আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
করোনা ভাইরাস: টিকেট নিয়ে উভয় সংকটে এয়ারলাইন্স ও অভিবাসী শ্রমিক দুপক্ষই
- Author, শাহনাজ পারভীন
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
- Published
এই মুহূর্তে সরকারি মালিকানাধীন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সহ মাত্র চারটি এয়ারলাইন্স মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গন্তব্যে সীমিত সংখ্যায় ফ্লাইট পরিচালনা করছে। টিকেটের জন্য গতকাল চট্টগ্রামে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কার্যালয়ে রীতিমতো ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে।
ঢাকাতেও মধ্যপ্রাচ্যে যাচ্ছে এমন এয়ারলাইন্সগুলোর কার্যালয়গুলোতে উপচে পড়া ভিড়।
যে কারণে হঠাৎ এই পরিস্থিতি
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, করোনাভাইরাসের মহামারির কারণে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হওয়ার আগে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময় থেকে মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাংলাদেশে সাড়ে চার লাখের মতো শ্রমিক ফেরত এসেছেন।
এরপর বাংলাদেশের সাথে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল বন্ধ ছিল জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত। বাংলাদেশ থেকে সীমিত সংখ্যায় আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলেও শ্রমিকদের মুল গন্তব্য দেশগুলোতে প্রবেশ বন্ধ ছিল।
সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন সেদেশে শ্রমিকদের প্রবেশের নিয়ম নিয়ম শিথিল করেছে। সেখানে বাংলাদেশের শ্রমিকদের প্রবেশের নিয়ম শিথিল করার পর দুবাই ও আবুধাবি-গামী শ্রমিকদের এই ভিড় শুরু হয়েছে।
ঢাকার গুলশানে এমিরেটস-এর কার্যালয়ে গিয়ে দেখা গেলো কার্যালয়ের ভেতরে, ভবনের লবি এবং রাস্তায় শতশত মানুষ। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বসে ছিলেন বহু টিকেট প্রত্যাশী।
মধ্যপ্রাচ্যে এখন সীমিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে এমন সবগুলো এয়ারলাইন্সের কার্যালয়ে একই অবস্থা। রিটার্ন টিকেট কেটে যারা এসেছেন তারা অনেকেই সেপ্টেম্বরের আগে ফিরতি ফ্লাইট পাচ্ছেন না।
সেপ্টেম্বরেও টিকেট নেই এমনও জানিয়েছেন কিছু যাত্রী। এই পরিস্থিতি চলছে গত কয়েকদিন ধরে এবং অপেক্ষমাণ সবাই সংযুক্ত আরব আমিরাত গামী যাত্রী।
যাত্রীরা যা বলছেন
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির মোহাম্মদ জামান ছয়মাস আগে রিটার্ন টিকেট সহ দেশে বেড়াতে এসেছিলেন। মাসখানেক পর ফিরে যাওয়ার কথা ছিল তার।
কিন্তু কয়েক লাখ অভিবাসী শ্রমিকের মতো তিনিও করোনাভাইরাসের মহামারি শুরুর পর কাজে ফিরতে পারেননি।
তার কর্মস্থল সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবেশের নিয়ম শিথিল করা হয়েছে শুনে তিনি চট্টগ্রামে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি বলছিলেন, "আমি রিটার্ন টিকেট কেটেই আসছিলাম। আমার দেশে ছয়মাস পার হয়ে গেছে। এরা বলতেছে ছয় মাস হয়ে গেলে টিকেট পাওয়া যাবে না। আজও বিমান অফিসে ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। এক একবার ভিন্ন ভিন্ন কারণ বলে এরা।"
গুলশানে এমিরেটস-এর কার্যালয়ে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থানা থেকে আসা একজন বলছেন, "আমি তিনবার আসছি ঢাকায়। এখানে এমাসেও কোন টিকেট দেখাচ্ছে না, আগামী মাসেও দেখাচ্ছে না। আমার আট মাস চলতেছে দেশে। আমি অনেক চিন্তিত কারণ টাকা পয়সা নিয়ে অনেক সমস্যায় আছি। যত তাড়াতাড়ি যাবো ততই আমার জন্য সুবিধা।"
টিকেটের অভাবে এখন অনেকেরই কাজে যোগদান প্রায় অনিশ্চিত। সময়মত ফিরতে না পারার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন তাই আরব আমিরাতগামী অভিবাসী শ্রমিকেরা।
বিপাকে বিমান কোম্পানিগুলো
শ্রমিকদের মতো হঠাৎ যাত্রীদের চাপ বৃদ্ধিতে বিপাকে রয়েছে বিমান কোম্পানিগুলোও।
বাংলাদেশ থেকে এখন শুধুমাত্র বিমান বাংলাদেশ, এমিরেটস, কাতার ও টার্কিশ এয়ারলাইন্স সীমিত সংখ্যায় মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট পরিচালনা করছে। তাও শুধু কয়েকটি গন্তব্যে।
১৭ টি গন্তব্যে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করতো বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্স। সেখানে এখন মধ্যপ্রাচ্যের মাত্র দুটি গন্তব্যে, আবু ধাবি ও দুবাই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে বিমান বাংলাদেশ।
আগে সপ্তাহে ২১ টি ফ্লাইট ছিল এমিরেটস এয়ারলাইন্সের। এখন তা চারটিতে নেমেছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: মোকাব্বির হোসেন বলছেন, মার্চ মাসের শেষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিমানবন্দরগুলো বন্ধ।
সংযুক্ত আরব আমিরাত সম্প্রতি সীমিত আকারে ফ্লাইট চালুর অনুমতি দিয়েছে।
কিন্তু কয়েকটি শর্ত ছিল। তার মধ্যে একটি হল শ্রমিকদের সেখানকার সরকারি একটি ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করতে হবে।
অনুমোদন পাওয়া গেলেই তারপর তারা যেতে পারবে। সেই নিয়মটি এই দশ তারিখ উঠিয়ে দেয়া হয়েছে।
মি. হোসেন বলছেন, "এখন পাঁচ মাসে যারা যেতে পারেননি তারা সবাই পারলে আজকেই যেতে চান। ফলে এই মাসের দুই সপ্তাহের যে ফ্লাইটগুলো ছিল তার টিকেট নিমিষেই শেষ হয় গেছে।"
এছাড়া অন্য শর্তগুলোর একটি হল এক ফ্লাইটে দুশোর বেশি যাত্রী নিতে পারবে না এয়ারলাইন্সগুলো। সেজন্য সবাইকে টিকেট দেয়া যাচ্ছে না।
তাছাড়া যারা ফিরতি টিকেট কেটে দেশে এসেছিলেন তাদের প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। যে কারণে নতুন যারা টিকেট কাটতে চাইছেন তারা ক্ষুব্ধ হচ্ছেন।
মোকাব্বির হোসেন আরও জানালেন, আগামী দুই মাস ফ্লাইট পরিচালনার জন্য স্লটের অনুমোদন এখনো দেয়নি আরব আমিরাত।
তাই অগ্রিম টিকেট বুকিং দিতে পারছে না বাংলাদেশ বিমান। যে কারণে সেপ্টেম্বরেও টিকেট পাচ্ছেন না অনেকে।
অন্যদিকে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে অনেক শ্রমিকের তাই সময়মত যেতে না পারলে কাজ হারানোর ভয়।
সব মিলিয়ে উভয় সংকটে রয়েছে এয়ারলাইন্স ও অভিবাসী শ্রমিক দুই পক্ষই।