ঘরেই মৃত অবস্থায় পড়ে ছিল কিশোরটি, টের পায়নি বন্ধু

ছবির উৎস, Getty Images
ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে কিশোর বয়সী দুই বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ বলছে, রাতেই একজন বন্ধুর মৃত্যু ঘটেছে - যা টেরই পায়নি পরে হাসপাতালে মারা যাওয়া অপর কিশোর ছেলেটি।
কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, "একজনের বাবা-মা গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গেছে। সেই বন্ধুর বাড়িতে রাতে বেড়াতে এসেছিলেন একই বয়সী আর একজন। দুই বন্ধু রাতে একসাথে সেখানে ছিল।
"আমাদের মনে হয়েছে দুজনে নেশা জাতীয় কিছু একটা খেয়েছে। রাতেই যে তাদের একজন মারা গেছে সেটা অন্যজন টের পায়নি। তারও অবস্থা খারাপ ছিল।"
মি. রহমান জানিয়েছেন, ঘরের মধ্যে বিছানা ও মেঝেতে অনেক বমি দেখতে পেয়েছেন তারা। একটি বোতল পাওয়া গেছে যার মধ্যে থেকে ঝাঁঝালো কিছুর গন্ধ পেয়েছেন তারা। মৃত দুই কিশোরের বয়স ১৬ বছরের মতো।
তারা দুজনেই প্লাস্টিক রিসাইক্লিং কারখানায় কাজ করতো। যার বাড়িতে দুজনে একসাথে ছিলেন সেই বাড়ির গৃহকর্তাও প্লাস্টিক রিসাইক্লিং কারখানায় কাজ করেন।
বিবিসি বাংলায় আরো পড়তে পারেন:
একজন প্রতিবেশী নারীর বরাত দিয়ে তিনি বলছেন, "বাবা-মা গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার আগে ওই মহিলাকে বলে গিয়েছিল সকালে যেন সে ছেলেকে ঘুম থেকে ডেকে দেয় যাতে সে ঠিক সময়ে কাজে যেতে পারে।
"উনি দরজায় নক করার পর ওই বাড়ির ছেলেটি অনেক পরে দরজা খুলেছিল। ওই মহিলা আমাকে জানিয়েছেন। ছেলেটাকে এলোমেলো মনে হয়েছিল এবং এক পর্যায়ে সে ওই নারীর কাছে শরীর খারাপ উল্লেখ করে একটু তেঁতুলের আচার চেয়েছিল।"
তিনি জানিয়েছেন, প্রতিবেশী ওই নারী আচার আনতে গেলে পাশের ঘরের অন্যরা আবিষ্কার করে খাটে একজন মৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তার মৃতদেহ শক্ত হয়ে গিয়েছিল।
এই অবস্থায় পুলিশকে খবর দেয়া হলে অসুস্থ হয়ে পড়া ছেলেটিকে পরে পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করে।
পুলিশ ধারণা করছে কোন ধরনের বিষক্রিয়ায় মারা গেছে দুই কিশোর। তাদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
বোতলটির ভেতরে কি ছিল তা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।








