আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
মাস্টারশেফ-এ কিশোয়ার, নারায়ণগঞ্জের আগুন আর বুলিং নিয়ে প্রশ্ন
- Author, সাবির মুস্তাফা
- Role, সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা
- Published
- পড়ার সময়: ৮ মিনিট
গত সপ্তাহে বাংলাদেশের অন্যতম শিল্প নগরী নারায়ণগঞ্জের একটি কারখানায় আগুনে অন্তত ৫২জনের মৃত্যুর খবর অনেককেই বিচলিত করেছে।
একই সাথে, টেলিভিশন-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক রান্না প্রতিযোগিতা মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি কিশোয়ার চৌধুরীর সাফল্য অনেকের জন্য আনন্দ নিয়ে এসেছে।
এই দুটো বিষয় নিয়ে কয়েকটি চিঠি এসেছে, প্রথমে অগ্নিকাণ্ড নিয়ে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:
''একাধিক মাধ্যম থেকে জানা গেছে, বহুতল এ ভবনের চারতলার একটি গেটে তালা লাগানো ছিল, যার কারণে এতগুলো নিরীহ মানুষকে আগুনে পুড়ে জীবন দিতে হয়েছে।
''কারখানাটির কর্তৃপক্ষের যথেষ্ট পরিমাণ গাফিলতি ছিল বলেই প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে। প্রশ্ন হচ্ছে, কিছু মানুষের খামখেয়ালির জন্য আর কত নিরীহ মানুষকে এভাবে জীবন দিতে হবে?
''বিষয়টিতে সরকারের আরও সজাগ দৃষ্টি দেবার পাশাপাশি এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলেই মনে হয়।''
এ'বিষয়ে আরো লিখেছেন ঢাকার যাত্রাবাড়ি থেকে মোহাম্মদ মোবারক হোসাইন:
''আমাদের দেশে সরকারি চাকরি মানে শান্তির চাকরি। কোন কাজ না করলেও বেতন পাওয়া যায়। যেমন বিল্ডিং নির্মাণে ত্রুটি, অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা রাখা না রাখা ইত্যাদি।
''এসব দেখা-শোনার দায়িত্ব তো সরকারি অফিসারদের ছিল। কিন্তু তারা তাদের দায়িত্ব পালন করেনি। আর এ কারণে একের পর এক অগ্নিকাণ্ড ঘটে চলেছে।
''তার পরেও আমাদের কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে না। কী বলবো, বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। না জানি আরো কত আগুনে পোড়া ভাই বোনদেরকে দেখতে হবে।''
আপনারা ঠিকই বলেছেন মিঃ সরদার এবং মিঃ হোসাইন, সরকার এখানে তার দায়িত্ব কোনভাবেই এড়াতে পারে না। নারায়ণগঞ্জেও দেখা গেছে নকশার ক্রুটি, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্রুটি, ভবনটির অনুমোদন ছিল কি না, তা নিয়েও নানা প্রশ্ন।
এখানে শিল্প-কারখানার নিরাপত্তা তদারকির দায়িত্ব যে বিভাগের, তাদের দক্ষতা বা ক্ষমতা, দুটোই যে কত দুর্বল তা আবার প্রমাণিত। সদিচ্ছার অভাব আছে বললেও ভুল বলা হবে না।
গার্মেন্টসে বিদেশী ক্রেতাদের চাপ ছিল বলেই সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কিন্তু দেশের হাজার হাজার কল-কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে।
বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:
ঘটনার পর দিন বিবিসির খবর নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তিতে ছিলেন মোহাম্মদ ফাতিউর রহমান রাকিব, যিনি রাজশাহী থেকে লিখেছেন:
''বিবিসি বাংলায় শনিবারের রিপোর্টে মৃত্যুর সংখ্যা ৪৯ জন বলছে। আর বাংলাদেশের অন্যান্য মিডিয়া জানিয়েছে এখন পর্যন্ত ৫৩ জন। বিবিসি কিসের ভিত্তিতে মৃত্যুর সংখ্যা ৪৯ জন বললো? কোনটা সত্য নিউজ, আমরা কোনটা মেনে নিবো?''
