আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন

আমাকে মূল ওয়েবসাইটে/সংস্করণে নিয়ে যান

এই ডেটা-সাশ্রয়ী সংস্করণ সম্পর্কে আরও জানুন

আমেরিকা প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ফলাফল ২০২০: ছয় রাজ্যে শেষ হলো ভোট

চরম বিভাজন আর তিক্ত প্রচারণা শেষে আমেরিকায় ভোটের দরোজা বন্ধ হতে শুরু হয়েছে। ছয়টি অঙ্গরাজ্যে ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। এগুলো হচ্ছে জর্জিয়া, ইন্ডিয়ানা, কেন্টাকি, সাউথ ক্যারোলাইনা, ভারমন্ট ও ভার্জিনিয়া।

সরাসরি কভারেজ

মাসুদ হাসান খান and পুলক গুপ্ত

  1. আমেরিকার কোন কোন রাজ্যে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। এই নির্বাচনের আরও খবরাখবর আজ সারাদিন ধরে থাকবে বিবিসি বাংলার এই লাইভ পেজে। আপনাদের কাছে খবর ও বিশ্লেষণ পৌঁছে দেবেন সহকর্মী আহারার হোসেন এবং সায়েদুল ইসলাম।

  2. পর্যবেক্ষকদের নজর ফ্লোরিডা আর জর্জিয়ার দিকে

    এ্যান্টনি যুর্কার, বিবিসি নর্থ আমেরিকা রিপোর্টার

    নির্বাচনে জিততে হলে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফ্লোরিডা এবং জর্জিয়ায় জিততেই হবে।

    এই দুটি রাজ্যে জয় পাওয়াটা জো বাইডেনের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ফ্লোরিডা থেকে এখন পর্যন্ত যে ফলাফলের আভাস আসছে - তাকে 'মিশ্র' বলা যায়।

    বাইডেন যদি এ দুটি রাজ্যের অন্তত একটিতে জিততে পারেন, তাহলে হয়তো বেশ আগেভাগেই তার প্রেসিডেন্ট হওয়া নিশ্চিত হয়ে যেতে পারে।

    অন্যদিকে যদি ট্রাম্প এ দুটি রাজ্য নিজের হাতে রাখতে পারেন - তাহলে পর্যবেক্ষকদের নজর ঘুরে যাবে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর, নর্থ ক্যারোলাইনা এবং মধ্য-পশ্চিমের শিল্পকারখানা-সমৃদ্ধ রাজ্যগুলোর দিকে।

  3. কখন ফলাফল জানা যাবে? রেজাল্ট নিয়ে আপত্তির সম্ভাবনা কতটা?

    যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প নাকি জো বাইডেন, কে বিজয়ী হয়েছেন, সেটা জানতে কয়েকদিন, এমনকি কয়েক সপ্তাহও লেগে যেতে পারে।

    সাধারণত ভোটের পরদিন ভোর হতে হতেই কে বিজয়ী হতে যাচ্ছেন তা স্পষ্ট হয়ে যায়। তবে কোন কোন সমং ভোটগণনা শেষ হতে কয়েকদিনও লেগে যেতে পারে।

    ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৬ সালের ভোটের পর নিউইয়র্কে তার বিজয়ীর ভাষণ দিয়েছিলেন ভোররাত তিনটের দিকে, উল্লসিত সমর্থকদের সামনে একটি মঞ্চে দাঁড়িয়ে।

    তবে কর্মকর্তারা ইতোমধ্যেই হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন যে এবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল জানতে হয়তো কয়েক দিন বা সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

    এর কারণ - এবার ডাকযোগে দেয়া ভোটের সংখ্যা অনেক বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    সবশেষ যে নির্বাচনে ফলাফল পেতে দেরি হয়েছিল তা হলো ২০০০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন।

