আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
চীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস খোলার বিরুদ্ধে হাঙ্গেরিতে বিক্ষোভ
হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে একটি চীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস খোলার বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে শত শত মানুষ।
চীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস খোলার বিরুদ্ধে তাদের যুক্তি হচ্ছে, এর ফলে হাঙ্গেরির নিজস্ব উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়বে এবং হাঙ্গেরির ওপর চীনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রভাব আরও বাড়বে।
হাঙ্গেরির বর্তমান দক্ষিণপন্থী প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবানের সরকারের সঙ্গে বেইজিং এর বেশ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
এ মাসের শুরুতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন যখন হংকং-এর ব্যাপারে চীনের ভূমিকার সমালোচনা করে একটি বিবৃতি দিতে চেয়েছিল, তখন হাঙ্গেরি সেটা আটকে দিয়েছিল।
বুদাপেস্টে চীনের ফুডান বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস খোলার বিরুদ্ধে শনিবার বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় মিছিল করে পার্লামেন্ট ভবন পর্যন্ত যায়।
বিক্ষোভে অংশ নেয়া এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র জনা র্যাডিকস বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, "ভিক্টর ওরবান এবং তার ডানপন্থী ফিডেস পার্টি নিজেদের কমিউনিস্টবিরোধী বলে পরিচয় দেয়, কিন্তু বাস্তবে এরা আসলে কমিউনিস্টদের বন্ধু।"
প্যাট্রিক নামের আরেকজন বিক্ষোভকারী বলেন, "ফুডান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পের জন্য সরকার যে তহবিল বরাদ্দ করেছে, সেটা বরং আমাদের নিজস্ব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মানোন্নয়নে খরচ করা উচিৎ।"
বুদাপেস্টে ফুডান বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস তৈরিতে খরচ হবে আনুমানিক ১৮০ কোটি ডলার। ২০১৯ সালে ভিক্টর ওরবানের সরকার পুরো দেশের উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য যত অর্থ খরচ করেছে, এটি তার চেয়েও বেশি।
এই অর্থের মধ্যে দেড়শো কোটি ডলার ঋণ হিসেবে আসবে চীনের একটি ব্যাংক থেকে। হাঙ্গেরিয়ার একটি অনুসন্ধানী সংবাদ প্রতিষ্ঠানের জোগাড় করা দলিলপত্র থেকে সেটাই দেখা যাচ্ছে।
দেশটির একটি উদারপন্থী থিংক ট্যাংক রিপাবলিকন ইনস্টিটিউটের জরিপে বলা হচ্ছে, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ হাঙ্গেরিয়ান এই চীনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্প সমর্থন করে না।
বুদাপেস্টের মেয়র গের্গে কোরাচনি নিজেও এই চীনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার বিপক্ষে। এ সপ্তাহের শুরুতে তিনি ঘোষণা করেন , যেখানে এই ক্যাম্পাস করা হবে, তার চারপাশের রাস্তাগুলো তিনি চীনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছে যারা, তাদের নামে নামকরণ করবেন।
আরও পড়ুন:
একটি রাস্তার নাম রাখা হবে চীনের শিনজিয়াং প্রদেশে ধারাবাহিকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গণহত্যার শিকার উইঘুরদের নামে। এটির নাম হবে উইঘুর শহীদ রোড। একই ভাবে অন্য দুটি রাস্তার নাম হবে ফ্রি হংকং রোড এবং দালাইলামা স্ট্রীট।
কোন রকমের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ অবশ্য চীন অস্বীকার করে।
ফুডান বিশ্ববিদ্যালয় চীনের সবচেয়ে নামী-দামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি। বুদাপেস্টে তাদের ক্যাম্পাসটির নির্মাণ কাজ ২০২৪ সালে শেষ হওয়ার কথা। এটি হবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরে চীনের প্রথম কোন বিশ্ববিদ্যালয়।