লকডাউন: জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কেউ বের হলে গ্রেফতারের হুমকি দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার

পুলিশ

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ঢাকায় বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে কাজ করবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।
Published

বাংলাদেশে আগামীকাল ১ জুলাই থেকে যে লকডাউন শুরু হচ্ছে তা আগে ঘোষিত বিধিনিষেধ থেকে অনেক বেশি কঠোর হবে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে কঠোর বার্তা দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার।

আজ এক সংবাদ সম্মেলনে মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, রাজধানীতে জরুরী প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে কাল ১ জুলাই বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে ৭ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত নতুন লকডাউন ঘোষণা করেছে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ।

এক সপ্তাহের জন্য একুশটি বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। যেসব বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে ঢাকায় তা বাস্তবায়নে কাজ করবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেছেন, যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া কেউ বের হলে তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

বিধিনিষেধ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২৬৯ ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, বলে তিনি জানান।

দণ্ডবিধির ২৬৯ ধারায় যা বলা হয়েছে তা উদ্ধৃত করে তিনি বলেছেন, "যে ব্যক্তি বেআইনিভাবে বা অবহেলাজনিত এমন কোন কাজ করে যার কারণে জীবন বিপন্নকারী কোন রোগের সংক্রমণ বিস্তার লাভের সম্ভাবনা রয়েছে তাকে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড দেয়া হতে পারে, জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডই হতে পারে।"

সম্পর্কিত খবর:

ঢাকার গাবতলিতে একটি চেকপোস্ট।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ঢাকার গাবতলিতে একটি চেকপোস্ট।

যাদের প্রয়োজনে বাইরে বের হতে হবে তাদের জন্য কিছু করণীয় জানিয়েছেন তিনি।

লকডাউন চলাকালীন বাজার ও কাঁচাবাজার খোলা থাকবে বলে আজ জানানো হয়েছে তবে কাঁচাবাজার উন্মুক্ত স্থানে হতে হবে।

বাড়ির কাছে কাঁচাবাজারে প্রয়োজনে রিকশা ব্যবহার করে সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেনাকাটা করা যাবে। ব্যাটারি চালিত রিকশাসহ যান্ত্রিক যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।

পুলিশ কমিশনার বলেছেন, বিমানযাত্রীরা টিকেট ও পাসপোর্ট প্রদর্শন করে গাড়ি ব্যবহার করে যাতায়াত করতে পারবেন।

কুরিয়ার সার্ভিসের গাড়ি চলাচল করবে। গণমাধ্যমের কর্মীদের প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র বহন করতে হবে।

সব ধরণের ক্লাব বন্ধ থাকবে। গলিতে থাকা সকল দোকান বন্ধ থাকবে। এছাড়া জনসমাবেশ হয় এ ধরনের সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানও বন্ধ থাকবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জরুরী সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা, যারা নিজের প্রতিষ্ঠান থেকে যাতায়াতের সুবিধা পাবেন না, শুধুমাত্র তারাই ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করে যাতায়াত করতে পারবেন।

তার ভাষায়, "পুলিশ যতটা কঠোর হবে আপনারা ততটা নিরাপদ থাকবেন।"

বাংলাদেশে এর আগে যেসব বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়নি বলে সমালোচনা রয়েছে।

এবার সেনাবাহিনীকেও মাঠে নামানো হবে বলে জানা যাচ্ছে।

বিবিসি বাংলায় আরো খবর: