এডিটার'স মেইলবক্স: তেতুঁলতলা মাঠ, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ আর টুইটার নিয়ে প্রশ্ন

    • Author, মানসী বড়ুয়া
    • Role, বিবিসি নিউজ বাংলা, লন্ডন
  • Published

ঢাকার কলাবাগানে একটি খেলার মাঠে পুলিশের থানা-ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে এলাকাভিত্তিক আন্দোলনের একজন সংগঠক সৈয়দা রত্না এবং তার ছেলেকে পুলিশের আটক করার ঘটনা ও এর পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ ছিল এ সপ্তাহের অন্যতম সবচেয়ে আলোচিত খবর।

মা ও ছেলেকে আটকের বহুল আলোচিত ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে লিখেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক:

''এই পুলিশ বাহিনীকে মানবিক করে গড়ে তোলার দায়িত্ব কিন্তু রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। তাদেরকে মানবিক প্রশিক্ষণ দিতে হবে, যাতে তারা মানুষের সাথে ভাল ব্যবহার করার শিক্ষাটা ভুলে না যায়। তাদেরকেই প্রমাণ করতে হবে যে, পুলিশ মস্তান নয় বরং জনগণের সেবক ও বন্ধু। সবশেষে প্রীতিভাজনেসুর মাধ্যমে বলছি, পুলিশ জনগনের টাকায় বেতন পায় এটা যেন তারা সবসময় মনে রাখে। পাশাপাশি পুলিশের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে, তারা ইচ্ছা না থাকলেও জনগণের বন্ধু হবেন বলে- আমি দৃঢ়ভাবেই বিশ্বাস করি।''

আপনি ঠিকই বলেছেন মি. ইসলাম। আইন শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি নাগরিকদের রক্ষা করার দায়িত্বও দেশের পুলিশ বাহিনীর। মানুষ পুলিশকে জনগণের বন্ধু হিসাবেই দেখতে চায় এ বিষয়ে কেউই আপনার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করবে না। আর পুলিশ যে জনগণের পাশে আছে কাজের মধ্যে দিয়ে সে প্রমাণ পুলিশকেই দিতে হবে।

ঢাকায় খেলার মাঠের অভাব

সৈয়দা রত্না ও তার কিশোর ছেলেকে আটকের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকার পাশাপাশি যে বিষয়টা নতুন করে সামনে চলে এসেছে সেটা হল ঢাকা শহরে শিশুদের জন্য খেলার মাঠের অভাব। এ নিয়ে লিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবদুর রহমান জামী:

''একটা দেশ শিশুদের প্রতি কতটা নিপীড়ক হলে পরে শিশুদের জন্য নির্ধারিত খেলার মাঠ দখল করে পুলিশ বাহিনীর জন্য ভবন নির্মাণ করতে পারে! এ কেমন সরকার, যে উন্নয়ন বলতে কেবল ভবন নির্মাণই বুঝে! আমরা জানি, ঢাকা শহরে এমনিতেই খেলার মাঠের সুযোগ সংকুচিত। সরকারের যেখানে উচিত নতুন নতুন খেলার মাঠ তৈরি করা, সেখানে সরকার বিপরীত নীতি অবলম্বন করেছে। প্রতিবাদকারী মা-ছেলেকে কারাগারে নিয়ে নাজেহাল করেছে। পরে শুনেছি, রাতে মুচলেকা দিয়ে মা এবং ছেলেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ছেড়ে দিয়েছে বলেই কি খুশিতে সব ভুলে যাবো? ঢাকা শহরে শিশুদের জন্য খেলার মাঠের সুযোগ অবারিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।''

একইধরনের দাবি করেছেন খটখটিয়া, রংপুরের মোঃ ইলিয়াছ হোসেনও:

''শিশু, কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম। সুস্থ জাতি গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নেই। তাই সংশ্লিষ্ট স্থানে থানা নির্মাণ না করে এলাকাবাসীর দাবির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সেখানে খেলার মাঠ বহাল রাখা হোক।''

তেতুঁলতলা মাঠ নিয়ে কয়েকদিন টানা প্রতিবাদের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার নির্দেশ দিয়েছেন যে তেঁতুলতলা মাঠ খেলার মাঠই থাকবে, সেখানে আর কোনো নির্মাণকাজ হবে না। জায়গাটি যেভাবে ছিল, সেভাবেই থাকবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরামর্শে এই সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। তবে বাংলাদেশে শহর এলাকায় শিশুদের খেলার জায়গার অভাব একটা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। বিশেষ করে ঢাকায় গত কয়েক দশকে খেলার মাঠ দখল করে একের পর এক স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। কোথাও সরকারি ভবন, কোথাও বাণিজ্যিক স্থাপনা তৈরি হয়েছে, ফলে খেলার মাঠ আর খোলা জায়গা ক্রমশ: কমে এসেছে, যেটা খুবই উদ্বেগের।

নিউজের বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন

কলাবাগানের ঘটনা নিয়ে বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন সম্পর্কে অভিযোগ করে লিখেছেন সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে গাজী মোমিন উদ্দীন:

''মুচলেকা দিয়ে মধ্যরাতে ছাড়া পেলেন মা ও ছেলে। বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইটে এই শিরোনামে আটকে গেল চোখ। তারপর নিউজটি পড়তে গিয়ে আরেকবার অবাক হলাম। নিউজের মধ্যে বিস্তারিত কিছু নেই। জাস্ট ঘটনাটির কারণ লেখা। এই ধরনের প্রতিবেদন সম্পূর্ণ হওয়া প্রয়োজন নয় কি? এখানে পুলিশের বক্তব্য থাকার দরকার ছিল। একপেশে নিউজে বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। বিবিসি বাংলার প্রতি মানুষের অগাধ বিশ্বাসের জায়গাটি দুর্বল হয়ে যাক তা তো আমরা চাই না।''

সেটা আমরাও চাই না মি. মোমিন উদ্দীন। বিবিসির সাংবাদিকতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটা ভিত হল সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিত করা। আপনি যে প্রতিবেদনের কথা বলছেন সেই প্রতিবেদন একপেশে ছিল এ অভিযোগ মানতে পারছি না। ওই প্রতিবেদনে ছিল ঘটনার বিবরণ- কী হয়েছিল সেদিন। ছিল সৈয়দা রত্নার পরিবার কী বলছে, কে এই সৈয়দা রত্না এবং পুলিশ কী বলেছে। প্রতিবেদনটি পড়ে নিশ্চয়ই আপনি জেনে থাকবেন কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে কয়েক দফায় যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। পুলিশের নিউমার্কেট অঞ্চলের সহকারী কমিশনার আমাদের যে বক্তব্য দিয়েছিলেন তা এই প্রতিবেদনে ছিল।

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে আশঙ্কা

এবারে যাই ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ প্রসঙ্গে। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বাধা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে লিখেছেন বড়গাছীহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে মুহাম্মদ আব্দুল হাকিম মিঞা:

''দুমাস ধরে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ চলছে। বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে এর প্রভাবে দ্রব্যমূল্য ও জালানিসহ সবকিছুর দাম দিন দিন বেড়েই চলেছে। দরিদ্র মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। এর মধ্যে জার্মানিতে পশ্চিমা ৪০ টি দেশের বৈঠকে জার্মানি ইউক্রেনে ভারি অস্ত্র সরবরাহের ঘোষণা দেওয়ার পর রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সংকেত দিলেন। তাহলে রাশিয়া কি সত্যি সত্যি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিকল্পনা নিয়েই এগুচ্ছে? আর তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশসহ বিশ্ব অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে?''

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছেন এমন ঝুঁকি এখন খুবই বাস্তব একটি সম্ভাবনা। নেটো সম্প্রতি যে ধরনেরর অস্ত্র ইউক্রেনকে দিচ্ছে বা দেয়ার পরিকল্পনা করছে, তা শুধু ইউক্রেনের আত্মরক্ষার জন্য নয়, এসব অস্ত্র দিয়ে রাশিয়ার অভ্যন্তরেও আঘাত করা যাবে। মি. পুতিন অত্যন্ত স্পর্শকাতর অস্ত্রশস্ত্র ইউক্রেনে না পাঠানোর জন্য পশ্চিমের দেশগুলোকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন পশ্চিমা বিশ্ব এই যুদ্ধে নাক গলালে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ এবং নজিরবিহীন। কিন্তু আমেরিকা বা নেটো এই হুমকি সেভাবে আমলে নিয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। তবে, রাশিয়া কতদূর যাবে সেটাও এখনও পরিষ্কার নয়, যদিও বিশ্লেষকরা অনেকেই বলছেন এই হুমকিকে হালকাভাবে নেয়াও ঠিক হবে না।

বিশ্ব অর্থনীতির ওপর যুদ্ধের প্রভাব তো ইতোমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে। যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে পড়লে অর্থনীতিতে যে তার বিপর্যয়কর প্রভাব পড়বে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

