আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
এডিটার'স মেইলবক্স: ডাক্তার-পুলিশ ঝগড়া আর লকডাউনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন
- Author, সাবির মুস্তাফা
- Role, সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা
- Published
ঢাকায় সম্প্রতি লকডাউনের নিয়ম-কানুন প্রয়োগ করার কাজে নিয়োজিত পুলিশ এবং ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে, একজন ডাক্তারের পরিচয় পত্র দেখানো নিয়ে প্রচণ্ড বাক-বিতণ্ডা হয়, যার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়ে যায়।
সে বিষয় দিয়েই আজ শুরু করছি, প্রথমে লিখেছেন ঝালকাঠির তালগাছিয়া থেকে শহীদুল ইসলাম:
''গত আঠারোই এপ্রিল লকডাউন চলাকালে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে একজন চিকিৎসক যেভাবে পুলিশের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়েন, তা কারও কাছ থেকে কাম্য নয়। তিনি যেসব ভাষায় গালাগাল করেন তাও ছিল অনাকাঙ্ক্ষিত। সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যেভাবে ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন তাও প্রশংসার দাবি রাখে। এ ঘটনায় আমার মনে প্রশ্ন জাগে, তার কাছে পরিচয়পত্র চাইলে পুলিশ কর্মকর্তার সাথে তিনি এমন আচরণ করতে পারেন?''
তবে বিষয়টি অন্য দৃষ্টিতে দেখছেন ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাসুম বিল্লাহ:
''লকডাউনে পুলিশের হয়রানি প্রতিদিন বেড়েই চলছে। যারা অকারণে বাহির হচ্ছে তাদের দিকে নজর না দিয়ে যারা জরুরী কাজে বের হচ্ছে তাদেরকেই হয়রানি করছে। সরকার জরুরী সংস্থা গুলোকে লকডাউনে বের হওয়ার অনুমতি দিয়েছে, কিন্তু পুলিশের কিছু অতি উৎসাহী সদস্যর তৎপরতা মানুষের দৈনন্দিন জীবনের কাজকে ব্যাহত করছে। একজন ডাক্তার হাসপাতালে যাওয়ার জন্য বের হয়েছে তাকেও রাস্তায় হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে। লকডাউনের নামে এই সব অত্যাচার করার কারণ কী?''
আপনার দু'জনের কথা পড়ে বোঝাই যাচ্ছে লকডাউনের নিয়ম-কানুন এবং তার প্রয়োগ নিয়ে অনেক বিভ্রান্তি আছে, যা থেকে অস্থিরতা এবং বাদানুবাদ সৃষ্টি হচ্ছে। কোন সন্দেহ নেই, সাধারণ মানুষের সাথে পুলিশকে আরো সংযত হয়ে, বিনয়ী হয়ে কাজ করতে হবে। অন্য দিকে, সাধারণ মানুষেরও বোঝা দরকার পুলিশকে একটি দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, এবং সে দায়িত্ব পালনে জনগণের সহযোগিতা অপরিহার্য।
তবে সেদিনকার বাক-বিতণ্ডার আরেকটি দিক নিয়ে দুটি চিঠি এসেছে, এবং তা হল মুক্তিযোদ্ধার উত্তরসূরি হিসেবে পরিচয় দেয়া। প্রথমটি লিখেছেন বরিশালের কাউনিয়া থেকে মোহাম্মদ সাইদুর রহমান:
''তাদের পরিচয় যদি সত্যি হয়, তবে তারা তিনজনই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরসূরি, তাদের আচরণও সেরকম হওয়া উচিৎ ছিল, কিন্তু তাদের কারও আচরণই মার্জিত ও পরিশীলিত ছিল না। তারা তিনজনই একে অপরকে ক্ষমতার দাপট দেখিয়েছেন, যা এ'ধরনের কর্মকর্তাদের কাছে জনসম্মুখে প্রত্যাশিত নয়। তাদেরকে বুঝতে হবে তারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী, মানুষের করের টাকায় তাদের বেতন হয় এবং তারা জনগণের সেবক।''
এবিষয়ে দ্বিতীয় চিঠিটি লিখেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক:
''এখানে একটি বিষয় বেশ লক্ষণীয়, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হলেই যে সৎ দেশ প্রেমিক হবে, এমনটা ভাবার কোন অবকাশ নেই। আমার মনে হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা কোটার মাধ্যমে তাদের কিছু অযোগ্য সন্তানদের উচ্চতর পদে আসীন করা হয়েছে। বিড়ম্বনা তো সইতেই হবে। কোটায় ভর করে পার পাওয়া চাকুরেদের থেকে এর চেয়ে ভালো আচরণ ও ভালো সেবা পাওয়া দুর্লভ বৈকি। এ থেকেই প্রমাণিত হয়, কোটার যাঁতাকলে পিষ্ট আজ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি।''
এই ঘটনার সাথে মুক্তিযোদ্ধা কোটার সম্পর্ক কোথা থেকে খুঁজে পেলেন তা আমার বোধগম্য নয় মি. ইসলাম। আর যারা এই ঘটনার সাথে জড়িত তারা যে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি পেয়েছেন, সেটাও কি হলফ করে বলা যায়? আমার তো মনে হয় না।
অন্যদিকে, মি. রহমান যে ক্ষমতার দাপটের কথা বলেছেন, সেটা তো অবশ্যই সত্য, যেহেতু দাপটের প্রমাণ ভিডিওতেই দৃশ্যমান। কিন্তু আমার মনে হয় এখানে ক্ষমতার দুটি ধরন ছিল। একদিকে পুলিশ এবং ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ছিল দায়িত্ব থেকে পাওয়া ক্ষমতা। অর্থাৎ, লকডাউনের দায়িত্ব পালনের জন্য সে ক্ষমতা তাদের দেয়া হয়েছে। অন্য দিকে, গাড়ির আরোহী নিজেকে ক্ষমতাবান মনে করে পুলিশের প্রশ্নকে চ্যালেঞ্জ করেছেন।
তবে পুরো বিষয়টিকে নিছক বিনোদন হিসেবে দেখেছেন সাতক্ষিরার মুনজিতপুর থেকে মোহাম্মদ রাজিব হুসাইন রাজু:
''মহামারি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ঘনঘন লকডাউনে জনজীবন যখন বেশ স্থবির, একঘেয়েমি ও নিরানন্দময়, ঠিক তখনি ভ্যাপসা গরমের মাঝে হঠাৎ এক পসলা বৃষ্টির ঠাণ্ডা হাওয়ার মতো মন জুড়িয়ে দিল রাজধানী ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডে ঘটে যাওয়া কয়েকজন সরকারি কর্তাব্যক্তিদের কিছুসময়ের উত্তপ্ত আলাপচারিতা।''
বুঝতে পারছি, আপনি বেশ মজা পেয়েছেন মি. হুসাইন। এখানে কোন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে বলে মনে হচ্ছে।
তবে পুলিশের সাথে বিতণ্ডা কি সরকারের প্রতি মানুষের অনাস্থার লক্ষণ? তাই মনে করছেন মুহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল, যিনি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের বাসিন্দা:
''সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা যে দিনদিন উঠে যাচ্ছে, তা দেখা যাচ্ছে চলমান লকডাউনকে মানুষের উপেক্ষা থেকে। সরকার করোনা মহামারী মোকাবিলায় যতটা সক্রিয় তার চেয়ে বেশি সক্রিয় হেফাজতে ইসলামকে মোকাবিলায়। চলমান লক ডাউনে খেটে-খাওয়া মানুষের যে ভোগান্তি বেড়ে গেছে, তাদেরকে যে সরকারি সাহায্য দেয়া দরকার, তাও সরকার করছে না। সরকারের কেন এই ব্যর্থতা, যার কারণে অনাস্থা তৈরি হয়েছে?''
মানুষ যদি লকডাউনের নিয়ম-কানুন উপেক্ষা করে তাহলে লকডাউন যে ভেস্তে যাবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না মি. খলিল। এবং তার পরিণতি ভোগ করতে হবে সেই উদাসীন মানুষদেরকেই। আমার মনে হয়, সরকার যত পদক্ষেপ এখন নিচ্ছে, তা আরো এক-দেড় মাস আগে নেয়া উচিত ছিল, বিশেষ করে যখন থেকে ভারতে দ্বিতীয় ঢেউ-এর শক্ত আভাস পাওয়া যাচ্ছিল। এই দেরীটা সরকারকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।
করোনাভাইরাসের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছোট একটি প্রশ্ন করেছেন রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে মুশফিকুর রহমান ওলিউল্লাহ:
''কবে নাগাদ বাংলাদেশ সহ পুরো বিশ্ব এই করোনা মহামারি থেকে মুক্তি পাবে?আদৌ কি আমরা করোনা থেকে মুক্তি পাবো, নাকি করোনাকে সাথে নিয়ে জীবন যাপন করা শিখতে হবে?''
সবার মনে এই একই প্রশ্ন মি. ওলিউল্লাহ, কিন্তু এর জবাব কারো কাছে আছে বলে আমার জানা নেই। অনেক বিশেষজ্ঞর ধারণা, করোনাভাইরাস কখনোই নির্মূল হবে না, এবং মানুষকে সেটা মেনে নিয়েই জীবনযাপন করতে হবে। যেমন, ফ্লু বা নিউমোনিয়া নির্মূল করা যায়নি, কিন্তু ভ্যাক্সিনের মাধ্যমে তার প্রভাব বশে আনা গেছে। প্রতি বছর ফ্লু এবং নিউমোনিয়ায় অনেক বয়স্ক লোকের মৃত্যু হলেও স্বাভাবিক জীবন থেমে থাকে না। করোনাভাইরাসের বেলায় হয়তো তাই হবে।
পরের চিঠিটিও ভ্যাক্সিন সংক্রান্ত। চ্যানেল আইতে বিবিসি বাংলার বাংলাদেশ #trending অনুষ্ঠানটি দেখে একটি পর্যবেক্ষণ করে লিখেছেন ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজের প্রভাষক, সেলিনা আহমেদ শেলী:
''চ্যানেল পাল্টাতে পাল্টাতে হঠাৎ চোখে পড়ল সময় টিভির পারমিতা হিম চ্যানেল আই-তে একটি প্রোগ্রাম করছেন। তিনি আমার খুব প্রিয় সংবাদ পাঠক তাই কৌতুহল থেকেই অনুষ্ঠানটি দেখলাম। এবং আরো অবাক হলাম করোনা ভাইরাসের সাউথ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে বিশেষজ্ঞের উত্তর দেখে। পরে বুঝলাম এটি বিবিসির অনুষ্ঠান, তাই এর আলোচনার বিষয় একদমই আলাদা। সত্যি বলতে, আমার নিজের মধ্যেও এমন ধারণা ছিল যে অক্সফোর্ডের টিকা দিয়ে আমাদের আসলে কোনো লাভই হলো না। অনুষ্ঠানটি দেখে আমার ধারণা বদলে গেছে। আমার মত অনেকের মনেই এমন ভুল ধারণা আছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।''
আমাদের নতুন অনুষ্ঠান দেখে আপনি উপকৃত হয়েছেন জেনে আমাদের ভাল লাগল সেলিনা আহমেদ। আশা করি ভবিষ্যতেও দেখবেন, তবে বাংলাদেশ #trending অনুষ্ঠানটি রমজানের জন্য বন্ধ আছে, ঈদের পরে আবার চ্যানেল আই-এর পর্দায় ফিরবে প্রতি সোমবার রাত ন'টা ৩৫ মিনিটে। আপনার শুভেচ্ছা পারমিতাকে পৌঁছে দেব।
করোনাভাইরাসের বিষয়ে ফিরবো আরেকটু পরে, এবারে ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি। সম্প্রতি চট্টগ্রামে একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পুলিশের গুলিতের শ্রমিক নিহত হবার ঘটনা নিয়ে লিখেছে বগুড়ার শেরপুর থেকে সম্পদ কুমার পোদ্দার:
''চট্টগ্রামের বাঁশখালিতে বকেয়া বেতনের দাবীতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের উপর পুলিশের গুলিবর্ষণে পাঁচজন নিহত হবার ঘটনা অগ্রহণযোগ্য ও চরমভাবে নিন্দনীয়। কোনো দাবিদাওয়া নিয়ে বিক্ষোভ হতেই পারে। এটা থামানোর একমাত্র পথ কি গুলি করে শ্রমিক হত্যা? প্রায় সাড়ে তিন হাজার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। যারা শ্রমিক হত্যার বিচার চাইবেন, তারা গ্রেফতার আতঙ্কে ভুগছেন। একটা স্বাধীন দেশের পুলিশের এটা কী ধরনের উপনিবেশিক বর্বর আচরণ।''
বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের গুলি চালানোর প্রবণতা নিয়ে কিছু দিন আগেও এই অনুষ্ঠানে কয়েকটি চিঠি নিয়ে আলোচনা হয়েছে মি. পোদ্দার। বিষয়টি সত্যই উদ্বেগজনক। বেতন-ভাতার দাবীতে শ্রমিকদের প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে। তাদের প্রতিপক্ষ কোম্পানি মালিক, পুলিশ নয়। প্রশাসনের সেখানে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করার কথা এবং পরিস্থিতি যাতে উত্তপ্ত না হয়, সেজন্য তারা মধ্যস্থতাও করতে পারে। কিন্তু সেটা হয়নি। এ'ধরণের ঘটনার তদন্ত হওয়া দরকার, কিন্তু সেই তদন্ত নিরপেক্ষ হবে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ থাকতে পারে।
পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সহিংসতার খবর বিবিসি বাংলায় কেন পরিবেশন কর হচ্ছে না, সে প্রশ্ন করে লিখেছেন ভারত থেকে অর্ক রায়:
''বিবিসি বাংলা ভারতের খবর নিয়ে যেভাবে সরব, পাকিস্তান নিয়ে ততটাই নীরব। এর কারণ কি বুঝতে পারলাম না। সেদিন ভারতের একজন মন্ত্রী লকডাউন নিয়ে একটি মন্তব্য করেছে সেটি বিবিসি বাংলার পেজে খবর হল। অথচ পাকিস্তানে ইসলামপন্থী একটি দল টিএলপিকে ইমরান খান নিষিদ্ধ করার পর থেকে গত ২দিন যেভাবে পাকিস্তানে সহিংসতা চলছে তার কোন খবর এখনও পর্যন্ত বিবিসি বাংলার পেজে দেখলাম না। এটা কেন আমার কাছে এখনও বোধগম্য হল না।''
আমি জানি না মি. রায়, আপনি কেন ভাবছেন ভারতের ঘটনা কাভার করলে পাকিস্তানেরটাও কাভার করতেই হবে। ভারতে আমাদের প্রচুর পাঠক আছেন, কিন্তু পাকিস্তানে একদম নেই। সেজন্য, পাকিস্তানের খবর বেশ বেছে বেছেই পরিবেশন করা হয়। যখন কোন ঘটনা এমন মোড় নেয় যাতে তার আন্তর্জাতিক বা আঞ্চলিক গুরুত্ব চলে আসে, তখন আমরা অবশ্যই সেই খবরের দিকে মনোযোগ দেই। যেমন, টিএলপির তাণ্ডব ঘিরে যখন ফ্রান্স তাদের নাগরিকদের পাকিস্তান ছেড়ে চলে যাবার পরামর্শ দিল, তখন আমরা সেই স্টোরি পুরো প্রেক্ষাপটসহ পরিবেশন করি।
ভারতের প্রসঙ্গেই থাকি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর একটি মন্তব্য নিয়ে লিখেছেন খুলনার পাইগাছা থেকে মোহাম্মদ আজিজুল হাকিম রাকিব:
''সম্প্রতি আনন্দবাজার পত্রিকার এক সাক্ষাৎকারে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে প্রশ্ন করা হয়, 'গত ১০-১৫ বছরে বাংলাদেশের তো আর্থিক উন্নয়ন হয়েছে। তাও কেন লোকে পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ করছে?' প্রশ্নের জবাবে মি. শাহ বলেন 'বাংলাদেশের গরীবরা খেতে পায় না, তাই ভারতে আসে'। ভারতের মতো একটি গণতান্ত্রিক দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে প্রতিবেশী দেশ সম্পর্কে এমন বিরূপ মন্তব্য কী আদৌ সমর্থনযোগ্য?''
