ধর্ম, আইন আর সহনশীলতা নিয়ে বিতর্ক, ইউএনও হামলা নিয়ে প্রশ্ন

ছবির উৎস, District Web Portal Bangladesh
- Author, সাবির মুস্তাফা
- Role, সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা
- Published
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের দিনাজপুরে একটি নৃশংস আক্রমণের ঘটনা ঘটে যা নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় একজন নারী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বাসায় ঢুকে তাঁকে এবং তাঁর বাবাকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় অনেকেই উদ্বিগ্ন।
সেই ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করে লিখেছেন ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:
''দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসায় ঢুকে দুর্বৃত্তরা হামলা করে তাকে এবং তার বাবাকে কুপিয়ে আহত করেছে জেনে বিস্মিত হইনি। এও বলবো না একজন ইউএনও'র সরকারি বাসায় ঢুকে দুর্বৃত্তরা হামলা যদি করতে পারে তাহলে আমরা সাধারণ জনগণ কোথায় নিরাপদ? কেননা, আমাদের দেশের বিচার ব্যবস্থা যথাযথ নয়।
''অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হয়না, দীর্ঘসুত্রিতা রয়েছে প্রত্যেকটা বিচারে, দুর্নীতির কারণে অপরাধীরা ছাড়া পেয়ে যায়, যার কারণে এসব অপরাধ ঘটাতে কেউ ভয় করে না। তবে এ কথা বলে এই অপরাধকে ঢাকা দিচ্ছিনা। বলতে চাচ্ছি- বিচার ব্যবস্থা স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত ও দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হলে নিশ্চয় অপরাধের মাত্রা কমে যেত।''
আপনি যা বলছেন তার সাথে অনেকেই একমত হবেন মি. শামীম উদ্দিন। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অদক্ষতা এবং দুর্নীতি আর বিচার ব্যবস্থার দুর্বলতার জন্য অনেক অপরাধী বিচারের মুখোমুখি হয় না। যার ফলে অনেকে ভাবতে পারেন তারা অপরাধ করে পার পেয়ে যাবেন, এবং এরকম নৃশংস ঘটনা ঘটাতেও দ্বিধা বোধ করেন না। দেশে যতদিন আইনের শাসন পাকাপোক্ত ভাবে প্রতিষ্ঠিত না হচ্ছে, তত দিন অপরাধ প্রবণতাও কমানো সম্ভব হবে না।

ছবির উৎস, Valery Sharifulin
গত সপ্তাহে শামীম উদ্দিন শ্যামলের চিঠির জবাবে আমি যা বলেছিলাম, তাকে হাস্যকর বলে আখ্যায়িত করে ভারত থেকে লিখেছেন অর্ক রায়:
''বিবিসি বাংলার এডিটার'স মেইল বক্সে গত ২৮শে অগাস্ট শামীম উদ্দিন শ্যামল নামক একজন ব্যক্তি ভারত এবং তুরস্কের তুলনা টেনে একটি মন্তব্য করে তুরস্ককে উগ্র মুসলিম রাষ্ট্র বলেছিলেন। কিন্তু বিবিসি তার প্রতিবাদ করে যেভাবে সেই ব্যক্তিকে জবাব দিল আমি রীতিমত অবাক হলাম।
''আমরা সবাই জানি এরদোয়ান আসার পর তুরস্ক কীভাবে একটি উগ্র মুসলিম রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। কীভাবে তুরস্কের সহায়তায় হাজার হাজার মুসলিম তরুণ আইএসে যোগ দিয়েছে। ইউরোপ থেকে তরুণরা আইএসে যোগ দেওয়ার জন্য তুরস্কে এসে সেখান থেকে সিরিয়ায় পাড়ি দিয়েছিল। এসব কিছুতে তুরস্কের সহযোগিতা না থাকলে এভাবে এত তরুণ সিরিয়া পাড়ি দিতে পারত না। অথচ বিবিসি বাংলা নির্লজ্জ ভাবে তুরস্ককে অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র বলে অভিহিত করল। এতে ভীষণ হাসিও পেল।''
শামীম উদ্দিন শ্যামলের কথার প্রতিবাদ করা তো দূরে থাক মি. রায়, আমি কোথাও তুরস্ককে অসাম্প্রদায়িক বলি নি। আমার উত্তর ছিল ছোট এবং বস্তুনিষ্ঠ। এই ছিল আমার জবাব: ''তুরস্কের সরকার হায়া সোফিয়াকে মসজিদ বানালেও, ঐতিহাসিক স্থাপনাটি কিন্তু ভেঙ্গে ফেলা হয়নি। কিন্তু তারপরও অনেকের আশঙ্কা প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান তুরস্কের ধর্মনিরপেক্ষ নীতি থেকে সরে আসবেন, যদিও ব্যাপারটা খুব সহজ হবে না। আর ধর্মনিরপেক্ষ ভারতে গণতন্ত্র থাকা সত্ত্বেও সংখ্যালঘু মুসলিমরা যেভাবে কোণঠাসা হয়ে যাচ্ছেন, তাতে সে দেশ ভবিষ্যতে কোন দিকে যাবে তা বলা মুশকিল।''

ছবির উৎস, Valery Sharifulin
এখানে হায়া সোফিয়া না ভাঙ্গার কথা বলেছিলাম কারণ মূল চিঠিতে বাবরি মসজিদের সাথে তুলনা করা হয়েছিল - আর বাবরি মসজিদের পরিণতি কী ছিল তা সবারই জানা আছে। আধুনিক তুরস্ক সাংবিধানিক ভাবে বরাবরই একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র, ঠিক যেমন ভারতও একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। কিন্তু দু'দেশের বর্তমান নেতারা নিজ ধর্মের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন।
ধর্ম সংক্রান্ত আরেকটি চিঠি। গত বুধবার বাংলাদেশের হাই কোর্ট একটি রায়ের মাধ্যমে স্বামীর সকল সম্পত্তির ওপর হিন্দু বিধবা নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। সে বিষয়ে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:
''তিরাশি বছর আগে ১৯৩৭ সালে হিন্দু বিধবা সম্পত্তি আইনে স্বামীর বসত ভিটাতেই কেবল বিধবা নারীদের অধিকার দেওয়া হয়েছিল। এখন হাইকোর্টের এক রায়ের প্রেক্ষাপটে হিন্দু বিধবা নারীদের তার স্বামীর সব সম্পত্তিতে অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। খুব প্রাসঙ্গিক ভাবেই হিন্দু নারীদের তার পিতার সম্পত্তিতে তাদের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে এসেছে।
''বিবিসি বাংলায় প্রচারিত একটি প্রতিবেদন থেকে যেমনটা জানা গেছে, কিছু হিন্দু নেতার বিরোধিতার কারণে পিতার সম্পত্তিতে কন্যার অধিকার নিশ্চিত করা এতো দিনেও সম্ভব হয়ে ওঠেনি। আমি ঠিক জানি না, কেন এসব তথাকথিত নেতারা বিরোধিতা করে চলেছেন? ব্যক্তিগত ভাবে আমি মনে করি, সন্তান হিসেবে ছেলে এবং মেয়ে উভয়েরই পিতা-মাতার সম্পত্তিতে সমান অধিকার থাকা উচিত।''

অধিকার অবশ্যই থাকা উচিত মি. সরদার। কিন্তু এখানে ধর্মের কথা বলে আইন সংস্কারের রাস্তা বার বার বন্ধ করা হচ্ছে। সরকারও চায় না এমন কিছু করতে যাতে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আসে। তবে এখানে আসলেই কতটুকু অনুভূতি কাজ করছে, আর কতটুকু ধর্মকে ব্যবহার করে কিছু নেতা ভিন্ন উদ্দেশ্য হাসিল করছেন, সেটাও বিবেচনা করা উচিত বলে মনে হয়।
ধর্ম সংক্রান্ত আরেকটি বিষয় এই সপ্তাহে খবরে এসেছে, যেটা নিয়ে লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:
''শার্লি এব্দো ফ্রান্সের একটি চরম বিতর্কিত পত্রিকা। পত্রিকাটি স্বাধীন মত প্রকাশের নামে প্রতিষ্ঠান বিরোধী ব্যঙ্গ কার্টুন প্রকাশ করে থাকে এবং তারা ক্যাথলিক ক্রিশ্চিয়ান ও ইহুদী ধর্ম এবং ইসলামের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন প্রকাশ করে দীর্ঘদিন ধরেই নানা সময়ে বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে।
''আসলে মত প্রকাশের স্বাধীনতা মানে এই নয় যে, ইচ্ছেমত সব কিছু করা সম্ভব। ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বিশ্বাস অনেকের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় এবং এটাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা চরম বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়। শার্লি এব্দো পত্রিকাটি ইচ্ছাকৃত ভাবে বিতর্ক তৈরি করে অনেকের লক্ষ্য বস্তুতে পরিণত হয়ে হামলার শিকার হয়েছে। তাদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড চরম ধিক্কৃত ও নিন্দনীয় কাজ। তবে এটাও সত্য, মুসলমানদের জন্য এটা যেমন অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনার, ঠিক তেমনিভাবে এর বিনিময়ে কাউকে হত্যা করা, গাড়ি, বাড়ি ইত্যাদি পুড়িয়ে দেওয়া, দাঙ্গা ও লুটপাট করা কখনো একজন প্রকৃত শান্তিকামী মুসলমানের কাজ নয়। দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিৎ পত্রিকাটির বিতর্কিত কর্মকাণ্ড বন্ধ করা, অন্যদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং বিতর্কিতদের আইনের আওতায় নিয়ে এসে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা।''

ছবির উৎস, Marc Piasecki
বিতর্ক কিন্তু অনেক সময় সেভাবেই হয় মি. রহমান, যেমন, কোনটা ভাল? বাক স্বাধীনতার নামে ধর্মের ব্যঙ্গ করা, নাকি ধর্মের নামে মানুষ খুন করা? ফ্রান্স তার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারা বাক স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে, এমনকি যখন সেটা ধর্মকে ব্যঙ্গ করার জন্য ব্যবহার করা হয়। পশ্চিমা মিডিয়ায় যীশু ক্রিস্ট এবং ক্রিশ্চিয়ান ধর্মকে নিয়ে প্রচুর ব্যঙ্গ করা হয়, কিন্তু তার জন্য কোন ক্রিশ্চান গোষ্ঠী কিন্তু সেই পত্রিকার সাংবাদিকদের খুন করতে আসে না। এটাই হল সহনশীলতার পরিচয়। অনেকে বলতেই পারেন যে, পত্রিকার কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ বা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কথা বললে সেই খুনিদেরই পরোক্ষভাবে সমর্থন করা হয়,কারণ এখানে যারা ভিকটিম, তাদেরকেই দোষারোপ করা হচ্ছে । এখানে প্রয়োজন সহনশীলতা এবং একে অপরের বাক স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা।
এবারে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে লিখেছেন ঝিনাইদহ থেকে কাজী সাঈদ:
''বাংলাদেশে গত ৩১শে জুলাই কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যার পর পরই পুরো বাংলাদেশেই ক্রসফায়ার বা বন্দুক যুদ্ধের ঘটনা আশ্চর্যজনকভাবে কমে এসেছে। সহজেই বোধগম্য, কেন কমে এসেছে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড। মেজর সিনহা মারা যাওয়ার পর এই বিবিসি বাংলারই একটা চিঠিতে আমি বলেছিলাম, সিনহার মৃত্যুর মধ্য দিয়েই এ'ধরনের হত্যাকাণ্ড বন্ধ হোক। আমি আবারও একই কথা বলছি, কেউ দোষী হলে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে, তবে এভাবে না। এটা কোন গণতন্ত্রের ভাষা হতে পারেনা।''

