সহিংসতার আশংকায় সুরক্ষা প্রস্তুতি চলছে গতকাল থেকেই
নির্বাচনের ফল নিয়ে অশান্তি আর সহিংসতার আশংকায় বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে দোকানপাট, অফিস আদালতে প্রস্তুতি নেয়া শুরু হয়েছে গতকাল থেকেই। তারই কিছু ছবি:
আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
চরম বিভাজন আর তিক্ত প্রচারণা শেষে আমেরিকায় ভোটের দরোজা বন্ধ হতে শুরু হয়েছে। ছয়টি অঙ্গরাজ্যে ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। এগুলো হচ্ছে জর্জিয়া, ইন্ডিয়ানা, কেন্টাকি, সাউথ ক্যারোলাইনা, ভারমন্ট ও ভার্জিনিয়া।
মাসুদ হাসান খান and পুলক গুপ্ত
নির্বাচনের ফল নিয়ে অশান্তি আর সহিংসতার আশংকায় বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে দোকানপাট, অফিস আদালতে প্রস্তুতি নেয়া শুরু হয়েছে গতকাল থেকেই। তারই কিছু ছবি:
যুক্তরাষ্ট্রে এবারের নির্বাচনকে ঘিরে কেন এত রকমের আশংকা- তার কারণ অনেক।
প্রথমত: যুক্তরাষ্ট্রে আর কোন নির্বাচনকে ঘিরে এরকম তীব্র মেরুকরণের নজির আর নেই। খুবই তিক্ত এক রাজনৈতিক পরিবেশে এই নির্বাচন হচ্ছে।
দ্বিতীয়ত: করোনাভাইরাসের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে। এমনিতেই যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন এবং ভোট গ্রহণ ও গণনা পদ্ধতি অনেক জটিল। এবার তা আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
তৃতীয়ত: সাধারণত নির্বাচনের রাতেই যুক্তরাষ্ট্রের ভোটের ফল সম্পর্কে একটা স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়। কিন্তু এবার ডাক যোগে এবং আগাম যে বিপুল সংখ্যাক মানুষ ভোট দিয়েছে, তাতে সেগুলো গণনা করে ফল প্রকাশ বিলম্বিত হতে পারে।
চতুর্থত: এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোন প্রার্থী (ডোনাল্ড ট্রাম্প) সুস্পষ্টভাবে একথা বলতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন যে নির্বাচনে হারলে তিনি ফল মেনে নেবেন।
যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনের ফল এবং ভোট গণনা নিয়ে আইনি লড়াইয়ের নজির আছে। ২০০০ সালের নির্বাচনের মীমাংসা হয়েছিল আদালতে।
এবারও নির্বাচনের ফলকে ঘিরে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে আগে থেকে। সেই সঙ্গে বাড়ছে রাস্তায় সহিংসতার ঝুঁকি। পরিস্থিতি এতটাই উত্তেজনাপূর্ণ যে, যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে অনেক দোকান-পাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আগে থেকেই সব বন্ধ রাখছে সহিংসতার আশংকায়।
নির্বাচনের ভোট গণনা নিয়ে যদি মামলা-মোকাদ্দমা শুরু হয়, তার সম্ভাব্য প্রক্রিয়াটি কী? দেখে নিন নিচের গ্রাফিক্সে:
আমেরিকার ভোট নিয়ে বিবিসি বাংলার লাইভ পেজে আপনি যদি এখনই যোগ দিয়ে থাকেন:
এসব খবর নিয়ে বিস্তারিত জানতে এই লাইভ পেজে স্ক্রল করুন।
যুক্তরাষ্ট্রের দুজন সাবেক এটর্নি জেনারেল ভোটের ফল মেনে না নেয়ার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এদের একজন এরিক হোল্ডার, যিনি প্রেসিডেন্ট ওবামার আমলে এটর্নি জেনারেল ছিলেন। অপরজন মাইকেল মাকাসি, যিনি এটর্নি জেনারেল ছিলেন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশের আমলে।
ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত এক লেখায় এই দুজন বলেছেন, তাদের দুজনের মধ্যে আইন এবং নানা নীতিনির্ধারণী বিষয়ে অতীতে অনেক মতপার্থক্য ছিল। এখনো আছে।
''কিন্তু আজ আমরা একসঙ্গে লিখছি, কারণ আমরা অতীতে যেভাবে একে অন্যের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছি, এখনো তা করে যেতে চাই, যেভাবে অতীতে আমেরিকানরা করেছেন।”
এই লেখায় তারা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে জনগণকে তাদের মত প্রকাশের জন্য বিক্ষোভের স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, তারা যে রাজনৈতিক ফল আশা করেন, সেই ফল না পেলে অন্য নাগরিকদের শান্তি কেড়ে নেয়ার অধিকার তাদের দেয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক নেতারা যাতে সহিংসতায় উস্কানি না দেন বা সমর্থন না করেন, সেই আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেসব মন্তব্য সাম্প্রতিক সময়ে করেছেন, তাতে এরকম আশংকা দানা বাঁধছে যে নির্বাচনে তিনি হেরে গেলে রিপাবলিকানরা হয়তো ফল মানতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয় কামনায় আজ দিল্লিতে পূজায় বসেছেন ভারতে কট্টর হিন্দু ডানপন্থী শিব সেনার সদস্যরা। ফুল চন্দন দিয়ে তার বিজয় কামনা করছেন পূজারীরা। (ছবি তেসরা নভেম্বর ২০২০)
যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনের ফলকে ঘিরে অশান্তি তৈরি হতে পারে এমন আশংকায় অনেক দোকান-পাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এখন থেকেই ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। তারা পিজবোর্ড দিয়ে দোকানের সামনের অংশ ঢেকে দিচ্ছে সম্ভাব্য সহিংসতা এবং হামলা থেকে বাঁচতে।
এরকম বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আছে স্যাকস, ফিফথ এভিনিউ, নোরডস্ট্রম এবং ফার্মেসি চেইন সিভিএস।
ওয়ালমার্ট গত সপ্তাহে জানিয়েছিল, তারা তাদের স্টোরে সাময়িকভাবে আগ্নেয়াস্ত্র এবং গুলি, খোলা জায়গায় প্রদর্শন বন্ধ রাখছে, কারণ তারা ‘গণ অসন্তোষের’ আশংকা করছে। তবে একদিন পর তারা সেই সিদ্ধান্ত বদল করে।
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন নিয়ে বিবিসির উত্তর আমেরিকা সংবাদদাতা জন সোপেলের বিশ্লেষণ:
“তিন ধরণের সম্ভাব্য দৃশ্যপট আমরা দেখতে পারি। এর কোন একটি ঘটলে আমি একটুও অবাক হবো না:
১. জো বাইডেনের সহজ জয়: প্রথম দৃশ্যকল্পে দেখা যেতে পারে জনমত জরিপ ঠিক ছিল এবং জো বাইডেন বেশ সহজে জয়লাভ করেছেন।
২. ট্রাম্পের হতবাক করা জয়: ২০১৬ সালের মতোই জনমত জরিপ ভুল প্রমাণিত হবে এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হবেন। তার জয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে পেনসিলভেনিয়া এবং ফ্লোরিডার ফল।
