এডিটার'স মেইলবক্স: ইউক্রেন যুদ্ধ, কূটনীতি, নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন ও উৎকণ্ঠা

ছবির উৎস, Reuters
- Author, মানসী বড়ুয়া
- Role, বিবিসি নিউজ বাংলা, লন্ডন
- Published
- পড়ার সময়: ৬ মিনিট
ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা এখনও রয়েছে খবরের শীর্ষে। দেশটির গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর দখল নিতে একদিকে রুশ অভিযানের তীব্রতা যেমন প্রতিদিন বাড়ছে, তেমনি ইউক্রেনের বাহিনীও বলছে রুশ হামলা ঠেকাতে তারা তাদের প্রতিরোধ জোরদার করছে।
এ সপ্তাহে পাঠকেদের প্রায় সকলের ইমেলেই রয়েছে এই যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন এবং মতামত। প্রথমেই বড়শশী, পঞ্চগড় থেকে উজ্জ্বল ইসলামের প্রশ্ন:
''রাশিয়া-ইউক্রেন সংকটের সময়ে রাশিয়াকে অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল করতে, পশ্চিমা দেশগুলো এবংযুক্তরাষ্ট্র যেধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে,তাতে করে কি রাশিয়াকে যুদ্ধ থেকে বিরত রাখা সম্ভব? এখানে পশ্চিমা দেশগুলো ও যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সামরিক শক্তি দিয়ে ইউক্রেনকে সহযোগিতা করা উচিৎ নয় কি?''
বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

ছবির উৎস, MIKHAIL METZEL
সামরিক সহযোগিতা করা কি উচিত?
দেখুন, নেটো জোট, যুক্তরাষ্ট্র এবং তার অন্য ইউরোপীয় মিত্ররা শুরু থেকেই এটা স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে, তারা এই যুদ্ধে জড়াবে না, ইউক্রেনে গিয়ে তো নয়ই। যুদ্ধ যত তীব্র হয়েছে, ইউক্রেনের দিক থেকে কিন্তু ততই আবেদন জানানো হয়েছে যে, ইউক্রেনের আকাশসীমায় নেটো যেন অন্তত একটা নো ফ্লাই জোন কার্যকর করে, অর্থাৎ সেখানকার আকাশসীমায় রাশিয়াকে নিষিদ্ধ করে, যাতে তাদের বিমান হামলা থামানো যায়।
কিন্তু নেটো মনে করছে, এরকম কিছু করার মানে হচ্ছে, রাশিয়ার সঙ্গে নেটোর সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া, যেটা হবে খুবই বিপদজনক। অনেক সামরিক বিশেষজ্ঞ আশংকা করেন, সেটা হবে অনেকটা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করা বা বিশ্বকে একটা পরমাণু যুদ্ধের বিপদের দিকে ঠেলে দেওয়ার সামিল। তাই পশ্চিমা দেশগুলো এখনও পর্যন্ত কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই তাদের পদক্ষেপ সীমিত রেখেছে।
দোষ কার?
অনেকটা একই ধরনের প্রশ্ন করেছেন ঝিনাইদহ থেকে কাজী সাঈদ:
''রাশিয়ার আগ্রাসন আর অহেতুক প্রাণহানি দেখে ভাবতে কষ্ট হচ্ছে যে আমরা আধুনিক সভ্য জগতে বাস করছি। এই আগ্রাসন কি ঠেকানো যেত না? আমি তো মনে করি এখানে রাশিয়াকে দোষ দেওয়ার পাশাপাশি ইউক্রেন, নেটো, ইইউ, আমেরিকা, সবাইকে দোষ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কোন পক্ষই বিষয়টি নিয়ে সঠিকভাবে কাজ করতে পারেনি। ফাঁকে পড়ে সাধারণ মানুষের প্রাণ আর সম্পদের অপচয় হচ্ছে।''