    সেবার রিপাবলিকান প্রার্থী জর্জ বুশ ও ডেমোক্র্যাট অ্যাল গোরের মধ্যে এত তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল যে তা নিয়ে শুরু হয় কয়েক সপ্তাহব্যাপী আইনী যুদ্ধ, যার পরিণামে ফ্লোরিডা রাজ্যের ভোট পুনর্গণনা করতে হয় এবং ব্যাপারটা সুপ্রিম কোর্টে গড়ায়।

    অবশেষে মি. বুশকে জয়ী ঘোষণা করা হয়, ফলে তিনি ফ্লোরিডার ২৫টি ইলেকটোরাল ভোট পেয়ে যান। তাতে তার মোট ইলেকটোরাল ভোট দাঁড়ায় ২৭১ এবং বিজয় নিশ্চিত হয়। মি. গোর পপুলার ভোট বেশি পেলেও পরাজয় স্বীকার করে নেন।

  4. ভোটের সময় যেসব রাজ্যের ওপর নজর রাখতে হবে

    • নর্থ ক্যারোলাইনা- ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার কথা ছিল স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়। কিন্তু এখন তা ৪৫ মিনিট পিছিয়ে গেছে। সেখানে কেন্দ্রে পড়া ভোট গণনা থেকে একটা ধারণা পাওয়া যাবে। ২০১৬ সালের নির্বাচনে এই রাজ্যে অল্প ভোটে জিতেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার ফলাফল কোন দিকে যায় সেটা বলা কঠিন। ফলে এই রাজ্যে এবার ডোনাল্ড ট্রাম্প কিংবা জো বাইডেন - যিনি বিজয়ী হবেন, তার জন্য সেটা শুভ সূচনা হতে পারে।
    • ফ্লোরিডা-ভোটগ্রহণ শেষ হবে স্থানীয় সময় রাত আটটায়। এটি একটি ব্যাটলগ্রাউন্ড রাজ্য। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই রাজ্যে দুই দলেরই জয় পরাজয়- দুটোই ঘটেছে। এবং এবারও সেরকম হতে পারে।
    • অ্যারিজোনা - ভোট কেন্দ্র বন্ধ হবে স্থানীয় সয় রাত ন'টায়। সেখানে পোস্টাল ভোটের গণনা ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। ২০১৬ সালের নির্বাচনে এই রাজ্যে জয়লাভ করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু এবার সেখানে জনমত জরিপে জো বাইডেন সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।
    • ওহাইও- চূড়ান্ত ফলাফল হয়তো ২৮শে নভেম্বর ঘোষণা করা হতে পারে।ওহাইও শুধু ব্যাটলগ্রাউন্ড রাজ্য নয়, কে প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন- এই রাজ্যের ফলাফল থেকে এর আগে তার ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।
    • পেনসিলভেনিয়া - ভোট কেন্দ্র বন্ধ হবে রাত আটটায়। কে হোয়াইট হাউসে যাচ্ছেন তার রাস্তা তৈরিতে সাহায্য করবে এই রাজ্যের ফলাফল। এখানে জো বাইডেনের জন্ম। আবার একই সাথে ২০১৬ সালের নির্বাচনে এই রাজ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প জয়ী হয়েছিলেন।
    • উইসকনসিন এবং মিশিগা- ভোটগ্রহণ চলবে রাত নটা পর্যন্ত। আগের নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটন উইসকনসিন রাজ্যে অল্প ভোটে পরাজিত হন। তবে এবারের কিছু জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে জো বাইডেন এগিয়ে আছেন। কিন্তু লড়াইটা হাড্ডাহাড্ডি হবে বলেই মনে হচ্ছে।প্রতিবেশী মিশিগানও আরেকটি সুইং স্টেট। এই রাজ্যে জয় পাওয়া বাইডেন এবং ট্রাম্প –দুই শিবিরের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
  5. পূর্বাভাস: ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প জিতবেন

    ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প জিতবেন বলে পূর্বাভাস দেয়া হচ্ছে।

    ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের নিজ রাজ্য এই ইন্ডিয়ানায় ঐতিহ্যগতভাবেই রিপাবলিকানরা জিতে আসছে।

    তবে ২০০৮ সালে ডেমোক্র্যাট বারাক ওবামা এখানে সামান্য ব্যবধানে জিতেছিলেন।

    ইন্ডিয়ানায় ইলেকটোরাল ভোটের সংখ্যা ১১।

  6. যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচন ২০২০: এখন পর্যন্ত কী কী ঘটেছে

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০২০ নিয়ে বিবিসি বাংলার লাইভ পেজে যদি আপনি এই মাত্র যোগ দিয়ে থাকেন, তাহলে আপনাকে স্বাগতম। এখানে দেখে নিতে পারেন এ পর্যন্ত ভোটের প্রধান খবরগুলো:

    • ছয়টি অঙ্গরাজ্যে ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। এগুলো হচ্ছে জর্জিয়া, ইন্ডিয়ানা, কেন্টাকি, সাউথ ক্যারোলাইনা, ভারমন্ট ও ভার্জিনিয়া। এই রাজ্যগুলোর মোট ইলেকটোরাল কলেজ ভোটের সংখ্যা ৬০।
    • নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যে ভোটের ফল জানতে অন্তত: ৪৫ মিনিট দেরি হবে – কারণ চারটি স্থানে ভোট শুরু হতে দেরি হওয়ায় কর্মকর্তারা সেখানে ভোট দেবার শেষ সময় পিছিয়ে দিয়েছেন।
    • ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন এখন জনমত জরিপে এগিয়ে আছেন - তবে কয়েকটি রাজ্যে ট্রাম্প ও বাইডেনের মধ্যে ব্যবধান খুবই সামান্য । ফলে এগুলো নির্বাচনের ফলাফলের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
    • দুই প্রার্থীই নির্বাচনের দিনটিতে বিভিন্ন জায়গায় সফর করেছেন। মি. ট্রাম্প ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করেছেন । অন্যদিকে জো বাইডেন গিয়েছিলেন পেনসিলভেনিয়ায় তার শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত শহর স্ক্র্যানটনে।
    • এবারের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ভোটার ভোট দেবেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে অঙ্গরাজ্যগুলোর ভিন্ন ভিন্ন নিয়মের কারণে নির্বাচনের রাতেই হয়তো সব রাজ্যের ভোটগণনা শেষ হবে না।
  7. ছয়টি অঙ্গরাজ্যে ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে

    যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি রাজ্যে কিছুক্ষণ আগে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০২০-র ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে।

    এগুলো হচ্ছে জর্জিয়া, ইন্ডিয়ানা, কেনটাকি, সাউথ ক্যারোলাইনা, ভারমন্ট ও ভার্জিনিয়া।

    এই রাজ্যগুলোর মোট ইলেকটোরাল ভোটের সংখ্যা ৬০।

    এর মধ্যে বিশেষ করে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ফলাফলের দিকে বিশ্লেষকরা বিশেষ আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছেন – কারণ এটি একটি ‘ব্যাটলগ্রাউন্ড স্টেট’, যেখানে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের মধ্যে তীব্র লড়াই হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    জর্জিয়ার ইলেকটোরাল ভোটের সংখ্যা ১৬।

    আজ সবার আগে ভোটগ্রহণ শেষ হয় ইন্ডিয়ানা ও কেনটাকি অঙ্গরাজ্যের কিছু কিছু অংশে।

    কেনটাকি অঙ্গরাজ্যের ওই অংশগুলোতেসন্ধ্যার দিকেও ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গিয়েছিল কেন্দ্রগুলোতে। আর ইন্ডিয়ানা হচ্ছে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের নিজ রাজ্য।

    দুটিই ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকান অঙ্গরাজ্য এবং এ’দুটিতেই ট্রাম্প জিতবেন বলে মনে করা হয়।

