লকডাউন-এর চাপ, মগবাজারের বিস্ফোরণ আর হ্যানকক-এর চুমা নিয়ে এডিটার'স মেইলবক্স

ছবির উৎস, MUNIR UZ ZAMAN
করোনাভাইরাসের নতুন ঢেউ এখন বাংলাদেশে কর্তৃপক্ষর জন্য সব চেয়ে বড় মাথা ব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। নতুন সংক্রমণের এই ঢেউ মোকাবেলা করার জন্য সরকার নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করছে, যেটাকে লকডাউন, শাটডাউন, নানা নামে ডাকা হচ্ছে।
তবে পাবলিকের দুশ্চিন্তা যত না করোনাভাইরাস নিয়ে, তার চেয়ে বড় উদ্বেগ হচ্ছে স্বল্প আয়ের মানুষের ওপর লকডাউনের প্রভাব নিয়ে।
সেরকম চিন্তা থেকে কয়েকটি চিঠি এসেছে, আপনাদের চিঠির উত্তর দিচ্ছেন বিবিসি নিউজ বাংলার সম্পাদক সাবির মুস্তাফা:
প্রথমে লিখেছেন রাজশাহী থেকে মোহাম্মদ ফাতিউর রহমান রাকিব:
''গত লক ডাউন ও সামনের দেওয়া লকডাউনে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে খেটে খাওয়া মানুষ গুলো। বিশেষ করে পরিবহন শ্রমিক - টিকেট কাউন্টার এর কর্মচারী থেকে হেলপার পর্যন্ত।
''এরপর রয়েছে বিভিন্ন বেসরকারি স্কুল, যেটা মালিক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। শিক্ষক জাতির মেরুদণ্ড,তারা আজ কোথাও যেতে পারছেনা, কারো কাছে হাত পাততে পারছেনা। আজ তারা বড় অসহায়, তাদের যথাযথ তালিকা তৈরি করে সম্মানী প্রদান করা।''

ছবির উৎস, MUNIR UZ ZAMAN
খাদ্য সাহায্য ছাড়া লকডাউন নয়
এই বিষয়ে আরো লিখেছেন খুলনার, পাইকগাছা থেকে আরিফুল ইসলাম:
''সরকার বৃহস্পতিবার হতে এক সপ্তাহের সর্বাত্মক কঠোর লকডাউনে যাচ্ছে, শুধু চিকিৎসা সেবা ও পণ্য পরিবহণ ছাড়া সব কিছু বন্ধ থাকবে।
''এই কঠোর লকডাউনের ভিতরে সবচেয়ে বিপর্যয়ের মধ্যে পড়বে নিম্ন আয়ের মানুষেরা, যারা দিন ভিত্তিক শ্রমজীবী। এই সকল মানুষদের আদৌও কঠোর লকডাউন দিয়ে রাখা যাবে বলে মনে হয় না।
''সরকার সব নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য দিয়ে তারপর কঠোর লকডাউন করুক, খাদ্য ব্যতীত এই লকডাউন সফল হবে না।''
আপনারা ঠিকই বলেছেন মি. রহমান আর মি. ইসলাম, লকডাউন বা শাটডাউন যাই বলুন, এই সময়ে নিম্ন আয়ের মানুষ বড় ক্ষতির মুখে পড়ে, এমনকি বেতনভোগী চাকরিজীবীরাও দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়ে যান।
ভাইরাসের নতুন ঢেউ মোকাবেলায় লকডাউন ছাড়া কোন পথ এখন খোলা হয়তো নেই, কিন্তু সেজন্যই নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য আর্থিক সাহায্য নিশ্চিত করা উচিত।
বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

ছবির উৎস, Getty Images
বিবিসির রিপোর্ট অবাস্তব?
লকডাউন শুরুর আগে আমাদের রিপোর্টিং নিয়ে প্রশ্ন তুলে লিখেছেন ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:
''বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় লকডাউন দেয়া নিয়ে প্রথম থেকে তামাশা চলছে। গত সোমবার থেকে কঠোর লকডাউন হবার কথা থাকলেও সরকার আংশিক লকডাউন দিয়েছে।
''আর সেই লকডাউনের চিত্র ঢাকায় কেমন ছিল, সেই ছবি দিয়ে বিবিসি বাংলা প্রতিবেদনও করেছে। সেই প্রতিবেদনের ছবি ও বর্ণনা বাস্তবতার সাথে সম্পূর্ণ বিপরীত ছিল।
''কেননা, আমি সকাল ৮টায় অফিস যাওয়ার সময় রাস্তার যে হালচিত্র দেখলাম তা হলো,শুধু মাত্র পাবলিক বাস ব্যতীত সব যানবাহনই চলছিল।
''এই প্রতিবেদনে সেই দিনের দিনের কর্মসংস্থান গামী মানুষের অসহনীয় দুর্দশার কোন কথাই তেমনিভাবে তুলে ধরা হয়নি, যা দুঃখজনক।''
আমি আপনার সাথে একমত হতে পারছি না মি. শামীম উদ্দিন। প্রতিবেদনের প্রথম দু'তিন লাইনেই বলা হয়েছে, শহরে গণ পরিবহন দেখা যায়নি, কিন্তু অনেক ব্যক্তিগত গাড়ি চলতে দেখা গেছে।
একই সাথে বলা হয়েছে, পরিবহনের অভাবে অফিস গামী যাত্রীদের ভোগান্তির কথা। তার মানে, আপনি যা দেখেছেন আমাদের রিপোর্টে তা সবই বলা আছে, কিন্তু অল্প কয়েক বাক্য দিয়েই তা বলা হয়েছে।
এর কারণ হচ্ছে, ঐ প্রতিবেদন শুধু ঢাকা শহরের অবস্থা নিয়ে লেখা হয়নি। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি, লকডাউনের উদ্দেশ্য, কী ধরনের বিধিনিষেধ থাকবে, সব কিছু নিয়েই সে প্রতিবেদন লেখা হয়েছে।
বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

ছবির উৎস, Reuters
চুড়িহাট্টা, কদমতলি, এবার মগবাজার
লকডাউনের আগে ঢাকা শহরে আরেকটি ঘটনা ঘটেছে যেটা একই রকম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। মগবাজারে গ্যাস বিস্ফোরণ নিয়ে লিখেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাসুম বিল্লাহ:
''সম্প্রতি মগবাজার এলাকায় বিস্ফোরণে ছয় থেকে সাত জনের মৃত্যুর বিষয়টি আবার নাড়া দিয়েছে মানুষের মনে।
''এর আগে চকবাজারের চুড়িহাট্টায় এবং কদমতলিতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড হওয়া সত্ত্বেও সরকারের নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করে মানুষ ঠিকই চকবাজারে রাসায়নিক দ্রব্যের গুদাম করে রেখেছে।
''এক একটা ঘটনা ঘটার পর সাত দিন আলোচনায় থাকে, তার পরে অন্য আলোচনার ভিড়ে তা উবে যায়। মানুষও বিষয়টি ভুলে থাকে আরেকটি ঘটনা ঘটার আগ পর্যন্ত। এ ভাবে কি চলতে দেয়া যায়?''

ছবির উৎস, Reuters
একই বিষয়ে লিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আব্দুর রহমান জামী:
''দেশে একের পর এক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেই চলছে। নিকট অতীতে নারায়ণগঞ্জে দেখেছি, একটি মসজিদে অনুমোদনহীন গ্যাস লাইন বিস্ফোরিত হয়ে প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।
''বিস্ফোরণের এই ঘটনাগুলোর পরপরই দেখা যায়, সরকার যথারীতি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। প্রশ্ন হলো, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পরেও যথাবিহিত উদ্যোগ দেখা যায় না কেন?
''সরকার কি দায়সারা তদন্ত করে নিজেদের দায়িত্ব শেষ করছে? সচেতনতা বৃদ্ধি করে কি এ ধরণের দুর্ঘটনা হ্রাস করা যায় না?''
এ'ধরনের দুর্ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ হয়তো কোন দিন করা যাবে না মি. বিল্লাহ আর মি. রহমান। কিন্তু উপযুক্ত আইন তৈরি করে সেটার প্রয়োগ আর নিয়মিত সেফটি ইন্সপেকশন নিশ্চিত করতে পারলে আমার মনে হয় দুর্ঘটনার সংখ্যা আর তা থেকে প্রাণহানি অনেকটা কমানো যাবে।
এখানে শুধু সচেতনতার কথা বলে কোন লাভ হবে বলে আমার মনে হয় না। এখানে প্রয়োজন কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ, নিয়ন্ত্রণ এবং আইনের প্রয়োগ ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঠানো চিঠি থেকে এবারে আসি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে চিঠিতে।

ছবির উৎস, NurPhoto
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কি ব্যর্থ?
ঢাবির শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে বিবিসি বাংলায় যে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে সেগুলো পড়ে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান। তবে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তার অনুভূতি পুরোপুরি ইতিবাচক নয়:
''দেশের বহু জ্ঞানীগুণী, পণ্ডিত, শিল্পী-সাহিত্যিক, বিজ্ঞানী, গবেষক ও রাজনীতিবিদের জন্ম হয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
''তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা স্বায়ত্তশাসিত মুক্তবুদ্ধি চর্চার অবারিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে শুরু হলেও, সেই মুক্তবুদ্ধি চর্চার পরিসর ক্রমশ সংকুচিত হয়ে উঠেছে।
''ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১০০ বছরেও একটি গবেষণা ভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে উঠতে পারেনি, এটাই এর সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে গবেষণা চুরির মতো ঘটনা ধরা পড়ছে, যা খুবই লজ্জাজনক।
''যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একসময় সারাদেশের জ্ঞান বিজ্ঞানের কেন্দ্র ছিল, ইদানিং সেটার মধ্যে একটি ব্যবসায়িক চেতনা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এখানে যে মৌলিক গবেষণার কথা বলা হয়েছিল, সেটা তো অনেক আগেই হারিয়ে গেছে।''
বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

ছবির উৎস, NurPhoto
ঢাবি কি এখনো প্রাচ্যের অক্সফোর্ড?
একই বিষয়ে লিখেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক:
''সম্প্রতি ঢাকার একটি ইংরেজি দৈনিকের প্রতিবেদনে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তুলনা করা হয়েছে।
''এতে বলা হয়েছে, করোনাকালে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় যখন গবেষণা করছে, তখন প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাস্তার ওপর বাঁশ দিয়ে বহিরাগতদের চলাচল সীমিত করতেই ব্যস্ত!
''আমি বলবো, এটাই বাস্তব চিত্র।
''আমি মনে করি, বিশ্ববিদ্যালয় একটা সমাজের শাসন কাঠামোর প্রতিফলন দেখায়।
''যে সমাজে মেধা নীতি-নৈতিকতা ও তার নাগরিক সত্য প্রকাশের অধিকার বঞ্চিত, সেটা একটা বদ্ধ স্থবির সমাজ বলেই মনে হয় আমার কাছে।''
আপনারা ঠিকই বলেছেন মি. রহমান এবং মি. ইসলাম, যে প্রতিষ্ঠান দেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে, তার বর্তমান হাল দেখে অনেকেই হতাশ হবেন।
সবাই প্রশ্ন করে, এই অবস্থার জন্য কে দায়ী? কিন্তু একক কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কি দায়ী করা যায়? এই অধঃপতন তো আর এক উপাচার্যের অধীনে হয় নি।
বলা যেতে পারে, স্বাধীনতার পর থেকেই ধীরে ধীরে পথ হারিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
এ'সময়ে যারাই সরকার পরিচালনা করেছে, সে রাজনীতিক, সামরিক শাসক, আমলা যাই হোক, সবাই অল্প-বেশি এর জন্য দায়ী। একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রশাসক আর ছাত্র সংগঠনগুলোও দায়ী।
তবে সব চেয়ে বেশি দায় হয়তো বর্তায় শিক্ষকদের ওপর - তারাই দিক-নির্দেশনা দেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণা-ভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তাদের কাজই মুখ্য ভূমিকা পালন করার কথা।

