এডিটার'স মেইলবক্স: বিদেশে পাচার করা অর্থকে বৈধতাদানের প্রস্তাব আর নূপুর শর্মার মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন

    • Author, মানসী বড়ুয়া
    • Role, বিবিসি নিউজ বাংলা, লন্ডন
  • Published
  • পড়ার সময়: ৭ মিনিট

বিদেশে অর্জিত সম্পদ ও অর্থের ওপর নির্দিষ্ট হারে কর দেয়া হলে ওই সম্পদ ও অর্থের বিষয়ে বাংলাদেশে কোন প্রশ্ন না তোলার যে প্রস্তাব অর্থমন্ত্রী এবারের বাজেট ঘোষণায় দিয়েছেন তা নিয়ে চলছে ব্যাপক বিতর্ক।

এ নিয়ে আজকের প্রথম চিঠি লিখেছেন ছোট জামবাড়িয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে মুহাম্মদ আব্দুল হাকিম মিঞা:

''বাংলাদেশের চলতি সংসদে ২০২২-২৩ অর্থ বছরের ৬ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। এই বাজেটে বিশাল অংকের ঘাটতি পূরণের জন্য নতুন একটি কৌশল নেওয়া হয়েছে। আর তাহলো বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ১৫ থেকে ৭ শতাংশ কর দিয়ে বৈধ করার সুযোগ দেওয়া বা পাচার করা সম্পদের 'দায়মুক্তি' দিয়ে বিদেশে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি দেশে এনে সরকারের খাতায় বৈধ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা।

''অবৈধ সম্পদ উপার্জনকারীদের শাস্তির আওতায় না এনে সংসদে আইন পাশ করে সামান্য করের বিনিময়ে বৈধতার প্রত্যায়ন দেওয়া কি অবৈধ নয়? এটি কি অবৈধ পথে সম্পদ উপার্জনকারীদের আরও উৎসাহিত করবে না? এতে করে কি দেশে দায়মুক্তির সংস্কৃতি চালু হচ্ছে না?"

এসব প্রশ্ন অনেকেই তুলেছেন মি. মিঞা। অর্থমন্ত্রী আ. হ. ম. মোস্তফা কামাল বলেছেন বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর পাচার হওয়া অর্থ দেশটির মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনতেই এই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু অর্থনীতিবিদরা অনেকেই এই প্রস্তাবের সমালোচনা করে বলেছেন এমন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে একদিকে যেমন সৎ করদাতাদের নিরুৎসাহিত করা হবে, অন্যদিকে, যারা অর্থ সম্পদ বাইরে নিয়ে যায় তাদেরও প্রকারান্তরে উৎসাহিত করা হবে। মূল কথা হল, টাকা পাচার করা বাংলাদেশে একটি অপরাধ এবং এর জন্য শাস্তির বিধানও রয়েছে। ফলে অর্থপাচারের প্রবণতাকে ঠেকাতে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পথ তো রয়েইছে। এছাড়াও কর দিয়ে পাচার হওয়া টাকা ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ বর্তমান আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিনা সে প্রশ্নও তোলা হচ্ছে।

বিজেপি কেন সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়ায়?

ইসলামের নবীকে নিয়ে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সাবেক মুখপাত্র নূপুর শর্মার মন্তব্য নিয়ে এ সপ্তাহেও লিখেছেন বেশ কয়েকজন। সাতক্ষীরা সিটি কলেজ থেকে লিখেছেন রুমানা আক্তার শিউলি:

"নূপুর শর্মার বিস্ফোরক মন্তব্যে উত্তাল মুসলিম দুনিয়া। হওয়াটাই স্বাভাবিক। কারণ মুসলিম দুনিয়ায় মানুষ নিজেদের প্রাণের চেয়েও দামী মনে করে আখেরী পয়গম্বর নবী ও রাসুল হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)কে। তাকে নিয়ে কটুক্তি করা, নূপুর শর্মার গ্রেফতারসহ সর্বোচ্চ শাস্তি কামনা করছি। এর আগেও ভারত মুসলিম বিদ্বেষ থেকে এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে অনেকবার। তারা কেন সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়ায়?"

