এডিটার'স মেইলবক্স: বসুন্ধরার এমডি, ভারতের কোভিড আর হেফাজতের ছবি নিয়ে প্রশ্ন

Published

বাংলাদেশে এই মুহূর্তে যে বিষয় নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রবল আলোচনা হচ্ছে, বলতে পারেন বিতর্কের ঝড় বয়ে যাচ্ছে, তা হল ঢাকার গুলশানে একজন কলেজ ছাত্রীর অপমৃত্যু এবং তার কথিত আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগে শিল্পপতি বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে মামলা।

সে বিষয়ে লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:

''বসুন্ধরার এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে 'আত্মহত্যায় প্ররোচনা' দেবার মামলা হওয়ার পর তার বিদেশ যাত্রার উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত। কিন্তু পুলিশ এখনও তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি। আর্থিক খাতের বহু কেলেঙ্কারির হোতা পি কে হালদারের ক্ষেত্রেও এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগেই সে দেশ ত্যাগ করেছিল। এখন দেখার বিষয় পুলিশের আইনের জোর কতটুকু আর বসুন্ধরা গ্রুপের খুঁটির জোর কত? পুলিশ কি পারবে তাকে আটক করতে? নাকি পুলিশ শুধু খুঁজতেই থাকবে?''

বিষয়টি বেশ জটিল মি. রহমান। ঢাকার বিভিন্ন পত্রিকায় ইতোমধ্যেই খবর হয়েছে, হয় মি. সোবহান, না হয় তার স্ত্রী একটি মালবাহী বিমানে দেশত্যাগ করেছেন। কিন্তু খবরটি আসলেই সত্য নাকি স্রেফ গুজব, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। পুলিশের অবশ্যই এখন দায়িত্ব আছে মি. সোবহানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা। তবে এখানে একটি জিনিস মনে রাখা দরকার, পি কে হালদার পালিয়ে যেতে পেরেছিলেন ঠিকই, কিন্তু রানা প্লাজার মালিক রানা পারেননি, এবং আপন জুয়েলার্স-এর মালিকের ছেলেও কিন্তু বেশি দিন লুকিয়ে থাকতে পারেননি। কাজেই, আপনার আশঙ্কা হয়তো সত্য নাও প্রমাণিত হতে পারে।

তবে সে ব্যাপারে খুব আশাবাদী নন মাসুম বিল্লাহ, যিনি ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র:

''যাদের অঢেল টাকা পয়সা আছে তারাই দেখা যায় দেশে একটা কুকীর্তি করে নিজের প্রাইভেট জেটে করে দেশ ত্যাগ করে। বেশ কিছু দিন আগেও আমরা দেখলাম এক্সিম ব্যাংকের এমডি ও অতিরিক্ত এমডিকে হত্যা চেষ্টা মামলার আসামী শিকদার গ্রুপ-এর এমডি রন হক শিকদার ও তার ভাই দিপু হক শিকদার দেশ থেকে পালিয়েছে। বড় ভাই দেশে ফেরার পর তাকে গ্রেফতার করা হল, কিন্তু আদালতে জামিনও পেয়ে গেল। অর্থ বৈভব এর কাছে যদি আইন এর প্রয়োগ দুর্বল হয়, তবে আইন সবার জন্য সমান সেটা কেন বলা হয়?''

আইন তো সবার জন্য সমানই হবার কথা মি. বিল্লাহ। কিন্তু হের-ফের হয় আইনের প্রয়োগ নিয়ে, বা ঘটনা তদন্তের সময়। তদন্ত যদি সঠিক না হয় বা আইজীবীরা যদি মামলা ঠিক ভাবে না সাজান, তাহলে অভিযুক্ত ব্যক্তি পার পেয়ে যেতে পারেন। শিকদার ভাইদের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করা হলেও, তারা যেভাবে দেশ ছেড়ে চলে গেলেন, তা দেখে অনেকে ভাবতেই পারেন যে আইনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করা হয়েছে। বসুন্ধরার এমডির ক্ষেত্রে তাই হয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

বাংলাদেশ এবং ভারতে এখন বড় দুশ্চিন্তা হচ্ছে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ। বিশেষ করে ভারতে সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হার যে ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা দেখে প্রতিবেশি বাংলাদেশে অনেকে আতঙ্কে আছেন।

সে বিষয়ে কয়েকটি চিঠি এসেছে, প্রথমে লিখেছেন ভোলার চরফ্যাশন থেকে সালমা আক্তার:

''ভারতের শোচনীয় অবস্থা সম্পর্কে আমাদের সবারই জানা। তাদের কী কী ভুল ছিল তা থেকে আমাদের শিক্ষা নেয়া উচিত। আমার মতে, গত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে আরো বেশি অর্থ বরাদ্দ করা দরকার ছিল। তারপরও যা বাজেট করা হয়েছে তা যদি ঠিকঠাক কাজে লাগানো হয় তাহলেও অনেক। কিন্তু আমাদের নেতারা কি তাদের আগের অভ্যাস বাদ দিতে পারবে? আমাদের আরো সতর্ক হওয়া দরকার। দুঃখের সাথে বলি আমাদের যেন অক্সিজেন স্বল্পতায় ভুগতে না হয়। কেউ মারা গেলেও যেন শেষ নিশ্বাসটা কমপক্ষে ঠিকমত নিতে পারে।''

সেটাই বড় প্রশ্ন মিস আক্তার। বাজেটে যে টাকা বরাদ্দ আছে, সেটা হয়তো প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট না, কিন্তু তারপরও সেই অর্থ যে ঠিকমত ব্যয় করা হবে, এবং দুর্নীতির স্রোতে অন্য কোথাও ভেসে যাবে না, তার কোন নিশ্চয়তা নেই। গত বছরের অভিজ্ঞতার পর অনেকেই আশা করেছিলেন, দেশে হাসপাতালগুলোর উন্নতি করা হবে, বিশেষ করে আইসিইউর সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে, কিন্তু সেরকম কোন উন্নতি হয়েছে বলে মনে হয় না।

পরের চিঠি লিখেছেন ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:

''করোনার ভয়াবহ ছোবলে বিপর্যস্ত ভারত। করোনা মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ চলাকালে সেখানে কিভাবে বিশাল আকারে কুম্ভ মেলা হয়? কোন বিবেকে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন উপলক্ষে রোড-শো, সমাবেশ এবং গণসংযোগ করে? সরকার এবং জনগণের উদাসীনতায় আজ ভারতে এই ভয়াবহ পরিস্থিতি। আমরা শুধু পার্শ্ববর্তী দেশ হিসেবে আতঙ্কিত নই, মানবিক দিক দিয়েও আতঙ্কিত। তাছাড়া, বাংলাদেশের সরকার ও মানুষ পার্শ্ববর্তী দেশের এই ভয়াল অবস্থা দেখেও সচেতন নয়। জানি না আমাদের কী হবে। ভারতের জন্য প্রার্থনার পাশাপাশি আমাদের সর্বোচ্চ সচেতনতার প্রতি জোর দেয়া উচিত।''

আপনার চিঠিতে একটি আশঙ্কা ফুটে উঠেছে মি. শামীম উদ্দিন। ভারত যদি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তার ঢেউ বাংলাদেশের উপর দিয়েও যাবে কি না। আশঙ্কাটা মোটেই অমূলক না। ইউরোপেও দেখা গেছে সংক্রমণ কখনো একটি দেশে সীমাবদ্ধ থাকেনি। এর জন্য মূলত মানুষের চলাফেরাকেই দায়ী করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে ভারতে করোনাভাইরাসের যে নতুন স্ট্রেইন সংক্রমিত হচ্ছে, সেটা ইতোমধ্যে ১৯টি দেশে শনাক্ত করা হয়েছে। সেজন্য ভারতের সাথে সকল যাতায়াত আপাতত: বন্ধ রাখা জরুরি।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ এর সাথে আরেকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে, আর তা হল ভ্যাক্সিন। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন ভারতের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশ ঠিক করলো কি না।

প্রথমে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:

''ভারতের সিরাম ইন্সটিটিউট চুক্তি মোতাবেক করোনা ভাইরাসের ভ্যাক্সিন সরবরাহ করতে না পারায় বাংলাদেশে ভ্যাক্সিনাইজেশন প্রক্রিয়া কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। করোনা ভ্যাক্সিনের জন্য কেবল মাত্র একটি উৎসের উপর নির্ভর করে থাকাটা মোটেই যৌক্তিক হয়নি, সেটি এখন বাংলাদেশ বেশ বুঝতে পারছে। কিন্তু নতুন উৎস থেকে ভ্যাক্সিন সংগ্রহ করা বা দেশে ভ্যাক্সিন উৎপাদন করা বেশ সময় সাপেক্ষ হতে পরে বলে মনে করছেন অনেকে। তাহলে এখন ভ্যাক্সিনের জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা আছে বলতো মনে হচ্ছে না।''

আপনি ঠিকই বলেছেন মি. সরদার, ভ্যাক্সিনের জন্য শুধু ভারতের ওপর নির্ভর করাটা বুদ্ধিমানের কাজ হয়নি। কর্মকর্তারা যদিও এখন বলছেন ভারত যে এমন বিপর্যয়ের মুখে পড়বে তা তখন অনুমান করা সম্ভব ছিল না। তা সত্ত্বেও, কোন দেশই একটি কোম্পানি বা দেশের ওপর নির্ভর করে না। সে যাই হোক, দেরিতে হলেও বাংলাদেশ এখন বিকল্প রাস্তা খুঁজছে, চীন এবং রাশিয়ার কাছ থেকে ভ্যাক্সিন আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

তবে শুধু ভ্যাক্সিন নয়, ভারতের ওপর অন্যান্য জিনিসের জন্য নির্ভরতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকার মিরপুর থেকে মোহাম্মদ রুবেল মীয়ান:

''বাংলাদেশের ভারত নির্ভরতা এবার অন্তত: কমানো দরকার। চাল, ডাল, পেঁয়াজ সহ সকল নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য উৎপাদন করার সক্ষমতা অর্জন করা দরকার। বিগত সময়গুলোতে দেখেছি, ভারত প্রয়োজনে বাংলাদেশের সাথে থাকেনি। পেঁয়াজ দেয়া বন্ধ করেছে। এখন, পয়সা নিয়ে টিকার চালান বন্ধ করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ সরকার শুধুমাত্র বিরোধীমত দমন করেছে। উন্নয়নের গলাবাজি করেছে৷ এগুলো না করে যদি কৃষি উৎপাদনমুখী স্বনির্ভর অর্থনীতির চেষ্টা করত তাহলে মন্দ হতো না।''

গত পঞ্চাশ বছরে বাংলাদেশ কিন্তু কৃষি খাতে অনেক উন্নতি করেছে মি. মিয়ান, সে কথা মোটেই অস্বীকার করা যায় না। সব পণ্যের জন্য স্বনির্ভর হওয়া সম্ভবও না এবং অবাধ বাণিজ্য সব দেশের অর্থনীতির জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। আর প্রতিবেশী দেশের সাথে বেশি বাণিজ্য করাটাও স্বাভাবিক, বাণিজ্য বন্ধ রাখাটাই বরং বোকামি। তবে এটা ঠিক, পিঁয়াজ বলুন আর ভ্যাক্সিন বলুন, কোন কিছুর জন্যই শুধু একটি দেশের ওপর নির্ভর করা ঝুঁকিপূর্ণ।

পরের চিঠি লিখেছেন ঝিনাইদহ থেকে কাজী সাঈদ:

''লক ডাউনের ফলে করোনা সংক্রমণ এবং মৃত্যুহার কিছুটা হলেও কমতে শুরু করেছিল। কিন্তু মার্কেট আর দোকানপাট খুলে দিলে পরিস্থিতি আবারও ভয়াবহ হতে পারে বলেই মনে হচ্ছে। তাছাড়া, ব্যাংক বা মার্কেটগুলো কম সময়ে খোলা রাখার ফলে অনেক মানুষ একই সাথে ভিড় করছেন। বলাবাহল্য, বেশিরভাগ জায়গায়ই মাস্ক বা স্যানিটাইজার এর ব্যবহার নেই বললেই চলে। বরাবরের মত আবারও বলছি, কেউ কাউকে ভয় না করে ভাইরাস কে ভয় করু। নিজেরা নিজেদেরকে সেফ রাখুন।''

এই মেসেজটা মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া সহজ, কিন্তু মানুষকে সেই মেসেজ অনুযায়ী চলতে বাধ্য করা অত্যন্ত কঠিন। পূর্ব এশিয়া ছাড়া অন্য সব অঞ্চলেই এই প্রবণতা কম বেশি দেখা যায়। পরিস্থিতি যখন জটিল হয়ে পড়ে, তখন লকডাউন ছাড়া উপায় থাকে না।

ভিন্ন বিষয়ে আসি।

সম্প্রতি পুরনো ঢাকায় কেমিক্যালের গুদামে আগুনে আবারো প্রাণহানি ঘটেছে। সে বিষয়ে লিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আব্দুর রহমান জামী:

''দুই বছরের মাথায় আবারো ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে পুরনো ঢাকায়। চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ২০১৯ সালের ২০শে ফেব্রুয়ারিতে কেমিক্যাল গুদামের আগুনে ৭৮ জন মারা যায়। তারও আগে ২০১০ সালের ৩রা জুন নিমতলীতে কেমিক্যাল গুদামের আগুনে ১২৫জন মারা যায়। এই ঘটনাগুলোর পরপরই সরকার বলেছিল, কেমিক্যাল ব্যবসায়ীদের জন্য একটি পল্লী তৈরি করে দেওয়া হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তা করা সম্ভব হয়নি। আমার প্রশ্ন হল,এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার দায় কার? রাজউক, শিল্প মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, সিটি কর্পোরেশন নাকি বিস্ফোরক অধিদফতরের? সরকারের সদিচ্ছার প্রতিফলন কবে দেখতে পাবো?''

এগারো বছরে তিনটি মর্মান্তিক ঘটনা এবং বহু মানুষের মৃত্যু। অথচ সরকার মনে হয় অচল হয়ে পড়ে আছে। প্রথম ঘটনার পরই বোঝা গিয়েছিল পুরনো ঢাকার মত ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় কেমিক্যালের গুদাম কতটা বিপজ্জনক হতে পারে। তারপরও সবাই নিষ্ক্রিয়। দায় তো আমার মনে হয় সবারই মি. রহমান। সিটি কর্পোরেশন তো বটেই, শিল্প মন্ত্রণালয়েরও এখানে দায়িত্ব থাকতে পারে।

এবারে আমাদের পরিবেশনা নিয়ে একটি অভিযোগ, পাঠিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর থেকে সাব্বির আহমেদ:

''কয়েকদিন যাবত দেখছি, বিশেষ করে যখন আপনাদের ফেসবুক পেইজে হেফাজত ইসলামের সংবাদ প্রচার করছেন তখন আপনারা বার বার একটি বিশেষ ছবি ব্যাবহার করছেন, যেখানে দেখা যাচ্ছে তিন-চার জন লোক টিল ছুঁড়ছে, আরো তিন-চার জন লোক দাঁড়িয়ে আছে এবং পিছনে আগুন জ্বলছে।

এখন আমার প্রশ্ন হলো, আপনাদের সংগ্রহে কি হেফাজত ইসলামের আর কোন ছবি নাই? নাকি এই ছবি বার বার প্রচার করার ভিন্ন কোন উদ্দেশ্য আছে বিবিসির? আর এই ছবির লোক গুলো যে হেফাজত ইসলামের-ই কর্মী সেটার নিশ্চয়তা কী?''

আমাদের সংগ্রহে আরো অনেক ছবি আছে মি. আহমেদ এবং আমরা বার বার একই ছবি ব্যবহার করি না। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বিভিন্ন ছবি ব্যবহার করা হয়। এই ছবি একাধিকবার ব্যবহার করা হয়েছে কারণ এই ছবি একটি ঘটনাকে ভাল ভাবে ফুটিয়ে তোলে।

ছবিটি ব্যবহারের উদ্দেশ্য একটাই - হেফাজতে ইসলামের সাথে সরকারের বর্তমান বিবাদের পটভূমিটা দেখানো। নরেন্দ্র মোদীর সফর এবং তার বিরুদ্ধে হেফাজতে ইসলামের আন্দোলন, বিক্ষোভ এবং পরবর্তী সহিংসতা নিয়ে এই বিবাদ। এই ছবি সেই বিবাদের একটি চিত্র।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস ২৬শে মার্চ বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে সহিংসতার খবরে আমরা ৪টি ছবি ব্যবহার করি, যেখানে হেফাজতে ইসলামের নাম দেয়া হয় নি। তবে সেদিনকার বিক্ষোভে বিভিন্ন ইসলামপন্থী দল অংশ গ্রহণ করে, যাদের কয়েকটি হেফাজতের অন্তর্ভুক্ত এবং মিছিলে হেফাজতের নামে স্লোগান দেয়া হয় বলে আমরা জানি। সেজন্য, পরবর্তীতে যখন এই ছবিটি (যেটার কথা আপনি বলছেন) ব্যবহার করা হয়, তখন বিক্ষোভকারীদের হেফাজতে ইসলামের কর্মী বলে আখ্যায়িত করা হয়।

তবে হ্যাঁ, ছবির ঐ লোকগুলোই যে হেফাজতে ইসলামের কর্মী, তা আমরা হলফ করে বলতে পারবো না, কিন্তু বিক্ষোভে যে হেফাজতের অংশ গ্রহণ ছিল এবং তারা যে মোদী-বিরোধী প্রতিবাদে নেতৃত্ব দিয়েছে, সে ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত।

