আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
এডিটার'স মেইলবক্স: চীন-ভারত বৈরিতায় বাংলাদেশ ও করোনার ওষুধ
- Author, সাবির মুস্তাফা
- Role, সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা
- Published
বাংলাদেশ ভারতের বন্ধু। বাংলাদেশ চীন-এরও বন্ধু। কিন্তু চীন আর ভারত যখন তাদের দীর্ঘ দিন ধরে চলা সীমান্ত বিরোধ নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের দিকে চলে যায়, তখন বাংলাদেশের অবস্থান কী হতে পারে?
এই জটিল প্রশ্নের উত্তর জানতে চেয়ে লিখেছেন রাজবাড়ী সদর থেকে শাওন হোসাইন:
''সীমান্ত বিরোধ নিয়ে ভারত ও চীনের পরস্পর বিরোধী বক্তব্য আমরা বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখতে পাচ্ছি। এদিকে নদীর পানি বণ্টন ও সীমান্ত নিয়ে ভারতের সাথে ভুটান ও নেপাল বিরোধে জড়িয়েছে। সত্যিকার অর্থে ভারতের অনেকটা কোণঠাসা অবস্থা। ভৌগলিক অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশ, ভারত ও চীনের প্রতিবেশী দেশ হওয়ায় অনেকের নজর এখন বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে।
''চীন যে বাংলাদেশকে কাছে পেতে চাইছে তা অনেকটা পরিষ্কার। কিছুদিন আগে চীনের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর শেষে বলে গেল চীন করোনাভাইরাসের টিকা আবিষ্কার করতে পারলে বাংলাদেশকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তা দেয়া হবে। এদিকে ভারতের সাথে বাংলাদেশের বন্ধুত্ব অস্বীকার করার কিছু নেই। ভারতের একটি নামকরা দৈনিকে বাংলাদেশকে কটূক্তি করে "খয়রাতি" বলায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠে। এই পরিস্থিতি বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত পরিষ্কারভাবে তাদের অবস্থান ব্যক্ত করেনি। বাংলাদেশের অবস্থান আসলে কী হতে পারে?''
শুরুতেই যেটা বলেছি, প্রশ্নটা বেশ জটিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় চীন পাকিস্তানকে সমর্থন করায় পরবর্তী সময়ে চীনের সাথে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক শীতল ছিল। কিন্তু ২০০৯ সালের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীনের সাথে বেশ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন, বিশেষ করে বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ-এর ক্ষেত্রে। কিন্তু রাজনৈতিক দিক থেকে ভারতের সাথে বন্ধু প্রতিম সম্পর্ক বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য। কাজেই, শেখ হাসিনাকে এখানে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে, ভারসাম্য বজায় রেখে চলতে হচ্ছে। সেজন্য বাংলাদেশ প্রকাশ্যে কোন এক পক্ষকে সমর্থন করতে পারে না।
তবে নিরপেক্ষ থাকার যেমন অনেক লাভ আছে, তেমন ঝুঁকিও আছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারত হাসিনা সরকারকে যে সমর্থন, বিশেষ করে ২০১৪ সাল থেকে দিয়ে আসছে, তার বিনিময়ে দিল্লি যদি ঢাকার কাছ থেকে সমর্থন দাবি করে, তখন বিষয়টি শেখ হাসিনার জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।
একই বিষয়ে ছোট মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের লক্ষ্মীপুর থেকে মতিউর রহমান মজিদ:
''বাংলাদেশ চীনের ও পাকিস্তানের সাথে থাকলে, ভারতের কাছ থেকে আমাদের অধিকার আদায় হবে।''
