এডিটার'স মেইলবক্স: ইউক্রেন যুদ্ধ, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি আর বাংলা ভাষা নিয়ে প্রশ্ন

ফেব্রুয়ারি মাসের ২৪ তারিখে রুশ সামরিক বাহিনী তিন দিক থেকে ইউক্রেন হামলা করে।

ছবির উৎস, Anton Vergun

ছবির ক্যাপশান, আগ্রাসন: এ'মাসের ২৪ তারিখে রুশ সামরিক বাহিনী তিন দিক থেকে ইউক্রেন হামলা করে।
    • Author, সাবির মুস্তাফা
    • Role, সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা
  • Published

গোটা বিশ্বে এই মুহূর্তে শুধু একটি আলোচিত বিষয় আছে, আর তা হল ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা। যুদ্ধের পট দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে, তবে বিশ্বের বেশির ভাগ রাষ্ট্র একমত যে, এই রুশ হামলা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।

আজ শুরু ইউক্রেন দিয়েই। লিখেছেন রংপুরের লালবাগ থেকে মোহাম্মদ মহসীন আলী:

''বিশ্ব মানবতার উদ্বেগ উৎকণ্ঠাকে ভূলুণ্ঠিত করে অবশেষে রাশিয়া ইউক্রেনে আগ্রাসন চালালো। একবিংশ শতাব্দীর সভ্য সমাজ বলে পরিচিত এসব দেশ তথাকথিত সার্বভৌমত্ব আর নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বলে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ল।

''রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন ঢাক ঢোল পিটিয়ে ঘোষণা দিলেন ইউক্রেনে হামলার কোন পরিকল্পনা তার দেশের নেই। এত বড় ডাহা মিথ‍্যা কথা একজন বিশ্বমানের নেতা যদি বলে তাহলে আমাদের মত দেশগুলোর নেতারা কি করবে?

''এরা আবার আমাদেরকে কোন দিকে নিয়ে যাচ্ছে? ''রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, উলুখাগড়ার জীবন যায়" প্রাচীন এ প্রবাদটির দিকেই কি যাচ্ছি আমারা?''

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

মৃত নয়, রুশ বাহিনীর হেফাজতে আছে জিমেনি দ্বীপে আত্মসমর্পণ করা ইউক্রেন সৈন্য দল, ২৬/০২/২০২২

ছবির উৎস, Russian Defence Ministry

ছবির ক্যাপশান, খবর ভুয়া: মৃত নয়, রুশ বাহিনীর হেফাজতে আছে জিমেনি দ্বীপে আত্মসমর্পণ করা ইউক্রেন সৈন্য দল।

যুদ্ধের কুয়াশা

আপনার প্রাচীন প্রবাদের সাথে আমি আরেকটি যোগ করতে চাই, মিঃ আলী, আর সেটা হল, যুদ্ধের প্রথম আঘাত আসে সত্যর ওপর। যে কোন যুদ্ধর আগে এবং চলার সময়, সব পক্ষই মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করতে চায়। সত্য-মিথ্যা সব একাকার হয়ে যায়।

সেজন্য যুদ্ধ সময়কার তথ্য প্রবাহকে 'যুদ্ধের কুয়াশা' বলা হয়। আর হ্যাঁ, সব সমস্যার সমাধান কূটনীতির মাধ্যমেই হতে হবে, এমনকি যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলেও।

যেমন, যুদ্ধ শুরু হবার পরে একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখানো হয় জিমেনি নামেরএকটি ছোট দ্বীপে ১৩ জন ইউক্রেন সৈন্য একটি রুশ যুদ্ধ জাহাজের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াচ্ছে, আত্মসমর্পণের দাবি প্রত্যাখ্যান করছে।

ভিডিওতে বলা হয়, ১৩জন সৈন্যই রুশ হামলায় নিহত হয়। ইউক্রেন সরকার তাদের বীর আখ্যায়িত করে। কিন্তু পরে দেখা গেল, ঐ ১৩জন আসলেই আত্মসমর্পণ করেছিল এবং রুশ বাহিনী তাদেরকে নিজেদের ঘাঁটিতে নিয়ে যায়।

কিয়েভের রাস্তায় বিধ্বস্ত রুশ সামরিক যানের পাশে ইউক্রেন সৈন্য, ২৬/০২/২০২২

ছবির উৎস, SERGEI SUPINSKY

ছবির ক্যাপশান, কিয়েভের রাস্তায় বিধ্বস্ত রুশ সামরিক যানের পাশে ইউক্রেন সৈন্য

পুতিন কী চান?