তার বক্তব্য কূটনৈতিক শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক অবশ্যই থাকবে মি. হাকিম। তবে অমিত শাহ-র বক্তব্য সমর্থনযোগ্য কি না, সে প্রশ্নের আগে জানতে হবে তার বক্তব্য সঠিক কি না। আপনি বাংলাদেশের খুলনা অঞ্চলের বাসিন্দা, তাহলে আপনি নিশ্চয়ই বলতে পারবেন, তার কথাটা সঠিক না বেঠিক? বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তো ইতোমধ্যে বলে দিয়েছেন অমিত শাহ বেঠিক।
করোনাভাইরাস নিয়ে আরেকটি প্রশ্ন, পাঠিয়েছেন চাঁপাই নবাবগঞ্জের ভোলাহাট থেকে মুহাম্মদ আব্দুল হাকিম:
''বাংলাদেশের জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এক বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ রাখা হয়েছে, গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে, কঠোর লকডাউন চলছে, টিকা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তারপরও করোনায় মৃত্যু ও দিন দিন বেড়েই চলেছে। করোনা মোকাবিলায় সচেতনতার পাশাপাশি আর কোন ও বিকল্প পথ কি নেই?''
করোনাভাইরাস থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখার উপায় হচ্ছে জনসমক্ষে বের হলে সব সময় মাস্ক পরা, নিয়মিত সাবান দিয়ে ধোয়া এবং নিজ পরিবারের নয়, এমন লোকজন থেকে ছয় ফিট দূরে থাকা। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই নিয়মগুলোকেই সব চেয়ে কার্যকরী বলে মনে করে, কিন্তু অনেকেই এই সহজ নিয়মগুলোই মেনে চলতে চান না। অবশ্য, টিকা নেয়ার সুযোগ থাকলে সেটা অবশ্যই নেবেন।
তবে টিকা নেয়া যে সহজ হবে না, তা বোঝাই যাচ্ছে সাম্প্রতিক কিছু খবর দেখে। যেমন লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:
''বাংলাদেশে ভ্যাক্সিনেশন প্রক্রিয়াটি বেশ হুমকির মুখে পড়েছে বলেই মনে হচ্ছে। ভারতের সিরাম ইন্সটিটিউট চুক্তি মোতাবেক গত দু'দফার ভ্যাক্সিন এখনো দিতে পারে নি। বাংলাদেশ এখন অন্যান্য একাধিক উৎসের খোঁজ করছে ভ্যাক্সিন সংগ্রহের জন্য। কিন্তু ঠিক এই মুহূর্তে সারা বিশ্বে করোনা ভ্যাক্সিনের যে বিপুল চাহিদা তাতে ভ্যাক্সিন পাওয়া খুব সহজ হবে বলে মনে হচ্ছে না। ভ্যাক্সিন সংগ্রহের জন্য কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের উপর নির্ভর করে থাকাটা কি যৌক্তিক ছিল বাংলাদেশের জন্য? এই সংকট থেকে বের হবার কোনো সহজ পথ কি বাংলাদেশের সামনে খোলা আছে?''