ভাল প্রশ্ন করেছেন মিস আক্তার। ২০১৪ সালে ভারতে ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিজেপি সচেতনভাবে ধর্মীয় বিভেদ এবং মুসলিম ও ইসলাম বিদ্বেষী বিভিন্ন ন্যারেটিভ চালু করে সেগুলোকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে চলেছে। কেন্দ্র এবং রাজ্য পর্যায়ে বিজেপি এবং তাদের দলের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কট্টর হিন্দু গোষ্ঠীর নেতা-কর্মীরা ক্রমাগত মুসলমান এবং তাদের ধর্মবিশ্বাস ও জীবন-জীবিকা টার্গেট করে বক্তব্য বিবৃতি দিয়ে চলেছে, যার জেরে গত সাত আট বছরে বহু সহিংসতা-হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। বিজেপি সচেতনভাবেই সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ওপর ভর করে দেশটির ভেতর একটা অত্যন্ত শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে, যা উদ্বেগের বৈকি।

তবে এই ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার প্রতিক্রিয়া না দেখানোয় ক্ষুব্ধ পতেঙ্গা, চট্টগ্রামের মোহাম্মদ মাসুদুল হক:

"মুসলমানদের নবী মোহাম্মদ (সঃ) কে নিয়ে ভারতে কটুক্তি করায়, গত বেশ কয়েকদিন ধরেই ভারতেরই মুসলিম সম্প্রদায়সহ, বিশ্বের বেশির ভাগ মুসলিম সম্প্রদায়ের দেশগুলো ক্ষোভ এবং নিন্দার ঝড় তুললেও, এখন প্রর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় আমাদের মুসলিম সমাজ বেশ ক্ষুব্ধ। স্বীকার করছি, ভারত আমাদের পার্শ্ববর্তী বন্ধুরাষ্ট্র এবং ব্যবসা বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্কেও আছে রাখি-বন্ধন। কিন্তু ভারত ধর্মীয় অনূভুতিতে আঘাত হানায় এদেশের জনগণের প্রতিবাদের কাছে সরকারের নীরবতা কিসের ইঙ্গিত? ভারতকে খুশি রাখার? নাকি কূটনৈতিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার?"

বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন ইসলামের নবীর প্রতি অবমাননা যখনই হোক এবং যেখানেই ঘটুক বংলাদেশ সরকার তার নিন্দা জানায়। ভারত সরকার যে ব্যবস্থা নিয়েছে তার জন্য ভারতকে তিনি ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন এখন আইন তার নিজস্ব পথে চলবে। বাংলাদেশ সরকার হয়ত কূটনৈতিক কারণেই এর বেশি আর কিছু বলতে চায়নি।

বিবিসি বাংলার পুরনো খবর

ভিন্ন প্রসঙ্গে কিছু চিঠি। প্রথমটি লিখেছেন খুলনার পাইকগাছা থেকে আরিফুল ইসলাম:

"বইতে গ্রন্থপঞ্জি বই হিসাবে দেখলাম, 'চৌধুরী মোয়াজ্জেম হোসেন- মানবীয় পরিবেশ আর অর্থনৈতিক ভূগোল', বিবিসি ঢাকা লেখা। তাহলে কি বিবিসি বাংলার সাংবাদিক মোয়াজ্জেম হোসেনের তৈরি এই বইগুলো, বলবেন কি?"

আপনাকে হতাশ করতে হচ্ছে মি. ইসলাম। বিবিসি বাংলার সাংবাদিক আমার সহকর্মীর নাম শুধু মোয়াজ্জেম হোসেন - চৌধুরী মোয়াজ্জেম হোসেন নয়। ইনি ভিন্ন কোন ব্যক্তি। কিন্তু বইটি 'বিবিসি ঢাকা থেকে লেখা' - এটা কেন লেখা হয়েছে তা আমার বোধগম্য হচ্ছে না। তবে এটুকু বলতে পারি এই বইয়ের সাথে বিবিসি বাংলার মোয়াজ্জেম হোসেনের কোনই যোগাযোগ নেই।

তবে, বিবিসি বাংলার লেখা বই নয়, বিবিসি বাংলার লেখা বা পুরনো সংবাদ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন রাজিবপুর, কুড়িগ্রামের মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সোহেল:

"বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইটের পুরনো সংবাদ বা লেখাগুলো কোথায় পাব? বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পুরনো লেখাগুলো খুঁজে পাওয়া যায় না বললেই চলে। ওয়েবসাইটে গত সপ্তাহে প্রকাশিত লেখাও সহজে খুঁজে পাওয়া যায় না। অথচ অন্যান্য ওয়েবসাইটে দেখেছি ক্যাটেগরিতে গেলেই সংশ্লিষ্ট ক্যাটেগরিতে প্রকাশিত লেখাগুলা পাওয়া যায়। বিবিসি বাংলায় সেভাবে পাওয়া যায় না কেন?"