যুদ্ধ নিয়ে কিছু প্রশ্ন করে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:

''রুশ প্রেসিডেন্ট বলছেন, ইউক্রেন দখলের কোনো ইচ্ছা নেই রাশিয়ার। তবে কেউ এই সামরিক অভিযানে বাধা দেবার চেষ্টা করলে তার পরিণতি এমন ভয়াবহ হবে যার নজির ইতিহাসে নেই।

''এখন প্রশ্ন হচ্ছে রাশিয়া তাহলে ঠিক কী চাইছে? সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে রাশিয়া ইউক্রেনের চেয়ে অনেক এগিয়ে। তাহলে ইউক্রেন কি পশ্চিমা জোটের উপর নির্ভর করে রাশিয়ার সংগে সংঘাতে জড়িয়ে ভুল করেছে?''

প্রেসিডেন্ট পুতিন কী চাইছেন, সেটা বলা খুবই মুশকিল মিঃ সরদার। তবে ধারণা করা হচ্ছে, তার মূল লক্ষ্য হচ্ছে, পূর্ব ইউক্রেনের রুশ-প্রধান অঞ্চলগুলোকে আলাদা করে বাকি দেশে এমন একটি সরকার স্থাপন করা যারা কোনভাবেই সামরিক শক্তি অর্জন করবে না বা নেটো জোটে যোগদান করবে না।

আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তরে বলবো, ইউক্রেনের সরকার নিশ্চয়ই জানতো নেটো সরাসরি যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করবে না, কিন্তু তারা হয়তো ভেবেছিল অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার হুমকির মুখে রাশিয়া আক্রমণ করবে না। তাদের হিসেবে ভুল ছিল। এখন বড় প্রশ্ন হচ্ছে, যে হিসেব কষে মিঃ পুতিন ইউক্রেন আক্রমণ করেছেন, সেই হিসেব ভুল না সঠিক।

বিবিসি বাংলায় অন্যান্য খবর:

দোকান

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, চাল, ডাল, পেঁয়াজ ও ভোজ্য-তেলের দাম বেড়েছে কয়েক সপ্তাহ ধরে

দ্রব্যমূল্য নিয়ে তামাশা

বাংলাদেশে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে দ্রব্যমূল্যর বাড়ার বিষয়টি। তা নিয়ে লিখেছেন গোপালগঞ্জের ঘোড়াদাইড় থেকে আফিয়া খানম জুলী:  

''টিসিবির মাধ্যমে দেশের লাখ লাখ গরিব ও মধ্যবিত্ত পরিবারকে কিছুটা কম মূল্যে পণ্য সামগ্রী সরবরাহ করে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা পূরণ কখনোই সম্ভব না। এগুলো গরিব ও মধ্যবিত্তের সাথে একপ্রকার তামাশা।

''টিসিবির গাড়ির পেছনে গরিব ও মধ্যবিত্তের দৌড়ের ভিডিও দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে, দ্রুত এই দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার আরো সচেষ্ট হোক । এটাই জনগণের প্রত্যাশা।''

সবজির দাম বেড়েছে

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, সবজির দামও বেড়েছে

কাকতালীয়ভাবে, একই বিষয়ে একই এলাকা থেকে, অর্থাৎ গোপালগঞ্জের ঘোড়াদাইড় থেকে লিখেছেন ফয়সাল আহমেদ সিপন:

''বাংলাদেশে ইদানিং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হু হু করে বেড়েই চলেছে। যা দেখার মত কেউ নেই। বর্তমানে এমন কোনো পণ্য পাওয়া যাবে না, যার দাম বৃদ্ধি পায়নি।

''নিম্ন আয়ের মানুষ যা উপার্জন করছে তার পুরোটাই জীবনধারণের জন্য ন্যূনতম খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা ইত্যাদির জন্য ব্যয় করার মতো অর্থ তাদের হাতে অবশিষ্ট থাকছে না।

''মনে হয়, নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষকে মারার আরেক নাম দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি।''

নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য যাতে নিম্ন এবং মধ্যবিত্ত পরিবারের নাগালের বাইরে না চলে যায়, তার দিকে সরকারের অবশ্যই খেয়াল রাখা উচিত। যদিও সরকার ব্যবসা বাণিজ্যে জড়িত না, তারপরও তার হাতে অনেক অস্ত্র আছে যা দিয়ে বাজার প্রভাবিত করতে পারে।

টিসিবির মাধ্যমে জিনিসপত্র বিক্রি হয়তো একটি পথ, কিন্তু সেটা যে মানুষের সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার পথকে ব্যাহত করতে পারে, তা আপনাদের কথা শুনে বোঝা যাচ্ছে। যাই হোক, সরকারের কাছে হয়তো অন্যান্য পথ আছে যা দিয়ে অন্তত নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যর মূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তবে এটাও ঠিক বাজারে হস্তক্ষেপ সব সময় সুফল নিয়ে আসে না।

সরকারকে তাই সতর্কতার সাথেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদক (ফাইল ফটো)
ছবির ক্যাপশান, দুদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ না দিয়ে চাকরিচ্যুত করার বিধান বাতিলের দাবি তুলেছেন প্রতিষ্ঠানটির তদন্তকারী কর্মকর্তারা।

দুদকের গলায় ঘণ্টা

এবারে দুর্নীতি দমন কমিশন নিয়ে কিছু মন্তব্য। প্রথমে লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:

''গত ২২শে ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন নিয়ে কাদের কল্লোলের তথ্যবহুল প্রতিবেদনটি পড়লাম এবং এটি পড়ে খুবই অবাক হলাম। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, বাংলাদেশে দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদকের কর্মকর্তাদের কারণ দর্শানোর কোন নোটিশ ছাড়াই চাকরিচ্যুত করার বিধান নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে এবং একজন কর্মকর্তার চাকরি চ্যুতির ঘটনার পর এনিয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসন ও তদন্তকারী কর্মকর্তারা পরস্পর বিরোধী অবস্থান নিয়েছেন।

''আমরা জানি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে কাজ করাই দুদকের প্রধান কাজ। সাধারণত যেকোনো প্রতিষ্ঠানে কাউকে চাকুরিচ্যুত করতে হলে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হয়, সে যত বড় অন্যায় বা অপরাধই করুক না কেন।

''দেশের যেকোন আদালত যখন কোন দাগী আসামীর বিচার করে, সেক্ষেত্রেও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়। কিন্তু দুদক শরীফ উদ্দিনের চাকরিচ্যুতির ক্ষেত্রে ব্যত্যয় ঘটিয়েছে, প্রশ্ন হচ্ছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান দুদুকের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে?''

তদন্তকারী কর্মকর্তারা যাতে মানুষকে হয়রানি করতে না পারে, সেজন্য এই চাকরিচ্যুতির বিধান বহাল রাখা প্রয়োজন, বলছে দুদক কর্তৃপক্ষ।
ছবির ক্যাপশান, দুদকের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে?

দুদকের গলায় ঘণ্টা বাঁধা কি খুব একটা কঠিন কাজ হওয়া উচিত? দুদক যদি তার কর্মচারীর অধিকার ক্ষুণ্ণ করে থাকে, তাহলে তিনি অবশ্যই প্রতিকারের জন্য আদালতে যেতে পারেন।

আদালত ছাড়া আর কোন রাস্তা এখানে খোলা আছে বলে আমার জানা নেই। আপনি যেমন বলছেন, আত্মপক্ষ সমর্থন যেকোন অভিযুক্তর অধিকার, কথিত অপরাধ যত গুরুতরই হোক না কেন।

বাংলা

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, অনেকে মনে করেন, বাংলা ভাষার প্রতি আবেগ শুধু ফেব্রুয়ারি মাসে সীমাবদ্ধ।

বাংলা নিয়ে বিবাদ

বাংলা ভাষা নিয়ে আমাদের সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদন নিয়ে লিখেছেন ঝিনাইদহ থেকে কাজী সাঈদ : 

"বাংলা লেখা এবং বানান নিয়ে দুর্বলতা প্রকট, সমস্যা কোথায়?" শিরোনামে বিবিসি বাংলার এই সমস্যা ও উত্তর খুঁজে বের করার প্রয়াসকে সাধুবাদ জানাই। তবে আমার মতে এক মাত্র উত্তর হতে পারে, বাংলা ভাষার প্রতি গুরুত্ব কম দেওয়া। এটা বিভিন্ন ভাবে এবং বিভিন্নভাবে হচ্ছে।

''ছোট্ট একটা উদাহরণ হল বাংলা ভাষা নিয়ে সারা বছর সব ধরনের মিডিয়া সহ সবাই একেবারে মুখে কুলুপ এঁটে থাকেন। মনে হয় তারা একুশে ফেব্রুয়ারির জন্য বসে থাকেন, যেদিন তারা সবাই মিলে বাংলা নিয়ে সাহিত্যের পসরা সাজিয়ে নিয়ে বসবেন। তাছাড়া ইংরেজি সহ অন্যান্য ভাষার প্রতি গুরুত্বারোপ এর জন্য কম দায়ী নয়।''

বাংলা ভাষার প্রতি বাংলাভাষীদের ভালবাসা ছোট করে দেখবো না, যদিও আপনি ঠিকই বলেছেন মিঃ সাঈদ যে, সব দরদ একুশে ফেব্রুয়ারির জন্য জমা রাখা হয়। কিন্তু এটাও ঠিক, বাংলাদেশ যত আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সাথে সম্পৃক্ত হবে, দেশের মানুষ বিদেশী কোম্পানির সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি করবে, ইংরেজি শেখার প্রয়োজন ততই বাড়বে।

বই মেলায় পাঠকরা

ছবির উৎস, NurPhoto/Getty

ছবির ক্যাপশান, পাঠকরা কেনার জন্য বই খুঁজে দেখছেন।

বই মেলার উৎসব

ভাষার সাথে বাংলা একাডেমির বইমেলার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু সেই বই মেলায় নিয়েও অনেকের মনে হতাশা কাজ করছে। যেমন লিখেছেন বগুড়ার শেরপুর থেকে সম্পদ কুমার পোদ্দার:

''গত সোমবার অমর একুশে বইমেলায় গিয়ে ছিলাম। সেখানকার একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করবো। যত ভিড় দেখলাম তাতে মেলার মধ্যে ঢুকতে বা বের হতে প্রাণ যায় যায় অবস্থা। এত লোকের সমাগম নিঃসন্দেহে মেলার লেখক প্রকাশক ও আয়োজকদের মুখে হাসি ফোটায়।

''কিন্তু মেলায় আসা লোকজন যতোটা না বই কেনায় ব্যস্ত, তারচেয়ে অনেক বেশি ব্যস্ত নানা ভঙ্গিতে মোবাইলে সেলফি তোলা আর লেখকদের অটোগ্রাফ নেওয়ায়। যত লোকের সমাগম তাদের পাঁচজন মিলে একটি করে বই কিনলেও মেলার প্রায় সব বই-ই শেষ হবার কথা।

''মেলার সবকয়টি রেস্টুরেন্ট এবং কফি শপে মানুষ লম্বা লাইন দিয়ে খাবার উপভোগ করছে। কিন্তু বই কেনার বেলায় এরকম কোনো লাইন চোখে পড়লো না। তবে বই যে একেবারে বিক্রি হচ্ছে না, তা নয়। তবে সংখ্যায় খুবই কম।''

