আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
এডিটার'স মেইলবক্স: লক ডাউন, খালেদা জিয়ার কোভিড টেস্ট আর পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন
- Author, সাবির মুস্তাফা
- Role, সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা
- Published
করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ ভারত এবং বাংলাদেশে বেশ জোরে শোরেই চলছে বলে মনে হচ্ছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে একবার লকডাউন দেবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। এখন নতুন এক লকডাউন চলছে, যেটা নিয়েও নানা বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
সে বিষয় দিয়েই আজ শুরু করছি, প্রথমে লিখেছেন ঢাকার মিরপুর থেকে মোহাম্মদ রুবেল মিয়ান:
''পঞ্চাশ বছর বয়সী বাংলাদেশ রাষ্ট্রের যতটা 'ম্যাচিউর' হবার দরকার ছিল তা কি হয়েছে? দীর্ঘ ৫০ বছরে এই রাষ্ট্র নৈতিকতা ও সহনশীলতা শিখতে পারে নাই। অতি-সাম্প্রতিক করোনাকালের প্রথম সাত দিনের লকডাউন কার্যত ভেঙে গিয়েছিল। পরের যে লক ডাউন চলছে তাতে নিম্ন আয়ের মানুষ কীভাবে সাংসারিক ব্যয় নির্বাহ করবে, তা রাষ্ট্রের পরিচালনার সাথে সংশ্লিষ্ট কর্তা বাবুরা ভাবেন না। এই লক ডাউনে যে ত্রাণ আসবে তাও কি সরকার সংশ্লিষ্ট দলের লোকজন উদারহৃদয়ে চুরি করবেন? এবার কি সেই রাষ্ট্রের সাধারণ লোকজন দুমুঠো ত্রাণের চালের ভাত পাবে?''
সত্যি কথা বলতে, একটি রাষ্ট্রের জীবনে ৫০ বছর কোন সময়ই না, মি. মিয়ান। সব রাষ্ট্রকে নিজস্ব চরিত্র গঠন করে স্থিতিশীল হতে বহু বছর লেগে যায়। বাংলাদেশে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এটাও ঠিক যে, সেখানে দুর্নীতি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। তারই প্রতিফলন হয়তো আপনি দেখতে পাচ্ছেন করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সরকারি নীতিতে। তবে লকডাউন দীর্ঘায়িত হলে সরকারকেই দরিদ্র মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিতে হবে।
নতুন লকডাউনের একটি দিক হল সকল আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা, যা নিয়ে লিখেছেন কাতারের দোহা থেকে আবু সিদ্দিক:
''এ সময়ে বেশির ভাগ দেশ ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারানটিন নিশ্চিত করে ফ্লাইট চালিয়ে যাচ্ছে । আর আমাদের দেশের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও, বোকার মত ফ্লাইট বন্ধ করে দিয়ে প্রবাসীদের জীবন জীবিকা হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।''
ফ্লাইট সম্পূর্ণ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত যে বিতর্কিত, তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই মি. সিদ্দিক। কিন্তু কোয়ারানটিন নিশ্চিত করার সক্ষমতা কি আসলেই আছে? চৌদ্দ দিনের কোয়ারানটিনের ব্যাপার বেশ কিছু দিন ধরেই ছিল, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে মানুষ কোয়ারানটিনের শর্ত মানেনি। প্রাতিষ্ঠানিক বা হোটেল কোয়ারানটিনে নিতে গেলে ঢাকা বিমান বন্দরে প্রতিবাদ বিক্ষোভও হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার হয়তো মনে করেছে বিমান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ না করে ভাইরাসের বিস্তার থামানো সম্ভব না। অবশ্য প্রবাসী শ্রমিকরা যাতে কাজে ফিরতে পারেন, সেজন্য সরকার ফ্লাইটের ব্যবস্থা করছে বলে জানা গেছে।
