এডিটার'স মেইলবক্স: একদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ, অন্যদিকে চলছে সংসারের লড়াই

এক বয়োবৃদ্ধ ইউক্রেনিয়ান শরণার্থীকে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, এক বয়োবৃদ্ধ ইউক্রেনিয়ান শরণার্থীকে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।
Published

দুই ধরনের তেল নিয়ে এখন উদ্বিগ্ন বিবিসি বাংলার শ্রোতা আর সোশাল মিডিয়া ফলোয়ার। এক হচ্ছে জ্বালানি তেল, আর অন্যটি ভোজ্য তেল। আর তাদের এই উদ্বেগ ফুটে উঠেছে ইউক্রেন-রাশিয়া লড়াইয়ের পটভূমিতে।

ইউরোপের দ্বারপ্রান্তে এই যুদ্ধ, এতে প্রধান এক জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশ রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতা এবং বিশ্ববাজারের টালমাটাল পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ঘরে ঘরে। ফলে এই যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে অনেকের মনে। যেমন, ঝিনাইদহ থেকে কাজী সাঈদ লিখছেন:

ইউক্রেন রাশিয়ার যুদ্ধে আসলেই কি কোন পক্ষের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা আছে? রক্তক্ষয়ী যুদ্ধগুলোতে কোন পক্ষই জেতে না। বরং মানবতার পরাজয় ঘটে। আমার আশংকা হচ্ছে এই যুদ্ধ বেশ দীর্ঘায়িত হয়ে গেরিলা যুদ্ধে রূপ নেবে। যতদিন অস্ত্র বিক্রির টাকা একটি দেশের বৈদেশিক আয়ের একটা বড় অংশ হয়ে থাকবে, ততদিন যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা বন্ধ করা কোনভাবেই সম্ভব হবে না বলে আমি মনে করি।

আপনার শঙ্কার জায়গাটা বুঝতে পারছি, মি. সাঈদ। তবে প্রায় সব যুদ্ধেরই একটা পরিণতি রয়েছে। সব যুদ্ধেরই অবসান ঘটে। তবে তার জন্য সময় লাগতে পারে বহুদিন। কিন্তু একটা কথা ঠিক যে যে কোন যুদ্ধের জন্য যে মূল্য দিতে হয়, তার বেশিরভাগটাই দিয়ে থাকে আপনার আমার মতো সাধারণ মানুষ।

ভিডিও:

ভিডিওর ক্যাপশান, রুশ বোমাবর্ষণের মধ্যে শহর ছাড়ার দৃশ্য

আরও পড়তে পারেন:

ইউক্রেনের যুদ্ধবিধ্বস্ত শহর ইরপিন থেকে বেরিয়ে আসছেন কিছু বাসিন্দা।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ইউক্রেনের যুদ্ধবিধ্বস্ত শহর ইরপিন থেকে বেরিয়ে আসছেন কিছু বাসিন্দা।

ইউক্রেন যুদ্ধে বিশ্ব পরাশক্তি আর গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে মোটেই খুশি নন চট্টগ্রামের লোহাগড়ার স্কুল শিক্ষক মো. রেজাউল রহিম। তিনি লিখেছেন:

গণমাধ্যম কিংবা বিশ্বশক্তি, কোন পক্ষকেই এতটা সক্রিয় হতে দেখা যায় না অন্য কোন অঞ্চলের সংঘাতে। স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনিদের যে গণমাধ্যম সন্ত্রাসী আখ্যা দেয় তারাই আজ পেট্রোল বোমা বানানো ইউক্রেনের বেসামরিকদের দেখাচ্ছে লড়াকু যোদ্ধা হিসেবে। বর্বরতায় প্রতিদিনই প্রাণ হারানো বেসামরিক নারী, পুরুষ, শিশুদের নানান ঘটনা তুলে ধরছে গণমাধ্যম। শরণার্থী হয়ে মানবেতর জীবন কিংবা প্রিয়জন হারানোর হৃদয় বিদারক সব দৃশ্য দেখে কেঁদে উঠছে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি প্রান্তের মানুষের। প্রশ্ন থেকে যায়, ইউক্রেনবাসীদের জন্য যত বিবৃতি, উদ্বেগ বিশ্বনেতা আর বিশ্লেষকদের, তার কতটুকুই বা ছিল পৃথিবীর অন্যান্য সংঘাতময় অঞ্চলের ক্ষেত্রে?