ভালই পর্যবেক্ষণ করেছেন মিঃ পোদ্দার। এক সময় বই মেলা ছিল শুধুই বই মেলা। কিন্তু আজকাল অন্য সব মেলার মত বই মেলাও উৎসবমুখর মেলায় পরিণত হয়েছে, যেখানে মানুষ বেড়াতে যান, বন্ধু-বান্ধবের সাথে কিছু সময় কাটাতে চান।

এই পরিবর্তনটা খারাপ বলবো না, কারণ মানুষ সব সময়ই বিনোদনের রাস্তা খোঁজে এবং বই মেলায় গিয়ে যদি সবাই নিরাপদে আনন্দময় সময় কাটাতে পাড়েন, তাহলে ক্ষতি কী? তাদের অনেকে হয়তো বিভিন্ন বই আর লেখকের সাথে পরিচিত হবেন, কিছু কিছু বই কিনেও ফেলতে পারেন।  

চট্টগ্রামের মেলায় পাঠক

ছবির উৎস, মিন্টু চে্ৗধুরী

ছবির ক্যাপশান, চট্টগ্রামের বই মেলায় পাঠক

চট্টগ্রামে ইসলামি বই

এবারে আসি আমাদের পরিবেশনা সংক্রান্ত কিছু বিষয়ে। আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন নিয়ে কিছু মন্তব্য দিয়ে, লিখেছেন কুড়িগ্রামের রাজিবপুর থেকে মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সোহেল:  

''বিবিসি বাংলার সংবাদের প্রতি আমার ও আমাদের আস্থা অনেক বেশি। একটা সংবাদের বিস্তারিত তথ্য বিবিসির সংবাদেই পেয়ে থাকি। কিন্তু "চট্টগ্রাম বই মেলায় ইসলামি বই বিক্রি নিয়ে কেন বিতর্ক" শিরোনামের সংবাদটি আমার কাছে অপূর্ণাঙ্গ মনে হয়েছে।

''কারণ সামাজিক মাধ্যমে কেউ কেউ এও বলছে যে, তারা পুরো স্টল ঘুরে কোনো ইসলামি বই দেখেনি। আসলেই কী ইসলামি কোনো বই চট্টগ্রামের বইমেলায় নেই? এই বিষয়টি আপনাদের সংবাদে উঠে আসেনি।

''তাছাড়া মনে হয়েছে চট্টগ্রামের বইমেলার বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদটি সংগ্রহে আপনাদের কোনো সংবাদ সংগ্রাহক সরাসরি সেখানে যাননি।''

আপনি ঠিকই বলেছেন মিঃ ইসলাম, যে আমাদের প্রতিবেদক চট্টগ্রাম বই মেলায় গিয়ে রিপোর্টটি করেননি। সে কারণে তাকে পুরোপুরি নির্ভর করতে হয়েছে বই মেলার সাথে সংশ্লিষ্ট মানুষদের ওপর, যেমন, প্রকাশক, আয়োজক, বই বাছাই কমিটি ইত্যাদি।

তবে এখানে মূল বিষয়টি ছিল বই মেলা বয়কটের ডাক এবং তার প্রেক্ষাপট। সেখানে ইসলামি কোন বই আদৌ আছে কি না, সেটা প্রতিবেদনের মূল লক্ষ্য ছিল না। সেদিক থেকে দেখলে, প্রতিবেদনকে আমি অপূর্ণাঙ্গ বলবো না। তবে হ্যাঁ, মেলায় গিয়ে ঘুরে দেখে রিপোর্ট করলে আরো ভাল হত।

অভিযোগের পরে হাল্কা কিছু প্রশংসা ভালই লাগে, তেমনি কথা বলেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সারোয়ার জাহান শিমুল:

''একুশে ফেব্রুয়ারিতে রাতের অনুষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন উত্তর শুনলাম এতে অনেক ছোট ছোট বিষয়ে জানতে পারলাম যেটা একটা মানুষ ডাক্তারের কাছে গিয়ে জানতে গেলে অনেক টাকা ব্যয় করতে হবে। বিবিসির কাছে অনুরোধ এমন অনুষ্ঠানের ধারা যেন অব্যাহত থাকে। ধন্যবাদ''

আপনাকেও ধন্যবাদ মিঃ জাহান, ফোন-ইন অনুষ্ঠান আপনাদের উপকারে আসছে জেনে আমাদের ভাল লাগলো। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরামর্শ নিয়ে এই ফোন-ইন আমরা অবশ্যই অব্যাহত রাখবো।

নারীর যৌন বাসনা

এবারে পুরনো একটি বিষয়, যা নিয়ে এই অনুষ্ঠানে দু'একটি অভিযোগ অতীতে নেয়া হয়েছে। তবে এবার অভিযোগ না, একটি পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:

''বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে "লিভ টুগেদার'' ও ''কাম-বাসনা শুধু পুরুষ, নাকি নারীদেরও" এই দুইটি বিষয়ে বিবিসি বাংলা কয়েক সপ্তাহ আগে প্রতিবেদন করেছিলো। সেই দুটি প্রতিবেদন কয়েক সপ্তাহ থেকেই "সর্বাধিক পঠিত" র তালিকায় ঘোরাফেরা করছে।

''যদিও বিবিসি বাংলা এই দুটি প্রতিবেদনের কারণে ফেসবুকে প্রচুর গালিগালাজ ও সমালোচনার শিকার হয়েছে। এমনকি এ বিষয়গুলো বাংলাদেশের সমাজে বিবিসি বাংলা প্রমোট করতে চাইছে অভিযোগ তুলে মেইলও করেছেন কেউ কেউ।

''কিন্তু মজার বিষয় হলো, পাঠক প্রচুর আগ্রহ নিয়ে পড়ছেন এই প্রতিবেদন দুটি।মানুষের সহজাত মনকে খুব সহজে প্রভাবিত করতে পারে এমন সংবাদ মানুষ আগ্রহ নিয়েই পড়বে এইটায় প্রমাণিত হয় বারবার। যাইহোক, বিবিসি বাংলায় ধর্ম, স্বাস্থ্য, যৌনতা এবং যুদ্ধ এই সংবাদগুলো সব সময় পাঠের দিকে দিয়ে টপেই থাকে তা অনস্বীকার্য।''

মানুষ বিভিন্ন কারণে নির্দিষ্ট ধরনের খবরের দিকে আকৃষ্ট হয় মিঃ শামীম উদ্দিন। যৌনতা বলুন বা স্বাস্থ্য বলুন, এগুলো মানুষের জীবনের স্বাভাবিক ব্যাপার এবং এগুলো নিয়ে মানুষের জানা প্রয়োজন।

আমাদের প্রতিবেদনগুলো মানুষের জানার চাহিদা মেটাচ্ছে বলেই আমার বিশ্বাস। অনেক কিছু, বিশেষ করে যৌনতা নিয়ে তথ্য বাংলাদেশে এখনো স্পর্শকাতর হিসেবে দেখা হয়, সেজন্য কিছু কিছু লোক বিবিসি যৌনতা নিয়ে কিছু প্রকাশ করলে তার মধ্যে উদ্দেশ্য খুঁজে বেড়ান। কিন্তু পাঠকের আগ্রহ দেখে বোঝা যায় বিবিসি শুধু মাত্র তাদের তথ্যের প্রয়োজন মেটাচ্ছে।

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:

মুজাহিদুল ইসলাম অয়ন, কুলাউড়া, মৌলভীবাজার।

দীপক চক্রবর্তী, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়।

শামীমা আক্তার লিপি, প্রসাদপুর, সাতক্ষীরা।

শাহিন তালুকদার, মৌকরন, পটুয়াখালী।

মোহাম্মদ ইলিয়াছ হোসেন, খটখটিয়া, রংপুর।

মোহাম্মদ শাহজাহান হোসেন, নওগাঁ।