রাশিয়া যে হিসেব-নিকেশ করে এই লড়াই শুরু করেছিল, দেখা যাচ্ছে লড়াই সেই হিসেব অনুযায়ী এগোয়নি মি. সাঈদ। মি. পুতিন যেমনটা ভেবেছিলেন বা তার জেনারেলরা তাকে যেরকম ধারণা দিয়েছিলেন, তার চেয়েও অনেক শক্তভাবে পাল্টা লড়াই শুরু করেছে ইউক্রেন। এখন যুদ্ধ কোন দিকে যাবে বলা যাচ্ছে না। দোষ কমবেশি হয়ত সব পক্ষকেই দেয়া যায়, কিন্তু দোষ ধরার চেয়ে এখন বড় বিষয় হল কূটনৈতিকভাবে এই সঙ্কট থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে বের করার বিশাল চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করা।
বিবিসি বাংলার লাইভ পেজে প্রতিদিন যুদ্ধের টাটকা খবরাখবর দেবার জন্য বিবিসি বাংলাকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং একইসঙ্গে বিশাল সংখ্যক শরণার্থীদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবার কথা লিখেছেন কিশোরগঞ্জ, নীলফামারী থেকে আবু তাহের:
''ইউক্রেনের মানুষকে যেভাবে পোলান্ড, রোমানিয়া, আর হাঙ্গেরি সাহায্য করছে তাতে তারা প্রমাণ করছে যে, মানুষ মানুষের জন্যে। এই দেশ গুলোকে আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ধন্যবাদ জানাই। এতে আমার মনে পড়ছে ১৯৭১ সালের কথা , যখন ভারত আমাদের শরণার্থীদের সাহায্যে করেছিল।
''তবে বলবো যুদ্ধ কখনও শান্তি বয়ে আনতে পারে না, তাই দুই পক্ষের উচিত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা। বিবিসির কাছে আমার প্রশ্ন যে, এই যুদ্ধে দুপক্ষের প্রতিদিন খরচ কত টাকা হচ্ছে?''
আপনি ঠিকই বলেছেন সব সমস্যার সমাধান কূটনীতির মাধ্যমেই হতে হবে। আলোচনার কোন বিকল্প এখানে নেই। আর যুদ্ধে দু পক্ষের প্রতিদিন কত অর্থ ব্যয় হচ্ছে সে হিসাব এত তাড়াতাড়ি জানা তো সম্ভব নয়। যুদ্ধ শুরু হয়েছে মাত্র এক সপ্তাহ আগে। যুদ্ধ কতদিন স্থায়ী হয়, যুদ্ধ কী চেহারা নেয়, কীভাবে লড়াই পরিচালিত হয়, সেসবের ওপর নির্ভর করে কোন যুদ্ধের সামরিক ব্যয়।
বিবিসি বাংলায় আরও পড়তে পারেন:

ছবির উৎস, Getty Images
যুদ্ধ ও পরিবেশ দূষণ
বিবিসি বাংলার লাইভ পেজের প্রশংসা করে কপিলমুনি, খুলনা থেকে শিমুল বিল্লাল বাপ্পী লিখেছেন রাশিয়া এবং ইউক্রেনের সবশেষ লাইভ খবর এবং যুদ্ধ কোন দিকে মোড় নিচ্ছে বিবিসি বাংলা তা শ্রোতাদের নিয়মিত জানাচ্ছে।
তার একাধিক ইমেলে যুদ্ধ নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্যের পাশাপাশি একটি প্রশ্নও তুলে ধরেছেন শিমুল বিল্লাল বাপ্পী:
"গণ মাধ্যমে জানছি বোমা, মিসাইল, ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিমান থেকে বোমা বর্ষণ হচ্ছে। আমার জানা মতে বারুদ একটি ক্ষতিকর পদার্থ। বাতাসের সাথে এই ক্ষতিকর দাহ্য পদার্থ বারুদ যুদ্ধের কারণে মিশ্রিত হচ্ছে। তা কি আমাদের পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কি না? আমার জানা মতে বিশ্বে জলবায়ুর পরিবর্তন হয়েছে, যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্বে। যুদ্ধে যে গোলাবারুদ ব্যবহার হচ্ছে তা কি আমাদের পরিবেশ ও জলবায়ুকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে না?"