ছবির উৎস, Getty Images
আইনের প্রতি যাদের শ্রদ্ধা আছে, তারা সবাই আপনার সাথে একমত হবেন মি. সাইদ। বিচার ছাড়া কাওকে কোন রকম শাস্তি দেয়া যায় না। সেখানে কথিত অপরাধীকে বিনা বিচারে হত্যা করা তো রীতিমত আরেকটি জঘন্য অপরাধ। সেই অপরাধ প্রবণতা যাতে মেজর সিনহার হত্যাকাণ্ডর মধ্য দিয়ে শেষ হয়, সেটাই অনেকে আশা করবেন।
এবারে ভিন্ন প্রসঙ্গে যাই। বিবিসি বাংলার কর্মীদের প্রতিভা সম্পর্কে একটি প্রশ্ন করে লিখেছেন রংপুরের কাউনিয়া থেকে বিলকিছ আক্তার:
''প্রীতিভাজনেসু আবারও বেতারে ফিরে আসার খবরে সাবির মুস্তাফা সহ মানসী বড়ুয়া আপাকে আমার আগাম শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ। আপনাদের সুরেলা কণ্ঠের জুটি বিগত ৫টি মাস থেকে রেডিওতে মিস করছি। আমার নিজস্ব অভিমত হল, প্রীতিভাজনেসু মিডিয়া অঙ্গনের একটি খুবই জনপ্রিয় অনুষ্ঠান এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানটির সম্পাদক আমার দেখা শ্রেষ্ঠ উপস্থাপক। তবে আমার একটা সরল উপলব্ধি হল, বিবিসি থেকে ইতোপূর্বে যারা বিদায় নিয়েছেন তাদের মত ট্যালেন্ট প্রতিভা হয়তোবা এখন আর তেমনটা চোখে পড়ছে না। এর সুনির্দিষ্ট জবাব বা ব্যাখ্যা বিবিসি বাংলা'র সম্পাদকের কাছে আশা করছি- আমার কৌতূহল মেটাবেন কি?''

আপনাদের কৌতূহল মেটানোর জন্যই তো এই কলাম লেখা হচ্ছে মিস আক্তার। আমাকে এবং মানসী বড়ুয়াকে উপস্থাপক হিসেবে আপনার ভাল লাগে জেনে আমারও ভাল লাগলো, তবে আপনার শেষের প্রশ্নটি একটু জটিল। বিবিসি বাংলায় আগে যারা কাজ করতেন তারা যে প্রতিভাবান ছিলেন তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু তাদের সাথে বর্তমানে যারা কাজ করেন তাদের সরাসরি তুলনা করা উচিত হবে না। কারণ, মিডিয়া জগত পাল্টে গেছে, আমাদের চাহিদা পাল্টে গেছে, কাজেই কী ধরণের মানুষ বিবিসি বাংলার জন্য উপযুক্ত, সে ধারণাও পাল্টে গেছে। কুড়ি বছর আগেও রেডিও ছিল একমাত্র মাধ্যম, অনেক সংবাদ ছিল অনুবাদ-নির্ভর। কিন্তু এখন সবাইকে বিভিন্ন মাধ্যমে কাজ করতে হয় - যেমন, আজ রেডিও, কাল অনলাইন, অন্যদিন ভিডিও প্রডাকশন ইত্যাদি। বর্তমানে যারা কাজ করছেন, তাদের নানাবিধ ট্যালেন্ট আছে এবং বর্তমান সময়ের জন্য তাদের ট্যালেন্টই বিবিসির জন্য উপযুক্ত।
বিলকিছ আক্তারের কথার জের ধরেই পরের চিঠি, লিখেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক:
''গত সপ্তাহে রংপুরের বিলকিছ আক্তারের চিঠির জবাবে প্রীতিভাজনেসু আবারও রেডিওতে ফিরে আসছে ভেবে আনন্দিত হয়েছি! তবে সুনির্দিষ্ট করে দিন-তারিখ জানতে পারলে আরও ভালো লাগতো। যাই হোক, প্রীতিভাজনেসুতে যেন শ্রোতাদের টেলিফোনে সাক্ষাতকার নেয়ার বিষয়টি অব্যাহত রাখা হয়।''
আমাদের পরিকল্পনাটাও সেরকমই মি. ইসলাম। প্রতিটি প্রীতিভাজনেসুতে অন্তত একজন শ্রোতা-পাঠকের মন্তব্য তার নিজ কণ্ঠেই প্রচার করা হবে। তবে অনুষ্ঠানটি কবে ফিরিয়ে আনা হবে সে বিষয়ে এখনো কিছু বলতে পারছি না।