আপনার বিভ্রান্তির কোন কারণ আমি দেখছি না মিঃ রহমান। শনিবার না, খবরটি আমরা প্রথম পরিবেশন করি শুক্রবার দুপুরে। তখন ৪৯ জনের মৃত্যুর খবর বলা হয়েছিল।
কিন্তু তার ঘণ্টা দুয়েক পরেই মৃত্যু সংখ্যা বেড়ে ৫২তে ওঠে। আমাদের ওয়েবসাইটে খবর তখনি আপডেট করে দেয়া হয়।
তাহলে বুঝতেই পারছেন এখানে বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু ছিল না। ফায়ার সার্ভিস-এর তরফ থেকে যে মৃত্যু সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়েছে, আমরা সেটাই বলেছি।
মাস্টারশেফ-এ কিশোয়ার এর পান্তা ভাত
তবে শুধু খারাপ খবরই না, বাংলাদেশিদের আনন্দ দেবার মত খবরও ছিল বিগত সপ্তাহে। মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কিশোয়ার চৌধুরী দ্বিতীয় রানার-আপ হয়ে যে সাফল্য পেয়েছেন, তা দেখে অনেকেই গর্ববোধ করছেন।
যেমন লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মাহবুবা ফেরদৌসি হ্যাপি:
''কিশোয়ার চৌধুরীর এ বিজয়ে খুবই অনুপ্রাণিত হলাম। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এটা অবশ্যই বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক সংবাদ।
''রন্ধনকে একসময় শুধু নারীদের গৃহস্থালি কাজ হিসেবে বিবেচনা করা হতো কিন্তু কালক্রমে এটি দেশে বিদেশে শিল্পের মর্যাদা লাভ করেছে।
''বাংলাদেশে সিদ্দিকা কবির এটাকে বেশ জনপ্রিয় করেছেন এবং নারী পুরুষ অনেকেই রন্ধন শিল্পে আগ্রহী হয়ে এটাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
''বিবিসির মাধ্যমে কিশোয়ার চৌধুরীর এ সাফল্যের জন্য অভিনন্দন ও নিরন্তর শুভকামনা।''
এই মুহূর্তে কিশোয়ার চৌধুরীর সাফল্য একান্ত একটি ব্যক্তিগত সাফল্য, তার নিজস্ব প্রচেষ্টা এবং পরিশ্রমের ফসল।
কিন্তু আপনি যেমন অনুপ্রাণিত হয়েছেন মিস ফেরদৌসি, তেমনি আরো অনেক বাংলাদেশি, বিশেষ করে নারী, এখন আগ্রহী হবেন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করতে।
কিশোয়ার চৌধুরী তাদের সেই সাহসটা যোগান দিয়েছেন, যার ফল আমরা নিশ্চয়ই আগামী দিনগুলোতে দেখতে পাবো। তখন আজকের এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য থাকবে না।
বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:
এ'বিষয়ে আরো লিখেছেন রংপুরের লালবাগ থেকে মোহাম্মদ মোহসীন আলী:
''গত ১৩ই জুলাই পরিক্রমায় প্রচারিত কিশোয়ার চৌধুরীর সাক্ষাৎকারটি খুব ভালো লেগেছে। উনি একজন বাঙ্গালি নারী হিসেবে আন্তর্জাতিক এ প্রতিযোগিতায় তৃতীয় হয়ে নিশ্চয় দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন।
''আমি দীর্ঘদিন ধরে খেয়াল করছি অনুষ্ঠানটিতে যিনি সাক্ষাৎকার দেন তার কোন জীবন বৃত্তান্ত তুলে ধরা হয়না।
''তাই অনুরোধ করছি অনুষ্ঠানের শুরুতে সংক্ষিপ্তাকারে বিশেষ করে জন্মস্থান, বৈবাহিক অবস্থা, বর্তমান পেশার মত কয়েকটি তথ্য শুরুতে জানিয়ে দেয়া হোক।''
কিশোয়ার চৌধুরীর সাক্ষাৎকার আপনার ভাল লেগেছে জেনে আমাদেরও ভাল লাগল মিঃ আলী।
আমি আপনার সাথে একমত, যার সাক্ষাৎকার নেয়া হচ্ছে, তার সম্পর্কে কিছু তথ্য থাকা উচিত, তবে সেটা শুরুতে না হলেও বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরের মাঝেও চলে আসতে পারে।
উইম্বলডনএ বাঙালি চ্যাম্পিয়ন
আরেকজন বাঙালির সাফল্য নিয়ে লিখেছেন অয়ন দাস, তবে তিনি কোথা থেকে লিখেছেন তা বলেন নি:
''জুনিয়র উইম্বলডন চ্যাম্পিয়ন হলেন সমীর বন্দ্যোপাধ্যায়। এই সংক্রান্ত কোনো খবর আপনাদের অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত হতে দেখতে পেলাম না।
''এই ঘটনাটি কি উল্লেখযোগ্য নয়, বিশেষ করে যেখানে বাঙালি-যোগ জড়িয়ে রয়েছে? নাকি অন্য কিছু?''
অন্য কিছু বলতে কী বোঝাচ্ছেন তা আমার মাথায় আসছে না মিঃ দাস। তবে প্রশ্নের উত্তরে বলবো, এখানে অন্য কিছুই নেই।
সত্য কথা হচ্ছে, জুনিয়র উইম্বলডন কখনো আমাদের খবরে রাখা হয় না। আপনি হয়তো খেয়াল করেছেন খেলা-ধুলায় আমরা সাধারণত সিনিয়র টুর্নামেন্ট কভার করে থাকি।
বুলিং এর প্রতিকার কী?
এবারে আসি অত্যন্ত গুরুতর একটি বিষয়ে, আর তা হলো বুলিং বা কাওকে শারীরিক এবং মানসিক ভাবে হেনস্তা বা অত্যাচার করা। বুলিং এর কারণে অনেক অল্প বয়সী ছেলে-মেয়ে মানসিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে।
এর প্রতিকার নিয়ে লিখেছেন ঢাকার সাভার থেকে মনিরুল হক রনি:
''সম্প্রতি বনশ্রী আইডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী শিক্ষক ও সহপাঠীদের দ্বারা বুলিংয়ের শিকার হয়ে নিজের অতিরিক্ত ওজন কমাতে গিয়ে 'অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসা' নামক রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
''ঘটনাটি সত্যি খুবই বেদনাদায়ক এবং মর্মস্পর্শী।
অনেক সময় শিশুরা শিক্ষক, সহপাঠী বন্ধুবান্ধব, প্রতিবেশী এমনকি পরিবারের সদস্যদের দ্বারাও বুলিংয়ের শিকার হয়। অপমান সহ্য করতে না পেরে ভিকটিম শিশুটি আত্মহত্যার মত কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেও বাধ্য হয়।
''অনেক ক্ষেত্রে, অভিভাবকরা এসব ঘটনাকে কোনো গুরুত্বই দেন না অথবা এড়িয়ে যান। বুলিংয়ের নেতিবাচক প্রভাব কত যে মারাত্মক, তা তারা উপলব্ধিই করতে পারেন না।
''তাই পরিবার থেকে শুরু করে সবাইকে বুলিংয়ের ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। সাথে সাথে বুলিংয়ের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা তৈরির জন্য প্রচার প্রচারণা চালাতে হবে।''
বুলিং সত্যি একটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি মিঃ হক। কিন্তু কোন দেশ বা সমাজই বুলিং থেকে মুক্ত না। প্রতিটি দেশে দেখা যায় স্কুল, কলেজে বা পাড়া-মহল্লায় অপেক্ষাকৃত দুর্বল কেউ বুলিং-এর শিকার হচ্ছে।
ভিকটিম অনেক সময় ভয়ে বা লজ্জায় বা-মাকে বলতে পারে না বা চায় না। অনেকে মনে করে অভিযোগ করলে বাবা-মা বিষয়টিকে গুরুত্ব দেবে না।
বুলিং বন্ধ করতে হলে স্কুল-কলেজ কর্তৃপক্ষকে তৎপর হতে হবে। অন্যদিকে, পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের, বিশেষ করে বাবা-মা, ভাই-বোনদের উচিত বুলিং এর শিকার শিশুকে যথেষ্ট সান্ত্বনা এবং সাহস দেয়া, যাতে তারা মানসিক ভাবে ভেঙ্গে না পড়ে।
বিবিসি বাংলার ইউ টিউব চ্যানেলে ভিডিও দেখুন:
বুলিং নিয়ে বাংলাদেশ #trending অনুষ্ঠানে প্রতিবেদন ও আলোচনা:
ভারতের আফগান নীতি কি বিপর্যয়ের মুখে?
এবারে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের দিকে দৃষ্টি দেই।
আফগানিস্তানে থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার তালেবান-এর বিজয় তরান্বিত করতে পারে বলে অনেকেই ধারণা করছেন।
কিন্তু এর ফলে ভারতের আফগান নীতি যে বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে, তা নিয়ে আমাদের প্রতিবেদন নিয়ে লিখেছেন বরিশালের কাউনিয়া থেকে মোহাম্মদ সাইদুর রহমান:
''এ'মাসের ১৩ তারিখ বিবিসি বাংলার ফেসবুক পাতায় আফগানিস্তানে ভারতের তালেবান সংকট নিয়ে শাকিল আনোয়ারের চমৎকার বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনটি বেশ মনোযোগ দিয়ে পড়লাম।
''আসলে ভারতের হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার এতদিন ভারতের অভ্যন্তরে সংখ্যালঘু মুসলমানদের নিয়ে নানাভাবে যে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির খেলা খেলছিল, আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তার কিছুটা অমানিশা পরিলক্ষিত হচ্ছে।
''তালেবানদের উত্থান অবশ্যই মোদী সরকারকে ভাবিয়ে তুলেছে, বিশেষ করে জম্মু-কাশ্মীর ইস্যু এবং পাকিস্তানের সাথে ভারতকে যে বেশ বোঝা পড়া করতে হবে, তা আপনাদের প্রতিবেদনে চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
''আমার প্রশ্ন হচ্ছে, তালেবান যে জটিল পথে হাঁটছে, ভারত কী কূটনৈতিকভাবে পাকিস্তানকে টপকে তার স্বার্থ উদ্ধার করতে পারবে?''
ভারতের আফগান নীতিতে সাম্প্রদায়িক কোন প্রভাব আছে বলে আমার মনে হয় না, মিঃ রহমান। প্রতিটি সরকারের আমলেই ভারত আফগানিস্তানে একটি নীতি অনুসরণ করে আসছে।
এই নীতির মূল লক্ষ্য হল পাকিস্তান যাতে আফগানিস্তানকে তার সামরিক এলাকা হিসেবে ব্যবহার না করতে পারে।
কিন্তু অতীতে আফগানদের সাথে দিল্লির যে ভাল সম্পর্ক ছিল, তালেবান গোষ্ঠীর সাথে সম্পর্ক ঠিক তার বিপরীত হবে। দেশে তালেবানের প্রভাব যত বাড়বে, ভারতের প্রভাব ততই কমবে বলে মনে হচ্ছে।
পাকিস্তানকে টপকে তার স্বার্থ উদ্ধার করতে হলে ভারতকে যে ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে, সেটা দিল্লির পক্ষে নেয়া হয়তো সম্ভব না, বিশেষ করে আমেরিকানরা যদি সেখানে আর কোন সামরিক তৎপরতা বজায় রাখতে না চায়।
