বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় গত কয়েক দশকে কী পরিবর্তন এসেছে

সেল্ফ সেন্সরশিপ এখন সাংবাদিকতার জন্য বড় সমস্যা।

ছবির উৎস, Christine Rose Photography/Getty

ছবির ক্যাপশান, সেল্ফ সেন্সরশিপ এখন সাংবাদিকতার জন্য বড় সমস্যা (প্রতিকী ছবি)
    • Author, ফারহানা পারভীন
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
  • Published

বাংলাদেশে বিবিসির বাংলা বিভাগের সম্প্রচারের ৮০ বছর পূর্ণ করলো আজ।

এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বব্যাপী সংবাদিকতায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশেও গত কয়েক দশকে সংবাদ সংগ্রহ এবং পরিবেশনে এসেছে পরিবর্তন।

সেল্ফ সেন্সরশিপ

সংবাদমাধ্যমে যারা কাজ করেন তারা বলছেন, বর্তমান সময়ে সাংবাদিকতা করার ক্ষেত্রে যে শব্দটা মাথায় রাখতে হয় সেটা হল - 'সেল্ফ সেন্সরশিপ।'

নাগরিক টেলিভিশনের বার্তা প্রধান দীপ আজাদ বলেন, এই সেল্ফ সেন্সরশিপ এখন বাংলাদেশে সাংবাদিকতার জন্য বড় সমস্যা।

"বড় সমস্যা হল, এই সংবাদটি করলে কে ক্ষুব্ধ হতে পারেন, আমার মালিক খুশি হবেন কিনা, আমি কোন সমস্যায় পড়বো কিনা, আমার কাজের ক্ষেত্র কমে যাবে কিনা, কে কী ভাববেন, কে কী ভাবছেন , কী হতে পারে - এইসব বিষয়ই আমরা আগে ভাবছি। ফলে এটা সাংবাদিকতার প্রথম সমস্যা হচ্ছে।"

আরো পড়ুন:

বাংলাদেশে গণমাধ্যমে যারা কাজ করছেন তারা মনে করেন - মালিকপক্ষের স্বার্থ আর আইনের জটিলতার কারণে মূলধারার সংবাদকর্মীদের কাজ করার জায়গাটা অনেকটা সংকুচিত হয়ে পড়েছে ।

বেসরকারি টেলিভিশন এটিএন বাংলার প্রধান নির্বাহী সম্পাদক জ ই মামুন বলেন, ৬০ অথবা ৭০-এর দশকের মত গণমাধ্যম এখন আর দাতব্য কাজ করে না। এখানে অনেকখানি ব্যবসা ঢুকে গেছে।

জ ই মামুন প্রধান তিনটি চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেন।

"মালিক পক্ষের ব্যবসায়িক স্বার্থ বিবেচনা করে আমাদের কাজ করতে হয়। সেকারণে অনেক কিছু আমরা করতে পারি না। যারা বিজ্ঞাপন দেন তাদের স্বার্থ দেখা আমাদের সবচেয়ে বড় কর্তব্য।"

"তৃতীয়ত, রাষ্ট্র এবং সরকার ব্যবস্থা। এখানে ডিজিটাল অ্যাক্টসহ বিভিন্ন আইন-কানুন রয়েছে। তবে সরকার বা রাষ্ট্রের আগে আমাদের মালিক এবং বিজ্ঞাপনদাতার স্বার্থ দেখতে হয়"।

তথ্য অধিকার আইন কতটা সাহায্য করছে

বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গত দুই বছরে সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, শিল্পী, অভিনেতা, চলচ্চিত্র পরিচালক, গার্মেন্টস-কর্মী থেকে শিক্ষক-ছাত্র পর্যন্ত আসামী হয়ে জেল খেটেছেন।

এ আইন নিয়ে বিতর্ক এবং উদ্বেগের মূল কারণ হিসেবে বলা হয় বেশকিছু ধারার মাধ্যমে যথেচ্ছা হয়রানির সুযোগ রয়েছে।

তবে তথ্য পাওয়ার অধিকার রয়েছে বাংলাদেশে। সাংবাদিকতার জন্য সেটা কতটা সাহায্য করছে?

দীপ আজাদ বলছেন, বাংলাদেশে যদিও তথ্য অধিকার আইন রয়েছে, কিন্তু সাংবাদিকতার জন্য তথ্য সরবরাহ না করাটা একটা ট্রেন্ড হয়ে গেছে।

মালিকপক্ষ এবং বিজ্ঞাপনদাতাদের চাপ থাকে ( প্রতিকী ছবি)

ছবির উৎস, Catherine Falls Commercial/Getty

ছবির ক্যাপশান, মালিকপক্ষ এবং বিজ্ঞাপনদাতাদের চাপ থাকে ( প্রতিকী ছবি)

"বাংলাদেশে একটা ট্রেন্ড হয়ে গেছে আমলাদের ক্ষেত্রে - সেটা হল তথ্য না দেয়ার অধিকারটাই তাদের কাছে মুখ্য। তথ্য না দেয়াটাই তাকে শিক্ষা দেয়া হয়েছে, বা তার কর্তব্য হল তথ্য না দেয়া।"

"আমার অভিজ্ঞতা বলে রাইট টু ইনফরমেশন বা আরটিআই করে তথ্য পাওয়া যায় না। যতদিনে আপনি ইনফরমেশন পাবেন ততদিনে আর এর মেয়াদ থাকে না।"

আইন নিয়ে শঙ্কা

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কারাবন্দী লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর পর বাংলাদেশে এ আইন নিয়ে বিতর্ক এবং সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।

অনেকেরই অভিযোগ এ আইন অধিকাংশ ক্ষেত্রে হয়রানির এবং অপব্যবহারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ এবং সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক কাবেরী গায়েন বলছেন, অনলাইন পোর্টাল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে দ্রুত নিউজটা নিশ্চিত করা মূল ধারার সাংবাদিকতার জন্য বিরাট চাপের হয়ে গেছে।

বাকস্বাধীনতা এবং তথ্যের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করে আর্টিকেল নাইনটিন।

আন্তর্জাতিক এই মানবাধিকার সংস্থাটি বলছে, চলতি বছরে প্রথম নয় মাসে বাংলাদেশে সংবাদ সংগ্রহ করতে যেয়ে ২৪১জন সাংবাদিক আঘাত ও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন। সম্প্রতি নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগের দু'পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ একজন সাংবাদিক নিহত হন।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন: