আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
হোসেনি দালান: আশুরার দিনে ঢাকার তাজিয়া মিছিলে জেএমবির বোমা হামলার ঘটনায় দুইজনের কারাদণ্ড
পুরনো ঢাকার হোসেনি দালানে মহররমের তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিকালে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামা'আতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ জেএমবির বোমা হামলা মামলার রায়ে দুইজনের কারাদণ্ডের রায় দিয়েছে ঢাকার একটি আদালত।
রায়ে আটজন আসামির একজনকে ১০ বছর এবং একজনকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
বাকিদের খালাস দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে এ রায় ঘোষণা করা হয়।
পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আবু সাংবাদিকদের বলেছেন, ওই হামলায় যিনি হামলাকারী ছিলেন তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় শিশু আদালতে তার বিচার প্রক্রিয়া চলছে।
এখন এই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করবে কি না সে সম্পর্কে পরে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
২০১৫ সালের ২৩শে অক্টোবর রাতে হোসেনি দালানে আশুরা উপলক্ষে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিকালে জেএমবি বোমা হামলা চালায়।
ঘটনার পর চকবাজার থানায় একটি মামলা করা হয়।
এ বছরের পয়লা মার্চ মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ট্রাইব্যুনাল রায়ের জন্য দিন ধার্য করেন।
অভিযোগপত্রভুক্ত আসামির সংখ্যা ১০ জন, এদের মধ্যে দুইজন অপ্রাপ্তবয়স্ক।
ওই দুইজনেরই শিশু আদালতে বিচার চলছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুঁলি।
মামলার সাক্ষী ছিলেন ১০জন।
৪শ বছরের ইতিহাসে প্রথম হামলা:
২০১৫ সালের অক্টোবর মাসের এই হামলার ঘটনায় সাজ্জাদ হোসেন নামের ১৫-বছর বয়সী এক কিশোর ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।
পরে হাসপাতালে আরো একজন মারা গিয়েছিলেন। আহত হয় আরো ৬০ জন।
ওইদিন হামলার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে বিবিসির কাদির কল্লোল হোসেনী দালান চত্বরে বিভিন্ন জায়গায় হতাহতদের ছোপ ছোপ রক্ত পড়ে থাকতে দেখেছিলেন।
হামলার সময় সেখানে এক হাজারেরও বেশি শিয়া মুসলিম জড়ো হয়েছিলেন বলে সে সময় পুলিশ বিবিসিকে জানিয়েছিল।
ওইদিন ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহজনক তিনজনকে আটক করা হয়।
এছাড়া বিস্ফোরিত হয়নি এমন আরো দুটি বোমা উদ্ধার করা হয় ,যেগুলো লাল টেপ দিয়ে মোড়া ছিল এবং হাতে তৈরি গ্রেনেড বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।
এই তাজিয়া মিছিলের সংগঠকদের অন্যতম একজন এম. এম. ফিরোজ হোসাইন সেসময় বিবিসি বাংলাকে বলেছিলেন, "আমরা শিয়া মুসলিমরা ৪০০ বছর ধরে ঢাকায় এই তাজিয়া মিছিলের আয়োজন করে আসছি। কখনও আমরা কোন ধরণের হুমকি পাইনি এবং কখনও আমাদের ওপর কোন হামলাও হয়নি।''