অনুষ্ঠানে ভাষা ব্যবহার নিয়ে একটি চিঠি, লিখেছেন সিলেট থেকে মোহাম্মদ আবুল কাশেম:

''আফগানিস্তানের তালেবান নিয়ে একটি প্রতিবেদন দেখলাম। সেখানে আপনারা এখনো তালেবানদেরকে জঙ্গি বলছেন কেন তা আমার বোধগম্য নয়। বিবিসির ভাষায় ঠিক কি করলে তাদের জঙ্গি তকমা দেওয়া হবেনা? এটা কি বিবিসির সীমাবদ্ধতা থেকে নাকি ইচ্ছাকৃত ভাবে?''

এখানে কোন সীমাবদ্ধতা নেই মি. কাশেম। আমি গত সপ্তাহে আরেকটা চিঠির জবাবে ব্যাখ্যা দিয়েছি। বিবিসি ইংরেজিতে তালেবানদের মিলিটান্ট বলা হয়, যার অনুবাদ হচ্ছে জঙ্গি। তালেবান যেহেতু একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী, তাই তাদের মিলিটান্ট বলা হয়। কিন্তু এ'কথা ঠিক, তারা যেহেতু এখন দেশে একটি রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করতে যাচ্ছে, এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিজেদের প্রশাসন গড়ে তুলছে, তাই তাদেরকে জঙ্গি বলা সমীচীন হবে না।

অভিযোগের পরে কিছু প্রশংসা শুনলে ভালই লাগবে। লিখেছেন পীরগাছার চন্ডীপুর থেকে জেসমিন আক্তার পরি:

''বিবিসি বাংলাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ এই জন্য যে, আমার মনের ভিতরে জমে থাকা প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেলাম আজ রাতের পরিক্রমা শুনে। আমার মনে প্রশ্ন ছিল, ভারত আর পাকিস্তানের যুদ্ধ আসলে কী নিয়ে? সত্যি আজ আমি জানতে পারলাম ওই মহামূল্য প্রদেশ কাশ্মীরের জন্য পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধ ভারতের।''

আপনাকেও ধন্যবাদ মিস আক্তার, আমাদের ইতিহাসের সাক্ষী অনুষ্ঠান আপনার চাহিদা মেটাতে পারছে জেনে আমাদেরও ভাল লাগলো।

পীরগাছার চন্ডীপুর থেকেই আরেকটি চিঠি, যদিও ইমেইলের স্টাইল দেখে মনে হচ্ছে একই ব্যক্তি দুটো চিঠিই টাইপ করেছেন। ঘটনা কী, ঠিক বুঝতে পারছি না! যাই হোক মোহাম্মদ সুমন আকন্দ অভিযোগ করেছেন আমাদের ফেসবুক পাতায় একটি ভিডিও নিয়ে:

'হিন্দু মুসলমানের ভাইরাল নাচ' - বিবিসি বাংলার ফেসবুক পেজে এই পোস্টটি দেখে চোখ আমার কপালে উঠে গেলো। আমার মনের ভিতর ছোট প্রশ্নের জন্ম হল। এই বিবিসি বাংলা কি আমাদের সেই বিবিসি বাংলা? যে বিবিসি বাংলা মানুষের সুখ, দুঃখের সংবাদ পরিবেশন করে আমাদের মন ও প্রাণ জুড়িয়ে দিতো। বিবিসি বাংলার এরকম পোস্টটি ফেসবুকে শেয়ার করা ছেলে- মানুষী ছাড়া আর কিছু নয়। এই পোস্টটি সবার সামনে প্রকাশ করে বিবিসি বাংলা হিন্দু মুসলমানের দূরত্ব তৈরি করছে না তো?''

