ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ: খারকিভ ছেড়ে সীমান্তের দিকে সরে যাচ্ছে রুশ সৈন্যরা

ইউক্রেনে রুশ সৈন্যরা খারকিভ শহর অঞ্চল ত্যাগ করে রাশিয়ার সীমান্তের দিকে সরে গেছে। শহরটির মেয়র ইহর টেরেখোভ বিবিসিকে এখবর জানিয়েছেন।
তিনি জানান, উত্তর পূর্বের এই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহরটির ছোট একটি অংশেই আসলে রুশ বাহিনী ঢুকতে পেরেছিল, এবং সেখানে তারা খুব বেশি সময় ছিল না।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সামরিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর দি স্টাডি অব ওয়ার বলেছে, ইউক্রেন ''সম্ভবত খারকিভের যুদ্ধে জয়লাভ করেছে,'' এবং যে রুশ সৈন্যরা শহরটি ঘেরাও করার চেষ্টা করছিল, তারা সে চেষ্টা ত্যাগ করে ওই অঞ্চল ছেড়ে চলে গেছে।
আরো পড়তে পারেন:

ছবির উৎস, Reuters
মেয়র ইহর টেরেখোভ বলেন, রাশিয়ানরা খারকিভের ওপর ক্রমাগত গোলাবর্ষণ করে যাচ্ছিল। তবে খারকিভের রক্ষী এবং ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর প্রতিরোধের ফলে রুশরা এখন শহর এলাকা থেকে অনেকটা দূরে রুশ সীমান্তের দিকে সরে গিয়ে অবস্থান নিয়েছে ।
তবে বিবিসির সংবাদদাতা জো ইনউড জানাচ্ছেন, এটি রুশদের পূর্ণ পশ্চাদপসরণ নয় যেমনটা কিয়েভের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছিল। রুশ বাহিনী পিছিয়ে গেলেও তাদের অবস্থান ধরে রাখছে।
"তাই এটা ইউক্রেন যুদ্ধের মোড়বদলকারী ঘটনা নয়, কিন্তু এটি একটি বড় বিজয়" - বলেন তিনি।

ছবির উৎস, EPA
ইহর টেরেখোভ জানান খারকিভের পরিস্থিতি এখন শান্ত, এবং লোকে ধীরে ধীরে শহরে ফিরে আসছে।
ইজিয়ামে ইউক্রেনের পাল্টা হামলা
খারকিভ আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান ওলেহ সিনেগুবভ বলছেন, ইউক্রেনের বাহিনী ইজিয়ামে একটি পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে, এবং রুশ বাহিনী কোন কোন দিকে পিছিয়ে যাচ্ছে। ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর দফতর এ খবর নিশ্চিত করেনি।
গত ১লা এপ্রিল রুশ বাহিনী ইজিয়ামের নিয়ন্ত্রণ দখল করে এবং তখন থেকেই এটি রুশ নিয়ন্ত্রণেই ছিল।

ছবির উৎস, Reuters
শহরটির প্রায় ৮০ ভাগ এলাকা ধ্বংস হয়েছে, তবে সেখানে এখনো ১০,০০০ থেকে ১৫,০০০ বেসামরিক লোক আছে, জানান ইজিয়াম শহর কাউন্সিলের কর্মকর্তা ম্যাক্সিম স্ট্রেলনিক।
মারিউপোলে রুশ আক্রমণ চলছে
ইউক্রেনে রুশ অভিযানের ৮০ দিন পার হবার মাথায় দক্ষিণাঞ্চলীয় মারিউপোল শহরের আজোভস্টাল ইস্পাত কারখানার ওপর এখনো প্রচণ্ড আক্রমণ চলছে।
টেলিগ্রামে পোস্ট করা এক বার্তায় রুশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত আজোভ ব্যাটালিয়ন জানাচ্ছে, রুশ বাহিনী এখানে ইউক্রেনীয় অবস্থানগুলোর ওপর বিপুল সংখ্যক স্থলসেনা দিয়ে আক্রমণ চালাচ্ছে, বিমান থেকে বোমা ফেলছে, কামান ও ট্যাংক থেকেও গোলাবর্ষণ করছে।








