ছবিতে ইরান: ভয়, আতঙ্ক ও উদযাপন, হামলা চলছে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
হামলায় ইতোমধ্যেই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন।
আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
আয়াতুল্লাহ খামেনির নিহত হওয়ার পর ইরানের বর্তমান নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যেভাবে হামলা চালিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করেছে, তাতে 'তীব্র নিন্দা' জানিয়েছে চীন ও রাশিয়া।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
হামলায় ইতোমধ্যেই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন।
ইরান ঘোষণা করেছে যে দেশটির প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান ও আইন যাচাই বাছাইয়ের দায়িত্বে থাকা শক্তিশালী সংস্থা গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন জুরি আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যু পরবর্তী অন্তর্বর্তী সময় তত্ত্বাবধান করবেন।
ইরানের ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর আয়াতোল্লা আলি খামেনেই দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদে আসীন দ্বিতীয় ব্যক্তি।
অ্যাসেম্বলি অফ লিডারশিপ এক্সপার্টস নামে ধর্মীয় নেতাদের একটি পরিষদ খামেনির উত্তরসূরি নির্বাচন করবেন।
দেশটির সংবিধান অনুযায়ী এটি তাদের দ্রুতই করতে হবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা অব্যাহত রাখায় নিরাপত্তাজনিত কারণে দ্রুত ওই পরিষদের বৈঠকে বসা কঠিন হতে পারে।
রুহুল্লা আয়াতুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর দিনই সর্বোচ্চ নেতার পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
আরো পড়তে পারে:
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের বিবৃতি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচার করা হয়েছে। এতে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
একজন উপস্থাপক কান্নাজড়িত কণ্ঠে দেশটিতে ৪০ দিনের শোক ঘোষণার কথা জানিয়েছেন। অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস নামে ৮৮ জন ধর্মীয় নেতার একটি পরিষদ নতুন সর্বোচ্চ নেতা মনোনীত করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
রেডক্রিসেন্ট জানিয়েছে, দুশোর বেশি বেসামরিক মানুষ হামলায় মারা গেছে। আর বিবিসির মিডিয়া পার্টনার সিবিএস নিউজের খবরে বলা হয়েছে প্রায় ৪০ জন ইরানি কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
এদিকে, রোববার সকাল থেকে তেহরানে নতুন করে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
ইরান পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতে হামলা করেছে। এর মধ্যে আছে দুবাই, দোহা, বাহরাইন ও কুয়েত।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে বলেছেন ‘খামেনি ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট ব্যক্তিদের একজন এবং তার মৃত্যু ইরানের জনগণের জন্য নিজেদের দেশটিকে পুনরুদ্ধারের শ্রেষ্ঠ সুযোগ।’।
তেহরানে এখন ভোরের সূর্য উঠছে, এর মধ্যেই গত কয়েক ঘণ্টা ধরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে।
শনিবার যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রাণঘাতী হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ইরানের রাজধানী শহরটি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বোর্মা বর্ষণ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন, যদিও আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মৃত্যুবরণ করেছেন।
ঘণ্টা খানেক আগে, ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ একটি ভিডিও পোস্ট করেছে, যেখানে দেখা যায় মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হচ্ছে এবং সেগুলো তাদের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে।
ওই পোস্টে বলা হয়েছে: “নির্দেশনা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় কমান্ড এখন দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে।”
ওদিকে, আইডিএফ সবশেষ বলেছে, “ইসরায়েলি বিমান বাহিনী ইরানজুড়ে ইরানি সন্ত্রাসী শাসনের আওতায় থাকা ৩০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, শাসন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন টার্গেট এবং সামরিক কমান্ড সেন্টার।”
আরো পড়তে পারে:
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি শনিবার সকালে তার কার্যালয়ে কাজ করার সময়েই নিহত হয়েছেন।
স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবি পর্যালোচনা করে এর আগেই বিবিসি ভেরিফাই লিডারশিপ হাউজ কম্পাউন্ডের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল।
এটিই তেহরানে খামেনির কার্যালয় ছিল।