এবারে করোনাভাইরাস নিয়ে একটি চিঠি, লিখেছেন খুলনার কপিলমুনি থেকে মোহাম্মদ শিমুল বিল্লাল বাপ্পি:
''শহর, গ্রাম, নগরে প্রয়োজনে পথ চলতে গিয়ে দেখছি অধিকাংশ মানুষ মাস্ক ব্যাবহার করছেনা, বিনা প্রয়োজনে দূরত্ব বজায় না রেখে চলাচল করছে। অনেক গণ পরিবহনে জীবাণু নাশক ছিটিয়ে নিতে দেখা যাচ্ছে না। আবার বাস ষ্ট্যান্ডে, গণ পরিবহনের অনেক শ্রমিককে দেখা যায় করোনার জন্য কোন সাবধানতা নিচ্ছেন না তারা। আমার মনে হয় জনসাধারণকে এখন করোনার বিরুদ্ধে লড়াই চলানোর জন্য সরকারি নির্দেশ মেনে চলা উচিত। যারা আইন অমান্য করবে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা উচিত।''
আপনি যে অভিযোগ করছেন, সেই একই অভিযোগ অন্যান্য সূত্র থেকেও পাওয়া যাচ্ছে মি. বিল্লাল। এখানে কোন সন্দেহ নেই যে, করোনাভাইরাস মোকাবেলা করতে হলে সবাইকে এক যোগে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। কিন্তু পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে সরকারের নির্দেশনার ওপর অনেকের কোন আস্থা নেই। সরকারকে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে যাতে মানুষ নিজে থেকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলে। নতুবা বড় অঙ্কের জরিমানার ব্যবস্থা করতে হবে। কিছু না করে হাল ছেড়ে দিলে পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যেতে পারে।
পরের চিঠি লিখেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাকামে মাহমুদ চৌধুরী:
''ইদানিং লক্ষ্য করছি বেশ কিছু সংবাদ মাধ্যম বিবিসির সংবাদ হুবহু কপি করে অন্য ডেস্ক, নিজস্ব ডেস্ক ইত্যাদি নামে চালিয়ে দিচ্ছে। এছাড়া বিবিসি বাংলার নাম উল্লেখ করলেও এত ছোট করে করা হয় বা পুরো প্রতিবেদনের মাঝে এমন ভাবে উল্লেখ করা হয় যেন চোখ যায়-যায় না এমন অবস্থা। এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে, বিবিসি বাংলার নাম ভাল ভাবে উল্লেখ করার ক্ষেত্রে কি কোন নীতিমালা প্রণয়ন করা যায় না? আরেকটি বিষয়, বেসরকারি চ্যানেলের যেমন জেলায় জেলায় প্রতিনিধি আছে বিবিসির তেমন নেই। সে সব জেলার সংবাদও অনেক সময় বিবিসিতে দেয়া হয়ে থাকে, এগুলোর সত্যতা আপনারা কিভাবে যাচাই করেন?''
কিছু কিছু ওয়েবসাইট যেভাবে বিবিসি বাংলার থেকে কপি করে হুবহু ছেপে দেয়, সেটা খুবই অনৈতিক এবং সম্ভবত বেআইনিও। বিবিসির নাম ভাল ভাবে বলা বা না বলাটা বিষয় না। তাদের বিবিসির অনুমতি না নিয়ে বিবিসির প্রতিবেদন ছাপানো উচিত না। আর নীতিমালা করবে কে? আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নের জবাব হচ্ছে, আমরা স্থানীয় সাংবাদিকের সাথে যেমন কথা বলি তেমনি স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শীর সাথেও কথা বলি নিশ্চিত হবার জন্য।
এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:
আরিফুল ইসলাম, পাইকগাছা, খুলনা ।
সাদ্দাম হোসেন, ঢাকা।
রমজান আলী গাজী সুমন, ঢাকা।
শাওন হোসাইন, রাজবাড়ী সদর।
ফয়সাল আহমেদ সিপন, ঘোড়াদাইড়, গোপালগঞ্জ।
মোহাম্মদ আশরাফুল আলম সিদ্দিকী, সোনাতলা,বগুড়া।
তন্ময় কুমার পাল, ফকিরহাট, বাগেরহাট।
আবদুল হান্নান, কুলাউড়, সিলেট।










