আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
রিজেন্টের সাহেদকে নিয়ে আবারো পুলিশের অভিযান, যা পাওয়া গেল
করোনাভাইরাস পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে আটক রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মোঃ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমকে সাথে নিয়ে রবিবার মধ্যরাতে ঢাকার কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ অস্ত্র, গাড়ি, ফেন্সিডিল ও মদ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (উত্তরা) উপ কমিশনার কাজী শফিকুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে জানান রবিবার মধ্যরাতে ঢাকার উত্তরার কয়েকটি জায়গায় অভিযান চালানো হয় সাহেদকে সাথে নিয়ে।
মি. শফিকুল ইসলাম বলেন, "উত্তরার কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি গাড়ি, অবৈধ অস্ত্র ও এক রাউন্ড গুলি এবং কয়েকটি ফেন্সিডিল ও মদের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে।"
গত বৃহস্পতিবার মোঃ সাহেদের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। তদন্তের অংশ হিসেবে তাকে নিয়ে গতকাল রাতে অভিযান চালানো হয়।
টেস্ট না করেই করোনাভাইরাস পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট দেয়াসহ নানা অভিযোগে গত ৭ই জুলাই সিলগালা করে দেয়া হয় ঢাকার উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতাল ও রিজেন্ট গ্রুপের প্রধান কার্যালয় - যেই প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মোঃ সাহেদ।
ঐ ঘটনার পর থেকে এক সপ্তাহের বেশি সময় মোঃ সাহেদ পলাতক ছিলেন।
বিবিসি বাংলায় আরো পড়তে পারেন:
এরপর ১৫ই জুলাই মধ্যরাতে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে তাকে আটক করার কথা জানায় র্যাব।
করোনাভাইরাস পরীক্ষা নিয়ে মোঃ সাহেদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের জালিয়াতির অভিযোগ সামনে আসার পর ক্ষমাতসীন আওয়ামী লীগের নেতাসহ প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে তার ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে - যেটি মূলত ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় প্রথম বেসরকারি হাসপাতাল হিসাবে রিজেন্ট হাসপাতাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল। মোঃ সাহেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা এবং তাদের অভ্যন্তরীন দুর্নীতির বিষয়টি নিয়ে আবারো আলোচনা তৈরি হয়।
সেই প্রেক্ষিতে গত রবিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছিল।
ক্ষমতাসীন দলের নেতা ছাড়াও ব্যবসায়ী, মন্ত্রী, আমলাসহ প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ঘনিষ্ঠ বলে নিজেকে দাবি করতেন মোঃ সাহেদ। সেসব প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ভাঙ্গিয়ে, টেলিভিশনে টকশো করে আর হাসপাতালের ব্যবসা করে ওপরে উঠে আসেন তিনি।
মোঃ সাহেদের প্রতারণার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলোতে এই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে জায়গা পেয়েছে।
করোনাভাইরাস মহামারি শুরুর পর বাংলাদেশ থেকে যত খবর এপর্যন্ত আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে এসেছে, তার কোনটিই সম্ভবত এই পরিমাণ গুরুত্ব পায়নি।
করোনাভাইরাস মহামারির সময় বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যমে বাংলাদেশে করোনাভাইরাস পরীক্ষা নিয়ে দুর্নীতির খবর যেরকম ফলাও প্রচার পেয়েছে, তাতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নতুন করে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে সেসব দেশে।
কাতার ভিত্তিক টেলিভিশন আল জাজিরা, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক টাইমস থেকে শুরু করে ইউরোপ ও এশিয়ার অনেক দেশের সংবাদ মাধ্যমে শিরোনাম হয়েছে ঢাকার রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মোঃ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমের কোভিড টেস্ট জালিয়াতি ও নাটকীয় গ্রেফতারের ঘটনা।
রিজেন্টের সাহেদকে নিয়ে নতুন যেসব তথ্য দিলো র্যাব
ওদিকে রবিবার দুপুরে উত্তরার র্যাব সদর দপ্তরে একটি সংবাদ সম্মেলনে মোঃ সাহেদের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন।
র্যাবের গণমাধ্যম ও আইন শাখার পরিচালক কর্ণেল আশিক বিল্লাহ সেসময় সাংবাদিকদের জানান যে নিজের হাসপাতালে করোনাভাইরাসের ভুয়া পরীক্ষা ছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরো কয়েকটি অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে তারা।
কর্ণেল বিল্লাহ বলেন, "সরকারি চাকরি পাইয়ে দেয়ার নাম করে প্রতারণা করে মানুষের কাছ থেকে তিনি টাকা নিয়েছেন। এছাড়া সরকারি চাকরিরত ব্যক্তিদের বদলির জন্যও ভুক্তভোগীরা তাকে টাকা দিয়েছিলেন।"
সাংবাদিকদের মি. বিল্লাহ জানান প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে সাধারণ মানুষের দশ কোটি টাকা মোঃ সাহেদ আত্মসাৎ করেছে বলে র্যাব ধারণা করছে।
এই সময় তিনি আবারো মোঃ সাহেদকে প্রতারণা জগতের 'আইডল' বলে উল্লেখ করেন। মোঃ সাহেদ গ্রেফতার হওয়ার দিনও তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে তার প্রতারণার ধরণ 'অনন্য' এবং তাকে প্রতারক জগতের 'আইডল' বলা যায়।