এডিটার'স মেইলবক্স: বাক স্বাধীনতা, নারীর পিরিয়ড আর ভাস্কর্য বিতর্ক নিয়ে প্রশ্ন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগ্রামের ভাস্কর্য

ছবির উৎস, NurPhoto

ছবির ক্যাপশান, মানব প্রতিকৃতিসহ ভাস্কর্য বাংলাদেশে বিরল নয়।
    • Author, সাবির মুস্তাফা
    • Role, সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা
  • Published

চলতি সপ্তাহে চলমান কয়েকটি বিষয় নিয়ে চিঠি এসেছে এবং আমাদের অনুষ্ঠান নিয়ে কিছু পর্যবেক্ষণ এবং অভিযোগও এসেছে। চলমান ঘটনাবলির একটি হচ্ছে, বাংলাদেশে শেখ মুজিবের ভাস্কর্য ঘিরে বিতর্ক। আওয়ামী লীগ সরকার এবং কিছু ইসলামপন্থী সংগঠন।ন ক্রমশ মুখোমুখি অবস্থানের দিকে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।

এ'বিষয়ে লিখেছেন ঝিনাইদহ থেকে কাজী সাঈদ:

''হেফাজতে ইসলাম-এর নেতা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেছেন, ''কেউ যদি আমার আব্বার ভাস্কর্য স্থাপন করে, সর্বপ্রথম আমি আমার আব্বার ভাস্কর্যকে ছিঁড়ে, টেনে-হিঁচড়ে ফেলে দেব"। অন্য আরেকজন নেতা বলেছেন ''ভাস্কর্য নির্মাণ পরিকল্পনা থেকে সরে না দাঁড়ালে তিনি আরেকটি শাপলা চত্বরের ঘটনা ঘটাবেন এবং ওই ভাস্কর্য ছুঁড়ে ফেলবেন''।

''বোঝাই যাচ্ছে সরকারও এ বিষয়টি নিয়ে স্বস্তিতে নেই। উত্তপ্ত পরিস্থিতি বা শাপলা চত্বরের ঘটনা আবারো প্রাণহানি ঘটাতে পারে, সেটা বলাই বাহুল্য। যারা ভাস্কর্য নিয়ে বিরোধিতা করছেন তারা নিশ্চয়ই জানেন বাংলাদেশে ভাস্কর্য এটাই প্রথম না, অনেক আগে থেকেই চলে আসছে। ভাস্কর্য বিরোধীরা যেমন বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করবেন, তেমন ভাবে সরকারও এমন স্পর্শকাতর বিষয়টিকে সাবধানে সামাল দিবে বলেই প্রত্যাশা করছি। ''

রাজনীতিতে সমঝোতা বা আপোষ করতেই হয়। কিন্তু এখানে বিষয়টা মনে হচ্ছে আরো জটিল। যারা ভাস্কর্যর বিরোধিতা করছেন, তারা তাদের বিরোধিতাকে ধর্মীয় ভিত্তি দিয়েছেন। আপোষের জায়গাটা সেখানে ক্ষীণ হয়ে আসে। সরকারের পক্ষেও আপোষের রাস্তা প্রায় বন্ধ। হাই কোর্টের সামনে থেকে ভাস্কর্য সরানোর দাবিতে সরকার আপোষ করেছিল। কিন্তু শেখ মুজিবের ভাস্কর্য সরানোর দাবি মানা কি শেখ হাসিনার পক্ষে আদৌ সম্ভব?

তাছাড়া, আজ যদি মুজিবের ভাস্কর্য নির্মাণ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু কী হবে? আর দাবি মানা না হলে নতুন শাপলা চত্বরের যে হুমকি ইসলামপন্থীরা দিয়েছে তা মোকাবেলা করার রাজনৈতিক ইচ্ছা কি সরকারের আছে? এখানে অনেক প্রশ্ন আছে, এবং আপনার মত আমরাও উত্তরের অপেক্ষায় আছি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার শিক্ষকের মুক্তির দাবীতে বিক্ষোভ, ১৫-০৬-২০২০।

ছবির উৎস, SOPA Images

ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন মুক্তচিন্তা আর বাক স্বাধীনতার অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে?