পরের চিঠি লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:
''তেরোই এপ্রিল বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত "ব্যাংক বন্ধের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলো বাংলাদেশ সরকার" শীর্ষক প্রতিবেদনটি পড়লাম। আমি সরকারের এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করাকে সাধুবাদ জানাই। আমার সাথে হয়তো অনেকেই দ্বিমত পোষণ করবে, তারপরও বলছি, মানুষের খাদ্য, ঔষধ, মাছ মাংস, দুধ ডিম, শিশু খাদ্য, শাক সবজি ইত্যাদি পণ্য সরবরাহ, আমদানি-রপ্তানি সহ এমন কিছু প্রয়োজন ও চাহিদা রয়েছে যা ব্যাংকিং সেবার সাথে সরাসরি জড়িত এবং জরুরি মুহূর্তে এসব সেবা খুবই প্রয়োজন হয়।
''যেমন, আমি যেখানে কর্মরত সেখানকার তরমুজ চাষিরা প্রথমে ব্যাংক বন্ধের কথা শুনে চরম হতাশায় নিমজ্জিত হয়েছিল এবং সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের কথা শুনে তাদের মুখে হাসির ঝিলিক লক্ষ্য করেছি।''
তবে ব্যাংক খোলা রাখার সিদ্ধান্তের সাথে মোটেই একমত নন ঝিনাইদহের কাজী সাঈদ:
''কঠোর লক ডাউন কি আর কঠোর থাকতে পারবে, যদি ব্যাংক সহ গার্মেন্টসের মত শিল্প কারখানাগুলো খোলা থাকে? কী হবে এ সমস্ত কর্মক্ষেত্রে কর্মীদের, এটা কি কেউ একবারও ভেবেছেন? সব চেয়ে ভয়ংকর যে ব্যাপারটি সমস্ত লকডাউনকে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে তা হল ব্যাংকগুলো খোলা রাখা। এক চিলতে জায়গায় শত শত মানুষ এমনভাবে ভিড় করে যা দেখলে গা শিউরে ওঠে। সবার শুভবুদ্ধির উদয় হোক, নিজেরা নিজেদের লক ডাউন করে এই মহামারি প্রতিরোধ করা ছাড়া কোন গতি আমি অন্তত দেখছিনা।''
সরকারি সিদ্ধান্ত ভুল হলে সেটা দ্রুত বদলানোর সদিচ্ছা যে একটি ভাল লক্ষণ, তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই মি. রহমান। তবে মানুষ চাইবে সরকার যাতে তার মূল লক্ষ্যে অটল থাকে, আর তা হচ্ছে ভাইরাস সংক্রমণ থামানো। আমার মনে হয় মি. সাঈদ সেদিকেই ইঙ্গিত করছেন। অর্থাৎ সকল সিদ্ধান্ত যেন সংক্রমণ থামানোর জন্যই নেয়া হয়। কিছু কিছু কর্মস্থল তো খোলা রাখতেই হবে, তা না হলে অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়বে, মানুষ না খেয়ে মরবে। সেসব ক্ষেত্রে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবেই প্রয়োগ করা দরকার।
এবারে ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি। বাংলাদেশে হেফাজতে ইসলামের একজন শীর্ষ নেতা মামুনুল হকের টেলিফোন আলাপ আর বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়ার কোভিড টেস্টের ফলাফল ফাঁস হওয়ার বিষয় অনেককেই চিন্তিত করেছে। তাই ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে লিখেছেন ভোলার চরফ্যাশন থেকে সালমা আক্তার:
''আমি এবং আমার মত আরো সবাই খুবই উদ্বিগ্ন নিজেদের ডেটা বা পার্সোনাল তথ্য নিয়ে। যেখানে তিন বারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার করোনা পজিটিভ হওয়ার তথ্য আগেই প্রকাশ হয়ে যায়। যেখানে একজন হাই লেভেলের আলেমের একান্ত ব্যক্তিগত ফোনালাপ ফাঁস হয়ে যায়। আর আগে যেগুলো হয়েছে তা আর নাই বললাম। এমন দেশে আমার মত মানুষের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কে দিবে? এর দায় কার? এর জবাব কে দিবে? কেউ আছে কি?''
