করোনা ভাইরাস: কোরবানির আগে ফ্রিজ বেচাকেনা বাড়ছে নাকি কমছে?

    • Author, রাকিব হাসনাত
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
  • Published

দেশীয় ফ্রিজ নির্মাতাদের সংগঠন রেফ্রিজারেটর ম্যানুফ্যাচারার্স এসোসিয়েশনের হিসেব অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর ফ্রিজ বিক্রি হয় ২৫ লাখেরও বেশি, যার এক তৃতীয়াংশই বিক্রি হয় কোরবানির ঈদের ঠিক আগে।

তবে এ খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এই খাতের ব্যবসায়ীরা এবারের কোরবানির ঈদে প্রত্যাশা অনুযায়ী বিক্রি করতে পারছেনা।

আবার ভিন্ন কথাও আছে।

কোনো কোনো কোম্পানি বলছে, করোনার কারণেই ফ্রিজের বিশেষ করে ডিপ ফ্রিজ এবং ডিপ-কাম-নরমাল ফ্রিজের বিক্রি বেড়েছে।

দেশীয় ব্র্যান্ডগুলোর একটি ভিশন রেফ্রিজারেটর বাজারজাত করে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (বিপণন) কামরুজ্জামান কামাল বলছেন দেশের প্রায় সর্বত্রই বিদ্যুৎ থাকায় এমনিতেই ফ্রিজের বিক্রি দিন দিন বাড়ছে।

"অনেকের বাসায় কাজের লোকজন নেই। লোকজন বাজারে কম যেতে চাইছে। তারা বেশি পরিমাণ বাজার করছে। তাই ডিপ ফ্রিজ এবং ডিপ-কাম-নরমাল ফ্রিজের চাহিদা বেড়েছে।"

তিনি বলেন, "ঈদকে সামনে রেখে আমরা ক্রেতাদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি। গত কোরবানি ঈদের চেয়ে এ বছর কোরবানি ঈদে ফ্রিজের চাহিদা শতকরা প্রায় ২৫ ভাগ বেড়েছে।"

বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

অবশ্য একাধিক কোম্পানির ফ্রিজ বিক্রি করেন এমন ব্যবসায়ীরা বলছেন ভিন্ন কথা।

রাজিউর রহমান ঢাকার স্টেডিয়াম মার্কেটে ফ্রিজসহ ইলেকট্রনিক্স পণ্যের পাইকারি বিক্রেতা।

তিনি বলছেন, একদিকে করোনা আবার অন্যদিকে বন্যা, যার প্রভাবে শহর থেকে গ্রামে কোথাও মানুষের এসব জিনিসের প্রতি আগ্রহ নেই এবার।

"সাধারণত ঈদের একমাস আগে থেকেই অর্ডার পেতে থাকি মফস্বলের ব্যবসায়ীদের। কিন্তু এবার তেমন কোনো ডিমান্ডই নেই," বলছিলেন মিস্টার রহমান।

প্রসঙ্গত, রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার কথা অনেক আগেই দাবি করেছে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা।

দু'হাজার পনের সালে সরকারিভাবে বলা হয়েছিল, তখনকার ফ্রিজের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ১১ লাখের বিপরীতে বাংলাদেশে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা ছিলো ২৩ লাখ।

এরপর গত পাঁচ বছর ধরে চাহিদা বাড়ার সাথে পাল্লা দিয়ে প্রতিনিয়তই উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়েছে কোম্পানিগুলো।

মি. কামাল বলছেন, তাদের ভিশন রেফ্রিজারেটরের নরসিংদীর কারখানায় দিনে এক হাজার ইউনিট উৎপাদনের সক্ষমতা আছে।

রেফ্রিজারেটরের সবচেয়ে বড় বাজার এখন ওয়ালটনের। সারাদেশে সতের হাজারের বেশি শোরুম আছে তাদের।

প্রতিষ্ঠানটি ২০২০ সালে একাই ২৫ লাখ ফ্রিজ বিক্রির লক্ষ্যমাত্রার কথা জানিয়েছিল বছরের শুরুতে।

ওয়ালটনের কর্মকর্তা অগাস্টিন সুজন বিবিসি বাংলাকে বলেন, গত ঈদের আগে ওয়ালটনের প্রায় ১০ লাখ ফ্রিজ বিক্রি হয়েছিল সারাদেশের আউটলেটগুলো থেকে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন।

"মার্চ-এপ্রিলে ফ্রিজ বিক্রি দারুণভাবে কমে গিয়েছিল। তবে আশার কথা, জুন-জুলাই নাগাদ বিক্রির পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। এছাড়া ঘাটতি পুষিয়ে নেয়ার জন্য আমরাও নানা ধরণের অফার দিচ্ছি। কোরাবনি ঈদ উপলক্ষে বিশেষ ফিচার যুক্ত ফ্রিজ বিক্রি করছি আমরা।"

"এছাড়া কিস্তি ও ইএমআই সুবিধায় ফ্রিজ কেনার সুযোগ দেয়া হচ্ছে, যে কারণে বিক্রি বাড়ছে।"

অন্যদিকে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত ফ্রিজেরও একটি বড় বাজার আছে বাংলাদেশে। এলজি, স্যামসাং, হিটাচি, সিঙ্গার, তোশিবাসহ অনেকগুলো ব্র্যান্ড আছে বাংলাদেশের বাজারে আছে অনেক দিন ধরেই।

সিঙ্গারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, ফ্রিজের চাহিদার ক্ষেত্রে খুব একটা হেরফের হয়েছে বলে তিনি মনে করেন না।

"আমাদের খুচরা বিক্রি কমেনি। তবে ডিলারদের কাছ থেকে চাহিদা হয়তো একটু কম এসেছে। সব মিলিয়ে খারাপ বলা যাবে না," বলছিলেন তিনি। যদিও তিনি তার নাম প্রকাশ করতে রাজী হননি।

আবার ঢাকায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে হিটাচির আমদানীকারক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান ট্রান্সকম জানিয়েছিল যে ২০১৮ সালে তাদের ৪০% ও ২০১৯ সালে ৫৬% প্রবৃদ্ধি হয়েছিলো।

চলতি বছর শতভাগ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের কথা জানিয়ে তা অর্জনে অধিকতর বিনিয়োগের কথা বললেও কার্যত মার্চ থেকেই করোনা ভাইরাসের কারণে পাল্টে যায় পরিস্থিতি।

তবে বিদেশি ব্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠানগুলোর ফ্রিজ বিক্রি কেমন হচ্ছে সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া না গেলেও কয়েকটি কোম্পানি জানিয়েছে, তারা ঈদের আগের কয়েকদিন ভালো বিক্রির আশা করছে।

"বিশেষ করে অনলাইনগুলো ভালো ব্রান্ডের ফ্রিজের চাহিদা আছে। আর হোম অ্যাপ্লায়েন্স বলতে যেসব প্রডাক্ট বোঝায় সেগুলোর বিক্রি খুব একটা কমেনি। মাঝে শোরুম গুলো বন্ধ থাকায় কিছুটা ক্ষতি হয়েছে কিন্তু সেটি বছর শেষে পুষিয়ে যাবে বলেই আশা করছি," বলছিলেন বিদেশি ব্রান্ডের ফ্রিজ আমদানীকারক একটি প্রতিষ্ঠানের একজন বিপণন কর্মকর্তা।