আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
এডিটার'স মেইলবক্স: ই কমার্স গ্রাহকের বেদনা, দ্রব্যমূল্যর ঊর্ধ্বগতি আর বিবিসির বার্ষিকী নিয়ে প্রশ্ন
সম্প্রতি বাংলাদেশে কয়েকটি ই-কমার্স কোম্পানির ব্যবসা নিয়ে অনেক বিতর্ক আর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। অনেক আলোচনা হচ্ছে কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক মডেল, আইনের প্রয়োগ ইত্যাদি বিষয়ে। তবে আজ শুরু করছি গ্রাহকদের মানসিক অবস্থা নিয়ে একটি চিঠি দিয়ে, লিখেছেন মোহাম্মদ রকিবুল হাসান:
''মানসিক শাস্তি বলতে যে একটা বিষয় আছে, সেটা হয়তো আমরা খেয়ালই করি না। শারীরিক সামান্য কষ্টও আমাদের নজরে আসে, কিন্তু মানসিক শাস্তিকে আমরা এতো তুচ্ছ করে দেখি কেন?
''আজ লোভে পড়ে ই- কমার্স কোম্পানি গুলোতে অনেকে পণ্য কিনেছেন, অনেকে ভেবেছেন যে এখান থেকে পণ্য কিনে বেশি দামে বিক্রি করলে আমরা লাভবান হব। ছাত্র অবস্থায় আমার মতো অনেকে এমন পণ্য কিনে বিক্রির চেষ্টা করেছেন।
''অনেকে এখন টাকা হারিয়ে ফেলেছেন, তাদের কথা না হয় বাদই দিলাম। কিন্তু যাদের টাকা সাক্ষাত এস্ক্রো সিস্টেমে জমা আছে, তাদেরটা তো ফেরত দেওয়ার কথা। আজ প্রায় ছয় মাস হয়ে গেল। গ্রাহকদের অনেক শাস্তি হয়েছে। তাদের যে পরিমাণ মানসিক শাস্তি হয়েছে সেটা এখন বেশি হয়ে যাচ্ছে।''
ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে ভুল করা স্বাভাবিক ঘটনা মিঃ হাসান, কারণ মানুষ মাত্রই ভুল করে। কিন্তু এখানে মনে হচ্ছে অনেক মানুষ, যারা শুরুতে খুব একটা ধনীও ছিলেন না, তারা নিজেদের দোষে নয়, বরং কোম্পানির ব্যবস্থাপনার গাফিলতি বা স্রেফ প্রতারণার কারণে সর্বস্বান্ত হতে যাচ্ছেন।
এখানে হয়তো কর্তৃপক্ষ চেষ্টা করতে পারে তাদের টাকা উদ্ধার করে নিয়ে আসতে।
বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:
চাল-ডাল এর হাল চাল
এবারে আসি বাংলাদেশে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যর মূল্য বাড়া প্রসঙ্গে। সে বিষয়ে লিখেছেন গোপালগঞ্জের ঘোড়াদাইড় থেকে ফয়সাল আহমেদ সিপন:
''করোনার আঘাতে মানুষের আয় রোজগারে যখন সীমিত, তখনই হু হু করে বাড়ছে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার মূল্য। চাল, ডাল, তেল, লবণ, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, তরিতরকারি, মাছ-মাংস, মুরগি, ডিম, চিনি, দুধ সহ সকল নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যর মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রতিদিনই। বাজার নিয়ন্ত্রণের কার্যকরী কোনো ব্যবস্থা আছে বলে মনে হয় না। যেটুকু যা আছে তা নিতান্তই প্রচার সর্বস্ব ও লোক দেখানো।''
শুধু চাল-ডাল, মাছ-মাংসই নয়, সেগুলোর সাথে যোগ হয়েছে এলপিজি গ্যাসের দামও, যেকথা বলেছেন ঢাকার সাভার সরকারি কলেজ থেকে মনিরুল হক রনি:
''চাল,ডাল,তেল, পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য যেভাবে বেড়েই চলেছে, তাতে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য তো বটেই, মধ্যবিত্ত শ্রেণিরও সংসার চালাতে নাভিশ্বাস উঠছে। তার উপরে নতুন করে বেসরকারি পর্যায়ের এলপিজি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি বাড়তি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
''সরকারি এলপিজির দাম আগের মত থাকলেও মাত্র এক মাসের ব্যবধানে বেসরকারি এলপিজির দাম সিলিন্ডার প্রতি ২২৬ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ২৫৯ টাকা হওয়া অস্বাভাবিক তো বটেই, অমানবিকও। এক্ষেত্রে সরকারের উচিৎ সরকারি এলপিজির সরবরাহ বৃদ্ধি করা অথবা বেসরকারি এলপিজি সরবরাহকারীদের লাগাম টেনে ধরা।''
একই প্রসঙ্গে লিখেছেন সাতক্ষিরা সরকারি কলেজ থেকে মোহাম্মদ আব্দুল মতিন:
''বাজারের সব জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। সেই সঙ্গে যদি গ্যাস সিলিন্ডারের দামও বাড়তে থাকে, তাহলে আমাদের মতো স্বল্প আয়ের মানুষের তো খুব কষ্ট হয়ে যায়। দাম বাড়লে যে ব্যবহার কমাবো বা বাদ দিবো, সেই উপায় তো নেই। বাসায় যেটুকু দরকার, তা তো লাগবেই।
''অথচ সেদিকে সরকার খেয়াল তো দূরের কথা তাদের মাথায় সর্বদা চিন্তা, কীভাবে বিরোধী দলকে দমন করা যায় এবং নিজের পকেটটা কীভাবে ভর্তি করা যায়?''
আপনাদের চিঠি পড়েই বোঝা যাচ্ছে জিনিসপত্রের বাজার মূল্য এখন অনেক পরিবারের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সরকার যদিও দ্রব্যমূল্য নির্ধারণ করে দেয় না, কিন্তু তারপরও সব কিছুর দাম যদি কোন যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা ছাড়াই বাড়তে থাকে, তাহলে সরকারের সেটা যেমন তদন্ত করে দেখা দরকার, তেমনি দাম কী করে কমিয়ে আনা যায় সেটাও দেখা উচিত।
আবার এটাও খেয়াল রাখতে হবে যে, দ্রব্যমূল্য কমাতে গিয়ে সরকার যেন এমন কোন কিছু করে না বসে যাতে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ক্ষতি হয়।
চুল কাটা আর তেলবাজি
শুধু অর্থনীতি না, উন্নয়নের অন্যান্য সূচকের সাথে বাংলাদেশের বাস্তবতার মিল আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকা থেকে মোহাম্মদ রুবেল মিয়া:
''অল্প কিছুদিন আগে বাংলাদেশের পাসপোর্টকে বৈশ্বিক মানের করতে পাসপোর্ট থেকে "দিস পাসপোর্ট ইজ ভ্যালিড ফর অল কান্ট্রিজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড এক্সসেপ্ট ইসরায়েল'' কথাটি বাদ দেয়া হয়েছে। এতে পাসপোর্টের কী মানোন্নয়ন হয়েছে জানি না তবে আবারো বৈশ্বিক পাসপোর্ট সূচকে বাংলাদেশ ১১৬টি দেশের মধ্যে ১০৮তম হয়েছে।
''ডাক বিভাগের সেবার মান ১৫ ধাপ পিছিয়েছে! দেশে কোন আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা গবেষণার চেয়ে চুল কাটা আর তেলবাজিতেই বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন। এগুলো আসলে কী প্রকাশ করে? অবশ্যই উন্নয়ন তো প্রকাশ করেই না।
''বাংলাদেশে যেভাবে রাষ্ট্র আর সরকারের একীভূতকরণ চলছে, তাতে খুব তাড়াতাড়ি দেশটি 'নির্বাচিত স্বৈরাচারী" রাষ্ট্র পরিগণিত হবে।''
পাসপোর্টের মূল্য নিয়ে যা বলেছেন, সেটা বাস্তবসম্মত, কিন্তু এই দলিলের মূল্য কি আগে কখনো ভাল ছিল? আমার তো মনে পড়ে না মিঃ মিয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নিয়ে আলোচনা আর উদ্বেগ বহুদিন ধরেই চলছে আর শিক্ষকদের নিয়ে বিতর্কও নতুন কিছু না।
তবে আপনি রাষ্ট্র এবং সরকারের একীভূতকরণের যে কথা বলছেন, সেটা সত্যিই উদ্বেগজনক। রাষ্ট্র আর সরকারের মধ্যে সীমারেখা মিশে গেলে স্বৈরাচারী শাসনের রাস্তা সুগম হয়।
স্বৈরাচার আর গণতন্ত্র
স্বৈরাচারের বিপরীত, অর্থাৎ গণতন্ত্র, বিশেষ করে বাক স্বাধীনতা বা মত প্রকাশের স্বাধীনতাও আবার নতুন করে আলোচিত হচ্ছে। এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার দু'জন সাংবাদিককে দিয়ে যে বার্তা দেয়া হয়েছে, তা নিয়ে লিখেছেন খুলনার কপিলমুনি থেকে শিমুল বিল্লাল বাপ্পী:
''আজকের পৃথিবীতে কর্তৃত্ববাদের উত্থান ঘটেছে। তার ফলে সংকুচিত হয়ে আসছে তথ্য প্রাপ্তির স্বাধীনতা। আমি মনে করি, মত প্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্র ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি পূর্বশর্ত।
''রাশিয়ার দিমিত্রি মুরাতভ আর ফিলিপিনের মারিয়া রেসা নিজ দেশের কর্তৃত্ববাদী সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সত্য প্রকাশের কাজ করে গেছেন। তারা সত্য বলা থেকে পিছিয়ে আসেনি। সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করলে যে সম্মানিত হওয়া যায়, এই দুইজন সাংবাদিককে পুরস্কার প্রদান করে নোবেল কমিটি সে বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত করেছে।''
আপনি ঠিকই বলেছেন মিঃ বিল্লাল, দিমিত্রি মুরাতভ আর মারিয়া রেসাকে শান্তি পুরষ্কার দিয়ে নোবেল কমিটি এই বার্তাই দিয়েছে যে, বাক স্বাধীনতা আর শান্তি একই সূত্রে গাঁথা। তারা এটাও বোঝাতে চেয়েছেন যে, যারা অন্যায় এবং স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করবে, তারা কখনো একা হবে না।
আফগানিস্তানে শান্তি আসবে কি?
শান্তির প্রসঙ্গে যখন আছি তখন আফগানিস্তান নিয়ে একটি চিঠি নেয়া যাক।
আমেরিকা আর তার মিত্ররা আফগানিস্তান ছেড়ে চলে যাবার পর অনেকেই আশা করেছিলেন সে দেশে অবশেষে শান্তি আসবে। কিন্তু শান্তির পথে অনেক বাধা আছে, যা নিয়ে লিখেছেন রংপুরের খটখটিয়া থেকে মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন:
''আশা করা হয়েছিল আফগানিস্তানে এবার শান্তি ফিরবে। কিন্তু বর্তমানে সেখানে যে হারে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটছে তাতে শান্তি সুদূর পরাহত। এমন পরিস্থিতিতে আফগান সরকারের উচিত একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠন করা। সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো চিহ্নিত করে অভিযান অব্যাহত রাখা।
''সেই সাথে তাদের আরও উচিত নারী অধিকার সহ মানবাধিকারের সব দিক গুলো সুরক্ষা করা। বহির্বিশ্বের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা। তবেই আমরা একটি শান্তিপ্রিয় আফগান রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখতে পারব।''
কথাগুলো ভালই বলেছেন মিঃ হোসেন, কিন্তু তালেবান সরকারের পক্ষে সব কিছু করা কি সম্ভব? তারা হয়তো একটি শক্তিশালী বাহিনী তৈরি করবে, অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান চালানো শুরু করবে। কিন্তু তাতে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে কি না, সেটা দেখার বিষয়।
কারণ তাদের প্রতিপক্ষও তখন যুদ্ধের পথে চলবে। আপনি যেমন বলছেন, তালেবানের উচিত মানবাধিকার, বিশেষ নারী অধিকার নিশ্চিত করা। কিন্তু একই সাথে আফগানিস্তানের অন্যান্য জাতিগত বা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সাথে নিয়ে সরকার পরিচালনা করা জরুরি। কোন গোষ্ঠী যখন ক্ষমতা নিজের কাছে কেন্দ্রীভূত করে, তখনি তার আশে পাশে বিদ্রোহ দেখা দেয়।
আব্দুল কাদের খান কেন বিপজ্জনক?
আফগানিস্তানে শান্তির আশা থেকে এবারে পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে একটি চিঠি। পাকিস্তানের পারমাণবিক বোমার জনক বলে পরিচিত আব্দুল কাদের খানকে নিয়ে লিখেছেন ঝিনাইদহ থেকে কাজী সাঈদ:
''পাকিস্তানি পরমাণু বিজ্ঞানী আব্দুল কাদির খানকে নিয়ে বিবিসি বাংলার ভিডিও প্রতিবেদনটি দেখে বেশ অবাক হলাম। তাকে কি আসলেই বিন লাদেনের মতো বিপজ্জনক মনে করা হতো? তিনি এটা কখনো বিশ্বাস করতেন না যে পরমাণু অস্ত্র শুধুমাত্র গুটিকয়েক দেশের হাতে থাকলেই বিশ্বটা নিরাপদ থাকবে।
''পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে বা রাখতে সক্ষম হওয়াতে যদি তাকে সবচেয়ে বিপজ্জনক বলা হয় তাহলে অন্যরা, যারা অনেক আগে থেকেই রেখে আসছে, তাদেরকে কেন বলা হচ্ছেনা? পরমাণু অস্ত্র বা সন্ত্রাসবাদ যদি সত্যিকার অর্থেই বিশ্বকে বিপজ্জনক করে তোলে, তাহলে সেটা পশ্চিমাদের ভণ্ডামির জন্যই ঘটবে, অন্যদের জন্য নয়।''
ভণ্ডামি না বলে আমি বলবো, এখানে পশ্চিমা দেশগুলো তাদের স্বার্থ রক্ষা করছে মিঃ সাঈদ। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় এখন যে স্থিতিশীলতা আর ভারসাম্য আছে, পারমাণবিক, রাসায়নিক ইত্যাদি অস্ত্র ছড়িয়ে পড়লে সেই ভারসাম্য ক্ষুণ্ণ হবে এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঝুঁকি প্রবল ভাবে বেড়ে যাবে।
এই মুহূর্তে যাদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র আছে তারা এই ভারসাম্য নষ্ট করতে চায় না, সেজন্য তাদেরকে নিরাপদ ভাবা হয়। কিন্তু অন্যান্য রাষ্ট্র বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, যাদের হয়তো আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় তেমন ভূমিকা নেই, তাদের হাতে এ'ধরনের অস্ত্র গেলে বিপদের আশংকা থাকবে।
রেডিওতে ডাক্তারের চিকিৎসা
এবারে আমাদের অনুষ্ঠান নিয়ে কিছু চিঠি। প্রতি সোমবার একজন ডাক্তারের উপস্থিতিতে যে ফোন-ইন অনুষ্ঠিত হয়, তা নিয়ে আপত্তি করে লিখেছেন রংপুরের লালবাগ থেকে মোহাম্মদ মহসিন আলী:
''এই অনুষ্ঠান থেকে শ্রোতারা শুধু একটি উত্তর পান, আর সেটি হল- আপনার নিকটস্থ একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। যদি নিকটস্থ চিকিৎসক দেখিয়ে সমস্যার সমাধান হয়, তাহলে এই অনুষ্ঠানটির প্রয়োজন কি?
''এছাড়াও শ্রোতাদের প্রসঙ্গহীন অগোছালো বক্তব্য বা প্রশ্ন আরও বেশী বিরক্তির উদ্রেক করে। আসলে অনুষ্ঠানটির কাঠামো গত পরিবর্তন জরুরি হয়ে পড়েছে বলে আমার মনে হয়। অনুষ্ঠানটি শুনে বাস্তব জীবনে প্রয়োগের কোন সুযোগ নেই।''
এই অনুষ্ঠানটির উদ্দেশ্য কিন্তু চিকিৎসা দেয়া না মিঃ আলী। আপনি যদি তাই বুঝে থাকেন, তাহলে আমরা অত্যন্ত দু:খিত যে অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য আপনাকে ঠিক মত বোঝাতে পারিনি। অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য হচ্ছে মোটা দাগে পরামর্শ দেয়া, কারণ চিকিৎসা করতে গেলে ডাক্তারকে রোগীকে সশরীরে পরীক্ষা করতে হবে।
অনুষ্ঠানে কলারের নিজ কথায় উপসর্গগুলো জেনে ডাক্তার বলতে পারেন কী করা উচিত। সেখানে তিনি যদি মনে করেন সরাসরি ডাক্তার দেখানো উচিত, তিনি সেই পরামর্শই দেবেন।
বিবিসি বাংলার স্মৃতি