  8. যুক্তরাষ্ট্রের 'বাংলা টাউনে' ভোটের সকাল

    সাইফুল আজম সিদ্দিকী, মিশিগান থেকে

    মিশিগানের ছোট্ট একটি শহর হ্যামট্রামক। এই শহরে এত বাংলাদেশী থাকেন যে এর নাম হয়েছে বাংলা টাউন। শহরের বাসিন্দাদের অধিকাংশই ইমিগ্র্যান্ট। কেমন চলছে সেখানকার ভোট? জানাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা এহসান তাকবিম ববি।

  9. ইন্ডিয়ানা ও কেনটাকি রাজ্যের কিছু অংশে ভোটগ্রহণ শেষ হলো

    ইন্ডিয়ানা ও কেনটাকি অঙ্গরাজ্যের কিছু কিছু অংশে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে।

    কেনটাকি অঙ্গরাজ্যের ওই অংশগুলোয় কেন্দ্রগুলোতে সন্ধ্যার দিকেও ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গিয়েছিল ।

    ইন্ডিয়ানা হচ্ছে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের নিজ রাজ্য।

    দুটিই ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকান অঙ্গরাজ্য এবং এ’দুটিতেই ট্রাম্প জিতবেন বলে মনে করা হয়।

  10. নর্থ ক্যারোলইনায় দু'পক্ষই সমান শক্তিমান

    শ্যামল কুমার দাস, নর্থ ক্যারোলাইনা থেকে

    এখানকার একটি প্রধান শহর গ্রীনসবোরো। শহরের স্থানীয় একটি টিভি চ্যানেলের সাথে আজ এক সাক্ষাৎকারে জো বাইডেন বলেছেন, তিনি নর্থ ক্যারোলাইনায় জয়ের ব্যাপারে ‘খুব কনফিডেন্ট নন’ যদিও তিনি ‘ভালো বোধ’ করছেন এ বিষয়ে।

    তার এই অবস্থানের ব্যাখ্যা দিতে যেয়ে তিনি বলেন, এর আগে তিনি মোট ছয়টি নির্বাচন করেছেন।

    কিন্তু কোন নির্বাচনেই চুড়ান্ত ফলাফলের আগে তিনি কখনোই ‘কনফিডেন্ট’ থাকেন না।

    এদিকে, এখানকার স্পেকট্রাম নিউজের টিভি চ্যানেলের এক খবরে দু’জন ভোটারের মতামত তুলে ধরা হয়েছে।

    জাকারিয়া এথরিজ নামের একজন ভোটার মি. বাইডেনকে ভোট দিয়েছেন, যিনি মনে করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘কালচারাল কমপিটেন্সী’ প্রোগ্রামগুলো বন্ধ করে দিয়ে প্রমাণ করেছেন যে তিনি বর্ণবাদী।

    অন্যদিকে সিস্টেমিক বর্ণবাদ যে একটি সমস্যা মি. বাইডেন তা স্বীকার করেন, বলেন মি. এথরিজ।

    ওদিকে আরেকজন ভোটার ট্রেল নরফ্লিট মি. ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছেন বলে জানান।

    তার মতে, কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠী প্রেসিডেন্টের সাথে আছেন।

    তারা প্রেসিডেন্টের জাস্টিস রিফর্মস সহ অন্যান্য সংস্কারমূলক কাজের সাথে আছেন বলে জানান।

    তিনি মনে করেন, সব জীবনই মূল্যবান; কোন একটি বিশেষ গ্রুপকে আলাদা করা ঠিক নয়।

  11. মিশিগানে কে জিতবেন তা এখনও অনিশ্চিত

    সাইফুল আজম সিদ্দিকী, মিশিগান থেকে

    ব্যাটলগ্রাউন্ড স্টেট হিসেবে মিশিগানের গুরুত্ব প্রতিটি নির্বাচনেই দেখা যায়। কিন্তু গতবার এরাজ্যে রিপাবলিকানরা জিতলেও এবার কী হবে তা বলা কঠিন। ভোট শুরু হওয়ার পর কেন্দ্রগুলেতে গিয়ে যা দেখতে পেলাম:

  12. হোয়াইট হাউসে ভোটের রাতে ট্রাম্পের "ওয়ার রুম"

    হোয়াইট হাউসের ভেতরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাচনী কর্মকর্তারা একটা ‘ওয়ার রুম’ – বা ‘যুদ্ধকালীন নিয়ন্ত্রণ কক্ষে’র মত একটা কেন্দ্র বসিয়েছেন – যেখান থেকে নির্বাচনী পরিস্থিতির নিয়মিত খবর প্রেসিডেন্টকে জানানো হবে।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্বাচনের পুরো দিনটা হোয়াইট হাউসেই থাকবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

    এই কক্ষের ওয়াইফাই, কম্পিউটার ইত্যাদি যন্ত্রপাতির খরচ ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার তহবিল থেকেই দেয়া হবে বলে সিএনএন জানিয়েছে।

    এর আগে যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের রাতটি হোয়াইট হাউসেই কাটিয়েছিলেন – তিনি হলেন জর্জ ডব্লিউ বুশ।

    তখনও নির্বাচনী খবর পাবার জন্য হোয়াইট হাউসের একটি ঘরে কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল।

    মি. বুশ ওই ঘরের নাম দিয়েছিলেন ‘বাদুড়ের গুহা’, এবং মাঝে মাঝেই তিনি ভোটের ফলাফল জানতে ওই ঘরে ঢুকতেন।

    ওয়াশিংটন থেকে বিবিসির টারা ম্যাককেলভি জানাচ্ছেন, হোয়াইট হাউসে একটি ‘নির্বাচনী রাতের পার্টি’ হবে এবং এ জন্য কয়েকশ' অতিথি আসবেন।

    এটিও সেপ্টেম্বর মাসের রোজ গার্ডেন পার্টির মতোই একটি করোনাভাইরাস ছড়ানোর ‘সুপার স্প্রেডার’ পার্টি হয়ে ওঠে কিনা – তা নিয়ে অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

    তবে সেখানে ঢোকার আগে অতিথিদের কোভিড টেস্ট করা হবে বলে জানা গেছে।

    বিবিসির সংবাদদাতা দেখেছেন – হোয়াইট হাউসে যারা যাচ্ছেন সবারই মুখে মাস্ক পরা।

  13. জেনে নেয়া যাক দুই প্রার্থী ট্রাম্প ও বাইডেন সম্পর্কে

  14. ভোটারদের ফোনে উড়ো কল: 'বাড়িতে বসে থাকুন'

    ‘বেশ কিছু অঙ্গরাজ্যে লোকজনের ফোনে স্বয়ংক্রিয় কল আসছে, এবং তাতে তাদের ভোটের দিন ঘরে বসে থাকতে বলা হচ্ছে’ - এমন খবরের পর এর তদন্ত শুরু করেছে এফবিআই।

    সাইবার ও অবকাঠামোর নিরাপত্তা সংক্রান্ত এজেন্সির একজন কর্মকর্তা একে ভোটারদের ভীতি প্রদর্শন এবং ভোটারদের দমিয়ে রাখার কৌশল বলে বর্ণনা করেছেন।

    অবশ্য এই কর্মকর্তাটি একথা বলেছেন যে প্রতিটি নির্বাচনেই এরকম ঘটনা ঘটে থাকে।

    নিউইয়র্ক থেকে এ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস বলেছেন, বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা এরকম ফোন পাচ্ছেন বলে খবর পাবার পর তারা “সক্রিয়ভাবে এর তদন্ত করছেন।“

    তিনি বলেন, এসব তৎপরতা বেআইনি এবং এটা সহ্য করা হবে না।

    মিশিগানের এ্যাটর্নি জেনারেল ডানা নেসেল বলেছেন, তিনি খবর পেয়েছেন যে ফ্লিন্টের বাসিন্দাদের ফোনে রোবটিক কল আসছে, এবং তাতে ভুল বার্তা দিয়ে বলা হচ্ছে ভোটকেন্দ্রে লম্বা লাইনের কারণে তাদের উচিত আগামীকাল অর্থাৎ ৪ঠা নভেম্বর ভোট দিতে যাওয়া।

    ফেসবুকে দেয়া আরেক বার্তায় কানসাসের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে ভোটারদের কাছে এরকম উড়ো ফোন আসছে। তিনি বলেন, এসব খবরকে আমল দেবেন না। এখনো ভোট না দিয়ে থাকলে জেনে রাখুন, আজকেই ভোটের দিন।

  15. ফিলাডেলফিয়ায় বাইডেন সমর্থকদের 'জো' 'জো' 'জো' বলে শ্লোগান

    ভোটের দিন ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী জো বাইডেন বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে সমর্থকদের সাথে দেখা করছেন।

    ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন পেনসিলভেনিয়ায় তার শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত স্ক্র্যানটনে গিয়েছিলেন।

    ভোটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়া শহরে জো বাইডেন পৌঁছালেরাস্তায় তার সমর্থকরা ‘জো’ ‘জো’ জো’ বলে শ্লোগান দিতে থাকে।

    “আমাদের সামনে এক বিরাট সুযোগ উপস্থিত। ফিলাডেলফিয়া যাকে ভোট দেবে পেনসিলভানিয়াতে সে-ই জিতবে” - ভোটারদের বলেন বাইডেন।

  16. নর্থ ক্যারোলাইনাতে ফলাফল প্রকাশে দেরি হবে

    ব্যাটলগ্রাউন্ড রাজ্য নর্থ ক্যারোলাইনাতে ভোটের ফল প্রকাশের সময় ৪৫ মিনিট পিছিয়ে যাচ্ছে।

    কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিবিসি সংবাদদাতারা জানাচ্ছেন, দিনের শুরুর দিকে কিছু কারিগরি সমস্যার কারণে কিছু ভোটকেন্দ্র খুলতে পারেনি।

    সেকারণেই ভোটদানের সময় বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। যার জন্য ফল প্রকাশেও দেরি হবে।

    স্থানীয় সময় সন্ধ্যে ৭:৩০ থেকে ফল প্রকাশ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখন সব কেন্দ্র বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কোন ধরনের ফল ঘোষণা করা হবে না বলে জানা যাচ্ছে।

  17. নির্বাচনের ব্যাপারে এবার 'অনেক বেশি আগ্রহী' টেক্সাসের ভোটাররা

    মেহনাজ মোমেন, টেক্সাস থেকে

    এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে টেক্সাস অন্যতম ‘ব্যাটলগ্রাউন্ড স্টেট’ হিসাবে গণ্য হচ্ছে।

    যার অর্থ হলো, ৫০ টি অঙ্গরাজ্যের মাঝে যে কয়টিতে ট্রাম্প ও বাইডেন – এ দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে, টেক্সাস আছে সেই কাতারে।

    টেক্সাস এমন একটি রাজ্য - যেখানে ভোটাররা ১৯৮০ সালের পর থেকেই রিপাব্লিকান প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীকে ভোট দিয়ে এসেছেন।

    তবে অনেকে মনে করছেন যে এবার হয়তো এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটে যেতেও পারে।

    এ পর্যন্ত অগ্রিম ভোট যত পড়েছে, তা ২০১৬ সালের মোট ভোটের চেয়েও বেশী।

    এটা আশাব্যঞ্জক, কেননা টেক্সাসে নিয়মিত ভোট দেন অর্ধেকেরও কম অধিবাসী ।

    এবার তরুণ ভোটারদের পাশাপাশি সাবারবান বা বড় শহরগুলোর বাইরের এলাকার ভোটারদের আধিক্য দেখা যাচ্ছে।

