পত্রিকা: 'ব্যবহার একই, তবু জুনে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল'

Published
পড়ার সময়: ৮ মিনিট

খবরে বলা হচ্ছে, প্রতিবছর জুন শেষ হলেই বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মধ্যে শুরু হয় উৎকণ্ঠা। আগের মাসের চেয়ে কয়েক গুণ বিদ্যুৎ বিল, হাতে পেয়েই অনেকের চোখ কপালে ওঠে। এবারও নিয়মে ফেরেনি এই অনিয়ম।

গ্রাহকদের প্রশ্ন, বাসায় নতুন কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্র লাগানো হয়নি, তার ওপর ছিল লোডশেডিং। তবু কেন জুনের বিদ্যুৎ বিল কয়েক গুণ বাড়ল!

ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের এমন যৌক্তিক প্রশ্নে নানা যুক্তি দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছেন বিদ্যুৎ খাত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম দাবি করছেন, জুনে তাপমাত্রা বেশি থাকায় বিদ্যুৎ ব্যবহার বেশি হয়েছে। তাই আগের মাসের চেয়ে বিল বেশি এসেছে। তিনি মনে করেন, বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। এ জন্য অনেকেরই বিল বেশি এসেছে, এটা স্বাভাবিক।

দেশে বিদ্যুৎ গ্রাহক প্রায় পাঁচ কোটি। এর বড় একটি অংশ এখনও পোস্টপেইড মিটার ব্যবহার করেন। এসব গ্রাহকের অভিযোগ, অনেক এলাকায় নিয়মিত মিটার রিডিং নেওয়া হয় না। কোথাও কোথাও দেওয়া হয় অনুমাননির্ভর বিল। আবার কোথাও একসঙ্গে কয়েক মাসের রিডিং যোগ করা হয়।

অন্যদিকে, প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীরা বলছেন, জুন-জুলাইয়ে বিদ্যুৎ বিল রিচার্জ করার পরপরই টাকা হাওয়া হয়ে যাচ্ছে।

রাজধানী ঢাকা তো বটেই; নারায়ণগঞ্জ, সাভার, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুড়িগ্রাম, হবিগঞ্জসহ দেশের বেশ কয়েকটি এলাকা থেকে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের এমন অভিযোগ মিলেছে।

'জ্বালানি ও গম আমদানি বেড়েছে' কালের কণ্ঠের শিরোনাম।

খবরে বলা হচ্ছে, চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে জ্বালানি তেল ও এলএনজি আমদানি বেড়েছে। একই সময়ে গম আমদানিও বেড়েছে, যা বাজারে সরবরাহ বাড়াতে সহায়তা করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, এই সময়ে ৭০.৪১ বিলিয়ন ডলারের এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১০.৬৮ বিলিয়ন ডলার জ্বালানি বা পেট্রোলিয়াম। জ্বালানি আমদানি বেড়েছে ৬.৪২ শতাংশ। কারণ আগের বছর জ্বালানির জন্য খোলা এলসি নিষ্পত্তি হয়েছিল ১০.০৩ বিলিয়ন ডলার।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাসের খনি থেকে প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন ক্রমান্বয়ে কমছে। চাহিদা পূরণের জন্য বাধ্য হয়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানির ওপর দেশের নির্ভরশীলতা বহুগুণ বেড়ে গেছে।

দেশের শিল্প-কারখানা সচল রাখতে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ঠিক রাখতে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেলের পাশাপাশি কয়লা ও গ্যাস আমদানি করতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, জ্বালানির সঙ্গে খাদ্যপণ্য গমের এলসি নিষ্পত্তি দেড় শ কোটি ডলার থেকে বেড়ে দুই শ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে।

'সড়কে নিহত ৭ জনের একজন শিক্ষার্থী' প্রথম আলোর শিরোনাম।

খবরে বলা হচ্ছে, ২০১৮ সালের ২৯শে জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে একটি বাসের চাপায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনা গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। ওই ঘটনার পর ঢাকাসহ সারা দেশের শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে নজিরবিহীন আন্দোলন গড়ে তোলে।

সে সময় কয়েক দিন ধরে শিক্ষার্থীরা রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে যানবাহনের কাগজপত্র ও চালকদের লাইসেন্স পরীক্ষা করে। চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় সড়ক ব্যবস্থাপনায় কতটা বিশৃঙ্খলা জমেছে।

আন্দোলনের মুখে সরকার সড়ক খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেয়। পরে প্রণয়ন করা হয় নতুন সড়ক পরিবহন আইন। বাড়ানো হয় শাস্তি, জোর দেওয়া হয় চালকদের দক্ষতা, লাইসেন্স ও যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করার ওপর। বিভিন্ন সময় বিচ্ছিন্ন কিছু বিশেষ অভিযান, ভ্রাম্যমাণ আদালত ও তদারকির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