যে আরেকটি বিষয়কে চলমান ইস্যু অবশ্যই বলা যায় সেটা হল বাক স্বাধীনতার বিষয়। এখানে বিবিসির বাক স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন ডিপার্টমেন্ট থেকে খন্দকার আবু বকর সিদ্দিক :

''বাক স্বাধীনতা কী? একটি স্বাধীন দেশের অধিবাসী কতটুকু কথা বলবে আর কতটুকু বলবে না এর জন্য যদি আইন করা হয়, তাহলে এটাকে স্বাধীনতা বলা যাবে কি না? বিবিসি বাংলার কাছে প্রশ্ন, আপনারা বাংলাদেশের সংবাদ সংগ্রাহক হিসাবে কতটা স্বাধীনতা ভোগ করেন? আপনারা বাংলাদেশের এখন যে অবস্থা, ঠিক এখানে দাঁড়িয়ে ভবিষ্যতের কোন বাংলাদেশ দেখতে পান।

''আজ আমার বয়স ২৫ বছর, আমি যতদিন থেকে বুঝি এদেশ কখনো গণতন্ত্রের স্বাদ পায়নি। যখন যিনি ক্ষমতায় এসেছেন নিজের মতো দেশ পরিচালনা করছেন, এখানে আমার স্বাধীনতা কোথায়? আমার মনে লক্ষ লক্ষ প্রশ্ন ঘুরে, কিন্তু শেয়ার করার উপযুক্ত মানুষ পাইনা। সবাই লিমিটেশন নামক ব্যাধিতে ভীষণ ভীষণ ভাবে আক্রান্ত। আমি নিজেকে কোন লিমিটে আবদ্ধ করতে চাইনা, স্বাধীন হতে চাই সম্পূর্ণ স্বাধীন।''

ভারতের চেন্নাই শহরে প্রতিবাদ।

ছবির উৎস, Pradeep Kumar / EyeEm

ছবির ক্যাপশান, মুক্ত চিন্তা এবং বাক স্বাধীনতার জন্য অনেক দেশেই মানুষ সংগ্রাম করে যাচ্ছে।

খুব জটিল প্রশ্ন করেছেন মি. সিদ্দিক। হয়তো এক সময় ছিল যখন মানুষ স্বাধীন ভাবে চলা-ফেরা করতো, যা খুশি করতো। কিন্তু মানুষ ক্রমশ নিজেকে একটি গোছানো সমাজ, জাতি, রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। সেখানে ব্যক্তি স্বাধীনতার বিরাট অংশ বিসর্জন দিতে হয়েছে বৃহত্তর গোষ্ঠী স্বার্থে। আইন-কানুন করা হয়েছে সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে। সেজন্য মানুষ তাদের স্বাধীনতার ওপর অনেক নিয়ন্ত্রণ মেনে নিয়েছে, কিন্তু বাক স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ অনেকেই মানতে পারেন না, এবং এই মৌলিক অধিকারের জন্য সংগ্রাম করতে হচ্ছে। মুক্ত চিন্তা এবং বাক স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ বা আইন দিয়ে নিয়ন্ত্রণ, একটি অসহিষ্ণু রাষ্ট্র ব্যবস্থার লক্ষণ বলেই আমার মনে হয়।

আর বিবিসির কথা যদি বলেন, আমুমাদের কিন্তু অনেক বিষয়ের দিকে খেয়াল রেখেই কাজ করতে হয়। আমরা স্বাধীনতা ভোগ করি ঠিকই কিন্তু তার সাথে দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করতে হয়।

নারীর হাইজিন এবং স্যানিটারি সামগ্রী অনেকের নাগালের বাইরে।

ছবির উৎস, Carol Yepes

ছবির ক্যাপশান, নারীর হাইজিন এবং স্যানিটারি সামগ্রী অনেকের নাগালের বাইরে।

এবার আসি চলমান আরেকটি বিষয়ে, শুধু পার্থক্য হল এই বিষয় চলমান হলেও তা নিয়ে কথা-বার্তা খুবই কম। এটা নারীদের স্বাস্থ্যগত বিষয় সেজন্যই হয়তো পুরুষতান্ত্রিক সমাজ সেটাকে গুরুত্ব দিতে চায় না। যাই হোক, পিরিয়ড এবং স্যানিটারি সামগ্রী নিয়ে লিখেছেন টাঙ্গাইলের সরকারী ম্যাটস থেকে বিলকিছ আক্তার:

''একজন নারী প্রথম ঋতুমতী হওয়ার মানে হল সে পৃথিবীতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করার জন্য উপযুক্ত। এটি প্রকৃতিগত বিষয়। তবে এটি নিয়ে খোলাখুলিভাবে খুব কম মেয়েই কথা বলতে পারে। এটি নিয়ে কথা বলতে চাইলে, যে কেউ কোনো না কোনো খারাপ মন্তব্যের তোপে পড়ে চুপ হতে বাধ্য হয়, আমি নিজেও এমন পরিস্থিতিতে পড়েছি। সম্প্রতি এক জরিপে দেখলাম, দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৯৪.১ শতাংশ নারী এখনো মাসিক ব্যবস্থাপনার বাইরে।

''পিরিয়ডের সময়টাতে তারা প্যাডের পরিবর্তে কাপড় ব্যবহার করতে বাধ্য হয়, যার ফলে ইনফেকশনের আশঙ্কা দেখা দেয়। স্যানিটারি ন্যাপকিন স্বাস্থ্যকর হলেও এর মূল্য জনসাধারণের ক্রয়সীমার বাইরে। বর্তমানে বিভিন্ন সিন্ডিকেটের কারণে প্যাডের শোষণক্ষমতার ওপর নির্ভর করে অনেক কোম্পানি দাম নির্ধারণ করে থাকে। তাই আমি দাবি জানাচ্ছি, মেয়েদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা চিন্তা করে অবিলম্বে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উচিত সবাই যাতে সুলভ মূল্যে প্যাড ক্রয় করতে পারে সেদিকে দৃষ্টি দেওয়া।''

আপনি হয়তো খবরে দেখেছেন মিস আক্তার, ব্রিটেনের অঙ্গরাজ্য স্কটল্যান্ড সম্প্রতি আইন জারি করেছে যার ফলে নারীরা সকল স্যানিটারি সামগ্রী বিনামূল্যে পাবেন। উন্নত বিশ্বেও অনেক নারী আছেন যারা স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি প্যাড এবং অন্যান্য সামগ্রী কিনতে পারেন না। বাংলাদেশেও সরকার যদি মাসিকের বিষয়টা জরুরী স্বাস্থ্য বিষয় হিসেবে গণ্য করে অন্তত গ্রামাঞ্চলে এবং শহরের বস্তিগুলোতে বিনা মূল্যে স্যানিটারি সামগ্রী বিতরণ করার কার্যক্রম শুরু করতো, তাহলে লক্ষ লক্ষ নারী উপকৃত হতেন।

ঢাকায় ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে অভ্যর্থনা জানাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ০২-০২-২০১৭।

ছবির উৎস, Anadolu Agency

ছবির ক্যাপশান, দ্বি-রাষ্ট্র তত্ত্বের প্রতি সমর্থন: ঢাকায় ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে অভ্যর্থনা জানাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এবারে ভিন্ন প্রসঙ্গে যাই। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে লিখেছেন ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামী উদ্দিন শ্যামল:

''মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক মুসলিম দেশ যখন ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ইসরায়েল বিরোধী ১৩টি দেশকে ভিসা দেয়ার ব্যাপারে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, সে সময় বাংলাদেশ ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও দ্বি-রাষ্ট্র তত্ত্বের প্রতি সংহতির কথা জানালো। যদিও বাংলাদেশের এ অবস্থান স্বাধীনতার শুরু থেকেই অব্যাহত আছে, তবুও এই সময় বিষয়টিকে কি ইসরায়েল বা সংযুক্ত আরব আমিরাত কিংবা সৌদি আরব অন্যভাবে দেখতে পারে?

আমরা জানি যে, সংযুক্ত আরব আমিরাত কিংবা সৌদি আরবে বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ শ্রমিক অভিবাসী কাজ করছে। তাছাড়া,বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন যে ভিসার প্রতি বিধিনিষেধ আরোপ করা ১৩টি দেশ কোন না কোনভাবে ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্কের বিরোধী। তাহলে কি এই বিধিনিষেধ কোন না কোন ভাবে বাংলাদেশের প্রতিও সংযুক্ত আরব আমিরাত কিংবা সৌদি আরবের আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে?''

ফিলিস্তিন সম্পর্কে বাংলাদেশের অবস্থান সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরব খুব ভাল ভাবেই জানে মি. শামীম উদ্দিন। সেটা আপত্তিকর হলে এই ১৩টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নামও থাকতো। আমার মনে হয় আমিরাতের এই সিদ্ধান্তের পেছনে নিরাপত্তার বিষয়টি মুখ্য ছিল। বাংলাদেশ থেকে সেরকম কোন নিরাপত্তা হুমকির আশংকা আমিরাত করছে না বলেই মনে হয়। ফিলিস্তিনের পক্ষে রাজনৈতিক অবস্থানে অনড় থাকার জন্য বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবার সম্ভাবনা কম বলেই মনে হচ্ছে।

এই আগরতলা স্টেশন থেকেই ট্রেনে চাপেন রোহিঙ্গারা

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা স্টেশন থেকে ট্রেনে চাপেন এক দল রোহিঙ্গা।

সম্প্রতি একদল রোহিঙ্গা ভারতে আটক হবার ঘটনা নিয়ে বিবিসি বাংলায় যে রিপোর্ট হয়, তা নিয়ে ঘোরতর আপত্তি তুলে লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:

''বিবিসি বাংলার ফেসবুক পাতায় পহেলা ডিসেম্বর প্রতিবেদনটি পড়ে একটু বিস্মিত হলাম।প্রতিবেদনটিতে বলা হল ভারতের পূর্বোত্তর সীমান্ত রেলের প্রধান মুখপাত্র শুভানন চন্দা বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, "কীভাবে তারা এদেশে এসেছেন আমাদের জানা নেই - তবে ধরা পড়া মাত্রই আমরা জিআরপি-র হাতে তাদের তুলে দিয়েছি। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের অধীন ওই সংস্থাই এখন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে।"

''আবার প্রতিবেদনটির আরেক জায়গায় বলা হল, "বিবিসি অবশ্য জানতে পেরেছে, জেরার মুখে ওই রোহিঙ্গারা স্বীকার করেছে তারা মাত্র গত সপ্তাহেই সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকেছিলেন এবং ভারতে ঢোকার পরদিনই তারা আগরতলা রাজধানীতে চাপেন।"

''প্রশ্ন হল তারা যদি ভারতের পূর্বোত্তর সীমান্ত রেলের হাতে আটকই হন এবং তারাও সঠিকভাবে জানেননা, এরা কীভাবে ভারতে ঢুকেছিল! তবে জেরাটা করলো কে? আর ভারতের পূর্বোত্তর সীমান্ত রেল বিভাগই যেখানে জানে না, তারা কীভাবে কোন জায়গা দিয়ে ভারতে ঢুকেছে, সেখানে বিবিসি কীভাবে এটা নিশ্চিত হল এরা কক্সবাজার রোহিঙ্গা শিবির থেকে আগত? এরা তো মিয়ানমার থেকেও অনুপ্রবেশ করতে পারে, সে সম্ভাবনা কি উড়িয়ে দেয়া যায়? আমার তো মনে হয়, বাংলাদেশকে জড়িয়ে এটা বিবিসির একটা মিথ্যা প্রোপাগান্ডা।''

আপনি নিশ্চয়ই জানেন মি. রহমান, বাংলাদেশ থেকে শত শত রোহিঙ্গা অতীতে সৌদি আরব গিয়েছে, মানব পাচারকারীদের সহায়তায় মালয়েশিয়া গিয়েছে, ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। তাহলে পাশের দেশ ভারতে যাওয়াটা অস্বাভাবিক হবে কেন? এই ঘটনা নিয়ে আমারা প্রতিবেদন করেছি কারণ ত্রিপুরা হয়ে যাওয়ার ঘটনা বিরল। তারা কীভাবে আগরতলা পৌঁছে ট্রেনের টিকেট কাটলো, সেটা ভারতের পূর্বোত্তর সীমান্ত রেলে জানার কথা না। প্রতিবেদনেই আছে এবং আপনিও সেটা উল্লেখ করেছেন, রেল কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গাদের গভর্নমেন্ট রেলওয়ে পুলিশ বা জিআরপি-র হাতে তুলে দেয়, এবং জেরাটা তারাই করে। বিবিসি তাদের কাছ থেকেই জানতে পারে কীভাবে তারা ভারতে প্রবেশ করে। কাজেই, প্রতিবেদনটি সঠিক এবং তথ্য-নির্ভর। কোন দেশের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা না।

ফাইযার এবং বায়োনটেক কোম্পানির টিকা ব্রিটেনে অনুমোদন পেয়েছে এবং আগামী সপ্তাহে তা বিতরণ শুরু হবে।

ছবির উৎস, SOPA Images

ছবির ক্যাপশান, ফাইযার এবং বায়োনটেক কোম্পানির টিকা ব্রিটেনে অনুমোদন পেয়েছে এবং আগামী সপ্তাহে তা বিতরণ শুরু হবে।

এবারে আসি করোনাভাইরাস প্রসঙ্গে। এই মহামারি নিয়ে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন এক সাথে ছুঁড়ে দিয়েছেন খুলনার কপিলমুনি থেকে মোহাম্মদ শিমুল বিল্লাল বাপ্পি:

''করোনা ভাইরাস মহামারিতে সারা দুনিয়া বিপর্যস্ত হয়েছে। শীতের আবহাওয়া বইতে শুরু করেছে বাংলাদেশে। আমরা গণমাধ্যমে জানছি শীতে করোনা ভাইরাসের জীবাণু সংক্রমিত হয় বেশি। বিষয়টি কি বিজ্ঞানসম্মত ভাবে সত্য ? এগারো মাস হতে চললো করোনাভাইরাস পৃথিবীতে হানা দিয়েছে। এই সময়ের মধ্য কোন দেশ করোনা প্রতিষেধক টিকা আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছে? একজন মানুষ কে কত ডোজ করোনা প্রতিষেধক টিকা নেওয়া লাগবে?''

আপনার প্রশ্নের জবাব এক এক করে দেব মি. শিমুল বিল্লাল। প্রথমে, বিজ্ঞানীরা সব সময়ই বলে এসেছেন, শীতকালে করোনাভাইরাসের প্রকোপ আরো বাড়বে এবং তাই হয়েছে। কাজেই কথাটা একেবারে সত্য। টিকা নিয়ে কাজ বেশ কয়েকটি দেশে অনেক দূর এগিয়েছে, যেমন রাশিয়া, ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি এবং চীন। এই চারটির মধ্যে একটি, ফাইযার এবং বায়োনটেক কোম্পানির টিকা ব্রিটেনে অনুমোদন পেয়েছে এবং আগামী সপ্তাহে তা বিতরণ শুরু হবে। অন্যদিকে, রাশিয়া তাদের স্পুটনিক-ভি ভ্যাক্সিন আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ জনগণের মাঝে বিতরণ শুরু করবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। যতগুলো টিকা বাজারে আসার অপেক্ষায় আছে, সব গুলোই দুবার নিতে হবে, তিন থেকে চার সপ্তাহের ব্যবধানে।

সব কিছু ঠিক থাকলে জানুয়ারির শেষ বা ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে সিরাম ইন্সটিটিউট থেকে করোনাভাইরাসের এই টিকাটি বাংলাদেশ পাবে বলে আশা করছে।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, সব কিছু ঠিক থাকলে জানুয়ারির শেষ বা ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে সিরাম ইন্সটিটিউট থেকে করোনাভাইরাসের এই টিকাটি বাংলাদেশ পাবে বলে আশা করছে।

খুলনা থেকেই করোনাভাইরাস নিয়ে আরেকটি চিঠি, লিখেছেন পাইকগাছা থেকে আরিফুল ইসলাম:

'' বাংলাদেশ সরকার অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং অ্যাস্ট্রাজেনেকা কোম্পানির টিকার ৩ কোটি ডোজ ভারতের টিকা উৎপাদন কোম্পানি সিরাম ইন্সটিটিউট এর কাছ থেকে ক্রয় করে বিনামূল্যে বিতরণ করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা খুবই ভালো ব্যাপার। কিন্তু এই তিন কোটি ডোজ টিকা দেওয়ার পর মজুদ ও অনিয়ম প্রতিরোধ করে বাংলাদেশে প্রতিটি নাগরিকের ক্রয় ক্ষমতার নাগালে যেন থাকে সেটাই আশা করি।''

সবাই আশা করবেন সরকার যেন সবাইকে বিনা মূল্যে করোনাভাইরাস ভ্যাক্সিন দিতে পারে। মধ্য এবং উচ্চবিত্তদের অনেকে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা থেকে না নিয়ে হয়তো প্রাইভেট হাসপাতালে গিয়ে টিকা নেবেন। কিন্তু বিশেষ করে যাতে গ্রামের মানুষ এই টিকা বিনা মূল্যে পেতে পারেন সেদিকেই সরকার মনোযোগ দেবে বলে আমার ধারণা।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের
ছবির ক্যাপশান, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের

আমাদের অনুষ্ঠানে একটি ভুল লক্ষ্য করেছেন জানিয়ে লিখেছেন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থেকে শফিকুল ইসলাম:

''গত ২৮শে নভেম্বর রেডিওর সান্ধ্য অধিবেশন প্রবাহতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, হেফাজতে ইসলামী দলের এক নেতার ভাস্কর্য বিরোধী বক্তব্যে নিয়ে নিজের দলের অবস্থান সম্পর্কে কথা বলেন। কিন্তু আমার মনে হল প্রতিবেদক প্রথমে সাধারণ সম্পাদকের নাম না বলে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের নাম উচ্চারণ করেন, কিন্তু ওবায়দুল কাদেরের কণ্ঠ শোনানো হল। এটি কি বিবিসি বাংলার ভুল নাকি আমার শুনতে ভুল হয়েছে?''

এটি আমাদেরই ভুল মি. ইসলাম। প্রতিবেদন সাজাতে গলদ ছিল এবং মনোযোগ দিয়ে এডিটিং করা হয়নি। এই গাফিলতির জন্য আমরা অত্যন্ত দু:খিত।

অনুষ্ঠান বিভ্রাট নিয়ে আরেকটি চিঠি, পাঠিয়েছেন সিলেট থেকে শেখ আলী হুসেন:

''হ্যালো বিবিসি বাংলা। আমি আপনাদের অনুষ্ঠান শুনছি ১৫ বছর যাবত। সিলেটে আজ ২৯শে নভেম্বর সকাল সাড়ে সাতটার অনুষ্ঠানে বাংলার পরিবর্তে ইংরেজি অনুষ্ঠান শোনা গেল পুরো আধ ঘণ্টা যাবত। এ সমস্যাটি এর আগেও বহুবার হয়েছে। গত দুই তিন দিনের ভিতরে এরকম দু'বার হল। বাংলাদেশের বড় ১০ টি শহর আপনারা অনুষ্ঠান সম্প্রচার করেন। সম্প্রচারের সময় আপনারা কি tune-in করে দেখেন না অনুষ্ঠান ঠিকমতো প্রচারিত হচ্ছে কিনা ? বৃহত্তর সিলেটে প্রায় এক দেড় কোটি মানুষের বসবাস। আশা করছি আপনারা ব্যবস্থা নেবেন। ''

এখানে ব্যবস্থা নেয়ার কিছু নেই মি. হুসেন। সকালে বিবিসি বাংলার কোন অধিবেশনই নেই, শুনবেন কী করে? ভোর সাড়ে ছ'টার অধিবেশন প্রভাতী ২০১৮ সালে বন্ধ হয়ে যায়। আর সকাল সাড়ে সাতটার অধিবেশন প্রত্যুষা বন্ধ হয় এ'বছর জানুয়ারি মাসের ১১ তারিখে। কাজেই, প্রায় এক বছরের হতে গেল সকালে বিবিসি বাংলার কোন অনুষ্ঠান নেই এবং এই দুটো সময়েই বিবিসির ইংরেজি অনুষ্ঠান প্রচারিত হচ্ছে দশটি এফ এম কেন্দ্র থেকে। এবার বলেন, আপনি গত দু'বছর কোথায় ছিলেন? আমাদের অনুষ্ঠান কি একদমই শোনেন না, যে টেরই পেলেন না সকালে আমাদের আর কোন অনুষ্ঠান নেই?

বাংলাদেশের দৌলতদিয়ার পতিতালয়ে যৌনকর্মীদের বাচ্চাদের জন্য স্কুলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ছবির উৎস, Lisa Wiltse

ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশের দৌলতদিয়ার পতিতালয়ে যৌনকর্মীদের বাচ্চাদের জন্য স্কুলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এবারে আমাদের একটি অনুষ্ঠানের জের ধরে চিঠি তবে এখানে বিভ্রান্তিকর কিছু নেই। বিবিসির ১০০ নারী অনুষ্ঠানমালায় প্রাক্তন যৌন কর্মী রিনা আক্তারের গল্পের প্রেক্ষিতে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:

''আমার উপজেলার বাণীশান্তাতে একটি যৌনপল্লি রয়েছে। এখানকার যৌন কর্মীরা একদিকে মানবেতর জীবনযাপন করছে অন্য দিকে এদের সন্তানদের অধিকাংশই রয়েছে লেখাপড়ার বাইরে। সম্প্রতি দাকোপ উপজেলা শিক্ষা অফিসারের উদ্যোগে বাণীশান্তা যৌন পল্লির নিকটে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চত্বরে যৌন কর্মীদের সন্তানদের জন্য তৈরি হচ্ছে আবাসিক হোস্টেল। এ হোস্টেলে রাখা হবে যৌন কর্মীদের সন্তানদের। শিক্ষার মূল স্রোত ধারায় ফিরিয়ে আনতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিবিসি বাংলাকে আমি বিশেষ ভাবে অনুরোধ করবো, সম্ভব হলে এ বিষয়টিতে বিবিসি বাংলার টেলিভিশন অনুষ্ঠানে একটি প্রতিবেদন প্রচার করার জন্য।''

আপনার প্রস্তাবের জন্য ধন্যবাদ মি. সরদার। আমরা সব সময় এ'ধরণের গল্প খুঁজি, যেখানে অন্ধকারের মাঝে একটু হলেও আলোর আভা দেখা যায়।

ভিডিওর ক্যাপশান, মাঠ থেকে বাদ পড়ে এখন নিজেই খেলোয়াড় তৈরি করছেন বীথি

তবে নারী নয়, পুরুষদের নিয়ে অনুষ্ঠান শুনতে চান যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল থেকে মোবারক হুসাইন:

''আমি অধীর আগ্রহে ছিলাম ১৯শে নভেম্বর বিশ্ব পুরুষ দিবস সম্পর্কে আপনাদের প্রতিবেদনের জন্য। কিন্তু আমি হতাশ হলাম কোনো প্রতিবেদন পেলাম না। এখানে কি আমি ভুল করেছি নাকি আসলেই আপনারা কোনো প্রতিবেদন দেননি? নারীদের মূল্যায়ন করতে গিয়ে আপনারা পুরুষের উপর একেবারে বেশি নির্যাতন করে ফেলছেন। ১০০ নারী বিবিসির কাছে জায়গা পায় কিন্তু ১০ জন পুরুষ জায়গা পায়না। কেন এতটা বৈষম্য ? আশা করি বিশ্ব পুরুষ দিবস চলে গেলেও পুরুষদের কষ্ট পুরুষদের, এই বিষয়ে একটি প্রতিবেদন আপনারা অচিরেই দিবেন''

আপনার বক্তব্য আমি ঠিক মানতে পারছি না মি. হুসাইন। পুরুষরা সমাজে অবহেলিত নন, তারা বৈষম্যের শিকার হন না, তারা নির্যাতনের শিকার হন না। ভেবে দেখুন, কয়জন পুরুষ এ্যাসিড আক্রমণের শিকার হয়েছেন? চাকরি বলুন, ব্যবসা বলুন, কৃষিকাজ বলুন, সব জায়গাতেই পুরুষের প্রাধান্য। অন্যদিকে, নারীরা প্রতি নিয়ত বৈষম্যর মুখোমুখি হন, রাস্তা-ঘাটে যৌন আক্রমণের শিকার হন, অফিসে-কারখানায় তাদের হেনস্তা করা হয়। পরিবারের ভেতরেও নারীদের নানা ধরণের অন্যায়-অত্যাচারের শিকার হতে হয়। সেজন্য বিশেষভাবে নারীদের নিয়ে অনুষ্ঠান করা হয়, যাতে পুরুষরা নারীদের সম্মান দেয়, মর্যাদা দেয়, তাদের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়।

সব শেষে, আমাদের ফোন-ইন অনুষ্ঠান নিয়ে অভিযোগ করে লিখেছেন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি থেকে ফরিদুল হক:

''বিগত কয়েকদিন ধরে ফোন-ইন এর বিষয়বস্তু গুলো লক্ষ্য করছিলাম আর সেখানে যতটুকু দেখলাম তাতে মনে হলো বাংলাদেশের কিংবা বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলোকে বাদ দিয়ে কিছু অন্যরকম বিষয়ের উপর ফোন-ইনের বিষয় ধার্য করা হচ্ছে যা আমার কাছে একটু নিম্নমানের বিষয় বলে মনে হচ্ছে।যেখানে বাংলাদেশের রাজনীতি,লকডাউন,কিংবা অটো পাশ অথবা সমসাময়িক বেশ বিতর্কিত কিছু বিষয় আছে যা নিয়ে সবার মনে ইতিবাচক অথবা নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হচ্ছে, এরকম বিষয়গুলোকে বাদ দিয়ে গুরুত্বহীন বিষয়গুলো নিয়ে ফোন-ইন করাটা বিবিসির একটি আনুষ্ঠানিক দুর্বলতা বলে আমি মনে করছি।''

আপনি যেসব বিষয়ের কথা বলছেন মি. হক, যেমন লকডাউন, অটো পাশ ইত্যাদি, সেগুলো নিয়ে ফোন-ইন ইতোমধ্যেই হয়েছে। আর বাংলাদেশ বা ভারতে এখন লকডাউন বলতে কিছু নেই, কাজেই লকডাউন ফোন-ইনের বিষয় হতে পারেনা। প্রতি সপ্তাহে সোমবারের ফোন-ইনটি করোনাভাইরাসের জন্য নির্দিষ্ট করে দেয়া আছে। বুধবার থাকে শুধু স্বাস্থ্য বিষয়ে ফোন-ইন। বাকি থাকলো শনিবার। এখানে আপনি কোন বিষয়গুলোকে নিম্নমানের মনে করছেন তা কিন্তু বলেন নি। আরেকটু নির্দিষ্ট করে বললে আমার পক্ষে উত্তর দেয়া সম্ভব হবে।

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:

শাহিন তালুকদার, মৌকরন, পটুয়াখালী।

মোহাম্মদ লিয়াকত আলী, রংপুর সদর।

মোহাম্মদ এনামুল হক, খুলনা।

দীপক চক্রবর্তী, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়।

খ ম জুলফিকার, মৌলভীবাজার।

দেলোয়ার হোসেন, ঢাকা।