সে বিষয়ে আরো লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:
''বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার করোনা টেস্ট রিপোর্টটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলো ঠিক কেমন করে? কারো ব্যক্তিগত তথ্য কি এভাবে সামাজিক মাধ্যমে সকলের সামনে উন্মুক্ত করে দেওয়া যায়? এর সংগে কে বা কারা জড়িত আমি জানিনা। আমার মনে হয়, আর কারো ব্যক্তিগত তথ্য যাতে জনসমক্ষে ছড়িয়ে না পড়ে সেদিকে সরকারের নজর দেওয়া উচিৎ।''
বিষয়টি সত্যিই উদ্বেগজনক মিস আক্তার এবং মি. সরদার। আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, আদালতের আদেশক্রমে যদি কারো টেলিফোনে আড়ি পাতা হয়, বা কারো মেডিকেল রিপোর্ট সরকারি কোন সংস্থার হাতে আসে, তাহলে সেটা ভিন্ন ব্যাপার। আমরা ধরে নিতে পারি সেখানে আদালতের অনুমতি দেবার জন্য যথেষ্ট কারণ ছিল। কিন্তু সেই কথোপকথন বা মেডিকেল রিপোর্ট যদি জনসমক্ষে ফাঁস করা হয়, তাহলে সেটা হবে চরম অন্যায়, এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা উচিত। যেসব সংস্থার প্রযুক্তি এবং আইনগত ক্ষমতা আছে, তাদের জবাবদিহি করতে পারলেই এই ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ হবে, এবং সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে।
পরের চিঠি লিখেছেন রিথি সুমাইয়া:
''ক্রিকেটার মঈন আলীকে নিয়ে লেখক তসলিমা নাসরিনের আইসিস টুইটটি নিঃসন্দেহে বিদ্বেষমূলক। তবে তাঁর বাক স্বাধীনতা ও শার্লি এবদো বিষয়ক আরেকটি টুইট একটি প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে, আর তা হল, বাক স্বাধীনতা এবং গোষ্ঠী বিদ্বেষ পরস্পর মুখোমুখি হলে কোন পথে যাওয়া উচিত।''
জটিল প্রশ্ন রিথি সুমাইয়া। পশ্চিমা বিশ্বে এক সময়ে বাক স্বাধীনতাকেই প্রাধান্য দেয়া হত এবং এখনো অনেক ক্ষেত্রে তাই হয়। কিন্তু সম্প্রতি বর্ণবাদ, নারী-বিদ্বেষ, অন্যান্য গোষ্ঠীগত হিংসা রোধ করার জন্য ক্রমশ: বাক স্বাধীনতার পরিসর ছোট হয়ে আসছে। তবে এটাও বলতে হবে, শার্লি এব্দো কখনোই জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবাইকে অপদস্থ করার স্বাধীনতা বিসর্জন দেবে না। আমার মতে, বাক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা আবশ্যক। কিন্তু সেই স্বাধীনতা যাতে সহিংসতা উস্কে দেবার জন্য ব্যবহার না করা হয়, সেদিকে খেয়াল রাখাও জরুরি।
সম্প্রতি বাংলাদেশে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তোলায় গণমাধ্যম এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সমালোচনা করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। সে বিষয়ে লিখেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক:
''বিবিসি বাংলা'র ওয়েবসাইটে খবরটি দেখে খুব একটা অবাক হইনি। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে আর কোন খাতে এত দুর্নীতি আর হয়নি যতটা এই স্বাস্থ্য খাতে হয়েছে আর হচ্ছে। মহাপরিচালক মহোদয় হয়তো সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছেন। তবে সকল সংবাদমাধ্যমে যে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ হচ্ছে এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণ যেসকল সমালোচনা করছেন, তার কোন্ কোন্ অংশটুকু সঠিক নয়, সে বিষয়ে প্রমাণ সহ ব্যাখ্যা করা উচিত। সমালোচনাকে সমালোচনার দৃষ্টিতে না দেখে জনকল্যানার্থে দেখে সেখান থেকে পরবর্তীতে কী করণীয় তা নির্ধারণ করা অতীব জরুরি বলেই মনে করি।''
আপনি ঠিকই বলেছেন মি. ইসলাম। সমালোচনা যদি গঠনমূলক হয় তাহলে সরকার সেটা থেকে উপকৃত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে মহামারি মোকাবেলা করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