বিবিসি বাংলা এ'সপ্তাহে তার ৮০তম বার্ষিকী সম্পন্ন করলো। এই বার্ষিকী ঘিরে কিছু স্মৃতি, কিছু অভিযোগ করে লিখেছেন ক'জন শ্রোতা পাঠক। প্রথমে ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:
''কাল পরিক্রমায় বিবিসি বাংলার অনেক পরিবর্তন ও পরিবর্ধন হলেও রেডিও অনুষ্ঠানের গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা এখনও শীর্ষে। আমি ছাত্র, চাকুরি ও জীবনের প্রয়োজনে বেশ কিছু জায়গায় থেকেছি। সেখানকার গণ মানুষের বিবিসি রেডিও অনুষ্ঠানের প্রতি অপেক্ষার আগ্রহ সত্যিই এখনো অবাক করে দেয়।
''রাজধানী ঢাকাতে এখনো অনেক দোকানপাট ও রাস্তাঘাটে খুব আগ্রহ নিয়ে বিবিসি বাংলার রেডিও অনুষ্ঠান মোবাইল এফএম-এ শুনতে দেখি। যা আমাকে মুগ্ধ ও বিস্মিত করে। তাই এই ৮০ বছরের শুভ ক্ষণে অনুরোধ থাকবে রেডিও অনুষ্ঠানের গুরুত্ব বিবেচনায় রেখে পরবর্তীতে আশান্বিত পরিবর্তন-পরিবর্ধন করবেন।''
রেডিওর গুরুত্ব বুঝেই আমরা এখনো রাতে দুটো অধিবেশন ধরে রেখেছি মিঃ শামীম উদ্দিন। আমি 'এখনো' শব্দটি ব্যবহার করলাম, কারণ বাংলাদেশে রেডিওর চাহিদা কমছে, কিন্তু তারপরও আমরা মনে করে রেডিরও প্রয়োজন আছে।
তবে বিবিসির পরবর্তী জরিপে শ্রোতা সংখ্যা যদি উল্লেখযোগ্য হারে কমতে দেখা যায়, তাহলে রেডিওর অবস্থান পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।
পরের চিঠি লিখেছেন লালমনিরহাটের গুড়িয়াদহ থেকে আহসান হাবিব রাজু:
''সময়ের সাথে সাথে বিবিসি বাংলা আগের তুলনায় অনেকটাই তার বিশুদ্ধতা ধরে রাখছে। বর্তমানে যে সকল মিডিয়া রয়েছে, সেগুলোর সাথে তুলনা করলে বিবিসি বাংলা নিঃসন্দেহে এগিয়ে।
''বিবিসি বাংলার যে দিকটা সব থেকে ভালো লাগে তা হল, যদি কোন নিউজ দিতে নাও পারে তারপরও গুজব ছড়ানোর মতো নিউজ বিবিসি বাংলা থেকে পাওয়া যায় না। যেখানে অন্যান্য মিডিয়া ট্রেন্ডিংএ উঠে আসার জন্য একটা সাধারণ নিউজকে গুজব আকারে ছড়ানোর মতো শিরোনাম দিয়ে দেয়।
''ধন্যবাদ দেবো বিবিসি বাংলাকে বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক চাপের পরও তার বিশুদ্ধতা অনেকটাই ধরে রাখার জন্য।''
আপনাকেও ধন্যবাদ মিঃ হাবিব, বিবিসি বাংলার ওপর আস্থা রাখার জন্য। আশা করছি আমাদের জন্ম শত বার্ষিকীতেও আমাদের শ্রোতা-পাঠক-দর্শক এ'ধরনের মন্তব্য করবেন।
বার্ষিকী উদযাপন নেই কেন?
তবে আমাদের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন - বা উদযাপন না করার বিষয়ে মনক্ষুণ্ন হয়ে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:
''আশি বছর পূর্তি উপলক্ষে বিবিসি বাংলার নিকট দর্শক, শ্রোতা এবং পাঠকদের অনেক প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু তেমন কোনো উদ্যোগ আমার চোখে পড়েনি। বিবিসি বাংলা তার অডিয়েন্স বাদ দিয়ে একেবারেই সাদামাটা ভাবে দিনটি উদযাপন করবে সেটি মোটেই প্রত্যাশিত ছিল না।
''করোনা পরিস্থিতি যেহেতু খুবই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে তাই বিবিসি বাংলা চাইলেই বিভাগীয় শহর গুলোতে শ্রোতা সম্মেলনের আয়োজন করতে পারতো কিম্বা ১১ অক্টোবর একটা ফেসবুক লাইভও করা যেত। আমি জানিনা বিবিসি বাংলার আশি বছর পূর্তি উদযাপনে এতোটা অনীহা ঠিক কি কারণে?''
এটাকে আমি অনীহা বলবো না মিঃ সরদার। আশি বছর একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্ষিকী এবং সেটা ধুমধাম করে উদযাপন করার ইচ্ছা আমাদের ছিল। কিন্তু করোনা মহামারি সবই পাল্টে দিয়েছে। আপনি মনে করছেন সব স্বাভাবিক হয়ে গেছে, কিন্তু আপনার মত আমরা তত আস্থাবান হতে পারি নি।
একটি ঘরে এক-দেড়শ অতিথি নিয়ে অনুষ্ঠান করার ঝুঁকি আমরা নিতে চাই নি। স্মরণিকা প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত আমরা বাধ্য হয়েই নিয়েছি। আরেকটি বিষয়, অনুষ্ঠান করার ক্ষেত্রে আমরা জলবায়ু সম্মেলনকে গুরুত্ব দিয়েছি, যার জন্য আমাদের লোকবল উপকূলবাসীর জীবন নিয়ে প্রতিবেদন করার জন্য নিয়োগ করা হয়েছিল।
অভিযোগের পর একটি প্রশংসা বাণী রাখা নিশ্চয়ই দরকার, আর সেরকম কিছু কথা দিয়ে আজ শেষ করবো, লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:
''উনিশ'শ একাত্তর সালে গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে বিবিসি'র ভূমিকা বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। জাতির ঘোর দুর্দিনে এই সংবাদ মাধ্যম কোটি কোটি মানুষের আস্থা ও বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানে রূপ নেয়।
''সেই বিভীষিকাময় দিনগুলোতে, যখন বিশ্বে এখনকার মতো এত গণমাধ্যম ছিল না, তখন লন্ডন ভিত্তিক বিবিসি প্রায় দিশেহারা বাঙালি জাতিকে সঠিক তথ্য দিয়ে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও অনুপ্রেরণা যোগায়।
''শুধু তাই নয় বাংলাদেশের বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রাম, ক্রান্তিকাল, নির্বাচন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ইত্যাদি ছাড়াও বিশেষ করে আশির দশকের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সময় বিবিসি বাংলা ছিল গ্রাম, শহর ও বহির্বিশ্বে নিরপেক্ষ সংবাদের মূর্ত প্রতীক।
''শহর, গ্রাম ও বহির্বিশ্বে বাংলাভাষী শ্রোতা পাঠকের কাছে অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাংলা বেতার অজানা থাকলেও বিবিসি বাংলা এখনও একটি ব্রান্ড। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যেভাবে গণমাধ্যমটি ঝুঁকি নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ ও সঠিক তথ্য উপস্থাপন করেছে, এখনো এটি সেই ধারা অব্যাহত রেখেছে।
''গণমাধ্যমের বিস্তারের পাশাপাশি একপেশে সংবাদ পরিবেশনের প্রবণতা বেড়েছে কিন্তু বিবিসি বাংলা তার নিরপেক্ষতা, তথ্যবহুল প্রতিবেদন, বৈচিত্র্যময় অনুষ্ঠান ও পেশাদারিত্বের জন্য গণ মানুষের কাছে এখনও জনপ্রিয়।''
আপনাকেও ধন্যবাদ বিবিসির সাথে থাকার জন্য মিঃ রহমান। আশা করি ভবিষ্যতেও বিবিসি ওপর আপনার আস্থা অটুট থাকবে।
এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:
দীপক চক্রবর্তী, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়।
মোহাম্মদ আলমগির বাদশা, বদরগঞ্জ ,রংপুর।
আশিস মণ্ডল, তালখড়ি, শালিখা, মাগুরা।
মোহাম্মদ মাহমুদ শরীফ, বালুয়া, মিঠাপুকুর, রংপুর।
মেনহাজুল ইসলাম তারেক, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।
সম্পদ কুমার পোদ্দার বলরাম, শেরপুর, বগুড়া।
এম শুয়াইব, চট্টগ্রাম কলেজ।
আকতারুজ্জামান মোহাম্মদ মোহসীন, সন্দ্বীপ, চট্টগ্রাম