ছবির উৎস, Allison Joyce
সালিশের পর চেয়ারম্যানের বিয়ে
এবারে ভিন্ন প্রসঙ্গে যাই। বাংলাদেশে একটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খবরে এসেছেন একজন, সম্ভবত অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েকে বিয়ে করে, যদিও পরদিনই তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। সে বিষয়ে লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মাহবুবা ফেরদৌসি হ্যাপি:
''যৌতুক এবং বাল্য বিয়ে আমাদের সমাজের সবচেয়ে বড় শত্রু। এসব বন্ধ করার জন্য জনপ্রতিনিধিদের যেখানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করার কথা, সেখানে রক্ষক যদি ভক্ষক হয়, তবে এগুলো বন্ধ করবে কে?
''খবরে দেখলাম সরকার উক্ত জনপ্রতিনিধিকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে।
''নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে তারই ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জন্ম নিবন্ধন সনদ ইস্যু করে সে বাল্য বিয়েকে সিদ্ধ করেছিল, যা সরকারি নিয়মের পরিপন্থী।
''তাই তাকে শুধু সাময়িক বরখাস্ত করাই যথেষ্ট নয়, তাকে আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাচ্ছি।''
বিষয়টি আসলেই হতবাক করে দেবার মত মিস ফেরদৌসি। সালিশের উদ্দেশ্য ছিল এক, কিন্তু তার ফলাফল হল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
এই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান যদি জালিয়াতি করে মেয়ের বয়স ১৮ দেখিয়ে থাকেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে বেশ কঠোর পদক্ষেপই নেয়া উচিত।

ইভ্যালি চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎকার
রেডিওতে ইভ্যালি নিয়ে আমাদের প্রতিবেদন শুনে একটি প্রশ্ন করেছেন ঢাকার গ্রিন রোড থেকে পার্থ ঘোষ:
''বিবিসি বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক কাদির কল্লোল এর ই কমার্স নিয়ে পাঠানো প্রতিবেদন খুব ভালো লেগেছে। কাদির কল্লোল বরাবরই খুবই ভালো প্রতিবেদন শ্রোতাদের উপহার দিয়ে থাকেন।
''অনেক দিন পূর্বে যখন যুবলীগের ক্যাসিনো বাণিজ্য নিয়ে বাংলাদেশ তুমুল আলোচনা হয়েছিল ওই সময় তৎকালীন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক এর সাক্ষাৎকার কাদির কল্লোল নিয়েছিলেন যেটা অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে।
''বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের কোন মিডিয়ায় যেখানে ইভ্যালি চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎকার নিতে পারে নাই সেখানে কাদির কল্লোল কিভাবে ইভ্যালি চেয়ারম্যান এর সাক্ষাৎকার নিলেন দয়া করে বলবেন কি?''
এটাই হল একজন দক্ষ, অভিজ্ঞ এবং নির্ভরযোগ্য রিপোর্টারের লক্ষণ মি. ঘোষ।
অনেক বিতর্কের মধ্যে, যাদের নিয়ে বিতর্ক তারাও কাদির কল্লোলে সাথে কথা বলেন, কারণ তাদের এই আস্থাটা আছে যে তারা ফেয়ার ট্রিটমেন্ট পাবেন।
তাছাড়া, কাদির দীর্ঘ দিন বস্তুনিষ্ঠ ভাবে রিপোর্টিং করছেন, কাজের খাতিরে বিভিন্ন জনের সাথে পরিচিত হতে হয়, যোগাযোগ রাখতে হয়। এই যোগাযোগ এবং আস্থার কারণেই তিনি সাক্ষাৎকারগুলো পেয়ে থাকেন।

ছবির উৎস, Getty Images
ম্যাট হ্যানকক-এর গোপন চুমা
সম্প্রতি ব্রিটেনে যে ঘটনা নিয়ে সারা দেশ তোলপাড় হয়ে গেল, তা ছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক-এর পদত্যাগ। সে বিষয়ে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:
''একটি গোপন চুম্বন ব্রিটিশ রাজনীতির প্রাণ কেন্দ্র ওয়েস্টমিনস্টারে রীতিমতো ভূমিকম্প ঘটিয়ে দিয়েছে।
''দীর্ঘ ১৮ মাসে মিঃ হ্যানককের নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে বার বার তার পদত্যাগের দাবি উঠলেও তিনি তাতে কর্ণপাতও করেননি। অবশেষে আবেগ ঘন এক মুহূর্তে সহকর্মী জিনা কোলাডেনজেলোকে চুম্বন করে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন মিঃ হ্যানকক।
''কেবল পদত্যাগ নয়, সংসারও ভেঙেছে তিন সন্তানের জনক এই ম্যাট হ্যানককের।
''বেচারা কি জানতো, একটা গোপন চুম্বন তার জীবনে এই চরম পরিণতি ডেকে আনবে। পরকীয়া কখনোই সমর্থন যোগ্য নয়।
''তীব্র নিন্দা এবং ধিক্কার জানাই এই ম্যাট-জিনা যুগলকে।''
আমার মনে হয় ঘটনাটি আসলে পরকীয়া বা গোপন চুম্বনের বিষয় না মিঃ সরদার।
ব্রিটেনে এখনো করোনাভাইরাসের কারণে নানা রকম বিধিনিষেধ আছে, যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে নিজ পরিবারের বাইরে সবার সাথে দূরত্ব বজায় রাখা। এইসব স্বাস্থ্য বিধি আরোপ করে মিঃ হ্যানককের মন্ত্রণালয়।
সেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজেই যখন বিধিনিষেধ ভঙ্গ করলেন, তখন তিনি গণ ধিক্কারের মুখে পড়েন।
প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন প্রথমে বিষয়টিকে ব্যক্তিগত ব্যাপার বলে পার করে দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু গণমাধ্যমে নিন্দার যে ঝড় বয়ে যাচ্ছিল তার মুখে মিঃ হ্যানকক পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
সমালোচনার মূল কারণ ছিল স্বাস্থ্য বিধি ভঙ্গের জন্য, পরকীয়া প্রেমের জন্য নয়।
তবে এ'কথাও সত্য, ব্রিটিশি সমাজের অনেকে, বিশেষ করে মিঃ হ্যানকক-এর নিজ দলের সংসদ সদস্যদের অনেকে তার এই পরকীয়া প্রেমের বিষয়টি ভাল চোখে দেখেন নি।
নারী-পুরুষ ভারসাম্যর কি দরকার আছে?
আমাদের ফোন-ইন নিয়ে লিখেছেন ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে মোহাম্মদ কামাল হোসেন মিলন মুকছুদি:
''গত মাসের ২৮ তারিখে প্রচারিত ফোন ইন অনুষ্ঠানটি আমার খুবই ভালো লেগেছে।কাজী দ্বীন মোহাম্মদ অনেক বড় মাপের ডাক্তার।
''একটি বিষয়ে আপত্তি আছে। ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য একজন পুরুষ তার পরে একজন মহিলার ফোন তারপরে আবার পুরুষ, এভাবে ব্যালেন্স করার কি খুব বেশি দরকার আছে?''
আমরা তো মনে করি দরকার আছে মিঃ মুকছুদি।
পুরুষ আর নারী কণ্ঠ মিশিয়ে ফোন-ইন করলে সেটা শুনতে ভাল লাগে, ভারসাম্য থাকে আর বিশেষ, করে নারী শ্রোতারা ফোন-ইনে অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহ পাবে।
আর কাজী দ্বীন মোহাম্মদ-এর সাথে ফোন-ইন আপনার ভাল লেগেছে জেনে আমাদেরও ভাল লাগলো।
এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:
মুতাছিম নয়ন, চাঁদখালী, পাইকগাছা, খুলনা।
কামরুজ্জামান সরকার, লালমনিরহাট
দীপক চক্রবর্তী, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়।
মুঈন হুসাইন, টেকাকাশিপুর, সাতক্ষীরা।
সেলিম রাজ, বেনুঘাট দিঘির পাড়, রংপুর।
মোহাম্মদ শিমুল বিল্লাল বাপ্পী, কপিলমুনি, খুলনা ।
মিনহাজ শেখ, কাউনিয়া, রংপুর।