আপনি ঠিক কোথায় কীভাবে বিবিসি বাংলার পুরনো খবরগুলো খুঁজেছেন জানি না। তবে আমাদের খবরগুলোও ক্যাটেগরিতে গিয়ে ক্লিক করলে পাওয়া যাবে। আপনি আমাদের কোন একটি প্রতিবেদনের একেবারে শেষে গেলে দেখতে পাবেন ওই খবরের সাথে সংশ্লিষ্ট ক্যাটেগরিগুলো নিচে দেওয়া আছে সম্পর্কিত বিষয় হিসাবে। যেমন ধরুন বাংলাদেশ থেকে ভারতে পণ্য রপ্তানির খবরের একেবারের নিচে দেওয়া আছে চারটে ক্যাটেগরি - বাংলাদেশ, ভারত, বাণিজ্য ও রেল পরিবহন। এগুলোতে ক্লিক করলে আপনি এইসব ক্যাটেগরিতে পুরনো সবগুলো খবর দেখতে পাবেন। এছাড়াও নির্দিষ্টভাবে কোন খবর খুঁজতে হলে গুগলে গিয়ে কিছু সার্চ শব্দ আর তার সাথে বিবিসি বাংলা লিখে আপনি পুরনো খবর খুঁজে নিতে পারবেন।

ধ্যানের ওপরবসল ভ্যাট

পরের চিঠিটি লিখেছেন মাইজদী, নোয়াখালী থেকে মজিবুর রহমান রাসু:

"আমি ২০১৬ সাল থেকে নিয়মিত বিবিসি বাংলার খবর শুনি। বিশেষ করে সংবাদ পাঠকের বাংলা বাচনের শুদ্ধতা ও উপস্থাপনা আমার বেশ ভালো লাগে। এছাড়া বিবিসি বাংলার ইউটিউব চ্যানেলের আমি একজন নিয়মিত সাবসক্রাইবার। আপনাদের প্রকাশিত জনসচেতনতামূলক ও তথ্যবহুল ভিডিওগুলোও আমার ভালো লাগে। এই প্রথম আমি বিবিসি বাংলায় চিঠি লিখেছি।

"এবারের প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় মাননীয় অর্থমন্ত্রী মেডিটেশন সেবার উপর ভ্যাট আরোপ করার প্রস্তাব করেছেন। অথচ তিনি নিজেই গতবছর সংসদের বাজেট বক্তৃতায় কোভিড পরবর্তী সময়ে মেডিটেশন সেবাকে মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী উল্লেখ করে ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব করেছিলেন।

"আমি নিয়মিত মেডিটেশন চর্চাকারী হিসেবে আপনাদের রেডিও অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ করছি মেডিটেশন সেবার উপর থেকে চিরতরে ভ্যাট প্রত্যাহার করা হোক। এছাড়া মেডিটেশনের উপকারিতা বিষয়ে জনসচেতনতার লক্ষ্যে একটি ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশ করার জন্য আপনাদের নিকট বিশেষ অনুরোধ করছি।"

আমরা মেডিটেশন ও যোগব্যায়াম নিয়ে বিভিন্ন সময়ে কিছু প্রতিবেদন প্রকাশ করেছি আমাদের ওয়েবসাইটে। মেডিটেশন বা ধ্যানের জনপ্রিয়তা আধুনিক সমাজে বাড়ছে এবং অনেকে মনে করেন মানসিক সুস্থতার জন্য মেডিটেশনের উপকারিতা রয়েছে। মেডিটেশন সেবা যারা কোন প্রতিষ্ঠানের কাছে নিয়ে থাকেন, মেডিটেশনের ওপর কর অবশ্যই তাদের জন্য দুঃসংবাদ।

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ বড় চ্যালেঞ্জ

দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি নিয়ে পরের চিঠিটি লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:

"ক্রমবর্ধমান দ্রব্য মূল্যের চাপ সামলাতে সাধারণ মানুষ হিমশিম খাচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছু কিছু পণ্যের শুল্ক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু অনেকে মনে করছেন, শুল্ক প্রত্যাহার করলেই বাজার দর নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে আদৌ তেমনটা নয়। দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে শুল্ক প্রত্যাহার প্রথম ধাপ হতে পারে তবে দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে হলে বাজার মনিটরিং এর উপর জোর দিতে হবে।

"পণ্য মজুদ করে মজুতদাররা যেন কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। বাজারে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দর্শনীয় স্থানে নিয়মিত দ্রব্য মূল্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হলে দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।"

আপনি ঠিকই বলেছেন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা আসলেই একটা বড় চ্যালেঞ্জ। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রেণে রাখতে গেলে বিভিন্ন পর্যায়ে মনিটরিং চালু রাখা অবশ্যই জরুরি। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে যখন নানা কারণে বাজারে চাপ অনেক বেড়েছে। শুধু বাংলাদেশই নয়, গত এক যুগের মধ্যে পুরো বিশ্বকেই এখন সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতির মোকাবেলা করতে হচ্ছে।

