সাবেক সেনা কর্মকর্তা হত্যা আর গরুর মাংসর 'ধর্মীয় স্পর্শকাতরতা' নিয়ে প্রশ্ন

ছবির উৎস, ROBERTO SCHMIDT
- Author, সাবির মুস্তাফা
- Role, সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা
- Published
চলতি সপ্তাহে দুটো ঘটনা পাঠকদের আকৃষ্ট করেছে। প্রথমটি সম্প্রতি কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর নিহত হবার ঘটনা তারপর এলো লেবাননের রাজধানী বৈরুতের বন্দরে বিশ্ব ইতিহাসের সব চেয়ে শক্তিশালী অপারমাণবিক বিস্ফোরণ।
তবে এডিটার'স মেইলবক্স লেখা পর্যন্ত যা দেখছি, আমাদের পত্র লেখকদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত মেজর এস আর খানের মৃত্যু নিয়েই আগ্রহ বেশি। তাহলে শুরু করছি সে বিষয়ে কয়েকটি চিঠি দিয়ে, প্রথমে লিখেছেন চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থেকে মোহাম্মদ রেজাউল রহিম:
''সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের বিনা হিসেবে ক্রসফায়ার যেন বেড়েই চলেছে। এমনিতেই পুলিশ নানান অপরাধের সঙ্গে জড়িত। গেল সপ্তাহে কক্সবাজার - টেকনাফ সড়কের চেকপোস্টে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত একজন মেজরকে যেভাবে শুট করা হলো তা থেকে স্পষ্টতই পুলিশের পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন আসতেই পারে। অন্যায় করলে তাকে গ্রেফতার করা যেত। এভাবে গুলি করে হত্যা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। আশাবাদী, যে তদন্তের মাধ্যমে সত্যটি বেরিয়ে আসুক। আস্থা ফিরে আসুক জনমনে।''
আমি নিশ্চিত মি. রহিম, আপনার মত অনেকেই আশা করছেন এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হবে এবং যাদেরকে অপরাধী বলে চিহ্নিত করা হবে তাদের সুষ্ঠু বিচার হবে। তবে আপনি যে ক্রসফায়ারের কথা বলছেন, সেটা বহু বছর ধরে চলে আসছে। এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের পর প্রশ্ন থাকবে, পুলিশ এবং র্যাবের হাতে ২০০৪ সাল থেকে যেসব বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হয়েছে, সেগুলোর বিচারও কি হবে?

ছবির উৎস, NurPhoto
পরের চিঠি লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:
''পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান পুলিশের দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদান করেছিলেন এবং পুলিশকে গুলি করার উদ্দেশ্যে অস্ত্র বের করার চেষ্টা করছিলেন। আত্মরক্ষার জন্যই পুলিশের পক্ষ থেকে গুলি চালানো হয়েছিল। পুলিশের বক্তব্য সঠিক বলে ধরে নেওয়া হলে যে প্রশ্ন এসে যায় তা হচ্ছে, আত্মরক্ষার জন্য কি মি. সিনহাকে গুলি করে হত্যা করতেই হতো, আত্মরক্ষার অন্য কোনো উপায় কি পুলিশের হাতে ছিল না? এখানে আরও একটি বিষয় খতিয়ে দেখা দরকার, কে বা কারা কি উদ্দেশ্যে সেনা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই-এর রিপোর্টটি ফাঁস করেছে? একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এ ধরনের বিচার বহির্ভূত কর্মকাণ্ড মোটেই গ্রহণ যোগ্য হতে পারে না। এ বিষয়টিতে সরকারের মনোযোগ দেওয়া উচিৎ।''
আপনি দুটো বিষয় নিয়ে এসেছেন মি. সরদার। বাংলাদেশে বিনা বিচারে গুলি করে হত্যা করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে ২০০৪ সালে র্যাব গঠনের পর থেকেই (যে কারণে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো র্যাবকে 'ডেথ স্কোয়াড' বলে বর্ণনা করেছে)। পুলিশ যখন মনে করে কাউকে মেরে ফেললে সেটা নিয়ে কোন জবাবদিহি করতে হবে না, তখন গুলি করার বিকল্প পথ খোঁজার প্রয়োজন তারা অনুভব করে না।
অন্যদিকে, ডিজিএফআই-এর রিপোর্টে ভিন্ন কথা বলা হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী মেজর খান অস্ত্র বের করেননি, বিনা কারণে ঠাণ্ডা মাথায় তাকে খুন করা হয়েছে। আমার মতে, এই রিপোর্ট কে ফাঁস করলো সেটা মুখ্য বিষয় না। তার চেয়ে বড় কথা হচ্ছে, কোন ভাষ্য সঠিক - তাদের না পুলিশের? এবং র্যাব যে তদন্ত করবে, তা কতটুকু নিরপেক্ষ হবে? আমার মনে হয় এই মুহূর্তে জনমত প্রবল ভাবে পুলিশের বিপক্ষে। কিন্তু জনমত যাতে তদন্ত প্রভাবিত করতে না পারে, সেটা দেখবে কে?

ছবির উৎস, MUNIR UZ ZAMAN
এই বিষয়ে আরো লিখেছেন বগুড়ার শেরপুর থেকে সম্পদ কুমার পোদ্দার বলরাম:
''বাংলাদেশে বিনা বিচারে তথাকথিত ক্রসফায়ারের মাধ্যমে মানুষ হত্যার ঘটনা বেড়েই চলেছে। যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একজন মানুষ দোষী হলেও তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। সত্যিই সে দোষী হলে আইনের মাধ্যমে তাকে শাস্তি দিতে হবে। শুধুমাত্র সন্দেহের বশত ক্রসফায়ার মানবাধিকার লঙ্ঘন। আর প্রত্যেক ক্রসফায়ারে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেই একই ভাঙ্গা টেপ রেকর্ডার বাজান। "আসামী গুলি করতে করতে পালানোর চেষ্টা করে। আত্মরক্ষার্তে পুলিশও গুলি চালায়,'' ইত্যাদি। কিন্তু এভাবে আর কতদিন?
আপনি আসল কথাই বলেছেন মি. পোদ্দার। এভাবে আর কতদিন? মানুষ বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম এসব দেখে আর শুনে ক্লান্ত। গণতন্ত্র আর আইনের শাসন পুন:প্রতিষ্ঠার যে সম্ভাবনা ২০০৯ সালে দেখা গিয়েছিল, সেটা অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। তবে সর্বশেষ ঘটনার ফলে যদি এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়, তাহলে মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তি পেতে পারেন।

ছবির উৎস, VCG
এবারে যাই ভিন্ন প্রসঙ্গে। বিবিসি বাংলায় গুরুর মাংস নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় একটি প্রশ্ন করেছেন পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ থেকে তাপস প্রামাণিক:
''মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে খাদ্যাভ্যাস একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় বলে আমি মনে করি, এব্যাপারে বিবিসির নীতিমালা কী বলে? আজ আপনাদের ফেসবুক পেজে "গরুর মাংস: কার জন্য কতোটুকু খাওয়া নিরাপদ" সঙ্গে প্লেটে সাজানো রান্না করা গরুর মাংস, পড়ে বেশ কিছু তথ্য জানতে পারলাম।
''আমার প্রশ্ন বাংলাদেশের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে শুকরের মাংসও একটি অতি জনপ্রিয় খাবার। এখন কথা হলো শুকরের মাংস নিয়ে এই ধরনের বিশ্লেষণ ধর্মী একটি প্রতিবেদন বিবিসি বাংলা বিভাগ প্রকাশ করার সাহস দেখাতে পারবে কি?''
এখানে সাহসের কিছু নেই মি. প্রামাণিক, কারণ শুকরের মাংস নিয়ে প্রতিবেদন করতে বিবিসি বাংলার কোন সমস্যা নেই। এখানে ধর্ম কোন বাধা নয়। তবে বাঙালি খাবারের তালিকায় শুকরের মাংস কখনো ছিল বলে আমি জানতাম না! কলকাতার অনেক হোটেল এবং রেস্তোরাঁয় আমি গিয়েছি, কিন্তু কোথাও শুকরের মাংস কোন মেনুতে দেখি নাই। বাংলাদেশে সর্বত্র গরুর মাংস পরিবেশন করা হয়, কিন্তু চট্টগ্রামের মাত্র একটি অভিজাত হোটেল ছাড়া কোথাও শুকরের মাংস পরিবেশন হতে দেখেনি। কাজেই বাংলাদেশে ''বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে শুকরের মাংসও একটি অতি জনপ্রিয় খাবার'' বলে আপনি যে মন্তব্য করেছেন, তা আমার কাছে অবাস্তব মনে হচ্ছে। তবে হ্যাঁ, পাহাড়ি কিছু ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মাঝে শুকরের মাংস খাওয়ার প্রচলন আছে ঠিকই, কিন্তু সেটাকে বাংলাদেশের জাতীয় খাবার তালিকায় দিলে হয়তো একটু বেশি হয়ে যাবে।

ছবির উৎস, Getty Images
তবে গরুর মাংস নিয়ে ব্যাখ্যামূলক প্রতিবেদনে একটি তথ্য ভুল ছিল বলে লিখেছেন যুক্তরাষ্ট্র'র ক্যালিফোর্নিয়া থেকে আমিনুর রহমান:
''আপনাদের ফিচার গুলো অনেকেই দেখে থাকে, বেশ সময় উপযোগীও বটে। বিবিসির একটা ফিচারের ইমপ্যাক্ট কিন্তু বিশাল - ইতিবাচক/ নেতিবাচক, যার প্রভাব বিশাল জনগোষ্ঠীর উপর পড়ে। গত ৩১শে জুলাই প্রকাশিত ''গরুর মাংস: কার জন্য কতোটুকু খাওয়া নিরাপদ'' শীর্ষক প্রতিবেদনে প্রোটিন এর সোর্স - এ গরমিল আছে, এবং সেইটা খুব গোলমেলে।
''যেমন, গুরুর মগজ ৭০-৮০ শতাংশ চর্বি , এবং কোলেস্টেরলের উৎস। মগজে খুব সামান্য প্রোটিন থাকে। আর গরুর কলিজাও প্রোটিন এর উৎস না। কিছু অ্যামিনো অ্যাসিড, ভিটামিন, যথেষ্ট পরিমাণে কোলেস্টেরল থাকে। অথচ এই দুটাকেই প্রোটিনের প্রধান উৎস হিসাবে উল্লেখ করেছেন। এইটা কি নিজস্ব মতামত?''
না মি. রহমান, এটা প্রতিবেদকের নিজস্ব মতামত না। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়েই এ'ধরনের ব্যাখ্যামূলক প্রতিবেদন লেখা হয়। তবে বোঝা যাচ্ছে, তথ্য সংকলন করতে গিয়ে কোথাও সমস্যা হয়েছিল। আপনার প্রশ্ন নিয়ে প্রতিবেদক পুষ্টিবিদের সাথে আলাপ করেছেন, এবং আমাদের ভুল সংশোধন করা হয়েছে। ভুলটির দিকে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ এবং আশা করি ভবিষ্যতেও আমাদের ফিডব্যাক দেবেন।

ছবির উৎস, NurPhoto
এবার করোনাভাইরাস পরিস্থিতি এবং স্বাস্থ্য খাত নিয়ে কিছু মন্তব্য। প্রথমে লিখেছেন রংপুর থেকে দেব প্রসাদ রায়:
''স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি, অনিয়ম, হাসপাতালে চিকিৎসা না পাওয়াসহ রিজেন্ট এবং জেকেজি কেলেঙ্কারিতে বাংলাদেশে করোনা সেবা হুমকির মুখে। চলতি মাসে দেখা যাচ্ছে নমুনা সংগ্রহের হার কমে আসছে। এক্ষেত্রে যা নমুনা সংগ্রহ হচ্ছে তাতেও শনাক্তের হার তুলনামূলক বেশি। এই যদি হয় অবস্থা, তবে কি হবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ?''
খুব জটিল প্রশ্ন করেছেন মি. রায়। করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ যে কমছে তাতে কোন সন্দেহ নাই। অনেকেই আশঙ্কা করছেন সরকার হয়তো হাল ছেড়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, বিভিন্ন হাসপাতালে খালি শয্যা দেখে মনে হচ্ছে সাধারণ মানুষও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর ভরসা রাখতে পারছে না। সব মিলে পরিস্থিতি বেশ নাজুকই বলতে হবে। তবে ঈদের পর সরকার নতুন উদ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে মাঠে নামবে কি না, সেটাই এখন দেখতে হবে।

ছবির উৎস, NurPhoto
করোনাভাইরাস প্রতিরোধে যে স্বাস্থ্য বিধি আছে, তা কি মানা হচ্ছে? খুলনার কপিলমুনি থেকে মোহাম্মদ শিমুল বিল্লাল বাপ্পি তা মনে করছেন না:
''ঈদ উল-আযহার কারণে জনসাধারণ তাদের কর্মস্থল থেকে আবার অন্যত্র বের হয়েছে। কিন্তু সাধারণ নাগরিক হয়ে আমরা জেলা উপজেলা মফস্বল শহরে গণ পরিবহনে কোন রকম স্বাস্থ্য বিধি না মেনে চলাফেরা করছি ।বাসের মধ্য কিছু দিন আগে এক সিটে এক যাত্রী বসলেও বর্তমানে দুইজন করে যাত্রী বসছেন । গণ পরিবহনে অনেক যাত্রীকে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে ।কিছুদিন আগে গাড়ির মধ্যে জীবাণু নাশক ব্যবহার করা হলেও বর্তমানে জেলা উপজেলা শহরে দেখা যায় না। গণ পরিবহনে যদি স্বাস্থ্য বিধি না মেনে চলাচল করা হয়, তাহলে সংক্রমণ বেরে যাবার সম্ভাবনা আছে কি? আর এ বিষয়ে বাস কর্তৃপক্ষ এবং যাত্রীগণকে কীভাবে করোনা সম্পর্কে সচেতন করা যায়?''
সবাইকে সচেতন করার পথ একটি, এবং সেটা হচ্ছে সকল মাধ্যমে অবিরাম প্রচারণা। কিন্তু তাতেও অনেক সময় কাজ হয় না, কারণ অনেক মানুষ জেনেও বিধি অমান্য করেন। তখন পথ হচ্ছে বিধি অমান্য করার জন্য জরিমানা নির্ধারণ করা এবং সেই শাস্তি কঠোর ভাবে প্রয়োগ করা। বিভিন্ন দেশে দেখা গেছে, জরিমানার বিধান করলে মানুষ নিয়ম অমান্য করার আগে দু'বার ভাবেন।
পরের চিঠি লিখেছেন গোপালগঞ্জের ঘোড়াদাইড় থেকে ফয়সাল আহমেদ সিপন:
''যে মুহূর্তে শক্ত হাতে দুর্নীতি দমন করার জন্য সরকার চেষ্টা করছে ঠিক সেই মুহূর্তে "অনুমতি ছাড়া হাসপাতালে অভিযান নিষেধ", এই ধরনের সিদ্ধান্ত রহস্যজনক বলে মনে করি। যেখানে সন্দেহ হবে সেখানেই অভিযান পরিচালিত হওয়া উচিত।''
আপনার সাথে অনেকেই একমত হবেন মি. আহমেদ। হাসপাতালে অভিযানের জন্য যদি অনুমতি নিতে হয়, তাহলে গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে কি না, সেটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে হয়তো অনেকেই ভাববেন যে, অনুমতি নেয়ার বিধান থাকলে অভিযানের বিষয়টি আগেই জানা-জানি হয়ে যেতে পারে। পুরো প্রচেষ্টাই এখানে ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে।
এবার আমাদের অনুষ্ঠান নিয়ে মন্তব্য। পুরনো অনুষ্ঠান শুনে খুশি হয়ে অনেকদিন পর লিখেছেন কুমিল্লার নাংগলকোট থেকে মোহাম্মদ সোহাগ বেপারী:
''বহুদিন পর মেইল করলাম । আমার বিবিসি আর আগের মত নেই । তাই শুনলেও আর আগের মত নিয়মিত লেখা হয়না। গত তেসরা অগাস্ট বিবিসি বাংলার সন্ধ্যার অনুষ্ঠান শুনছিলাম। ঐ দিন সংবাদ পাঠক মুনমুন রহমানের সাক্ষাৎকার শুনলাম । খুব ভালো লাগলো। জানলাম মুনমুন রহমানের সংবাদ পাঠক হওয়ার পিছনের ইতিহাস, যা আমাকে মুগ্ধ করেছে।''
সাক্ষাৎকারটি আপনর ভাল লেগেছে জেনে আমাদেরও ভাল লাগল মি. বেপারী। ঈদের সময় যেহেতু বেশির ভাগ সহকর্মী ছুটিতে থাকেন এবং দেশে ঘটনা প্রবাহ কম থাকে, তাই পুরনো কিছু ফিচার বা সাক্ষাৎকার প্রচার করার সুযোগ সৃষ্টি হয়। আশা করি ভবিষ্যতেও চিঠি লিখবেন।
বাংলাদেশের চামড়া শিল্পের দুর্দশা নিয়ে লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:
''নানাবিধ কারণে দেশের চামড়া শিল্প ২০১৭ সাল থেকেই সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিসিকের কিছু সিদ্ধান্তহীনতা, সময় মতো সরকারের প্রণোদনা না পাওয়া এবং নীতিগত সহযোগিতা না পাওয়ায় ইউরোপ আমেরিকার বাজার ধরতে পারছে না। তার ওপর আবার এখন করোনার প্রভাবে ব্যবসাই বন্ধ হবার উপক্রম।
''তাছাড়া, আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার চাহিদা কমেছে এবং সাভারে চামড়া শিল্প পল্লী স্থাপিত হলেও ব্যবসায়ীরা ওখানে পুরোপুরি কাজ শুরু করতে পারেননি আজও। ফলে ঠিকমতো চামড়া প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হচ্ছে না বলে এই বছরও চামড়ার দাম কম ধরা হয়েছে। যেখানে সব পণ্যের দাম সবসময় ঊর্ধ্বগতি কিন্তু সেখানে প্রতি বছর চামড়ার দাম কমলে এই গুরুত্বপূর্ণ শিল্পের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?''
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ টপিক মি. রহমান, বিশেষ করে বাংলাদেশে যেহেতু কাঁচামাল আছে এবং সেটা প্রক্রিয়াজাত করা এবং পণ্য তৈরি করার মত শিল্পও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কাজেই, এই শিল্পের সম্ভাবনা ভাল বলতেই হবে। এখানে প্রয়োজন দক্ষ ব্যবস্থাপনা, উন্নত মানের প্রযুক্তি, প্রশিক্ষিত শ্রমিক, ভাল বিপণন ব্যবস্থা এবং সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা যেটা গার্মেন্টস শিল্প পেয়েছিল। সাভারের শিল্প পল্লী এই শিল্পকে চাঙ্গা হতে সাহায্য করতে পারে। এই শিল্পে যারা বিনিয়োগ করবে তাদের দক্ষতা এবং দূরদর্শিতার ওপর অনেক কিছুই নির্ভর করবে।
এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:
ইকবাল আক্তার, ঢাকা।
তালাত মাহমুদ, বন হুগলী,কলকাতা।
মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, সৈয়দপুর, নীলফামারী।
প্রিয়ঞ্জিত কুমার ঘোষাল, বেহালা, কলকাতা।
আরিফুল ইসলাম, পাইকগাছা, খুলনা।
আব্দুস সামাদ, চারুলিয়া, তালবাড়ীয়া, মিরপুর,কুষ্টিয়া।
কাজী সাঈদ, ঝিনাইদহ।