    এতে যে প্রবল প্রতিযোগিতা হবে তাতে সন্দেহ নেই। তবে আমার ধারণা, এই নির্বাচনেও টেক্সাস রিপাব্লিকানই রয়ে যাবে।

    আমার এই ধারণার কারণ হলো হিস্পানিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে তরুণতর ভোটারদের কাছে ডেমোক্রাট প্রার্থী বাইডেন তত জনপ্রিয় নন।

    এছাড়া ভোট গণনার ক্ষেত্রে কিছু নতুন নিয়মও প্রবর্তন করা হয়েছে। রিপাব্লিকান গভর্নরের এই নীতিমালা কিছু বিশৃঙ্খলার অবতারণা করেছে।

    আমরা দেখতে পাচ্ছি আদালতে শুরু হয়েছে নতুন দ্বন্দ্ব, কিভাবে বিপুল পরিমাণ ব্যালট বাতিল করা যায়। টেক্সাস যদি ডেমোক্রাটদের হাতে চলে আসে, তবে আদালতের এই যুদ্ধ আরও গুরুত্বপূর্ণ রূপ নেবে।

    যে রাজনৈতিক দলই জিতুক, টেক্সাসের মানুষ যে ভোট দিতে আগ্রহী হয়েছে - এটা এই নির্বাচনের এক বিরাট প্রাপ্তি।

    আমেরিকার নির্বাচন ব্যবস্থার ভিত্তি হলো ইলেক্টোরাল কলেজ। যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮টি অঙ্গরাজ্যের ক্ষেত্রে নিয়ম হলো - প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী কোন অঙ্গরাজ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ভোট পেলে তিনি সেই রাজ্যের সবগুলো ইলেক্টোরাল ভোট পেয়ে যান।

    যে প্রার্থী ২৭০ টি ইলেক্টোরাল ভোট পান, তিনিই জয়ী হন। টেক্সাসে ইলেক্টোরাল ভোটের সংখ্যা ৩৮।

  18. নির্বাচনী সদর দপ্তরে ট্রাম্প

  19. ডাকযোগে দেয়া ভোট সময়মত পৌঁছানো নিশ্চিত করুন - ফেডারেল বিচারকের আদেশ

    ডাকযোগে দেয়া কোন ভোট পাঠানো বাকি আছে কিনা – খোঁজ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের একজন ফেডারেল বিচারক সেদেশের ডাক বিভাগকে আদেশ দিয়েছেন ।

    রয়টার বার্তা সংস্থা এ খবরটি প্রথম জানায়।

    বিচারক এমেট সালিভ্যান ওই আদেশে, বেশ কিছু জেলায় কোন ডাকযোগে দেয়া ব্যালট নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের হাতে পৌঁছে দেয়া বাকি আছে কিনা - স্থানীয় সময় বিকেল তিনটার মধ্যে তার খোঁজ নিতে বলেছেন।

    এর মধ্যে পেনসিলভানিয়া, ফিলাডেলফিয়া, ফ্লোরিডা, এবং আরিজোনার কিছু অঞ্চল রয়েছে।

    এই রাজ্যগুলো হচ্ছে যাকে বলা হয় ব্যাটলগ্রাউন্ড স্টেটস, অর্থাৎ এখানে দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে, এবং কোন ভোট গণনার বাইরে রয়ে গেলে তা ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।

    সাধারণভাবে নিয়ম হচ্ছে, ডাকযোগে দেয়া ভোটগুলো নির্বাচনের দিন শেষের আগেই নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের হাতে গণনার জন্য পৌঁছাতে হবে।

    এবার করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে বহু লোকই ভোটকেন্দ্রে না গিয়ে ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন।

    এবার নির্বাচনী প্রচারের সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বার বার দাবি করেছেন যে ডাকযোগে দেয়া ভোটকে ঘিরে ব্যাপক জালিয়াতি হয়ে থাকে – যদিও এর কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।