাহিনী মোতায়েনের জন্যও তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন
বলে জানানো হয়েছে পরিপত্রে।
কারফিউ
বা সান্ধ্য আইনের সময়সীমা এবং শর্ত কী হবে তাও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ
কমিশনার নির্ধারণ করবেন বলে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের
জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ আহমেদ।
দিনভর সারা দেশে বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ
কোটা সংস্কার ঘিরে চলমান আন্দোলনে শুক্রবারও রাজধানীতে ব্যাপক
ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ হয়েছে। বাস, প্রাইভেটকার,
পিকআপ, মোটরবাইকসহ বেশকিছু পরিবহন অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত হতে দেখা গেছে।
শুক্রবার সারাদেশে ৩৪টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার খবর পেয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
এরমধ্যে ২৯টি ঘটনা ঢাকা মহানগরে। এই আগুনের ঘটনায় বিআরটিএ ভবন, সেতুভবনসহ পাঁচটি
সরকারি ভবন, দুটি বেসরকারি ভবন, একটি থানাও রয়েছে।
বিবিসি বাংলাকে এমন তথ্য জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেল।
জানা গেছে, এর বেশিরভাগ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস আগুন নেভাতে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে এবং
তাদের গাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন দেয়া হয়েছে। গত দুই দিনে ফায়ার সার্ভিসের ৪টি গাড়িতে
আগুন দেয়া হয়েছে। ভাঙচুর করা হয়েছে আরও ১৩টি গাড়ি।
এসব ঘটনায় ১৮ জন অগ্নিনির্বাপন কর্মী আহত হয়েছে। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।
কারফিউ জারি প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে ১৪ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে শেষে গণভবনের সামনে
এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, “সারাদেশে
উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে কারফিউ জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।”
তিনি বলেন,
আন্দোলনকারীদের যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়ার পরও সহিংসতা চালানো হচ্ছে। কোটা
আন্দোলনের ওপর ভর করে যেন কেউ রাজনীতি করতে না পারে সে জন্য সতর্ক আছে সরকার।
বর্তমান পরিস্থিতিতে
দেশবাসীর সহযোগিতা চাওয়ার কথা জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদের
নিরাপত্তার স্বার্থে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
জনগণের
ওপর আরো দমন পীড়নের জন্য সরকার সেনা মোতায়েন করছে বলে মন্তব্য করেছেন বৈষম্যবিরোধী
ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম।
“সরকারকে
সমর্থন না দিয়ে ছাত্রদের পাশে থাকতে” দেশের মানুষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
কারফিউ জারি অবস্থায় কীভাবে তারা কর্মসূচি পালন করবে জানতে চাইলে বিবিসি
বাংলাকে মি. হোসেন বলেন, কারফিউ জারি করার আগেই তারা কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তাই
জনগণ স্বতস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করবে বলে তারা মনে করেন।
সারা দেশে কারফিউ জারি, সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত
কোটা সংস্কার ইস্যুতে
চলমান আন্দোলনে দেশজুড়ে সহিংসতার পর সারাদেশে কারফিউ জারি করে সেনা মোতায়েনের
সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
শুক্রবার রাতে গণভবনে
১৪ দলের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ
হাসিনার প্রেস সচিব নাঈমুল ইসলাম খান।
বিবিসি বাংলাকে তিনি
বলেন, ১৪ দলের বৈঠক শেষে আইন মন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সিদ্ধান্ত কার্যকরে
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা
হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি জানান, সারা
দেশের যে যে জায়গায় সংঘাত সহিংসতার শঙ্কা রয়েছে সে সব জায়গায় বেসরকারি প্রশাসনকে সহায়তা করবে সেনাবাহিনী।
শুক্রবারের সহিংসতায় ঢাকায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ জনে
শুক্রবার ঢাকার যেসব এলাকায় ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়, তার অন্যতম রামপুরা-বনশ্রী। এখানকার
ফরাজী হাসপাতালে নিয়ে আসার পর ১০ জনকে মৃত ঘোষণা করা হয় বলে বিবিসি বাংলাকে
জানিয়েছেন হাসপাতালটির ম্যানেজার রুবেল হোসেন।
সবাই
গুলিতে মারা গেছে বলে জানান তিনি।
তাদের
লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এছাড়া,
আহত হয়ে আরো অন্তত তিনশ জন চিকিৎসা নিয়েছেন ফরাজী হাসপাতালে। তাদের বেশিরভাগই
গুলিবিদ্ধ ছিলেন বলে জানান মি. হোসেন।
কুয়েত
মৈত্রী হাসপাতালের সুপারিনটেন্ডেন্ট মো. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, জোবায়ের
ব্যাপারী নামে একজনকে মৃত অবস্থায়ই হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল।
মি.