বাংলাদেশ পাকিস্তানের সাথে থাকার কোন সম্ভাবনা আছে বলে আমার মনে হয় না মি. রহমান। চীনের সাথে থাকার যুক্তি অনেক আছে। তবে 'চীন কার্ড' খেলে ভারতের কাছ থেকে কিছু আদায় করার মত পদক্ষেপ অনেক ঝুঁকিপূর্ণ হবে বলে আমার মনে হয়।
লাদাখের গালওয়ান অঞ্চলের মারামারিতে ২০জন ভারতীয় সৈন্য নিহত হয় এবং বেশ কয়েকজন ভারতীয় অফিসার এবং জাওয়ান চীনের হাতে বন্দী হয়। কিন্তু এই সংঘর্ষে চীনের কয়জন হতাহত হলো, সেটা না বলায় ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন ভারত থেকে অর্ক রায়:
''ভারত একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হওয়ায় তারা মিডিয়াকে জানায় তাদের ২০ জন সেনা যারা নিহত হয়। কিন্তু চীন যথারীতি তাদের কত জন সেনা নিহত হয়েছে সেটা জানাতে অস্বীকৃতি জানায়। চীনের সরকারি পত্রিকা গ্লোবাল টাইমস তাদের টুইটার পেজে জানায় তাদেরও বেশ কিছু সেনা নিহত হয়েছে কিন্তু সে সংখ্যাটা কত সেটা চীন জানায়নি। চীনে সেভাবে মিডিয়া ও গণতন্ত্র না থাকায় এসব খবর চীন সরকার দিতে বাধ্য নয়। চীনে বিবিসি ও তার মত আন্তর্জাতিক মিডিয়া সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। কাজেই ওই সংঘর্ষে কতজন চীনা সেনা নিহত হয়েছে সেটা অজানাই থাকবে।
''প্রশ্ন হল চীন কেন সব সময় সব তথ্য লুকিয়ে রাখে? উনিশ'শ বাষট্টি সালের যুদ্ধের সময় কতজন চীনা সেনা নিহত হয়েছিল সেটা চীন সে সময় সারা বিশ্ব থেকে লুকিয়েছিল। উনিশ'শ চুরানব্বই সালে এসে চীন সরকার অফিসিয়ালি ১৯৬২র যুদ্ধে তাদের হতাহতের সংখ্যা জানায়। করোনা ভাইরাস নিয়েও আমরা দেখেছি চীন সরকার বিশ্ববাসীর কাছে তথ্য নিয়ে লুকোচুরি খেলেছে।''
আপনি কথাটা ঠিকই বলেছেন মি. রায় যে, চীন যেহেতু গণতান্ত্রিক নয় এবং তাদের সমাজ খুবই নিয়ন্ত্রিত, তাই সেখানে তথ্য প্রবাহ মোটেই অবাধ না। চীন সরকার শুধু সেটাই প্রকাশ করবে যেটা তারা মনে করে অন্যর জানার প্রয়োজন আছে। হয়তো চীনের কাছে হতাহতের সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ না, কারণ যুদ্ধে জয়-পরাজয় হতাহতের সংখ্যার বিচারে হয় না। তারা দেখবে সংঘর্ষের ফলে ঐ অঞ্চলে রাজনৈতিক-সামরিক চিত্রটা কার পক্ষে পাল্টালো। আপনি খেয়াল করবেন, চীন সরকার এই সংঘর্ষ নিয়ে খুব একট মন্তব্য করছে না, বা নিজেদের জনগণকে উত্তপ্ত করার জন্য কোন জ্বালাময়ী বক্তব্যও দিচ্ছে না।
তবে একটা কথা জানিয়ে রাখি, বিবিসি কিন্তু চীন থেকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ না। বেইজিং-এ বিবিসির বড় ব্যুরো আছে। তবে বিবিসি চাইনিজ ওয়েবসাইট চীনে ব্লকড।
এবারে করোনাভাইরাস নিয়ে কিছু মন্তব্য। প্রথম চিঠি লিখেছেন ভারত থেকে নিরুপম দত্ত:
''আপনি কি জানেন ভারতের পতঞ্জলি করোনার ওষুধ বের করতে পেরেছে যা অয়ুস মন্ত্রক দ্বারা স্বীকৃত।''
না মি. দত্ত, আপনার তথ্য সঠিক নয়। পতঞ্জলি যে ওষুধ বের করেছে, তাকে কেউ করোনার চিকিৎসা বলে স্বীকৃতি দেয়নি। এমনকি ভারতের অয়ুস মন্ত্রণালয় গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়ে দিয়েছে, পতঞ্জলির ওষুধ করোনাভাইরাসের চিকিৎসা হিসেবে বিক্রি করা যাবে না। তার পর দিন, অর্থাৎ বুধবার, পতঞ্জলির প্রধান প্রচারক বাবা রাম দেব এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন তারা কখনো দাবি করেন নি যে, তাদের করোনিল ওষুধ কোভিড-১৯ সারাতে পারে। এই ওষুধ শুধুমাত্র শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।