ইসলামিক রেভল্যুউশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসির সাথে যোগসূত্র আছে এমন সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি বলছে, নিজ কার্যালয়ে খামেনির মৃত্যু প্রমাণ করে যে তিনি আত্মগোপনে গেছেন বলে যেসব খবর দেওয়া হচ্ছিল সেগুলো ছিল ‘শত্রুর মনস্তাত্ত্বিক লড়াই’।
বিবিসি ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর থেকে একটি বিবৃতি পেয়েছে, যেখানে সতর্ক করা হয়েছে যে তারা মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরায়েলে হামলা চালাবে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "অধিকৃত অঞ্চল এবং আমেরিকান সন্ত্রাসী ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক আক্রমণাত্মক অভিযান আর কিছুক্ষণের মধ্যে শুরু হবে।"
এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।
কান্নাবিজড়িত কন্ঠে এক ঘোষণায় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের উপস্থাপক দেশটিতে ৪০ দিনের শোক ঘোষণার কথা জানান।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের হামলার পর মি. খামেনি মারা গেছেন বলে দাবি করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আরো পড়তে পারে:
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের একটি বিবৃতি প্রচার করে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই জানিয়েছিলেন যে ইরানের বিভিন্ন জায়গায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় সর্বোচ্চ নেতা নিহত হয়েছেন।
তবে ওই বিবৃতিতে ৮৬ বছর বয়েসী মি. খামেনি কিভাবে মারা গেলেন এবং কে তার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে সেসব নিয়ে কিছু বলা হয়নি।
সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদে কে থাকবেন তা নির্ধারণ করেন বিশেষজ্ঞমণ্ডলী বা অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস নামে ৮৮ জন ধর্মীয় নেতার একটি পরিষদ।
ইরানের ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর আয়াতোল্লা আলি খামেনেই দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদে আসীন দ্বিতীয় ব্যক্তি।
এই মণ্ডলীর সদস্যদের নির্বাচন করা হয় প্রতি আট বছর অন্তর। কিন্তু কারা গোষ্ঠীর সদস্য পদের জন্য প্রার্থী হতে পারবেন তা নির্ভর করে দেশটির গার্ডিয়ান কাউন্সিল নামে একটি কমিটির অনুমোদনের ওপর। আর এই গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্যদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্বাচন করেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মেয়ে, জামাই ও নাতিও মারা গেছেন।
এছাড়া ইরানের বিপ্লবী গার্ডের সাথে যোগসূত্র থাকা ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, খামেনির একজন পূত্রবধুও ওই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।
এর আগে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন মি. খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে দেশটিতে ৪০ দিনের শোক ঘোষণার কথা জানায়।
ওদিকে, বিবিসির মিডিয়া পার্টনার সিবিএস নিউজ গোয়েন্দা ও সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, প্রায় ৪০ জন ইরানি কর্মকর্তা ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছে।
তবে, এটা পরিস্কার নয় যে ওই কর্মকর্তারা একাধিক জায়গায় নাকি একটি জায়গাতেই অবস্থান করছিলেন।
তারা দাবি করেছে মি. খামেনি ছাড়াও ইরানের বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী হামলায় মারা গেছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।
কান্নাবিজড়িত কন্ঠে এক ঘোষণায় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের উপস্থাপক দেশটিতে ৪০ দিনের শোক ঘোষণার কথা জানান।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের হামলার পর মি. খামেনি মারা গেছেন বলে দাবি করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার শাসন ব্যবস্থা চালু হয় ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে। এক বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে রেজা শাহ পাহলভীর রাজতন্ত্রকে উৎখাত করা হয়। তাকে উৎখাতের পর ইরানে ধর্মীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
এরপর দেশটি দুজন সুপ্রিম লিডার বা সর্বোচ্চ নেতা পেয়েছে। তাদের পদবী হিসেবে আয়াতুল্লাহ ব্যবহার করা হয়, শিয়া ধর্মাবলম্বীদের কাছে যার অর্থ সিনিয়র ধর্মীয় নেতা।
সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দেশটির সামরিক বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চীফ ছিলেন।
আরো পড়তে পারে:
আরও খবর ও বিশ্লেষণ জানতে চোখ রাখুন বিবিসি বাংলার মূল পাতায়...
বিবিসি বাংলার লাইভ পাতায় আপনাদের স্বাগত। দেশ ও বিশ্বের উল্লেখযোগ্য ঘটনার সর্বশেষ খবর পেতে চোখ রাখুন বিবিসি বাংলার এই পাতায়।
আরো পড়তে পারেন: আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মারা গেছেন, বললেন ট্রাম্প
গতকালের উল্লেখযোগ্য সব খবর দেখতে ক্লিক করুন এখানে।
বিবিসি বাংলায় দেশ-বিদেশের আরো খবর পেতে ক্লিক করুন এখানে।