একথা তো অবশ্যই বলার অপেক্ষা রাখে না। যুদ্ধে ব্যবহৃত গোলাবারুদ থেকে ব্যাপক পরিবেশ দুষণ হয় এমন তথ্য পরিবেশ গবেষকরা বলে থাকেন। এছাড়াও পরিবেশের ওপর যুদ্ধের অন্যান্য ক্ষতিকর প্রভাবের কথাও বলা হয়- যেমন বোমা ও গোলা বর্ষণের ফলে সাগরের জল এবং স্থলভাগের জমিও ব্যাপক দূষণের শিকার হয়। প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং বনভূমির ওপরেও সামরিক কর্মকাণ্ডের ব্যাপক প্রভাব পড়ে।
সাহসী আলাপচারিতা
বিশেষ সাক্ষাৎকার নিয়ে এবারে দুটি চিঠি। সোজাসুজি প্রশ্ন আর খোলামেলা জবাবের প্রশংসা রয়েছে এই দুটি ইমেলে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সারোয়ার জাহান শিমুল:
''পহেলা মার্চে গোলাম মাওলা রনির সাক্ষাৎকার শুনলাম বিবিসিতে।এই অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর প্রশ্ন শুনে বেশ ভাল লেগেছে- অনেকটা ঐ সত্য কথা সহজ করে অকপটে বলে দেয়ার মত! এমন জবাবদিহিতা যদি রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে থাকতো তাহলে হয়তো বাংলাদেশে দূর্নীতি কমে যেত। আমরা পেতাম একটা দূর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ।"
আর ২২শে ফেব্রুয়ারি প্রচারিত একসময়কার জনপ্রিয় গায়ক আসিফ আকবরের সাক্ষাৎকার ভাল লেগেছে জানিয়ে লিখেছেন পার্বতীপুর, দিনাজপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক:
"বিবিসির সাথে সাক্ষাৎকারে শিল্পী হিসেবে নিজের আত্মপ্রকাশের গল্প, বিএনপি রাজনীতিতে তার সম্পৃক্ততা ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিস্তারিত আলাপ করেছেন আসিফ আকবর। এ প্রসঙ্গে আমার মতামত হলো- যেকোন কিছুতেই ভিন্নমত থাকবেই। ভিন্নমতের কারণে আমরা কখনোই একজন শিল্পীকে এভাবে হারিয়ে যেতে দিতে পারি না! যদিও সেদিনের সাক্ষাতকারে তার শিল্পীর পরিচয়কে ছাপিয়ে রাজনীতির পরিচয়টাই বড় করে উপস্থাপন করা হয়েছে।
"আমি এ ব্যাপারে অবশ্যই ধন্যবাদ দিবো তাকে, কারণ বর্তমান এই সময়ে অনেকেই ভিন্নমত পোষণ করলেও মিডিয়ার সামনে এসে তা খোলাখুলি বলার সাহস রাখেন না! কিন্তু তিনি একটি আন্তর্জাতিক মিডিয়ার সাথে তার আলাপচারিতায় এরকম সময়েও তার রাজনৈতিক মতাদর্শকে পরিষ্কার করেছেন, এজন্য অবশ্যই বুকে সাহস থাকা দরকার বলে আমি মনে করছি।"
দুটি সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠান আপনাদের মনকে নাড়া দিয়েছে জেনে আমাদেরও ভাল লাগল। সাক্ষাতকারে দুজনেই খোলামেলা কথা বলেছেন যা দুটি সাক্ষাৎকারকেই বাড়তি মাত্রা দিয়েছে। দুজনেরই সাক্ষাতকার নিয়েছিলেন সহকর্মী আকবর হোসেন। তাকে আপনাদের অভিনন্দন পৌঁছে দেব।
আরও পড়তে চাইলে:
এই নিবন্ধে Google YouTubeএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত Google YouTube কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।
End of YouTube post
সমসাময়িক বিষয়ে ফোন ইন -লক্ষ্য কী?
বিবিসি বাংলার ফোন ইন নিয়ে প্রশ্ন করেছেন পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম থেকে মো. মাসুদুল হক:
"শনিবার সন্ধ্যের অনুষ্ঠান প্রবাহে শ্রোতাদের জন্য ফোন ইন অনুষ্ঠানে শ্রোতাদের যে মতামত তুলে ধরা হয়, তা আমাদের জন্য একটা ইতিবাচক প্লাটফর্ম বলেই আমি মনে করি। বিবিসির কাছে আমার প্রশ্ন হচ্ছে, যেসব সমসাময়িক বিষয় বস্তু নিয়ে শ্রোতাদের মতামত তুলে ধরা হয়, বা যাদের জন্য এই আয়োজন, অনুষ্ঠানের পরবর্তী সময়ে শ্রোতাদের সেই ফোন ইন অনুষ্ঠানের রেকর্ডিং কি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা দায়িত্বে যারা আছেন, তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়? নাকি তাদেরকে আগে থেকে অনুষ্ঠানে সংযুক্ত করে রাখা হয়?"