পরের চিঠি লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:
''জুলাই মাসের দুই তারিখ বৃহস্পতিবার, বিবিসি বাংলার টেলিভিশন অনুষ্ঠান প্রবাহে আবুল কালাম আজাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন দেখলাম। এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ যে করোনাভাইরাস যখন মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ছে তখনও সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে অনীহা বা অসচেতনতা দেখা যাচ্ছে। আমার মনে হয়, সাধারণ মানুষ যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন সে বিষয়টির উপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সাধারণ মানুষ যদি এভাবে চলতে থাকে তাহলে করোনা প্রতিরোধ করা সরকারের পক্ষে খুবই কঠিন কাজ হয়ে দাঁড়াবে।''
আপনি ঠিকই বলেছেন মি. সরদার, মহামারি প্রতিরোধে জনগণের সচেতনতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এ'কথাও ঠিক যে, সরকার যদি সঠিক বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে না দেয়, তাহলে তারা সচেতন হবে কী করে? আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, সরকারকে শুধু কথায় না, কাজেও দেখাতে হবে তারা নিজেরাও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন। উদাহরণ সৃষ্টি করলেই মানুষ সেটা অনুসরণ করবে।
করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়ে লিখেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাকামে মাহমুদ চৌধুরী:
''গত সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বেসরকারি শিক্ষক এবং কর্মচারীদের জন্য প্রণোদনা প্যাকেজে প্রত্যেক শিক্ষকের জন্য ৫০০০ টাকা এবং কর্মচারীর জন্য ২৫০০ টাকা করে ঘোষণা করা হয়। তিন মাস বেতন বন্ধের পরেও প্রত্যেকের জন্য এই বরাদ্দকৃত টাকা দিয়ে কতদিন চলা সম্ভব, তা নিয়ে কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়। যদিও সাময়িক সময়ের জন্য বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল ইত্যাদি মৌকুফ করা হচ্ছে। কিন্তু পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এই বকেয়াগুলো এক সংগে যে কতটা পাহাড়সম হবে তা কিন্তু বেশ ভাবনার বিষয়।''
আমি জানি না বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের মাসিক বেতন কত মি. চৌধুরী। কিন্তু সরকার যদি শুধুই পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে থাকে, তাহলে আমার কাছে ব্যাপারটা ন্যায্য মনে হচ্ছে না। সরকারের উচিত প্রতি মাসে তাদের বেতন পুরোটা না হলেও অন্তত ৭৫-৮০ শতাংশ দেয়া। তা না হলে, তিন মাস চলতে যে টাকা হয়তো অনেকে ধার নিয়েছেন, এই সরকারি বরাদ্দ সেই দেনা শোধ করতেই চলে যাবে।
এবারে অন্য প্রসঙ্গ। লঞ্চ ডুবি নিয়ে লিখেছেন চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থেকে মোহাম্মদ রেজাউল রহিম:
''একটি পরিসংখ্যানের ফলাফলে দেখা গেছে যে, গত কুড়ি বছরে সাত'শ লঞ্চ ডুবির ঘটনায় প্রায় কুড়ি হাজারের মত লোক মারা যান কিংবা নিখোঁজ ছিলেন। লঞ্চ ডুবির অনেক কারণ থাকলেও, কোন ঘটনারই বিচার না হওয়ায় এই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, কিন্তু ফলাফল তো তথাবৃত যথাকার। এভাবেই যদি সব ঘটনার দফারফা হয়, তাহলে স্বজন হারানো লোকজনের কাছে শুধুই কি প্রিয়জন হারানোর হাহাকার ও গ্লানির বার্তা পৌঁছানো হবে?''