দূরত্ব কেন তৈরি হবে মি. আকন্দ? এই ভিডিও তো প্রমাণ করে ভারতে সাম্প্রদায়িক নানা সংঘাতের মধ্যে অনেক হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। সেজন্যই হয়তো সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন লোকজন বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। যারা তাদের ভিডিও দেখেছে, তাদের সিংহভাগ প্রশংসাই করেছে। এই ভিডিওটি আমাদের ফেসবুক পাতায় দশ লক্ষর বেশি ভিউ হয়েছে, দেড় হাজার বার শেয়ার করা হয়েছে,৩২ হাজার প্রতিক্রিয়ার মধ্যে মাত্র ৪৫০টি ছিল নেতিবাচক।

আর হ্যাঁ, পুরনো দিনের বিবিসি ছিল শুধু মাত্র রেডিতে যেখানে বিষয়বস্তুর সীমাবদ্ধতাও ছিল। কিন্তু এখন হচ্ছে সামাজিক মাধ্যম, ডিজিটাল মাধ্যমের যুগ। এখানে মানুষের চাহিদা, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের চাহিদা মেটাতে গেলে আমাদের কনটেন্ট-এ বৈচিত্র্য আনতে হবে। মানুষ এমন কনটেন্ট দেখতে চায় যেটা তাদের আশার আলো দেখাবে।

ধর্ম সংক্রান্ত আরেকটি খবর নিয়ে মন্তব্য করে লিখেছেন মাদারীপুরের কেন্দুয়া থেকে মোহাম্মদ রাসেল শিকদার:

'মুসলিম না হয়েও এই মাসে রোজা রাখেন যারা' - বিবিসি বাংলায় এই শিরোনামের সংবাদটি পড়ে আমি বেশ অবাক হয়েছি এটা জেনে যে, সাংবাদিক ম্যারিয়ান ডেভিড একজন ক্যাথলিক হয়ে ও গত ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে রমজানের রোজা রেখে আসছেন এবং নাদিন পার মুসলিম না হয়ে ও সাত বছর ধরে রোজা রাখছেন। তাদের প্রত্যেকের অনুভূতিগুলো অসাধারণ। ধন্যবাদ বিবিসিকে এতো সুন্দর একটি প্রতিবেদন প্রচার করার জন্য।''

আপনাকেও ধন্যবাদ মি. শিকদার। রমজান এর বিভিন্ন দিক নিয়ে আরো তথ্য এবং গল্প পরিবেশন করা আশা রাখছি।

এবারে ছোট একটি গল্প তবে গল্পটি রমজান নিয়ে না, বিবিসিকে নিয়ে। লিখেছেন ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থেকে হাছান আহাম্মেদ:  

''আমি ২০১৩ সালে নোয়াখালী থেকে এসএসসি পাস করে ঢাকার মিরপুরে একটি টেকনিক্যালে ভর্তি হই। সকাল বেলায় আমার এক স্যার ক্লাস নিতে এসে বললেন, বিবিসি বাংলা নিউজ কে কে শোনো তোমরা? উত্তরে ছাত্ররা বললো, কেউ শুনি না। তখন স্যার বললেন, বিবিসি নিউজ শুনবে, অনেক কিছু জানতে পারবে। ওই দিন থেকে আমি বিবিসি বাংলার নিয়মিত একজন শ্রোতা।''

শুনে খুব ভাল লাগলো মি. আহাম্মেদ যে, বিবিসি বাংলা আপনি এখন নিয়মিত শুনছেন। আপনার স্যারকে ধন্যবাদ, বিবিসি শুনতে আপনাকে এবং অন্যান্য স্টুডেন্টকে উৎসাহিত করার জন্য।

সব শেষে, আরেকটি প্রশংসা পত্র, পাঠিয়েছেন সৌদি আরবের হাইল থেকে কামাল আহমেদ:

''রাজনীতি, ধর্মীয় ইস্যু, সামাজিক ইস্যু, প্রতিটা ক্ষেত্রেই বিবিসি ১০০ ভাগ নিরপেক্ষতা বজায় রাখে, যেটা আবার নতুন করে আমার মন কেড়েছে। যদি কখনো এমন কোনো প্রশ্ন আমার সামনে আসে যে, 'কোন সংবাদমাধ্যম কে আপনি সবার আগে রাখতে চান', তাহলে আমি অবশ্যই বিবিসি বাংলাকেই বেছে নিবো। আশা করি সামনের দিনগুলোতেও বিবিসি বাংলা নিরপেক্ষই থাকবে।''

আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন মি. আহমেদ, নিরপেক্ষতার প্রশ্নে বিবিসি কখনোই আপোষ করবে না। নিরপেক্ষতা হচ্ছে বিবিসির জীবন চালিকা, সেটা কোন দিন হারাবে না।

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:

দীপক চক্রবর্তী, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়

মোহাম্মদ তানভীর খান, ঢাকা।

রবিউল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

আহসান হাবিব রাজু, গুড়িয়াদহ লালমনিরহাট ।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

মোহাম্মদ তানভীর খান, ঢাকা।