এডিটার'স মেইলবক্স: বাজারে আগুন আর ক্রিকেট নিয়ে হতাশা

Published
পড়ার সময়: ৮ মিনিট

বাংলাদেশে সম্প্রতি গ্যাস-তেলের দাম বাড়ানো এবং তার প্রেক্ষিতে বাস ভাড়া বৃদ্ধির ফলে রীতিমত প্রতিবাদের ঝড় বয়ে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। অন্যদিকে টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পরিণতি দেখে হতাশার সাথে কিছু ক্ষোভও প্রকাশ করা হচ্ছে।

আজ শুরু করছি বাস ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে, প্রথমে লিখেছেন খুলনার পাইকগাছা থেকে আরিফুল ইসলাম:

''যাত্রী পরিবহণগুলোতে যে পরিমাণ ভাড়া নেয়ার কথা, তার থেকে বেশি পরিমাণ ভাড়া দিতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের । তাছাড়া কেরোসিন ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে, দেশে আরেক দফায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাবে, কারণ পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে কেরোসিন ও ডিজেলের ব্যবহার প্রচুর ।

''এই করোনা মহামারিতে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র মানুষেরা যে কাজ কর্ম হারিয়েছে, তাতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে সংসার চালানোর কূল-কিনারা বোধ হয় রইল না।''

আপনি ঠিকই বলেছেন মিঃ ইসলাম। মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্ত, সব পরিবারের আয়ের একটি বড় অংশ যায় জ্বালানি এবং পরিবহন খাতে। এই দুটি যখন এক সাথে বাড়ে, তার সাথে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম, তখন অনেকেই বড় আর্থিক সঙ্কটে পড়তে পারে।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

সিএনজিতে ডিজেলের দাম

দাম বাড়ায় মানুষের মনে ক্ষোভ বাড়ছে বলে লিখেছেন ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:

''গণপরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধিতে মানুষের ভেতরে ক্ষোভ এবং হতাশা বেড়েছে। অযৌক্তিকভাবে এই ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে।

''কেননা, ভাড়া বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপনে সিএনজি চালিত যানবাহনে ভাড়া বৃদ্ধির এই নিয়ম কার্যকর হবে না বলে যে কথা বলা হয়েছে, তা কার্যকর বা তদারকি করবে কে? আর ঢাকা শহরে অধিকাংশ যানবাহনই সিএনজি চালিত।

''কিন্তু, সব যানবাহনই যাত্রীদের কাছ থেকে নতুন ভাড়া বৃদ্ধির রেটের বেশি ভাড়া আদায় করছে। প্রায় প্রতিদিনই এই ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের সাথে বাস কন্ডাকটরের বাকবিতণ্ডা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিকভাবে তেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে সরকার যে ভাড়া বৃদ্ধি করলো তার যদি সঠিক তদারকি থাকতো তাহলে জনগণ এতটা ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করতেন না।''

ভাল ব্যবস্থাপনা অনেক জটিল বিষয়কেও সহনীয় করে দিতে পারে, তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই মিঃ শামীম উদ্দিন। এখানে সরকারের পরিকল্পনা কী ছিল তা আমি জানি না, কিন্তু যেভাবে পরিবহন ধর্মঘটের মুখে ভাড়া বৃদ্ধিতে রাজি হল, তাতে যাত্রীদের বিক্ষুব্ধ হবার কারণ আছে।

আরো পড়ুন:

'ভাড়া সিন্ডিকেট'-এর জয়ের হাসি

এবারে গোপালগঞ্জের ঘোড়াদাইড় থেকে পর পর দুটি চিঠি, প্রথমটি লিখেছেন ফয়সাল আহমেদ সিপন:

''চাল, তেল, ডাল, আদা, পিয়াজ, রসুন সিন্ডিকেট ফণা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে অনেক দিন যাবত। এ ফণা নামানোর কেউ নেই। এতে দংশন হচ্ছেন আমজনতা। একটু শব্দ করার সাহস পর্যন্ত নেই।

''এবার যোগ হলো বাস ভাড়া সিন্ডিকেট, তারা তিনদিন গাড়ি বন্ধ রেখে ভাড়া বাড়িয়ে এখন জয়ের হাসি হাসছেন। এটাই হয়তো সাধারণ মানুষের নিয়তি।''

আর পরেরটি লিখেছেন আফিয়া খানম জুলী:

''জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর সবার সঙ্গে আলোচনা করে বাস ও লঞ্চের ভাড়া পুনর্নিধারণ করা হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল। কিন্তু বরাবরের মতো পরিবহন মালিকদের সুবিধা দিতে মালিকদের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ভাড়া বৃদ্ধি করা হলো। যা দুঃখজনক।''

মিঃ আহমেদ এবং মিস খানম, ঘোড়াদাইড়ের দু'জন পত্রলেখকই মনে করছেন পরিবহন মালিকরা জয়ী হয়েছে। গ্যাস-তেলের দাম বাড়ানোর পক্ষে সরকারের হয়তো ভাল যুক্তি ছিল।

কিন্তু তার ধাক্কা থেকে গণপরিবহনকে রক্ষা করার পক্ষেও যুক্তি আছে, কারণ বাংলাদেশে গণপরিবহন ব্যবহারকারীদের সিংহভাগ এখনো নিম্ন আয়ের মানুষ।

তবে এখানে কি ভর্তুকি দেয়া যেত? সে প্রশ্নই করেছেন ঝিনাইদহর কাজী সাঈদ:

''জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির অজুহাতে এই কয়দিন দেশে যে অবস্থা বিরাজ করছে তা সত্যিই অকল্পনীয়। এটা আমার কাছে একেবারেই অহেতুক মনে হয়েছে। ক্ষতি কোনদিকে হয়নি?

''একটা সংবাদে দেখলাম ধর্মঘটের কারণে জাহাজে তোলা যায়নি ১৯০০ কনটেইনার রপ্তানি পণ্য। করোনাকালীন দাম কম থাকায় এই খাতে লাভ ছিল প্রায় চল্লিশ হাজার কোটি টাকা, তাহলে ভর্তুকি দিয়ে কি কিছুদিন চালানো যেত না?

''গ্যাসের দাম দফায় দফায় বাড়ে কী করে? একটি দেশের সাধারণ জনগণ ভাল না থাকলে দেশটি কিভাবে ভাল থাকে, কিছুতেই আমার মাথায় আসেনা।''

খুব জটিল প্রশ্ন মিঃ সাঈদ। জনসাধারণের আর্থিক সচ্ছলতা বজায় রাখা তো সব সরকারের একটি লক্ষ্য হবার কথা। দেশের অর্থনীতি সরকার সরাসরি পরিচালনা না করলেও, তার হাতে অনেক অস্ত্র আছে যা দিয়ে অর্থনীতির গতি-প্রকৃতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সরকার এই অস্ত্র ব্যবহার করে কী করতে চায়? নিজের রাজস্ব আয় বাড়াতে, নাকি জনগণের ওপর করের বোঝা কমাতে? হয়তো বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য যে পরিমাণ সরকারি বিনিয়োগ প্রয়োজন, তার জন্য রাজস্ব আয় বাড়ানো ছাড়া কোন বিকল্প নেই।

মগের মুল্লুক

তবে পুরো পরিস্থিতির একটি সংজ্ঞা নিয়ে এসেছেন জাহাঙ্গীর আলম: 

''বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাই, বাস ভাড়া তো বাড়ানো হয়েছে বাসের সিট সংখ্যার হিসেব ধরে। কিন্তু বাংলাদেশের পরিবহনগুলোতে তো বসে থাকা যাত্রীর চেয়ে, ক্ষেত্র বিশেষে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রী বেশি থাকে।

''তাহলে মালিকদের লাভ/লোকসান তিয়ে না দেখে, সরকারের তেলের দাম বাড়ানোর পাপ ঢাকতে তড়িঘড়ি করে বাড়ানো হলো কেন? মগের মুল্লুকের সংজ্ঞা পড়েছিলাম। বাংলাদেশ তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ!''

বাংলাদেশে মগদের ভাবমূর্তি যে খুবই খারাপ তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই মিঃ আলম। আমি নিশ্চিত আপনি সরকারি এই পদক্ষেপকে হঠকারী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন ,কারণ এখানে জনগণের স্বার্থ বিবেচিত হয়নি বলেই আপনার মনে হচ্ছে।

তবে হয়তো সরকারের এখানে কোন বৃহত্তর পরিকল্পনা কাজ করছে, যা দীর্ঘমেয়াদী কল্যাণ নিয়ে আসবে। মগরা সম্ভবত কোন দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার জন্য বিখ্যাত ছিলেন না।

ক্রিকেট বিপর্যয়ের দায় কার?

যাই হোক, তেল-গ্যাস নিয়ে অনেক গ্যাঁজানো হল। এবার মানুষের হৃদয়ের কাছের আরেকটি বিষয়, ক্রিকেট। প্রথমে লিখেছেন রংপুরের লালবাগ থেকে মোহাম্মদ মোহসীন আলী:

''টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের ধারাবাহিক পরাজয় নিয়ে ক্রিকেট বিশ্লেষক তৌসিয়া ইসলাম এবং সাবেক ক্রিকেটার রকিবুল হাসানের অংশগ্রহণে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানটি ভালো লেগেছে।

''বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপের মত আসরে এরকম ধারাবাহিক ব্যর্থতায় আমি মনে করি বিসিবির সম্পূর্ণ দায়ভার রয়েছে। কেননা যে বোর্ডে সুশাসন নেই সেখানে চেইন অব কমান্ড বলতে কিছু থাকার কথা নয়।

''কোচ নির্বাচন, খেলোয়াড় নির্বাচন কিংবা জয়ের জন্য যে আত্মবিশ্বাস কিংবা জাতীয় দলের খেলোয়াড় হিসেবে জাতির প্রতি যে কমিটমেন্ট থাকা দরকার তার কোনটিই দলের সাথে সংশ্লিষ্ট কারোরই মধ্যে ছিলনা।''

আপনি হয়তো খেয়াল করেছেন মিঃ আলী, আজ পর্যন্ত বিসিবির কোন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার পদত্যাগের কথা শোনা যায় নি। বরঞ্চ, বিসিবি নিজেই দলের ব্যর্থতা তদন্ত করবে বলে জানা গেছে। সেই তদন্ত কোন দিকে আঙ্গুল নির্দেশ করবে তা জানি না, তবে কোন দিকে করবে না, সেটা হয়তো আঁচ করা যায়।

স্বপ্ন ভঙ্গ, প্রত্যাশা ধূলিসাৎ

পরের চিঠি লিখেছেন রংপুরের খটখটিয়া থেকে মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন:

''স্বপ্ন ও প্রত্যাশা ছিল বাংলাদেশ অন্তত সেমিফাইনালে খেলবে। সেমি ফাইনাল তো দূরের কথা মূল পর্বের পাঁচটি ম্যাচে একটিতেও জয় আসেনি। বোলিং-ব্যাটিং-ফিল্ডিং আত্মবিশ্বাস সব ক্ষেত্রেই চরম দৈন্য দশা ফুটে উঠেছে। নতুন-পুরনো একজন ক্রিকেটারও ব্যাক্তিগত নৈপুণ্য দিয়ে নজর কাটতে পারেনি।

''এ ব্যর্থতার নেপথ্যে যে কারণগুলি দায়ী তা হলো সুষ্ঠু পরিকল্পনা, নিয়মিত অনুশীলন, জেলা, উপজেলা ও বিভাগ ভিত্তিক ক্রিকেট উন্নয়ন বিনিয়োগ তৃমূল স্তরে ঘন ঘন ঘরোয়া ক্রিকেট আসর,বিদেশের মাটিতে সফর,বিসিবির স্বচ্ছতা, মাঠের অপর্যাপ্ততা প্রভৃতির ব্যাপক অভাব।''

এত কিছুর অভাব, তারপরও কীভাবে আপনি প্রত্যাশা করলেন এই দল সেমি ফাইনালে যাবে, আমি সেটাই বুঝে উঠতে পারছি না মিঃ হোসেন। আসল কথা হল, প্রত্যাশা যত উঁচু হবে, হতাশা ঠিক ততই গভীর হবে।

বাস্তবতা হচ্ছে, বাংলাদেশে ক্রিকেট প্রশাসনে অনেক জটিলতা আর দুর্বলতা আছে ,যেটা সাকিব আল-হাসান বা মোস্তাফিজুর রহমানের মত কিছু প্রতিভা ঢাকা দিয়ে দেয়। আমার মতে, প্রত্যাশা কমিয়ে এনে শুধু খেলা উপভোগ করুন, তখন হতাশাও কমে আসবে।

সাহসী সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম

এবারে আমাদের অনুষ্ঠান নিয়ে কয়েকটি চিঠি, প্রথমে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের সাক্ষাৎকার নিয়ে মন্তব্য করে লিখেছেন ঢাকার লক্ষ্মীবাজার থেকে জহিন মুমতাহিনাহ:

''গত ৯ই নভেম্বর ২০২১ বিবিসি বাংলার পরিক্রমা অনুষ্ঠানে দৈনিক প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের সাক্ষাৎকারটি খুব ভাল লেগেছে।

''রোজিনা ইসলাম এ বছরের প্রথম দিকে বাংলাদেশ সচিবালয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে নিগ্রহ ও হেনস্তার শিকার হন এবং দেশ বিদেশে আলোচনার শিরোনাম হন। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও বর্তমান সময়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা চালিয়ে যাওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ও বিরাট চ্যালেঞ্জের।

''সেক্ষেত্রে রোজিনা ইসলাম পেশাদারিত্ব এবং সাংবাদিকতার প্রতি অবিচল আস্থা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। তার পথচলা অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুক, সে প্রত্যাশা করছি এবং রোজিনা ইসলামের জন্য শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা।''

শত প্রতিকূলতার মধ্যে নিষ্ঠার সাথে নিজ দায়িত্ব পালন করা সত্যি সাহসের পরিচয় দেয়, জহিন মুমতাহিনাহ। রোজিনা ইসলাম অনেক চাপের মুখে পড়েও তার দায়িত্ব থেকে সরে আসেননি।

সবার মত আমরাও আশা করছি, তিনি ন্যায় বিচার পাবেন, এবং ভবিষ্যতে বিনা বাধায় তার কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। তার সাক্ষাৎকারের ভিডিও এখন বিবিসি বাংলার ইউ টিউব চ্যানেলে দেখতে পাবেন।

আরেকজন বাংলাদেশি যিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ছোট-খাটো ছাপ রাখছেন, তিনি হলেন তরুণ চিত্র নির্মাতা রেজওয়ান শাহরিয়ার। তার চলচ্চিত্র নোনা জলের কাব্য সম্প্রতি গ্লাসগোর জলবায়ু সম্মেলনে প্রদর্শিত হয়েছে।

নোনা জলের কাব্য

তার সাক্ষাৎকার নিয়ে মিঃ শাহরিয়ারের নির্মিত চলচ্চিত্রের ওপর শাকিল আনোয়ারের ভিডিও নিয়ে লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মাহবুবা ফেরদৌসি হ্যাপি:

''গত ১০ই নভেম্বর বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইটে রেজওয়ান শাহরিয়ারের পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র 'নোনা জলের কাব্য' নিয়ে ভিডিও ক্লিপটি দেখলাম। খুবই সুন্দর ও বাস্তবভিত্তিক চলচ্চিত্র।

''জলবায়ুর উষ্ণতা নদী তীরবর্তী মানুষের জীবন জীবিকার ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে তা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত ঝুঁকিগুলির মধ্যে অন্যতম হলো দাবদাহ, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও উপকূলীয় এলাকায় বন্যা, যা এরই মধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে৷

''এ ধরনের একটি বাস্তবসম্মত বিষয় জলবায়ু সম্মেলনে তুলে ধরার জন্য চলচ্চিত্রের পরিচালককে বিবিসির মাধ্যমে অনেক অনেক ধন্যবাদ।''

আপনাকেও ধন্যবাদ মিস ফেরদৌসি, আমাদের পরিবেশনা আপনার ভাল লেগেছে জেনে। আর সুযোগ হলে আপনার অভিনন্দন চলচ্চিত্র নির্মাতা রেজওয়ান শাহরিয়ারকে অবশ্যই পৌঁছে দেব।

বিবিসির ইনকাম কী?

ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন করেছেন বরিশাল থেকে নাজমুল হাসান: 

''বিবিসি বাংলার ইনকাম কী? সব রেডিও টিভি চ্যানেল তো বিজ্ঞাপন দিয়ে ইনকাম করে। বিবিসি বাংলা তো বিজ্ঞাপন দেয় না।''

ব্রিটেনে যত মানুষের টেলিভিশন সেট আছে, তাদের প্রতি বছর লাইসেন্স ফি দিতে হয়। সেই লাইসেন্স ফির পুরোটাই বিবিসিকে দেয়া হয়। এই লাইসেন্স ফির টাকাই বিবিসির মূল ইনকাম মিঃ হাসান।

কিন্তু আইন অনুযায়ী, লাইসেন্স ফির শর্ত হচ্ছে বিবিসির মূল অনুষ্ঠান মালায় কোন বিজ্ঞাপন দেয়া যাবে না। বিবিসির অন্যান্য বিভাগের মত বিবিসি বাংলার খরচের সিংহভাগ আসে লাইসেন্স ফির অর্থ থেকে।

তবে সম্প্রতি বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে ডিজিটাল কার্যক্রম সম্প্রসার করার জন্য ব্রিটেনের পররাষ্ট্র দফতর সরাসরি একটি অনুদান দিচ্ছে, যেটা থেকে বিবিসি বাংলাও লাভবান হয়েছে।