আপনার প্রশ্নটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, মি. রহিম। ইউক্রেনের এই সংঘাত চোখে আঙুল দিয়ে এই বাস্তবতাকেই তুলে ধরেছে। তবে সত্যি কথা বলতে কি, বিশ্ব পরাশক্তি কখনই তার স্বার্থের বাইরে কাজ করে না। ইউক্রেনকে ঘিরে পশ্চিমা দেশ এবং রাশিয়ার মধ্যে যে দ্বন্দ্ব, তার অবশ্যম্ভাবী ফল হচ্ছে এই যুদ্ধ। বিশ্বের অন্যত্র আমরা কিন্তু একই ব্যাপার ঘটতে দেখেছি। ইরাক, সিরিয়া, ফিলিস্তিনেও দেখা গেছে একই ঘটনা। সংঘাত হয়েছে, প্রাণহানি হয়েছে, চরম সঙ্কটের মধ্যে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়েছে শরণার্থীর জীবনকে বেছে নিতে।

ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উৎকণ্ঠা এক শিশু শরণার্থীর চোখে।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উৎকণ্ঠা এক শিশু শরণার্থীর চোখে।

এবিষয়ে মতামত জানিয়েছেন ফেসবুকে বিবিসি বাংলার একজন ফলোয়ার হায়দার রশিদ। তিনি মনে করছেন, ইউক্রেন আক্রমণ করে রাশিয়া চরম ভুল করেছে।

ইউক্রেনের উপর হামলাকে ইউরোপ, আমেরিকা নিজের উপর হামলা হিসাবে নিয়েছে এবং দূরে থেকেও যেভাবে সামরিক ও অর্থনৈতিক যুদ্ধ শুরু করেছে, রাশিয়া সম্পূর্ণ ইউক্রেন দখল করার পরও এর বিষাক্ত ছোবল রাশিয়াকে ক্ষত বিক্ষত করবে। জার্মানির মতো দেশ কয়েক হাজার অত্যাধুনিক অ্যান্টি ট্যাংক মিশাইল, স্টিংগার ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেন যোদ্ধাদের সরবরাহ করছে। সুইডেন, ফিনল্যান্ডের মতো নেটোর বাইরের দেশও হুমকি সত্ত্বেও অস্ত্র নিয়ে ইউক্রেনের পাশে দাঁড়াচ্ছে। এর ফলে আফগানিস্তান দখল করার পর সোভিয়েত ইউনিয়ন যেমন ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গিয়েছিল, তেমনি এবারও রাশিয়ার ভোগান্তি বাড়বে। আমার মনে হয় পুতিন খুব ভুল পদক্ষেপ নিয়েছে। শুধু মাত্র রাশিয়াতেই যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে কয়েক হাজার লোককে কারাবন্দী করা হয়েছে। ইউরোপের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানোর মতো আর্থিক ক্ষমতা রাশিয়ার নাই, যদি না চীন সাহায্য করে।

চীন রাশিয়ার মিত্র দেশ হলেও, এই সংঘাতে চীনের ভূমিকা কী হতে পারে সেটা বেশ অনিশ্চিত। চীনের সরকার ইউক্রেনের ওপর হামলার নিন্দা অথবা সমর্থন কোনটিই করেনি, এমনকি আক্রমণ শব্দটি পর্যন্ত ব্যবহার করেনি। জাতিসংঘের ভোটে রাশিয়ার বিরুদ্ধে চীন ভোটদানে বিরত থেকেছে কৌশলগত কারণে। কিন্তু ইউরোপের সঙ্গে একটা সর্বাত্মক যুদ্ধ যদি শুরু হয়, তাহলে চীন তার রাজনৈতিক এবং বাণিজ্যিক স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে কতদূর রাশিয়ার পাশে দাঁড়াবে সেই প্রশ্নটা এখনও অমীমাংসিত।