৩. জো বাইডেনের বিপুল বিজয়:জো বাইডেন কেবল যে জিতবেন তাই নয়, তিনি জিতবেন বিপুল ব্যবধানে- এটাও একটা সম্ভাবনা। ১৯৮০ সালে জিমি কার্টারের বিরুদ্ধে রোনাল্ড রেগ্যানের যেরকম ধস নামানো বিজয়, অনেকটা সেরকম। অথবা ১৯৮৮ সালে মাইকেল ডুকাকিসের বিরুদ্ধে জর্জ বুশের বিজয়।
তবে একেবারে অভাবিত আরেকটি ফল হতে পারে এরকম: যেহেতু নেব্রাস্কার ইলেকটোরাল কলেজ ভোট ভাগাভাগি হয়, কাজেই এমন একটা অবস্থা দাঁড়াতে পারে যেখানে দুই প্রার্থীই সমান সংখ্যক ইলেকটোরাল ভোট পেলেন। যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনে জেতার জন্য ইলেকটোরাল কলেজ ভোটের ম্যাজিক সংখ্যাটি হচ্ছে ২৭০। এই পরিমাণ ইলেকটোরাল কলেজ ভোট পেলেই একজন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী নিশ্চিতভাবে জয়ী হয়েছেন বলে দাবি করতে পারেন। কিন্তু নেব্রাস্কার ভোট ভাগাভাগি হয়ে ট্রাম্প এবং জো বাইডেন দুজনেই ২৬৯টি করে ইলেকটোরাল ভোট পেতে পারেন, এটাও একটা সম্ভাবনা।
আজ পর্যন্ত এরকম ঘটেনি। আমি বলবো এর সম্ভাবনা খুবই কম। কিন্তু একেবারে অসম্ভব বলা যাবে কি? মনে রাখবেন, এটা কিন্তু ২০২০ সাল।”
যুক্তরাষ্ট্রের এবারের নির্বাচনে ৯ কোটি ৯০ লাখ ভোটার এরই মধ্যে তাদের ভোট দিয়ে ফেলেছেন ডাকযোগে বা সশরীরে আগাম ভোটের মাধ্যমে। যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইলেকশন প্রজেক্ট’ নামের একটি সংস্থা এই পরিসংখ্যান সংগ্রহ করেছে।
২০১৬ সালে যত মানুষ আগাম ভোট দিয়েছিলেন, তার চেয়ে এবারে আগাম ভোট দেয়া মানুষের সংখ্যা অনেক অনেক বেশি।
নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, এবার যে হারে আগাম ভোট পড়েছে, তাতে ভোট দানের হার খুবই বেশি হবে, এক্ষেত্রে নতুন রেকর্ডও সৃষ্টি হতে পারে।
আগাম ভোট এত বেশি পড়ার অন্যতম কারণ করোনাভাইরাস মহামারি। অনেকে সশরীরে ভোট কেন্দ্রে ভোট দেয়ার ব্যাপারটি এড়াতে চেয়েছেন করোনাভাইরাস সংক্রমণের শিকার হতে পারেন এমন আশংকায়।
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সময়ের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দানের হার ছিল গড়ে ৬০ শতাংশের কাছাকাছি।
২০১৬ সালে ভোট পড়েছিল ৫৮ দশমিক ১ শতাংশ।
এবছর সবচেয়ে বেশি আগাম ভোট পড়েছে ক্যালিফোর্নিয়া (১ কোটি ২০ লাখ),টেক্সাস (৯৭ লাখ) এবং ফ্লোরিডায় (৮৯ লাখ)।
জরিপে দেখা গেছে, রিপাবলিকানদের চেয়ে ডেমোক্রেটরাই ডাকযোগে ভোট দেয় বেশি। এটি জো বাইডেনের জন্য সুখবর হতে পারে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা করছেন আজ ভোট কেন্দ্রগুলোতে সশরীরে ভোট দিতে তার পক্ষেই জোয়ার তৈরি হবে।
টেক্সাসে গাড়ি চালিয়ে এসে গাড়িতে বসেই ভোট দিয়েছিলেন এরকম ১ লাখ ২৭ হাজার ভোট বাতিলের জন্য রিপাবলিকানদের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন একজন ফেডারেল বিচারক। হিউস্টনের কিছু ‘ড্রাইভ থ্রু’ ভোট কেন্দ্রে এসব ভোট নেয়া হয়েছিল।
হ্যারিস কাউন্টিতে এসব ড্রাইভ থ্রু ভোট কেন্দ্র স্থাপন করা হয় যাতে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সেখানে ভোটাররা সংক্রমণের ঝুঁকি এড়িয়ে ভোট দিতে পারেন।