ডাইক্লোফেনাক - শকুন মড়কের কারণ
গত রবিবার ইতিহাসের সাক্ষী অনুষ্ঠানটি ছিল ডাইক্লোফেনাক নামক সস্তা ওষুধের কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় ব্যাপক হারে শকুন মরে যাবার ঘটনা নিয়ে।
সে বিষয়ে লিখেছেন ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে মোহাম্মদ কামাল হোসেন মিলন মুকছুদি:
''খুব সুন্দর একটি অনুষ্ঠান প্রচারের জন্য অনেক ধন্যবাদ। যখন স্কুলে পড়ি তখন এই প্রসঙ্গটি পত্রিকার পাতায় পড়েছিলাম।ডাইক্লোফেনাক সোডিয়াম খাওয়ানো মৃত জীবজন্তু খেয়ে শকুন হারিয়ে যাচ্ছে।
''পরবর্তীতে ফার্মা চাকুরি করার সময় জানতে পারলাম, 'ডাইক্লোফেনাক সোডিয়াম ভেট' নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
''আপনাদের মাধ্যমে জানলাম যে, বাংলাদেশসহ সার্ক অঞ্চলে শকুনের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে।
''বিবিসির মাধ্যমে সরকারকে জানাতে চাচ্ছি, ডাইক্লোফেনাক সোডিয়াম ভেট নিষিদ্ধ হলেও, ডাইক্লোফেনাক সোডিয়াম মেডিসিন, অর্থাৎ মানুষ এর জন্য ব্যবহৃত ঔষধ, পশু-পাখিকে এখনো খাওয়ানো হচ্ছে।
''ভেটেনারি দোকানগুলোতে প্রচুর পরিমাণে হিউম্যান ডাইক্লোফেনাক সোডিয়াম মেডিসিন পাওয়া যায়।''
আপনাকেও ধন্যবাদ মিঃ মুকছুদি, বিশেষ করে ডাইক্লোফেনাক যে এখনো পশু-পাখির শরীরে প্রবেশ করছে, এ'কথা তুলে ধরার জন্য। আশা করি কর্তৃপক্ষ এ'বিষয়ে সজাগ আছে এবং পশু-পাখি রক্ষার জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ নিচ্ছে।
ইউরো ২০২০-এর খবর নাই কেন?
এবারে একটি অভিযোগ, লিখেছেন ঢাকার গ্রিন রোড থেকে পার্থ ঘোষ:
''এইমাত্র ইউরো ২০২০ ফাইনাল ম্যাচ শেষ হল। টানটান উত্তেজনাপূর্ণ খেলা দেখে খুবই ভালো লেগেছে। ইংল্যান্ডের স্বপ্ন চূর্ণ করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইতালি।
''আমি আগ্রহ নিয়ে বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইট দেখলাম কিন্তু দুঃখের বিষয় এই ম্যাচের কোন খবর ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয় নাই।
''অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইটে দেখলাম তৎক্ষণাৎ এই ম্যাচের সমগ্র খবর আপলোড করা হয়েছে। দয়া করে কারণ বলবেন কি?''
সত্যি কথা বলতে, অনলাইন ২৪ ঘণ্টা চালানোর মত লোকবল আমাদের নেই। তাই খেলা-ধুলার খবর সকালে আমাদের স্পোর্টস রিপোর্টার অফিসে না আসা পর্যন্ত তৈরি করা হয় না।
তবে সেদিন অন্য একটি সমস্যা ছিল। কাজ যখন শুরু হয়েছে, তখন ভিন্ন ধরনের একটি খবর সবার নজর কেড়ে নিয়েছিল।
ইংল্যান্ডের যে তিনজন খেলোয়াড় পেনাল্টি মিস করেছিল তারা সবাই কৃষ্ণাঙ্গ, আর সে কারণে তারা সামাজিক মাধ্যমে বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার হচ্ছিল।
খেলার ফলাফলের চেয়ে এই খবর তখন আরো বড় আকার ধারণ করেছিল। তাই সকালে সেই খবরই করা হয়, যার ভেতরেই খেলার ফলাফল ছিল।
জমি নিয়ে মোকদ্দমা
এবারের খবরের বাইরে একটি বিষয় নিয়ে লিখেছেন নীলফামারীর সৈয়দপুর থেকে মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান চৌধুরী:
''প্রতি বছর বাংলাদেশে জমি বিরোধের কারণে বহু লোক মারা যায় ও আহত হয়। অনেক মানুষ আছে যারা ক্ষমতা ও শক্তির জোরে পরের জমি ভোগ দখল করে খাচ্ছে।
''জমির মামলা ও মোকদ্দমা দীর্ঘদিন ধরে চলে, রায়ও হয় বহু বছর পর। সরকার যদি দ্রুত আইন পাস ও এক দুই মাসের মধ্য জমির প্রকৃত মালিককে আইনের মাধ্যমে ফিরিয়ে দেয় তাহলে অনেক প্রাণহানি কমে যাবে।''
আপনি ঠিকই বলেছেন মিঃ চৌধুরী। জমি নিয়ে মামলা-মোকদ্দমার দীর্ঘসূত্রিতার কারণে অনেকে সুবিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
আমি যত দূর জানি, বাংলাদেশে বিভিন্ন আদালতে যে হাজার হাজার মামলা পড়ে আছে, তার বেশির ভাগ জমি সংক্রান্ত।
এখানে, আইন সংস্কার করা ছাড়াও, মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রেও হয়তো পরিবর্তন আনা দরকার, যাতে মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি করতে বিচারকরা বাধ্য হন।
সাতক্ষীরা আর কত বার?
সব শেষে, পুরনো একটি বানান বিভ্রাট নতুন করে মাথা চাড়া দিয়েছে, আর নিয়ে বেশ নাখোশ হয়ে লিখেছেন সাতক্ষীরা থেকে মুঈন হুসাইন:
''আমি এখন মনে কষ্ট নিয়ে লিখছি। কারণ, এডিটার'স মেইলবক্স-এ দেখলাম আমার নাম মুঈন ভুল বানানে 'মুইন' লেখা হয়েছে।
''আর সেই সাথে অন্য শ্রোতাদের মতো আমার নামটিও গাঢ় করে বা গাঢ় কালিতে লেখা হয়নি। এবং আবারো আমাদের সাতক্ষীরা জেলার নামটি ভুল বানানে 'সাতক্ষিরা' লেখা হলো কেন?
''কয়েক সপ্তাহ আগেও এ বিষয়ে জানতে চেয়ে ইমেইল করেছিলাম। তখনো আমি ও অন্য আরেকজন, মানে আমাদের সাতক্ষীরার দু' জন শ্রোতার ঠিকানায় ভুল বানানে 'সাতক্ষিরা' লিখেছিলেন।
''এ সব কী আদৌ ঠিক কোন কাজ করা হচ্ছে ?''
অবশ্যই ঠিক কাজ হচ্ছে না, মিঃ হুসাইন। আমার কাছে পুরো বিষয়টি কাকতালীয় মনে হয়।
ঘুরে ফিরে সাতক্ষীরা বানানটাই আবার ভুল? তাও আবার আপনার চিঠিতে! যে আপনি কিছু দিন আগেই সাতক্ষীরা বানান নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন।
শুধু জেলা না, এবার আপনার নামের বানানও ভুল করে বসলাম। ব্যাপারটা একেবারেই বেঠিক, এই ভুল যাতে না হয় সেজন্য আমি ভবিষ্যতে আরো বেশি সজাগ থাকবো।
এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:
সেলিম রাজ, বেনুঘাট দিঘির পাড়, রংপুর।
মাসুম বিল্লাহ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
দীপক চক্রবর্তী, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়।
মোহাম্মদ শিমুল বিল্লাল বাপ্পী, কপিলমুনি, খুলনা।
মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান, গেণ্ডারিয়া, ঢাকা।
মেনহাজুল ইসলাম তারেক, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।
কাজী সাইদ, ঝিনাইদহ।
শাহীন তালুকদার, মৌকরন, পটুয়াখালী।