আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
ইলিশ: চাঁদপুরে মেঘনা নদীতে জেলেদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ, একজন নিহত
মাছ ধরা নিয়ে পুলিশের সাথে জেলেদের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছে।
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর এলাকায় মেঘনা নদীতে সোমবার রাতে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ বলছে, ওই এলাকার মেঘনা নদীতে মৎস্য শিকারের উপর বর্তমানে একটি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকা সত্বেও সেখানে জাটকা বা ছোট আকারের ইলিশ শিকার করছিলো জেলেরা, এমন খবর পাওয়ার পর নৌ পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়।
অভিযুক্ত জেলেদের পুলিশ আটক করতে গেলে তারা পুলিশের ওপর পাল্টা আক্রমণ চালায়। এসময় সংঘর্ষ বেধে গেলে, এক পর্যায়ে পুলিশ গুলি চালায়, বিবিসিকে বলেন চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন।
''আত্মরক্ষার্থে পুলিশ শটগানের গুলি ছুড়লে মাসুদ নামের একজনের পায়ে লাগে'', বলেন মি. হোসেন। আহত মাসুদকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয় উন্নত চিকিৎসার জন্য এবং সেখানে আজ ভোরে তার মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় দুজন জেলেকে আটক করা হয়েছে বলে জানাচ্ছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ২৫ কেজি জাটকা, ২ হাজার মিটার জাল ও ইঞ্জিনচালিত একটি নৌকা জব্দ করা হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদদাতারা জানাচ্ছেন, দুটি নৌকায় মোট পাঁচজন জেলে সেখানে ছিল। এদের দুজনকে ধরতে পারেনি পুলিশ।
এ ব্যাপারে নিহত বা আটক হওয়া জেলেদের কারো বক্তব্য পাওয়া এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন:
এর আগেও চাঁদপুরের ইলিশ অভয়াশ্রমে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকার সময় পুলিশের অভিযানে জেলেদের সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ২০১৯ সালের ১৪ অক্টোবর এরকম একটি অভিযানে সংঘর্ষের পুলিশ রাবার বুলেট নিক্ষেপ করতে বাধ্য হয় বলে জানিয়েছিল পুলিশ। সেই অভিযান থেকেও ১৮ জন জেলেকে আটক করা হয়েছিল।
পহেলা মার্চ থেকে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর ৭০ কিলোমিটার এলাকাকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করে ৩০শে এপ্রিল পর্যন্ত সব ধরণের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার।
এই সময় মাছ ধরলে মৎস্য আইনে জেল-জরিমানার বিধান রয়েছে।
এই এলাকার জেলে পরিবারগুলোকে ৪০ কেজি করে খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে বলে জানিয়েছিল সরকার।
কেন বন্ধ করা যাচ্ছে না জাটকা ধরা
চাঁদপুরের স্থানীয় সাংবাদিক আলম পলাশ বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ''নদীর এই এলাকাটির চারপাশে কয়েকটি জেলা রয়েছে। এসব জেলা এবং চর অঞ্চলের অসংখ্য জেলে প্রতিদিনই সন্ধ্যার পর দ্রুতগামী নৌকা নিয়ে জাটকা ধরার চেষ্টা করে। নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে রাতের বেলায় গোপনে এভাবে মাছ ধরতে দেখা যায়। প্রশাসন ও পুলিশ নানাভাবে চেষ্টার পরেও এটি পুরোপুরি বন্ধ করতে পারছে না। ''
তিনি জানান, জেলেরা অভিযোগ করেন যে, ৪০ কেজি খাদ্য সহায়তা দেয়া হলেও তা তাদের পরিবারগুলোর দুই মাস ধরে ভরণপোষণের জন্য যথেষ্ট নয়। ফলে অনেকেই লুকিয়ে ঝুঁকি নিয়ে মাছ ধরার চেষ্টা করে।
তিনি জানান, এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী এই জাটকা কেনে। চারদিকে অনেকগুলো জেলা থাকায় চাঁদপুর বা কোন একটি জেলার স্থানীয় প্রশাসনও এসব ঠেকাতে শক্ত ভূমিকা রাখতে পারছে না। শুধু নৌ পুলিশ, মাঝে মাঝে ম্যাজিস্ট্রেট নদীতে অভিযান চালাচ্ছে, কিন্তু একজনকে ধরলে অন্যরা পালিয়ে যায়। পরে তারা আবার অন্য জায়গায় জাল ফেলে। এসব কারণে জাটকা নিধন পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না।
চাঁদপুরের একজন জেলে বিবিসি বাংলাকে বলছেন, 'অভয়াশ্রম বলা হলেও, সন্ধ্যার পরে আর সেটা থাকে না। অসংখ্য জেলে নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে নদীতে নেমে যায়। তারা পুলিশ, প্রশাসন, স্থানীয় চেয়ারম্যান, নেতাদের ম্যানেজ করেই অবৈধভাবে জাটকা ধরছে।''
তবে এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ওয়াহিদা হক এই সমস্যা সমাধানে জেলে, ক্রেতা-বিক্রেতা, সবার সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
তিনি বলছেন, ''সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, তাতে এর মধ্যেই অনেক সুফল পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু যেটুকু অনিয়ম হচ্ছে, সেটা বন্ধে জেলে, ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে, যাতে তারা এর কুফল বুঝতে পারেন। সেই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা থাকার সময় জেলেদের জন্য বিকল্প কাজের ব্যবস্থা করা যেতে পারে, যাতে তারা লোভের বশবর্তী হয়েও মাছ শিকার করতে না যান।''