যে সঙ্কটের মুখে বাংলাদেশ পড়েছে, তা থেকেই বোঝা যায় শুধু একটি দেশ এবং প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করাটা বুদ্ধিমানের কাজ হয় নি। বিশ্বের অনেক দেশ একাধিক কোম্পানির সাথে চুক্তি করেছে। যেমন, ব্রিটেন চারটি কোম্পানির কাছ থেকে টিকা সংগ্রহ করছে। বাংলাদেশের সামনে রাস্তা দুটি - শীঘ্রই অন্য দেশের সাথে টিকা আমদানির জন্য চুক্তি করা, যেমন ভারত করেছে রাশিয়ার সাথে তাদের স্পুটনিক ভি ভ্যাক্সিনের জন্য। আরেকটি পথ হচ্ছে, আন্তর্জাতিক অনুমোদনপ্রাপ্ত যে কোন টিকা বাংলাদেশে উৎপাদনের জন্য সত্ত্বাধিকারী কোম্পানির কাছ থেকে অনুমতি নেয়া।
আমাদের অনুষ্ঠানে রমজান নিয়ে কিছু না থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করে লিখেছেন ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে কামাল হোসেন মিলন মুকছুদি:
''চৌদ্দই এপ্রিল ছিল বাংলা নববর্ষ এবং সেদিন বাংলাদেশ কঠিন লকডাউন শুরু হয়। এর পাশাপাশি ১৪ই এপ্রিল শুরু হয় মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশ এ সবচেয়ে প্রভাবশালী মাস, রমজান। খুব আগ্রহ নিয়ে বিবিসি বাংলার পরিক্রমা শুনছিলাম, কিন্তু কোনভাবেই বাংলাদেশের মানুষের রমজান পালনের বিষয়টা বিবিসি খবরে প্রকাশ করল না। যা আমাকে খুবই হতাশ করেছে। বিবিসির কাছে এ ধরনের ইসলাম বিবর্জিত সংবাদ কখনোই আশা করি না।''
লকডাউনের শুরুটা সেদিনের সব চেয়ে বড় খবর ছিল তাই সেটাকেই সব চেয়ে গুরুত্ব দিতে হয়েছে মি. হোসেন। পহেলা বৈশাখ যেহেতু একদিনের ঘটনা, তাই সেটা নিয়ে অল্প কিছু আলাপ অনুষ্ঠানে ছিল। কিন্তু আমরা প্রতি বছরেই রমজান এবং ঈদ নিয়ে নানা রকমের প্রতিবেদন প্রচার করি এবং এ'বছরও তার ব্যতিক্রম হবে না। তবে রমজান যেহেতু ৩০ দিনের, তাই প্রথম দিন কিছু না থাকলেও অসুবিধা হয় বলে আমাদের মনে হয় না।
আমাদের অনুষ্ঠানে একটি তথ্য বিভ্রাট নিয়ে লিখেছেন ভারতের ছত্তিসগড় থেকে আনন্দ মোহন বাইন, এবং পঞ্চগড়ের বোদা থেকে রতন রঞ্জন রায়:
''আঠারো তারিখে হঠাৎ সন্ধ্যার অধিবেশনে শুনলাম ভারতে দৈনিক কোভিড রোগী আক্রান্ত হবার সংখ্যা ১ লক্ষ ৬০ হাজারের বেশি। শুনে হোঁচট খেলাম,ভাবলাম ভুল শুনলাম না কি? কিন্তু না, আবার রাতের অধিবেশনে একই সংখ্যার খবর শুনলাম। কিন্তু আমি অন্য মাধ্যমে তথ্য নিয়ে দেখি সংখ্যাটি হবে ২ লক্ষ ৬০ হাজারের বেশি। ব্যবধান ১ লক্ষ। মানলাম বিষটি অনিচ্ছাকৃত কিন্তু তাই বলে কি দুটি অধিবেশনে একই ভুল?''