আপনি ঠিক কথাই বলেছেন মি. রহিম, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হলে দুর্ঘটনা এবং প্রাণহানির কারণ বেরিয়ে আসবে। তার জন্য যদি কেউ দায়ী হন, তাহলে তার বিচার করতে হবে। কিন্তু সেগুলো না হলে লঞ্চ মালিকরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাগাদা বোধ করবেন না, লঞ্চ চালকরা নিয়ম মেনে চালানোর প্রয়োজন বোধ করবেন না, লঞ্চ ঘাটের কর্তৃপক্ষও অতিরিক্ত যাত্রী এবং মালামাল দেখেও না দেখার ভান করবেন। দায়িত্ব বর্তায় নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং তার অধীনস্থ সংস্থাগুলোর ওপর। কিন্তু দায়িত্ব নিচ্ছে কে?
গত সপ্তাহে বাংলাদেশে আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিকদের নিয়ে কয়েকটি চিঠি নেয়া হয়েছিল। এ'সপ্তাহেও দুটি চিঠি, প্রথমটি লিখেছেন শিবগঞ্জ-এর রানীহাটি থেকে বিকাশ দাস:
''বাংলাদেশ ও ভারতে যে মানুষগুলো আটকে রয়েছে এবং নিজ দেশে যেতে পারছেনা, অন্তত তাদেরকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য বর্ডারে ছাড় দেওয়া হোক স্বাস্থ্য বিধি মেনে। আমার বাড়িতে পাঁচজন আছে, আমি কিন্তু কোন সরকারি সহায়তা পাচ্ছিনা। পাঁচ মাস ধরে সব মিলিয়ে এখন আমার পরিবারে দশজন রয়েছে। আমিতো খুব কষ্টের মধ্য রয়েছি, তাই আমি চাই বিবিসি বাংলা যাতে এই খবরগুলো এমন ভাবে দেন যাতে দুই দেশের সরকার এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এই মানুষগুলোর জন্য।''
বিবিসির ওপর আপনার অনেক আস্থা আছে মি. দাস, সেজন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আমরা আমাদের সাধ্যমত এই বিষয় তুলে ধরছি। আশা করা যায় শীঘ্রই তারা নিজ দেশে ফিরে যেতে পারবেন।
ছোট একটি বার্তা পাঠিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের আশিস মণ্ডল, যিনি বাংলাদেশে আটকে পড়েছেন:
''আমরা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে এসে আমাদের পরিবারের তিন জন আটকে পড়েছি। এখানে আরো অনেক ভারতীয়রা আটকে রয়েছে। এ ধরণের ঘটনা নিয়ে কী ভাবছেন প্রধানমন্ত্রী? আমাদের কী ভারতে ফেরত নেবেন না প্রধানমন্ত্রী?''
আশা করি আপনার বার্তা ভারতীয় সরকারের কাছে পৌঁছাবে এবং আপনারা সবাই বাড়ি যেতে পারবেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষিতে গায়ের রং ফর্সা করা নিয়ে যে বিতর্ক শুরু হয়েছে, তা নিয়ে লিখেছেন বাগেরহাট থেকে তৈমুর হোসাইন:
''শুধু মাত্র জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ফেয়ার এন্ড লাভলির 'ফেয়ার 'কথাটা বাদ দিয়ে যদি সমস্যার সমাধান করা যেত, তাহলে নেলসন ম্যান্ডেলাকে এত সংগ্রাম করতে হত না। জীবন দিতে হত না জর্জ ফ্লয়েডকে। যদিও উপমহাদেশের কোথাও এরকম বর্ণবৈষম্য খুব মারাত্মক না থাকলেও কালো হওয়াটা যে মারাত্মক অস্বস্তির কারণ, তা নিজেকে দিয়ে বুঝি।
''যখন থেকে বুঝতে শিখেছি তখন থেকে দেখছি সমাজে সবাই কোন ব্যাপারে সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতেই উঠে আসতো কালো বা ফর্সা সন্তানের জন্য নানা রকম ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। আবার যখন কলেজে গেলাম, সেখানে দেখলাম যতই মানবিক উদারতার শিক্ষা দেওয়া হোকনা কেন, সেই শিক্ষকই একজন ফর্সা শিক্ষার্থীর গুণগান শুরু করে দিচ্ছেন। তাহলে এর সমাধান কী? সমাজ কি কখনোই কালো আর ফর্সার বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে নিবে না?''
খুবই জটিল বিষয় মি. হোসাইন। সাদা বা ফর্সা প্রীতি সমাজে শিকড় গেড়ে আছে। যে কোন ভাল জিনিস সাদা হিসেবে দেখা হয় আর খারাপ হলেই কালো। কালো টাকা সাদা করা হয়। সুন্দর কিছু কালো হলে সেখানে একটা 'কিন্তু' যোগ করা হয়। এমনকি গায়ের রং কালো হলে সেটাকে 'ময়লা' বলতেও অনেকে দ্বিধাগ্রস্ত হন না।
এ'ধরণের মন-মানসিকতা পাল্টানো খুবই কঠিন। বাচ্চারা বাসায় কী শেখে? তারা প্রাইমারি স্কুলে গিয়েও তো একই জিনিস দেখে, শোনে এবং সেটাই তারা সত্য হিসেবে গ্রহণ করে। কাজেই, এই দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টানো কঠিন কাজ হবে। হয়তো ফেয়ার এ্যান্ড লাভলির ফেয়ার বাদ দিয়ে কিছু একটা শুরু হলো, দেখা যাক প্রক্রিয়াটি কীভাবে চলে।
এবারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী নিয়ে একটি চিঠি, লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:
''প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জন নেহাত কম নয়। সবচেয়ে বড় অর্জন বাংলাদেশকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করে একটি শিক্ষিত জনগোষ্ঠী তৈরি করা এবং বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের সৃষ্টিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখা। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা-উত্তর সকল প্রগতিশীল আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অবিস্মরণীয় ও ঐতিহাসিক।
''কিন্তু বোদ্ধা মহলে ইদানীং যে বিষয়গুলো সবচেয়ে আলোচিত সমালোচিত হচ্ছে তা হলো, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা ও শিক্ষার গুণগত মানে ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়ছে, মুক্ত বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায় কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা রাখতে পারছে না ও প্রগতিশীল আন্দোলনের নেতৃত্ব প্রশ্নে লেজুড়বৃত্তির ভূমিকা পালন করছে। আমি মনে করি, এসব মোকাবেলা করে সামনে এগিয়ে চলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।''
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিশ্চয়ই বহুমুখী উদ্দেশ্য আছে মি. রহমান। তার মধ্যে একটা অবশ্যই দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তোলা - রাজনীতি, অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, বিচার ব্যবস্থা, সব ক্ষেত্রেই ভবিষ্যতের নেতা জন্ম দেয়া বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের কাজ বল গণ্য করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেদিক থেকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। তবে হ্যাঁ, বিশ্ববিদ্যালয়ের মৌলিক কাজ, উচ্চতর শিক্ষা যার অবিচ্ছেদ্য অংশ হচ্ছে মৌলিক গবেষণা, সে জায়গায় ঢাকা পিছিয়ে পড়ছে। এখানে অগ্রসর না হতে পারলে পুরনো দিনের গৌরব ম্লান হয়ে যাবে।
এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:
সুজানা শীল, ঢাকা।
আরিফুল ইসলাম জনি, করিমগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ।
দীপক দেবনাথ, বিলোনিয়া।
ফারশাদ আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম।
মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান, সৈয়দপুর, নীলফামারী।
শাকিল ইকবাল, চট্টগ্রাম।
মোহাম্মদ জনি ইসলাম, রাজশাহী।
সম্পদ কুমার পোদ্দার, শেরপুর, বগুড়া।
জগন্নাথ পাল, ঢাকা।
গোলাম মুকতাদির, রংপুর।
ফয়সাল আহমেদ সিপন, ঘোড়াদাইর, গোপালগঞ্জ।