আরও পড়তে পারেন:

ছোট একটি চিঠি লিখেছেন প্রসাদপুর সাতক্ষীরা থেকে শামীমা আক্তার লিপি:

''রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার যুদ্ধ সম্পর্কে নিয়মিত আর আপডেট পাচ্ছি না। আমার নিজের কিছুদিন বিবিসি শোনা হয়নি। আপডেট জানার তীব্র আকাঙ্খা পূরণ করবেন।''

মিস লিপি- আমরা প্রতিদিন আমাদের সন্ধ্যের রেডিও অনুষ্ঠানে এবং অনলাইনে নিয়মিত যুদ্ধের আপডেট এবং ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ দিচ্ছি। আশা করি আপনি নিয়মিত শুনবেন বা শোনার সুবিধা না হলে অনলাইনে পড়বেন।

টুইটার কি তর্ক বিতর্কের জায়গা?

ইলন মাস্কের টুইটার কিনে নেয়া নিয়ে প্রশ্ন করেছেন ফুলবাড়ী,কুড়িগ্রাম থেকে মোঃ ফরিদুল হক:

''পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ধনী ব্যাক্তি ইলন মাস্ক এর টুইটার কেনার বিষয়টি আমার বেশ নজর কাড়লো,ভাবলাম ৪৪ বিলিয়ন ডলার দিয়ে টুইটার কিনে কী লাভ তার? তবে এটা অনস্বীকার্য যে ফেইসবুকের চেয়ে টুইটারের জনপ্রিয়তা কিন্তু কম না। গত বছর আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে টুইটারে নিষিদ্ধ করা হয়। 'সহিংসতা উস্কে দিতে পারে' এমন আশঙ্কায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো টুইটার। তবে টুইটার কর্তৃপক্ষের নিজের মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে সেই সিদ্ধান্তটা ইতিবাচক ছিল না কি নেতিবাচক ছিল- তা নিয়ে এখনো আমার মনে প্রশ্ন রয়েই গেছে। তবে টুইটার ইলন মাস্কের সম্পত্তি হলে আমার মনে হয় বাকস্বাধীনতা টুইটারে নাও থাকতে পারে কারণ টুইটারে বিতর্কিত পোস্টের কারণে অনেকেই তার বন্ধু তালিকা থেকে ছিটকে পড়েছেন যদিও বা তিনি দাবি করেন টুইটার তর্ক বিতর্কের জায়গা। আসলেই কি টুইটার তর্ক বিতর্কের জায়গা?''

টুইটার কেনার প্রস্তাব দেবার সময় মি. মাস্ক বলেছেন, তিনি এই প্ল্যাটফর্মে আরো বেশি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দেখতে চান। তিনি বলছেন, টুইটার হচ্ছে একটি বিতর্কের ফোরাম। এবং তিনি আশা করেন, তার সবচেয়ে কড়া সমালোচকও টুইটারে থাকবে। কারণ তার মতে সেটাই হচ্ছে বাক স্বাধীনতা। তবে উন্মুক্ত এবং অনিয়ন্ত্রিত বিতর্কের ফোরাম অন্য ধরনের সমস্যার জন্ম দেয় কিনা বা বিপজ্জনক হয়ে ওঠে কিনা সে দুশ্চিন্তাও করছেন সামাজিক মাধ্যম বিশ্লেষকদের একটা অংশ।

টেকসই বাঁধ নির্মাণে ব্যর্থতা?

বাংলাদেশে আকস্মিক বন্যা নিয়ে প্রশ্ন করেছেন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ থেকে মোহাম্মদ রাজিব হুসাইন রাজু:

''বাংলাদেশে প্রতি দুই এক বছর পর পর দেখা যায় যে উপকূলীয় অঞ্চলের বাঁধ এবং উত্তরে হাওরের বাঁধ ভেঙে আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি হয় এবং এর ফলে কয়েক লক্ষ মানুষের জীবন-জীবিকা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত ও অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়। কর্তৃপক্ষ কেন এ অঞ্চলসমূহে টেকসই বাঁধ নির্মাণে বারবার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে?''