কিন্তু আট বছর পর প্রশ্ন উঠেছে-এসব উদ্যোগের ফল কোথায়? পরিসংখ্যান বলছে, নিরাপদ সড়কের দাবিতে যে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছিল, সেই শিক্ষার্থীরাই এখনো বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের আট বছর হচ্ছে আজ।

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সাড়ে সাত বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৭ হাজার ৩৬৪ জন শিক্ষার্থী।

দ্য ডেইলি স্টারের শিরোনাম '12 INSTITUTIONS: Govt violates polls pledge with BNP appointments' অর্থাৎ ‌'১২টি প্রতিষ্ঠানে বিএনপিপন্থীদের নিয়োগ দিয়ে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করল সরকার'।

খবরে বলা হচ্ছে, নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থায় ১২ জন বিএনপি নেতা-কর্মীকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। অথচ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ রোধ ও স্বাধীনতা বাড়ানোর কথা বলেছিলো দলটি।

১২টি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে সুশাসন বিশেষজ্ঞ ও নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সদস্যরা সমালোচনা করেছেন। বিশেষ উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নির্বাচন কমিশন, যার ওপর আগামী মাসগুলোতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব রয়েছে।

সমালোচকদের মতে, নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ে একজন বিএনপি কর্মীকে নিয়োগ কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তাছাড়া এটি নির্বাচনী সংস্কার কমিশনের সুপারিশের পরিপন্থী।

সুপারিশে বলা হয়েছিল যে, ইসি তার নিজস্ব কর্মকর্তাদের মধ্য থেকেই সচিব নিয়োগ করবে এবং তাদের জন্য একটি পৃথক 'নির্বাচন কমিশন সেবা' থাকবে।

যোগাযোগ করা হলে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ও সাবেক নির্বাচনী সংস্কার কমিশনের সদস্য জাহেদ উর রহমান এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ ধরনের নিয়োগ ক্ষমতাসীন দলের ৩১-দফা কর্মসূচি ও নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির লঙ্ঘন।

নিউ এইজের শিরোনাম 'Roads continue to grow more unsafe' অর্থাৎ 'সড়ক আরও অনিরাপদ হয়ে উঠছে'।

খবরে বলা হচ্ছে, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলন পুরো দেশকে নাড়িয়ে দেওয়ার আট বছর পরেও বাংলাদেশের সড়কগুলো অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞ ও আন্দোলনকারীদের মতে, সরকার সেই আন্দোলনের অভিজ্ঞতা থেকে কোনো শিক্ষা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

তাদের মতে, ওই আন্দোলন সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার গভীর ত্রুটিগুলোকে সামনে নিয়ে এসেছিল, কিন্তু এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ এখনো নেওয়া হয়নি।

মঙ্গলবার রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৭,৩৬৪ জন শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছে।

সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সাথে সামঞ্জস্য রেখে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা কমার পরিবর্তে বরং বেড়েই চলেছে।

বছরের পর বছর ধরে সড়কে অনুমোদনহীন ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মোটরসাইকেলের সংখ্যা এবং মোটরসাইকেলজনিত প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার হার।

অপরদিকে সড়ক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রধান সরকারি সংস্থাগুলো নিষ্ক্রিয় রয়ে গেছে। যার ফলে দীর্ঘ সময় ধরে দেওয়া অনেক সুপারিশই বাস্তবায়িত হয়নি।

খবরে বলা হচ্ছে, দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবজোমে নতুন একটি ভাসমান তরলিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল ও ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রি-গ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ভিত্তিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। একই বৈঠকে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির দরপত্র প্রস্তুত ও জমা দেয়ার সময়সীমা ৪২ দিন থেকে কমিয়ে ১০ দিন করার সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, দু'টি সিদ্ধান্তই সরকারের জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থাকে আরো দ্রুত, নমনীয় ও বাজার-সক্ষম করার প্রচেষ্টার অংশ। তবে একই সাথে এগুলো বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি আমদানিনির্ভরতার বাস্তবতাকেও সামনে নিয়ে এসেছে।

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

'প্রতি মাসে ৬ নেতা-কর্মী খুন' আজকের পত্রিকার শিরোনাম।

খবরে বলা হচ্ছে, রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে বিএনপি ও এর অঙ্গ - সহযোগী সংগঠনের ৩৮ নেতা - কর্মী খুন হয়েছেন। অর্থাৎ প্রতি মাসে গড়ে অন্তত ছয় নেতা-কর্মী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য, মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন তথ্যে এই হিসাব পাওয়া গেছে। এই হিসাব গত ফেব্রুয়ারি থেকে গতকাল ২৮শে জুলাই পর্যন্ত। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সারা দেশে ১ হাজার ৯১ জন খুন হয়েছে ।

পুলিশ বলেছে , এসব হত্যার নেপথ্যে রয়েছে অভ্যন্তরীণ কোন্দল, পদ-পদবি ও নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে বিরোধ, এলাকায় আধিপত্য নিয়ে দ্বন্দ্ব, ব্যক্তিগত শত্রুতা, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল ও দুর্বৃত্তদের হামলা।

এসব হত্যাকাণ্ডের মধ্যে অন্তত ১৯ টি ঘটনার সঙ্গে বিএনপি ও অঙ্গ- সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পেয়েছে পুলিশ।

বিএনপি এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী করেছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনকে।

খবরে বলা হচ্ছে, এক প্রতারক পুলিশ প্রধানকে একটি খুদে বার্তা দিয়ে লিখেছেন, 'স্যার... আমার আত্মীয়। আপনার সদয় বিবেচনার অনুরোধ করছি।' এভাবে একের পর এক এ ধরনের নানা তদবিরের খুদে বার্তা আইজিপির সরকারি মুঠোফোনে দেন তিনি।

যিনি নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা বলে পরিচয় দিয়েছেন। সম্প্রতি এই প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ।

তাকে গ্রেপ্তারের পর চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য বেরিয়ে আসে। এরপর এ সূত্র ধরে ডিজিটাল প্রতারকচক্রের আরেক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। সূত্র বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এদের কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর অনেক তথ্য মিলেছে।

ভুয়া পরিচয় দিয়ে তারা এভাবে হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠিয়ে অনেক বড় কর্মকর্তাকে বোকা বানিয়ে কিছু তদবির করে নিতে সক্ষমও হয়েছে। তবে সবিস্তারে আরও তথ্য-উপাত্ত জানার জন্য তাদের মুঠোফোন সেট ফরেনসিক পরীক্ষা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, প্রতারকচক্রের সদস্যরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা এবং কিছু ক্ষেত্রে সরকারি দলের বিভিন্ন পর্যায়ের পদ-পদবি ব্যবহার করেছে। এমনকি কখনো তারা নিজেদের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব বলে পরিচয় দিতেন।

খবরে বলা হচ্ছে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সহায়তা চেয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে চিঠি দেয়ার পর ফোন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার দুপুরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি পাঠান তারেক রহমান। এরপর দেশটির প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করেন তিনি।

চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর চিঠিটি তার শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছেন। এরপর বেলা দুইটায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

উদ্ভূত জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আনোয়ার ইব্রাহিম এবং মালয়েশিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। আনোয়ার ইব্রাহিম আশ্বস্ত করেছেন, সংকট নিরসনে যা কিছু করার সুযোগ আছে দ্রুততম সময়ে টিম-সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অবহিত করবেন।

খবরে বলা হচ্ছে, গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের সভরেন ক্রেডিট রেটিং (সার্বভৌম ঋণমান) অবনমনের পাশাপাশি ঋণমান নিয়ে বিভিন্ন নেতিবাচক বার্তা দিয়ে আসছে আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি সার্বভৌম ঋণমানের পূর্বাভাস (আউটলুক) 'স্থিতিশীল' থেকে 'নেতিবাচক' করেছে। অবশ্য দীর্ঘমেয়াদি ঋণমান 'বি প্লাস' এবং স্বল্পমেয়াদি ঋণমান 'বি' অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

এর আগে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশের ঋণমান এক ধাপ অবনমন করেছিল এসঅ্যান্ডপি। ওই সময় দেশের সার্বভৌম ক্রেডিট রেটিং 'বিবি মাইনাস' থেকে 'বি প্লাস'-এ নামিয়ে দেয়া হয়। সে সময় সংস্থাটি ঋণমানের পূর্বাভাস 'স্থিতিশীল' রেখেছিল।

গত সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস 'নেতিবাচক' করে দিয়েছে সংস্থাটি। এর মাধ্যমে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল ইঙ্গিত দিয়েছে যে আগামী ১২ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বাংলাদেশের ক্রেডিট রেটিং আরো এক ধাপ কমে যেতে পারে।

এর আগে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে এসঅ্যান্ডপির পক্ষ থেকে বাংলাদেশের ঋণমানের পূর্বাভাস 'নেতিবাচক' করে দেয়া হয়েছিল। এর এক বছরের মাথায় ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশের ঋণমান এক ধাপ অবনমন করা হয়েছিল।