ভিডিও: এই যুদ্ধে বাংলাদেশের কী অবস্থান

ভিডিওর ক্যাপশান, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে বাংলাদেশ কি উভয় সংকটে?
প্রতিবেশী দেশে আশ্রয় পাওয়া ক'জন শরণার্থী।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, প্রতিবেশী দেশে আশ্রয় পাওয়া ক'জন শরণার্থী।

ইউক্রেনের যুদ্ধে সাধারণ মানুষের অবস্থার এক ঘটনা জানালেন সাতক্ষীরার শামীমা আক্তার লিপি:

ইউক্রেনে জাহাজে আটকে পড়া ২৮ জন বাংলাদেশি নাবিকের একজন আমার সাতক্ষীরার আত্মীয়। তার পরিবারের উদ্বেগ দেখে অনুমান করতে পারি বাকি ২৭টি পরিবারের অবস্থা। এই ২৮টি পরিবারের বাইরে ইউক্রেনে আটকে পড়া বিদেশি নাগরিকসহ সে দেশের মানুষের অবস্থা বিবেচনা করা যায়। এসব কান্নার আওয়াজ কি রাশিয়ায় পৌঁছায় না? বিশ্ব-মিডিয়ার খবর কি তারা দেখে না? এমন অনেক প্রশ্ন আজ ঘুরে ফিরে আসছে।

ইউক্রেনে আটকে পড়া বাংলাদেশি নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে সারা দেশ জুড়েই তৈরি হয়েছিল শঙ্কা। যাহোক, পরে তাদের জাহাজ থেকে সরিয়ে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়। এবং শেষ পর্যন্ত তারা দেশে ফিরে আসতে পেরেছেন।

ভিডিওর ক্যাপশান, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে কোন দিকে যাচ্ছে বিশ্ব রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ?

ইউক্রেন সংঘাতের আঁচ বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশে ওপর পড়তে শুরু করেছে, যদিও পরোক্ষভাবে, যেমনটা ফুটে উঠেছে যশোরের মজিদপুর থেকে মনিরা আক্তার লিখির এই চিঠিতে:

রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব কি শুধু তেলের ওপর পড়েছে? না অন্যান্য সবকিছুতে? - এই প্রশ্ন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। আমার স্বামী ইজিবাইক চালক, তার ইজিবাইকের যন্ত্রাংশের দামও নাকি বেড়েছে। বাজারে বিভিন্ন জিনিসের দাম বাড়ছে। এগুলো কি যুদ্ধের কুপ্রভাব?

বড় ধরনের কোন সংঘাত ঘটলে তার কিছুটা প্রভাব বিশ্বের অন্যান্য জায়গায় কিছুটা পড়বেই, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফল কিছুটা বেশি হবে। মঙ্গলবারই বিবিসির বাংলায় আমরা একটি খবর প্রচার করেছি যেখানে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির প্রধান ডেভিড বিসলি হুঁশিয়ারি করে বলেছেন, ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে খাদ্যের দাম এতটাই বেড়ে যেতে পারে যে, তার ভাষায়, সেটা বিশ্বের দরিদ্র মানুষদের জন্য বিপর্যয় সৃষ্টি করবে। কারণ হচ্ছে ইউক্রেন এবং রাশিয়া - এই দুই দেশই খাদ্যশস্যের প্রধান রফতানি-কারক। রাশিয়া এবং ইউক্রেন থেকেই বিশ্বের মোট গমের ২৫ শতাংশ রফতানি হয়। ইউক্রেন সারা বিশ্বের কাছে অনেক ভুট্টাও বিক্রি করে। এছাড়া ইউরোপের বহু দেশ রুশ জ্বালানি তেলের ওপর অনেকখানি নির্ভরশীল।

বাজারের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন ভোক্তারা।
ছবির ক্যাপশান, বাজারের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন ভোক্তারা।

এই যুদ্ধকে ঘিরে বিশ্বব্যাপী যে অর্থনৈতিক শঙ্কা তৈরি হয়েছে তাতে ভীত হয়ে পড়েছেন রংপুরের পীরগাছার শ্রোতা মো. মিলন খন্দকার:

আমরা আমাদের দেশের জ্বালানি উৎপাদন বা প্রতিষ্ঠান, অর্থাৎ রিফাইনারি প্রতিষ্ঠানে যারা কর্মরত আছি। এমনিতেই অনেক দিন থেকে বিশ্বের জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করায় আমরা শঙ্কিত। বর্তমান রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ যুদ্ধ খেলায় মনে হচ্ছে, আবারও মরার উপর খাঁড়ার ঘা হতে যাচ্ছে। কারণ, তেলে দাম বর্তমানে ব্যারেল প্রতি প্রায় ১১০ ডলার ছাড়িয়েছে। যা আমাদের দেশ এবং রিফাইনারির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য এক নেতিবাচক প্রভাব। কারণ ইতিমধ্যে চাকরি থাকা, না থাকা নিয়ে আমরা বেশ আতংকিত।

মি. খন্দকার, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম যেভাবে বাড়ছে তাতে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেরতে পারে বলেই বিশেষজ্ঞরা আশংকা প্রকাশ করছেন। আমরা এই সপ্তাহেই সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের একজন জ্বালানি উপদেষ্টা মি. ম. তামিমের একটি সাক্ষাৎকার প্রচার করেছি যেখানে তিনি জানিয়েছেন যে এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে গাড়িঘোড়া থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সবকিছুতেই তখন রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে। পরিবহন বা বিদ্যুতের খরচ তাহলে এত বেড়ে যাবে যে তা জনমানুষের ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে বলে তিনি মনে করছেন। পরিস্থিতিটা ভাল না, একথা ঠিক। তাই এই মুহূর্তে এই যুদ্ধের দ্রুত অবসান ছাড়া আমরা আর কিছুই কামনা করতে পারিনা।

ভিডিওর ক্যাপশান, দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় যেভাবে খরচ সামলাচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ

ফেসবুকে আমাদের একজন ফলোয়ার নাজমুল হক নোমান এই বিষয়েই একটি প্রশ্ন করেছেন:

প্রশ্ন হচ্ছে, রাশিয়ার তেল যদি পশ্চিমা বিশ্ব না নেয়, বা রাশিয়া বিক্রি বন্ধ করে দেয়। তবে রাশিয়া তো তেলকুপ বন্ধ করে দেবে না। সে বিকল্প বাজার খুঁজবে। আর তৃতীয় পক্ষ হয়ে সে তেল পশ্চিমাদের হাতেও পৌঁছাতে পারে। তাহলে তেলের দাম বাড়ার কারণ আছে কি?

রাশিয়া তেলকুপ বন্ধ করবে না, বা করতে চাইবে না। কিন্তু পশ্চিমা দেশগুলো যদি এবিষয়ে একজোট হয়, এবং রুশ তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তাহলে বিকল্প বাজারেও সেই তেল বিক্রি হবে না। কারণ কেউই পশ্চিমা দেশের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করতে চাইবে না। সেই প্রক্রিয়ার কিছুটা ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রে রাশিয়ার তেল আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ঘোষণা করেছেন। একই ঘোষণা এসেছে ব্রিটেনের পক্ষ থেকে।

জ্বালানি তেলের পাশাপাশি ভোজ্য তেলও ভাবিয়ে তুলেছে আমাদের শ্রোতাদের। কপিলমুনি খুলনা থেকে মো. শিমুল বিল্লাল বাপ্পী লিখেছেন:

বাংলাদেশে ভোজ্য তেলের দাম কিছু দিনের ব্যবধানে বেড়ে যাচ্ছে। দাম বার বার বাড়ার কারণে সাধারণ মানুষ ভোজ্য তেল কিনতে যেয়ে হিমশিম খাচ্ছে। করোনা মহামারি মধ্যে সব শ্রেণির মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ভোজ্য তেলের দাম এখন বাড়ানো হয় নি। তাহলে রোজার মাসকে সামনে রেখে কিছু মজুতদার কি ইচ্ছাকৃত ভাবে তেলের দাম বৃদ্ধি করছে? যারা ইচ্ছাকৃতভাবে তেলের দাম বাড়িয়ে বাজার অস্থিতিশীল করছে, তাদের বিরুদ্ধে কি আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে না?