সম্প্রতি সুনামগঞ্জে বাঁধ ভেঙে ডুবে গেছে ১২টি হাওরের কয়েক হাজার হেক্টর ফসলি জমি। আমাদের সংবাদদাতা ওই এলাকা ঘুরে এসে বলছেন হাওরে একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাঁধ সংস্কার করতে হয়, যেটা বেশিরভাগ সময়ই করা হয় না, ফলে পাহাড়ি ঢলে বাঁধগুলো ভেঙে পড়ে। উপকূলীয় বাঁধগুলোও টেকসই না হওয়ার পেছনে বিশেষজ্ঞরা দায়ী করে থাকেন যথাযথ পরিকল্পনা এবং উপযুক্ত ডিজাইনের অভাব ও নির্মাণ কৌশলের দুর্বলতাকে।

জলবায়ুর অস্বাভাবিক আচরণ

আবহাওয়া প্রসঙ্গেই আরেকটি চিঠি- লিখেছেন দাকোপ, খুলনা থেকে মুকুল সরদার:

''প্রচন্ড গরমে একেবারে হাঁসফাঁস অবস্থা। অমিতাভ ভট্টশালীর প্রতিবেদন থেকে জানা গেলো ভারতের পশ্চিম বাংলার তাপমাত্রা কোথাও কোথাও থর মরুভূমির তাপমাত্রার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এপ্রিল মাসে এ ধরনের তাপদাহ ঠিক কতটা স্বাভাবিক? জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কি জলবায়ুর এমন অস্বাভাবিক আচরণ? জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে অনেক বছর আগে বিবিসি বাংলা নদী পথে বাংলাদেশ নামে একটি অনুষ্ঠান করেছিল। বলাবাহুল্য অনুষ্ঠান থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা গিয়েছিল। আমার মনে হয় এখন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে আরও একটি ধারাবাহিক কিম্বা নদী পথে বাংলাদেশ-এর মতো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যেতে পারে।''

জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাব এখন পৃথিবীর সব দেশেই কমবেশি পড়তে শুরু করেছে। বিভিন্ন ঋতুতে আবহাওয়ার যে আচরণ আগে স্বাভাবিক নিয়মের মধ্যে ছিল সেই স্বাভাবিক ঋতুচক্র এখন বিপর্যস্ত। ফলে অসময়ে অতিরিক্ত গরম, বন্যা, বৃষ্টি, খরাকে এখন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বলেই মনে করেন বিজ্ঞানীরা। নদীপথে বাংলাদেশের মত ধারাবাহিক না করলেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে সময়ে সময়ে প্রতিবেদন আমরা করে থাকি।

ঢাকা এফএম-এ শুধু ইংরেজি অনুষ্ঠান

অনুষ্ঠান নিয়ে এবারে পরের চিঠি। বিশে এপ্রিল বিবিসি বাংলার অনুষ্ঠান ঢাকা ১০০ এফএমএ শোনা যায়নি, শোনা গছে শুধু ইংরেজি অনুষ্ঠান। এ নিয়ে কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন ঢাকা সেনানিবাস থেকে সোহেল রানা হৃদয়:

''এ ব্যাপারে বিবিসির ঢাকা অফিসে কর্মরত একজনকে ফোন করে জানালেও তিনি বিষয়টির কারণ জানাতে পারেননি৷ বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ বেতারের ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশনের মাস্টার কন্ট্রোল রুমে খোঁজ নিলেও তারা কোন ব্যাখ্যা দিতে পারেননি৷ পরিক্রমার সময়ও বিবিসির ইংরেজি অনুষ্ঠান শোনা গেল। বাংলার কোন দেখা নেই। এখন আমার বা আমাদের প্রশ্ন- বিবিসি কর্তৃপক্ষ কোন পূর্ব ঘোষণা ছাড়া এভাবে নির্ধারিত অনুষ্ঠান প্রচার না করে কি আমাদের বঞ্চিত করলেন না? এ দায় কার? শুধু ঢাকায় এফএম ব্যান্ডেই সমস্যা ছিল নাকি ঢাকার নিউ মার্কেটের মারামারির খবর প্রচারে কোন নিষেধাজ্ঞা ছিল?''