এবারে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে আপত্তি তুলে লিখেছেন মাদারীপুরের কেন্দুয়া থেকে মোহাম্মদ রাসেল শিকদার:
''গত ৯ই এপ্রিল কলকাতা থেকে অমিতাভ ভট্টশালীর প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানতে পারলাম ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নির্বাচনী প্রচারণার জন্য বিজেপি একটি গানের ভিডিও প্রকাশ করেছে যেখানে বাংলাদেশে এক হিন্দু কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনা, বাংলাদেশের টিভি থেকে নেওয়া ছবি, ইসলামপন্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।
''আমি বাংলাদেশের একজন সাধারণ এবং সচেতন নাগরিক হিসাবে এর তীব্র প্রতিবাদ করছি। কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি সব সময় ধর্মীয় ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে ভোট ব্যাংক তৈরি করার চেষ্টা করে। এখন দেখছি আমাদের দেশের ইস্যুকে কেন্দ্র করে তারা পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে জেতার চেষ্টা করছে। আমি মনে করি এই মুহূর্তে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এর তীব্র প্রতিবাদ করা উচিত।''
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি যে ধর্মকে একটি ইস্যু বানিয়েছে, তা ভারতে অনেকেই বলেছেন। তবে বিজেপি এই প্রথমবার বাংলাদেশকে নির্বাচনী ইস্যু বানায় নি। অতীতেও তারা এই কাজ করেছে। নির্বাচন যেহেতু ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, সেজন্য বাংলাদেশ হয়তো প্রতিবাদের কথা ভাববে না। তবে দ্বিপাক্ষিক সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে, যদি ভারতে লক্ষ লক্ষ বাংলাভাষী মুসলিমকে অবৈধ বাংলাদেশী অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করে বাংলাদেশে ঠেলে দেবার চেষ্টা করা হয়। বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতার লক্ষ্য হবে যাতে সেটা না হয়।
পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন নিয়ে আরেকটি চিঠি, লিখেছেন লক্ষ্মীপুরের রামগতি থেকে মোহাম্মদ ফরহাদ রাজু:
''হায়রে বিস্ময়কর বিশ্ব! তেরোই এপ্রিল বিবিসির খবরে শুনতে পেলাম ভারতের নির্বাচনে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই খবর শুনে যত না অবাক হলাম, তার চেয়ে অবাক হলাম যখন শুনলাম ভারতের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলছেন, মৃত্যু আরো বেশি হওয়া উচিত ছিল। আমি বিশ্বের কাছে জানতে চাই, বড় বড় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কি মৃত্যু পছন্দ করে? এমন রাজনৈতিক বুদ্ধির আমি ধিক্কার জানাই।''
বিষয়টি নিন্দনীয় হলেও, হয়তো বিস্ময়কর না মি. ফরহাদ। কারণ, পশ্চিমবঙ্গে এবারের নির্বাচনে আগের তুলনায় অনেক বেশি তিক্ততা আমরা লক্ষ্য করেছি, বিশেষ করে ধর্মকে কেন্দ্র করে। তবে যিনি আরো বেশি মৃত্যু হওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন, তিনি কোন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নন। তিনি এই নির্বাচনে বিজেপির একজন প্রার্থী, রাহুল সিনহা।
এবারে আসি আমাদের অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গে। রেডিওতে ইতিহাসের সাক্ষী শুনতে পারছেন না বলে লিখেছেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থেকে মুহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল:
''বিবিসি বাংলা ইতিহাসের সাক্ষী নামক যে ফিচার অনুষ্ঠান করে, তা এখন আর অতটা মনোযোগসহ শুনতে পারি না। সেখান থেকে নতুন কিছু নিতেও পারিনা, কারণ আপনারা ইতিহাসের সাক্ষী অনুষ্ঠানকে এখন আর রেডিও অনুষ্ঠান পরিক্রমায় প্রচার করেন না। এতে আপনাদের কণ্ঠে ইতিহাসের সাক্ষী শুনতে পারি না। এখন যেভাবে প্রতিবেদন আকারে ইতিহাসের সাক্ষী ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেন, তা আমার কাছে মোটেও ভালো লাগে না। এত বড় প্রতিবেদন পড়লেও অতটা মনোযোগ আসেনা এবং কিছু নিতেও পারিনা।''