মিজান জানান, ৪০ বছর বয়সী জোবায়ের ব্যাপারী পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন বলে জানতে
পেরেছেন তারা।
“পথচারী
হিসেবে সংঘর্ষের এলাকা অতিক্রম করছিলেন তিনি,” যোগ করেন মি. মিজান।
এছাড়া,
অন্তত ৮৯ জন আহতকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে। যাদের মধ্যে পাঁচজন
গুলিবিদ্ধ ছিলেন।
আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা কোটা আন্দোলনকারীদের
কোটা সংস্কার ইস্যুতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের
সংগঠকদের সাথে সরকার আলোচনার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে সংগঠকরা বলছে, এত প্রাণহানির
পর আলোচনার পথ আর খোলা নেই।
শুক্রবার সন্ধ্যায় বিবিসি বাংলাকে বৈষম্যবিরোধী
ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “ছাত্র হত্যার বিচার করা না হলে
আমাদের আন্দোলন অব্যহত থাকবে”।
গত বৃহস্পতিবার ‘কমপ্লিট
শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণার পর এই কর্মসূচিকে ঘিরে দেশজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পরে। এই
হামলায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় মঙ্গলবার থেকে অর্ধ শতাধিকের বেশি মৃত্যুর
ঘটনা ঘটেছে।
টানা দুই দিন শাটডাউন
কর্মসূচির পর পরবর্তীতে শনিবার থেকে কোন কর্মসূচি কি অব্যাহত থাকবে?
এই প্রশ্নে মি. ইসলাম
বিবিসিকে বলেছেন, “আন্দোলনের বিষয়টি আর কোটা সংস্কারে নেই। এই যে
শিক্ষার্থীদের গুলি করে মারা হল, সাধারণ মানুষের ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে, আবাসিক হলগুলো
থেকে আমাদের বিতাড়িত করা হয়েছে আমরা এর বিচার দাবি করছি”।
তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন
আরো চলবে। তবে নতুন কর্মসূচি শিগগিরই জানানোর কথাও বলেছেন তিনি।
আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ার পর বৃহস্পতিবার রাতে আওয়ামী
লীগের পক্ষ থেকে সরকারি চাকরিতে কোটা কমিয়ে ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়।
তবে এই সংগঠক জানিয়েছেন, কোটা সর্বোচ্চ পাঁচ
শতাংশ রাখার ব্যাপারে আগে থেকেই তাদের সুপারিশ রয়েছে। তারা সেই আগের অবস্থানেই
আছে।
এই আন্দোলনে বিএনপি জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক
দল অংশ নিয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
শুক্রবার বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে শিক্ষার্থীদের
বাইরেও অনেককে অংশ নিতে দেখা গেছে।
এই ইস্যুতে অন্তত দুই জন সমন্বয়ক বিবিসি
বাংলাকে বলেছেন, কোন রাজনৈতিক দল যদি তাদের সাথে একাত্নতা প্রকাশ করে তার সাথে
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কোন সম্পৃক্ততা নেই।