জনশুমারি ও গৃহগণনা কার্যক্রম

বুধবার থেকে বাংলাদেশে শুরু হয়েছে আদমশুমারি। সাধারণত প্রতি ১০ বছর পরপর বাংলাদেশে আদমশুমারি হয়ে থাকে, যদিও করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে গত বছর আদমশুমারি হতে পারেনি। এ বিষয়ে প্রচারণার অভাব ছিল বলে মনে করছেন গেন্ডারিয়া, ঢাকার মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:

"বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইটে 'আদমশুমারি: জনসংখ্যা ও গৃহগণনার এবারের প্রক্রিয়াকে 'ডিজিটাল জনশুমারি' কেন বলা হচ্ছে' শীর্ষক প্রতিবেদনটি পড়লাম। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে দীর্ঘ ১১ বছর পর ১৫ জুন থেকে ২১ শে জুন পর্যন্ত শুরু হয়েছে জনশুমারি ও গৃহগণনা কার্যক্রম। আমি একটি বিষয় লক্ষ্য করেছি, এটা যতটা গুরুত্ব দিয়ে প্রচার প্রচারণার দরকার ছিল, সেটা করা হয়নি। আসলে জনশুমারির ক্ষেত্রে জনসচেতনতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং যেকোন ভুল ভ্রান্তির জন্য জাতীয় পর্যায়ে তথ্য বিভ্রাট ঘটতে পারে। এক্ষেত্রে বিবিসি বাংলার জনসচেতনতামূলক জনশুমারি সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি প্রকাশ করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ এবং এর মাধ্যমে অনেকেই উপকৃত হবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।"

আমাদের প্রতিবেদনটি আপনার কাছে সময়োপযোগী মনে হয়েছে জেনে ভাল লাগল। আদমশুমারি কেন করা হয়, কী এর লক্ষ্য, কীভাবে তা করা হয় সে সম্পর্কে অনেকেরই হয়ত স্পষ্ট ধারণা নেই আর এবারে যেহেতু প্রথমবারের মত ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করে এই শুমারির কাজ করা হচ্ছে তাই এবারের শুমারি কোন দিক দিয়ে ভিন্ন হতে যাচ্ছে সেটা তুলে ধরাই ছিল আমাদের লক্ষ্য।

বহু প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হতে যাচ্ছে আগামী ২৫শে জুন। এবং এই মুহূর্তে বহু মানুষের আলোচনায় রয়েছে এই সেতু। এ নিয়ে লিখেছেন খটখটিয়া, রংপুর থেকে মোহাম্মদ ইলিয়াছ হোসেন:

"পদ্মা সেতু দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে নিয়ে আসবে নতুন মাত্রা। পদ্মা সেতু আমাদের গর্ব ও মর্যাদার প্রতীক। এ সেতুর শুভ উদ্বোধন এর মধ্যে দিয়ে একদিকে যেমন দেশ অপ্রতিরোধ্য অগ্র-যাত্রায় সামনে এগিয়ে যাবে তেমনি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও সূচিত হবে নতুন সম্ভাবনা, সেই প্রত্যাশাই রইল।"

আপনার মত বহু মানুষই আশা করছেন এই সেতু তাদের জীবনযাপনে ব্যাপক পরিবর্তন আনবে। সোয়া ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুটি পঁচিশে জুন যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার পর পুরো অঞ্চল জুড়ে কৃষি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। বহু জেলা সরাসরি লাভবান হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি খাত আর ভারী শিল্পখাতের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ব্যাপক সম্ভাবনার পথ খুলে যাবে বলে প্রত্যাশা রয়েছে।

অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে ছোট একটি চিঠি দিয়ে শেষ করছি - লিখেছেন দেবীগঞ্জ পঞ্চগড় থেকে দিপক চক্রবর্তী:

''বিশেষ সাক্ষাৎকারগুলো শুনে খুব ভালো লাগছে এবং অনেক গুণী মানুষের সাক্ষাৎকার প্রচার করছেন। কিন্তু হানিফ সংকেতের সাক্ষাৎকার প্রচার করা যায় না?''

নিশ্চয়ই যায়। নতুন এই সাক্ষাৎকার সিরিজে আলোচিত বিভিন্ন ব্যক্তির কথা আমরা তুলে ধরছি। আপনার প্রস্তাবও মাথায় রাখব।

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তিস্বীকার:

শামীমা আক্তার লিপি, প্রসাদপুর, সাতক্ষীরা

গাজী মোমিন উদ্দীন, সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়

মুহাম্মদ মাসুদুল হক মাশুক, চরফ্যাশন, ভোলা

মোহাম্মদ রুবেল মিয়ান, মিরপুর, ঢাকা

মুহাম্মদ নুরুল কবির, রামু, কক্সবাজার

আলী আহম্মেদ আরিফ, তিলনা খোঁচাপাড়া, সাপাহার, নওগাঁ

মোহাম্মদ মিলন খন্দকার, পীরগাছা, রংপুর ।