আপনার বিভ্রান্তির কারণটা বুঝতে পারছি না মি. খলিল। ইতিহাসের সাক্ষী বেশ কিছুদিন ধরেই রেডিও অনুষ্ঠান পরিক্রমায় প্রচারিত হচ্ছে। প্রতি রবিবার পরিক্রমার ফিচার হচ্ছে ইতিহাসের সাক্ষী, এবং সেটা প্রতিবেদন আকারে আমাদের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়।
বিবিসি বাংলায় খেলা-ধুলার আয়োজন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে লিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আব্দুর রহমান জামী:
''বর্তমান সময়ে বিবিসি বাংলা খেলাধুলার অনুষ্ঠান নিয়ে উদাসীন। এর বড় প্রমাণ হলো, বিবিসি বাংলা কর্তৃপক্ষ খেলাধুলার সাপ্তাহিক আড্ডা বাদ দিয়ে বিজ্ঞানের আসর প্রচার শুরু করেছে,যা একেবারেই অপ্রত্যাশিত। আমরা চাই, ক্রীড়াজগত বিষয়ক আড্ডা ম্যাগাজিনটি আবার ফিরিয়ে আনা হোক। এ অনুরোধ শুধু আমার একার নয়। আমার মতো আরো অনেক শ্রোতার।''
আমি আপনার সাথে একমত মি. রহমান, যে দৈনিক খেলা-ধুলার বুলেটিনের সাথে সাপ্তাহিক আয়োজন রাখা দরকার। কিন্তু বর্তমানে আমাদের লোকবলের সঙ্কট রয়েছে। ফয়সাল তিতুমীর এবং রায়হান মাসুদের আরো অনেক দায়িত্ব থাকার ফলে তাদের পক্ষে প্রতি সপ্তাহে খেলা-ধুলার আড্ডাটা করা সম্ভব হচ্ছিল না। তাই আমরা আপাতত সেটা স্থগিত রেখেছি।
আমাদের অনুষ্ঠান নিয়ে আরেকটি চিঠি, তবে অভিযোগ নয়, ইসলাম নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠানের প্রস্তাব দিয়ে লিখেছেন রাজশাহীর মালদা কলোনি থেকে মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম:
''বাংলাদেশে কাওমি মাদ্রাসা গুলোতে সরকারের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই এবং এসব মাদ্রাসা গুলোতে শিক্ষা দানের কোন নিয়ম নীতি নেই। ফলে দেখা যায় একেক মাদ্রাসা একেক নিয়ম নীতি ফলো করছে। আবার অনেক মাদ্রাসা ও সংগঠন নিজস্ব নিয়মে এবং নিজ ধারায় ইসলামের ব্যাখ্যা ও ফতোয়া দিয়ে থাকে, ফলে দেখা যায় এসব ফতোয়া ও ব্যাখ্যায় নানা পার্থক্য।
''ইসলামের সঠিক ও কার্যকর ব্যাখ্যা এবং ফতোয়া মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকারের কোন শক্তিশালী কমিটি নেই এবং যেটা আছে সেটি খুব দুর্বল। আমি মনে করি, ইসলাম নিয়ে সরকারের উদাসীনতা এবং ধর্মীয় সংগঠন ও মাদ্রাসা গুলোর মতপার্থক্য এদেশে ইসলামকে চরম বিপদে ফেলে দিচ্ছে। তাই বিবিসি বাংলার কাছে আমার অনুরোধ, বাংলাদেশে এবং পৃথিবীর অন্যান্য দেশে ইসলাম ধর্ম ও কোরআন-হাদিস শিক্ষা ব্যবস্থা এবং ফতোয়া প্রদান সম্পর্কে একটি বিস্তর আলোচনা ও প্রতিবেদন তৈরি করার জন্য।''
প্রস্তাবটা মোটেও মন্দ না মি. ইসলাম। বর্তমান সংবাদ প্রবাহে ধর্ম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, এবং তা নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন অবশ্যই রয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম-প্রধান দেশে ইসলামী শিক্ষা এবং ধর্মের ব্যাখ্যা কীভাবে দেয়া হয়, তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা থেকে আমাদের শ্রোতারা যে উপকৃত হবেন, তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।
এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:
সেলিম রাজ, বেনুঘাট চওড়ার হাট, রংপুর।
সম্পদ কুমার পোদ্দার বলরাম, শেরপুর, বগুড়া।
রিপন বিশ্বাস, জোত-শ্রীপুর, মাগুরা।
মোহাম্মদ সাইদুর রহমান, কাউনিয়া, বরিশাল।
শাহীন তালুকদার, মৌকরন, পটুয়াখালী।
মোহাম্মদ শিমুল বিল্লাল বাপ্পী, কপিলমুনি, খুলনা।