আপনারা ঠিকই বলেছেন মি. বাইন এবং মি. রায়, ভুলটি অনিচ্ছাকৃত তো বটেই, কিন্তু কোন ভাবেই এটা দুটি অধিবেশনেই যাওয়া উচিত ছিল না। আসলে, মূল ইংরেজি কপিতে সংখ্যাটি দু'লক্ষ ষাট হাজার ছিল ঠিকই, কিন্তু যিনি অনুবাদ করেছেন তিনি ভুলটি খেয়াল করেন নি, এবং পরবর্তীতেও নতুন করে খবরটি লেখা হয় নি। এই ভুলের জন্য আমরা অত্যন্ত দু:খিত।
আমাদের অনুষ্ঠানে ভাষার ব্যবহার নিয়ে লিখেছেন পশ্চিমবঙ্গের দিনাজপুর থেকে শামীম সরকার:
''যতদূর জানি ভারত সরকার মাওবাদীদের সন্ত্রাসী গ্রুপ বলে আখ্যায়িত করে। কিন্তু আপনাদের প্রতিবেদনে মাওবাদীদের গেরিলা বলে সম্বোধন করা হয়েছে। আবার বিবিসি লেবাননের সংগঠন হিজবুল্লাহকে সন্ত্রাসী গ্রুপ বলে আখ্যায়িত করেছে। তাহলে গেরিলা ও সন্ত্রাসী গ্রুপ কি একই, নাকি আলাদা?''
বিবিসিতে কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী বলে সম্বোধন করা হয় না মি. সরকার। তবে সহিংস কার্যকলাপকে অনেক সময় সন্ত্রাসী কাজ বলা হয়। লেবাননের হিযবুল্লাহকে ইংরেজিতে মিলিটান্ট বলা হয়। অনেক ক্ষেত্রে সেটাকে জঙ্গি হিসেবে বাংলায় অনুবাদ করা হয়। তবে জঙ্গি শব্দটা নিয়েও সমস্যা আছে তাই আমরা সেই শব্দ শুধুমাত্র সেসব গোষ্ঠীর বেলায় বলি যাদের সহিংসতা ছাড়া আর কোন কার্যকলাপ নেই। আর ভারতের মাওবাদীরা যেহেতু একটি রাজনৈতিক-সামরিক বাহিনী যারা ক্ষুদ্র পরিসরে যুদ্ধ করে নিজস্ব অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করে, তাই তাদের গেরিলা বাহিনী বলা হয়।
সব শেষে প্রীতিভাজনেষু নিয়ে ছোট একটি চিঠি, লিখেছেন নোয়াখালী থেকে হাছান আহাম্মেদ:
''যে সব চিঠি পত্র প্রাপ্তি স্বীকার করা হয় ঐসব চিঠিপত্র গুলি পরের সপ্তায় শোনালে ভালো হয় না?''
ব্যাপারটি ঠিক সেরকম না মি. আহাম্মেদ। কয়েকটি চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা হয়, যখন অনুষ্ঠানে সেগুলোর জায়গা করা যায় না, বা সে চিঠিতে যদি জবাব দেবার মত কোন বিষয় না থাকে। পরের সপ্তাহে নতুন চিঠি আসবে, আগের সপ্তাহের চিঠির জায়গা তখনও করা যাবে না।
এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:
নুসরাত জাহান, তেঁতুলঝোড়া, সাভার।
আনিছুর রহমান নয়ন,দারোয়ানি, নীলফামারী।
আব্দুর রহমান জামী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
সেলিম রাজ ও শাফি, বেনুঘাট চওড়ার হাট, রংপুর।
মুতাছিম নয়ন, পাইকগাছা, খুলনা।
জহিন মুমতাহিনাহ, লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা।
মোহাম্মদ শিমুল বিল্লাল বাপ্পী, কপিলমুনি, খুলনা।
দীপক চক্রবর্তী, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়।
মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান, গেণ্ডারিয়া, ঢাকা।
মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, বয়রা আবাসিক এলাকা, খুলনা।