ঢাকা এফএম-এ বিবিসি বাংলার অনুষ্ঠান সম্প্রচার ব্যাহত হওয়ার সঙ্গে কোন খবর প্রচারের ক্ষেত্রে কোন নিষেধাজ্ঞার সম্পর্ক ছিল না। কালবৈশাখী ঝড় আর বজ্রপাতের কারণে বাংলাদেশ বেতারে থাকা বিবিসির দুটি রিসিভার পুড়ে যাওয়ায় এই বিপত্তি ঘটে। নতুন রিসিভার সঙ্গে সঙ্গে বসানো হয় এবং দ্রুত ইংরেজি অনুষ্ঠান সম্প্রচার আবার চালু করা হয়। কিন্তু বাংলা অনুষ্ঠান আবার চালু করার প্রক্রিয়া কিছুটা জটিল হওয়ায় তা পরিক্রমার আগে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। ঘটনাটা যেহেতু ছিল আকস্মিক তাই আগাম ঘোষণা দেয়া সম্ভব ছিল না।

পদ্মা সেতু এলাকায় ভারতীয় আটক

পরের চিঠি লিখেছেন ধানমন্ডি ঢাকা থেকে আজিম ভূইয়া:

''প্রায়ই দেখি পদ্মা সেতু এলাকায় ভারতীয় নাগরিক আটক হচ্ছে এবং সবাইকেই সেনাবাহিনীর টহল দল আটক করে। বাংলাদেশের মিডিয়াগুলো শুধুমাত্র আটক হয়েছে আর রিমান্ড হয়েছে এই নিউজটকুই প্রচার করে থাকে। এর পর কি হয় বা কিভাবে তারা বাংলাদেশে আসে আর কেনই বা আসে এই সবের কোন লেখা থাকে না। আমার প্রশ্নগুলো নিয়ে বিবিসি যদি এটা নিয়ে একটা বিস্তারিত রিপোর্ট করতো! এই পর্যন্ত কতজন ভারতীয় পদ্মা সেতু এলাকায় আটক হয়েছে? তাদের বর্তমান অবস্থা কি? কেন আসে তারা? কিভাবে আসে তারা ? আর সবাই পদ্মা সেতু এলাকায়ই বা কেন আটক হয়? সবাই কেন সেনাবাহিনীর টহল দ্বারা আটক হয়?''

গত বছর বিভিন্ন সময়ে পদ্মা সেতুর নির্মাণ এলাকা থেকে ১১জন ভারতীয়কে আটকের ঘটনা ঘটেছিল বলে জানা যায়। তারা কেন এসেছিলেন, কী করছিলেন সেসব তথ্য যতদূর জানি এখনও জানা যায়নি। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তাদের জেলে পাঠানো হয়েছিল বলে শেষ খবরে আমরা জেনেছিলাম। এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্ব যেহেতু সেনাবাহিনীর বিশেষ টহল দলের ওপর তাই তারাই এদের আটক করে। তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য যদি জানা যায় নিশ্চয়ই আমরা রিপোর্ট করব।

বিবিসি নিয়ে পরের প্রশ্ন করেছেন বাকেরগঞ্জ ভরপাশা বরিশাল থেকে জামিলা:

''২০১৮ সালে যখন আমি বরিশালে আসি তখন বিবিসির কথা জানতে পারি তখন থেকে শুনি বিবিসি কিন্তু আমি একটা জিনিস লক্ষ্য করছি যে বিবিসিতে যারা শিক্ষিত তারাই মেসেজ বা ইমেইল করতে পারে। প্রশ্ন হলো যারা শোনে তাদের কী মতামত নেই? বা যারা মেসেজ করতে পারে না বা ইমেইল করতে পারেনা তাদের নিয়ে কি বিবিসি ভাবে?''

চিঠি লিখুন আর না লিখুন, মতামত পাঠান আর না পাঠান, শিক্ষিত হোন বা না হন, বিবিসির অনুষ্ঠান যারা শোনেন এবং অনলাইনে যারা প্রতিবেদনগুলো পড়েন ও দেখেন সবাই আমাদের শ্রোতা। সবাইকে আমরা একভাবেই দেখি। অনেকেই আছেন যারা মতামত লিখে পাঠান না, কিন্তু রেডিওতে আমাদের ফোন ইন অনুষ্ঠানে তাদের মতামত দিয়ে থাকেন।

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তিস্বীকার।

শামীম উদ্দিন শ্যামল, ধানমন্ডি, ঢাকা

মোঃ সুমন আকন্দ, পীরগাছা, রংপুর

মোঃ মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, সৈয়দপুর, নীলফামারী

দিপক চক্রবর্তী, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়

মেহেরিন আক্তার সামিয়া, নলতা শরীফ, সাতক্ষীরা

ফয়সাল আহমেদ সিপন, ঘোড়াদাইড় গোপালগঞ্জ

জাহাঙ্গীর আলম, ঢাকা

আলী আহম্মেদ আরিফ, তিলনা খোঁচা পাড়া, সাপাহার, নওগাঁ

মোঃ মিলন খন্দকার খালেক, পীরগাছা, রংপুর।