প্রীতিভাজনেসুতে ভুল

গত সপ্তাহের প্রীতিভাজনেসুতে একটি প্রশ্নের উত্তরে ভুল ছিল বলে জানিয়েছেন বগুড়ার শেরপুর থেকে সম্পদ কুমার পোদ্দার:

''গত ৪ঠা নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাতের প্রীতিভাজনেসুতে সম্মানিত এক শ্রোতার প্রশ্নের জবাবে, বিসিএস পরীক্ষা রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি বিভাগীয় শহরগুলোতে নেওয়ার পরামর্শ দেয়া হলো।

''আমার মনে হয় বিবিসির পরামর্শ বা জবাবে সঠিক তথ্যের যথেষ্ট ঘাটতি আছে। কারণ বাস্তবতা হচ্ছে বিসিএস পরীক্ষা রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরগুলোতেই নেওয়া হয়। বিসিএস এর মতো অন্যান্য চাকরির পরীক্ষাও যদি ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে নেওয়ার পরামর্শ দেয়া হতো তাহলে সত্যি অনেক ভালো হতো।''

আমরা যা বলেছি, সেটাকে আমি পরামর্শ বলবো না মিঃ পোদ্দার। পত্র লেখক প্রশ্ন করেছিলেন, বিভাগীয় শহরগুলোতে এ ধরনের পরীক্ষা নিলে সমস্যা কোথায়? আমরা তার সাথে একমত পোষণ করেছিলাম।

তবে মূল বিষয় ছিল, আমরা তার প্রশ্নকে বিকেন্দ্রীকরণের প্রতি ইঙ্গিত হিসেবে নিয়েছিলাম। আমাদের উত্তরে সেভাবেই বলা হয়েছিল।

সব শেষে আমার রেডিও অনুষ্ঠানের সময়সূচি নিয়ে একটি প্রশ্ন, লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:

''প্রভাতী এবং প্রত্যুষার স্লট দুটি যেহেতু এখনো বিবিসির রয়েছে তাই ঐ স্লট দুটিতে প্রবাহ এবং পরিক্রমার পুনঃ প্রচার করা যায় কি না তা ভেবে দেখার অনুরোধ জানাচ্ছি।

''আপনারা হয়তো বলবেন, রাতের অনুষ্ঠান পরের দিন সকালে পুনঃ প্রচার করা প্রাসঙ্গিক হবে না, বাসি খবর শুনতে কারো ভালো লাগবে না। সেক্ষেত্রে আমার বক্তব্য হচ্ছে, রাতে যারা মিস করবেন তারা সকালে শুনে নিতে পারবেন।

''আর বিবিসি বাংলার টেলিভিশন অনুষ্ঠান প্রবাহ তো আপনারা পুনঃ প্রচার করেন। তাহলে রেডিও অনুষ্ঠান পুনঃ প্রচার করতে সমস্যা কোথায়?''

আমাদের টেলিভিশন অনুষ্ঠান বিবিসি প্রবাহ একটি সাপ্তাহিক অনুষ্ঠান, আর রেডিওর প্রবাহ আর পরিক্রমা দৈনিক অনুষ্ঠান। সমস্যা সেখানেই মিঃ সরদার।

টেলিভিশনের প্রবাহতে যা বৃহস্পতিবার রাতে প্রচারিত হয়, শুক্রবার সকালে তাতে কোন পরিবর্তন আসার সুযোগ থাকে না। কিন্তু সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় যে অনুষ্ঠান রেডিওতে প্রচারিত হয়, তা পরের দিন সকালে বদলে যেতে পারে। শুধু যে বাসি হবে তাই না, খবর বদলেও যেতে পারে।

সেজন্য আমরা দৈনিক সংবাদ বুলেটিন পরের দিন পুনঃ প্রচার করার পক্ষপাতী না।

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:

দীপক চক্রবর্তী, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়

মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম রাশেদ, কালীগঞ্জ,সাতক্ষীরা।

মোহাম্মদ রুবেল-মিয়ান, মিরপুর, ঢাকা।

মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, সৈয়দপুর, নীলফামারী

মুহাম্মদ মাসুদুল হক মাশুক, চরফ্যাশন, ভোলা।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

মোহাম্মদ আবু তাহের মিয়া, পীরগঞ্জ, রংপুর।

মোহাম্মদ সাইদুর রহমান, কাউনিয়া, বরিশাল।

মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান, গেণ্ডারিয়া, ঢাকা।

মোহাম্মদ শিমুল বিল্লাল বাপ্পী. কপিলমুনি. খুলনা ।