মি. বাপ্পী, বাংলাদেশ সরকার কিন্তু স্বীকার করেছে যে বাজারে ভোজ্য তেলের কোন ঘাটতি না থাকলেও বাজারে 'কৃত্রিম সংকট' তৈরি করা হয়েছে। তারা এর জন্য ডিলারদের কারসাজিকে দায়ী করছে। ইউক্রেন যুদ্ধে ভোজ্য তেলের দামও বাড়বে, সেই আশায় তেল মজুদ করে রাখছেন অনেক ব্যবসায়ী। আর সেই কারণেই তেল নিয়ে এই তেলেসমাতি। সরকারের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অবশ্য বলছে, মজুদ ঠেকাতে গত ক'দিন ধরেই ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালাচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এর কোন প্রভাব কী বাজারে পড়ছে? আপনার পাশের দোকানে গিয়ে দেখুন। জবাব পেয়ে যাবেন।

শুধু তেলই না, বাজারে অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের দাম আকাশ-মুখী বলে সিলেটের জকিগঞ্জ থেকে আমাদের ফেসবুক পাতায় মন্তব্য করেছেন একজন, যিনি তার নামটি ব্যবহার করেননি। তিনি লিখেছেন:

চাল, ডাল, মাছ, মাংস, তরিতরকারি, চিনি, লবণ, গম, আটা, রুটি, বিস্কুট ইত্যাদির দাম আগের তুলনায় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে।

একই ধরনের মতামত দিয়েছেন ফেসবুকের আরেক ফলোয়ার মো. মামুন:

বর্তমান ও ভবিষ্যৎ - দুটো সময়ই আমাদের জন্য ভয়াবহ। দ্রব্যমূল্য, পরিবহন সেক্টর, নির্মাণ, বিমান সেক্টর - সব কিছুই জনগণের হাতের নাগালের বাইরে। দিনে কালো চশমা পরলে আপনার মনে হবে আকাশে অনেক মেঘ। সাংবাদিক ভাইয়েরা এসি রুমে বসে থাকা দেশের গণ্যমান্য ব্যক্তির সাক্ষাৎ নিচ্ছেন। উনি এসি রুমে বসে রঙিন চশমা পরে বলছে কোথায় রোদ, কোথায় গরম? আমিতো কিছুই অনুভব করছি না।

এবার সুযোগ পেয়ে নিজেদের কিছু প্রশংসার কথা শোনাচ্ছি। খুলনার দাকোপ থেকে লিখেছেন নিয়মিত পত্রলেখক মুকুল সরদার:

বিবিসি বাংলাকে বিশেষ ভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি লাইভ পেজের মাধ্যমে ইউক্রেন-রাশিয়া সংকটের বিস্তারিত খবর প্রতিটি মুহূর্তে আমাদের কাছে পৌঁছে দেবার জন্য। যারা নিরলস পরিশ্রম করে লাইভ পেজটি পরিচালনা করছেন তাদের জন্য রইল আন্তরিক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা।

ধন্যবাদ আপনাকেও, মি. সরদার। এই যুদ্ধের তরতাজা খবর আপনাদের কাছে পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা আমাদের থাকবে। তবে সেটা নির্ভর করবে, সেই খবর আপনারা কতদিন ধরে জানতে চাইবেন তার ওপর।

সময়ের স্বলপতার কারণে আরও অনেকের মতামত এবং প্রশ্নের জবাব দেয়া সম্ভব হলো না বলে দু:খিত।

তবে তাদের কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করছি।

শিল্পী রানি, ময়দানদিঘি, পঞ্চগড় থেকে।

মুঈন হুসাইন, টেকাকাশিপুর, সাতক্ষীরা থেকে।

খুলনার ডুমুরিয়া থেকে নাজমুল হোসেন জোয়াদ্দার

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থেকে দিপক চক্রবর্তী

মোঃ মাহবুবুর রহমান চৌধুরী (অপু), সৈয়দপুর, নীলফামারী থেকে।