কিন্তু টেক্সাসের রিপাবলিকানরা হ্যারিস কাউন্টির ক্লার্ক ক্রিস হলিন্সের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন যে তিনি নির্বাচনী আইন ভেঙে এরকম ভোট কেন্দ্র স্থাপন করেছেন।
তবে ফেডারেল আদালতের বিচারক রায় দিয়েছেন যে টেক্সাসের আইন অনুযায়ী এরকম ‘ড্রাইভ থ্রু’ ভোট কেন্দ্র অবৈধ নয়।
শুরু হয়ে গেছে ভোট।
পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ভারমন্টে স্থানীয় সময় সকাল পাঁচটায় ভোট কেন্দ্র খুলেছে।
ভারমন্টে ১৯৯২ সাল থেকে সবসময় ডেমোক্র্যাটরা জিতে এসেছে। সেখানে সাধারণত প্রতিটি কাউন্টিতে ডেমোক্র্যাটরাই জয়ী হয়। যদিও ২০১৬ সালে একটি কাউন্টিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প জিতেছিলেন।
এবছর ভারমন্টে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পাশাপাশি গভর্নর নির্বাচনের জন্যও ভোট হচ্ছে। বর্তমান গভর্নর রিপাবলিকান দলের ফিল স্কট বেশ জনপ্রিয়। তবে ফিল স্কট প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একজন সরব সমালোচক।
তার প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন ডেমোক্রেটিক লেঃ গভর্নর ডেভিড জাকারম্যান। তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হওয়া বার্নি স্যান্ডার্সের সমর্থক ছিলেন।
আমেরিকায় ভোট গ্রহণের চূড়ান্ত পর্যায় শুরু হচ্ছে আর কিছুক্ষণের মধ্যেই। প্রেসিডেন্ট পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রিপাবলিকান দলের পক্ষে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আর তার ডেমোক্র্যাট প্রতিপক্ষ হলেন জো বাইডেন, যিনি বারাক ওবামার শাসনামলে ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছেন।
ইতোমধ্যেই ভোট দিয়ে দিয়েছেন প্রায় দশ কোটি আমেরিকান।
প্রথম ভোটগ্রহণ শেষ হবে আমেরিকার পূর্বাঞ্চলে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছটায় (রাত ১১টা জিএমটি)। সবশেষ ভোটগ্রহণ সমাপ্ত হবে আলাস্কায় জিএমটি সময় বুধবার ভোর ছয়টায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হতে হলে প্রার্থীকে আসলে দু'ধরণের ভোট জিততে হয়। একটি হচ্ছে 'পপুলার' ভোট বা সাধারণ ভোটারদের ভোট।
আরেকটি হচ্ছে 'ইলেকটোরাল কলেজ' নামে এক ধরণের নির্বাচকমণ্ডলীর ভোট।নির্বাচনের প্রার্থীরা আসলে এই ইলেকটোরাল ভোট জেতার জন্যই লড়াই করেন।
মোট ইলেকটোরাল ভোটের সংখ্যা ৫৩৮, জিততে হলে প্রয়োজন ২৭০টি ভোট।
আজ চূড়ান্ত ভোট গ্রহণ পর্ব থেকে শুরু করে আগামীকাল বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা পর্যন্ত (ভারতীয় সময় রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত) আমরা আমেরিকার নির্বাচন সংক্রান্ত খবরের আপডেট, বিশ্লেষণ, ট্রেন্ড ও ভিডিও আপনাদের কাছে পৌঁছে দেব এই লাইভ পাতায়। থাকবে আমেরিকা থেকে নির্বাচন সংক্রান্ত ঘটনাবলীর খবর ও বিশ্লেষণ। তাজা খবরের জন্য চোখ রাখুন এই পাতায়।