না মি. হক - শনিবারের ফোন ইন অনুষ্ঠানের রেকর্ডিং কোন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা বা ব্যক্তির হাতে তুলে দেয়া হয় না। আর কোন বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ অনুষ্ঠানে সংযুক্ত থেকে শ্রোতাদের মতামতও শোনেন না। এই ফোন ইন অনুষ্ঠান আপনাদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের অনুষ্ঠান। সংশ্লিষ্ট কোন কর্মকর্তা এই অনুষ্ঠান শুনছেন কিনা সেটা জানার কোন উপায় আমাদের নেই এবং সেটা জানাটা আমাদের লক্ষ্যও নয়।
নিষেধাজ্ঞার ফলে কতটা সঙ্কটে পড়বে রাশিয়া?
ফিরে যাই ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ প্রসঙ্গে। রাশিযার ওপর দেয়া নিষেধাজ্ঞা নিয়ে লিখেছেন দাকোপ, খুলনা থেকে মুকুল সরদার:
"রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং তাদের মিত্র দেশগুলো একটার পর একটা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যাচ্ছে রাশিয়ার উপর। কিন্তু রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সেদিকে ভ্রূক্ষেপ করছেন বলে মনে হচ্ছে না। এসব নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া কিছুটা হলেও সংকটে পড়বে বলে মনে করছেন অনেকে। বাস্তবে ঠিক কতটা সংকটে পড়তে পারে রাশিয়া?"
যেসব নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার উপর আরোপ করা হয়েছে সেগুলোর লক্ষ্য রাশিয়াকে আরো বিচ্ছিন্ন করা এবং তাদের অর্থনীতির উপর সর্বোচ্চ চাপ তৈরি করা। রাশিয়ার উপর পশ্চিমাদের নানা ধরণের নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির মুদ্রা রুবলের ব্যাপক দরপতন হয়েছে আর সেই দরপতন ঠেকাতে স্টক এক্সচেঞ্জও টানা বন্ধ রাখা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে রাশিয়া অন্যতম বৃহৎ তেল রপ্তানিকারক দেশ। নিষেধাজ্ঞার কারণে তার প্রভাবও রাশিয়া ওপর পড়বে। জার্মানিও রাশিয়ার সাথে গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পের অনুমোদন স্থগিত রেখেছে। সব মিলিয়ে পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার অর্থনীতির ওপর সর্বোচ্চ চাপ তৈরি করতে চাইছে, কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন রাশিয়া আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলার জন্য আগে থেকেই কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।
যুদ্ধ 'মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা'
পরের চিঠি লিখেছেন রংপুরের খটখটিয়া থেকে ইলিয়াস হোসেন:
"ধ্বংস, প্রাণহানি,মানুষের কান্না, হাহকার, রক্তপাত আহাজারি, আর্তনাদ,স্বজন হারানোর বেদনা, সভ্যতার বিলুপ্তি আর দারিদ্রের আধিক্য ছাড়াও যুদ্ধের ফলে ঘটে জাতিতে জাতিতে পরস্পর হিংসা, ঘৃণা,বিদ্বেষ এবং শত্রুতা। বিশ্বে যেখানে কোটি কোটি মানুষ ক্ষুধা, দারিদ্র্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, আর করোনা মহামারিতে জর্জরিত, সেখানে এই ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধ মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। মানুষ চায় শান্তি। শান্তি তো স্বয়ং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও প্রত্যাশা করেন। মিঃ পুতিন যদি এই কথা উপলব্ধি করে থাকেন তবে এখনই তার যুদ্ধ বন্ধ করা উচিত।"
আপনার মত সারা বিশ্বই এই যুদ্ধ বন্ধ হোক সেটা চাইছে। এ লক্ষ্যে উদ্যোগও চলমান রয়েছে।
ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা নিয়ে আপনারা অনেকেই সুচিন্তিত মতামত দিয়েছেন, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে লিখেছেন। অনুষ্ঠানের সীমিত সময়ে সবার চিঠি পড়া সম্ভব হল না। সেজন্য দুঃখিত।
সবশেষে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার:
ফয়সাল আহমেদ শিপন, ঘোড়াদাইড়, গোপালগঞ্জ
মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান, গেন্ডারিয়া, ঢাকা
সম্পদ কুমার পোদ্দার বলরাম, শেরপুর, বগুড়া
শাহিন তালুকদার, মৌকরন, পটুয়াখালী
দিপক চক্রবর্তী, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়
মো. মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, সৈয়দপুর, নীলফামারী
মুহাম্মদ আব্দুল হাকিম মিঞা, ভোলাহাট, চাঁপাই নবাবগঞ্জ
পলাশ চন্দ্র রায়, বোদা, পঞ্চগড়
অর্ক রায়।











