করোনাভাইরাস: শনাক্ত রোগীর সংখ্যায় ভারত এখন 'টপ টেনে', হোঁচট বিমান চালু করতে গিয়েও

সামাজিক দূরত্বের শর্ত মেনে দিল্লিতে চেক-ইন কাউন্টারে বিমানযাত্রীরা

ছবির উৎস, AAI/Twitter

ছবির ক্যাপশান, সামাজিক দূরত্বের শর্ত মেনে দিল্লিতে চেক-ইন কাউন্টারে বিমানযাত্রীরা
    • Author, শুভজ্যোতি ঘোষ
    • Role, বিবিসি বাংলা, দিল্লি
  • Published
  • পড়ার সময়: ৩ মিনিট

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি করোনাভাইরাস রোগী শনাক্ত হয়েছেন যে সব দেশে, সেই তালিকার প্রথম দশে এখন ভারতও ঢুকে পড়েছে।

ভারতে শনাক্ত হওয়া মোট করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা এখন ১ লক্ষ ৩৯ হাজারেরও বেশি – এবং ইরানকে টপকে গোটা এশিয়াতে ভারতই এখন সর্বোচ্চ অবস্থানে।

গত চব্বিশ ঘন্টায় ভারতে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন প্রায় সাত হাজার – সেটিও একটি নতুন রেকর্ড।

ভারতে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা যখন এমন উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে, তখনই আবার সে দেশে অভ্যন্তরীণ বিমান পরিষেবা আজ থেকে ফের চালু করা হয়েছে।

যদিও দুমাস পর এই বিমান চালু করা নিয়ে বিভ্রান্তি ছিল চরমে, যাত্রীরাও বিরাট ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।

এবং ভারতে যখন চতুর্থ দফার লকডাউনও যখন প্রায় শেষ হতে চলল, তখনই দেখা যাচ্ছে সে দেশে করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা এমন রেকর্ড হারে বাড়ছে।

যাত্রীরা নিরাপত্তারক্ষীকে পরিচয়পত্র দেখাচ্ছেন কাঁচের শিল্ডের আড়াল থেকে

ছবির উৎস, AAI/Twitter

ছবির ক্যাপশান, যাত্রীরা নিরাপত্তারক্ষীকে পরিচয়পত্র দেখাচ্ছেন কাঁচের শিল্ডের আড়াল থেকে

বস্তুত গত চারদিন ধরেই ভারতে শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা রোজ ছহাজার ছাড়িয়ে যাচ্ছে, রোজই প্রায় গত দিনের কের্ড ভাঙছে – এবং গত চব্বিশ ঘন্টায় সেটা সাত হাজারে পৌঁছে গেছে।

ফলে আজকের তারিখে ভারতে এখন মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ লক্ষ ৩৯ হাজারেরও বেশি – এবং গ্লোবাল চার্টে ভারতের অবস্থান এখন আমেরিকা, ব্রাজিল, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, স্পেন, ইটালি, ফ্রান্স, জার্মানি ও তুরস্কের ঠিক পরেই।

বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, করোনাভাইরাস মহামারি ভারতে তুলনায় বেশ কিছুটা দেরিতে ও মন্থর গতিতে শুরু হলেও এখন দেখা যাচ্ছে শুরুর দিকের সেই 'অ্যাডভান্টেজ'টা খুইয়ে ভারত কিন্তু সবচেয়ে বিপন্ন দেশগুলোর তালিকায় দ্রুত উঠে আসছে।

তবু বিমান চালানোর সিদ্ধান্ত কেন?

সরকারের জন্য বিষয়টা অত্যন্ত বিব্রতকর এই কারণে, একটানা চার-চারবার লকডাউন জারি করে দেশ যখন গত বাষট্টি দিন ধরে কার্যত তালাবন্দী এবং লকডাউনের বিধিনিষেধ ক্রমশ শিথিল করা হচ্ছে – তখনই এই চরম আঘাতটা আসছে।

তামিলনাডুর একটি বিমানবন্দরে আজ সকালের দৃশ্য

ছবির উৎস, AAI/Twitter

ছবির ক্যাপশান, তামিলনাডুর একটি বিমানবন্দরে আজ সকালের দৃশ্য।

এখন প্রশ্ন হল, তাহলে এমন একটা পরিস্থিতিতে ভারত বিমান পরিষেবা চালু করার মতো সিদ্ধান্ত কেন নিল?

এর সহজ উত্তর হল, অর্থনীতিকে বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টায় সরকার কার্যত বাধ্য হয়েছে এই সিদ্ধান্ত নিতে।

ভারতের এভিয়েশন বা বিমান পরিবহন সেক্টর দেশের সবচেয়ে গতিশীল শিল্পগুলোর একটি – কিন্তু দুমাসেরও বেশি আকাশে না-ওড়ার পর ভারতের বেসরকারি এয়ারলাইন সংস্থাগুলোর আর্থিক অবস্থা এখন খুবই সঙ্গীন।

লকডাউন উঠলেও এর কোনও কোনওটি নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সেই সম্ভাবনা ঠেকাতেই লকডাউনের মধ্যেই ভারত সীমিত আকারে, মোটামুটি অন্য সময়ের এক-তৃতীয়াংশ ফ্লাইট চালানোর অনুমতি দিয়ে, এই পরিষেবা আজ সোমবার থেকে চালু করেছে।

এমন কী, বিমান পরিবহন মন্ত্রী হরদীপ পুরী এটাও জানিয়েছেন যে সামাজিক দূরত্বের শর্ত মেনে বিমানের মাঝের সিট খালি রাখাও সম্ভব হবে না – কারণ নইলে টিকিটের দাম বহুগুণ বেড়ে যাবে।

প্রথম দিনেই যাত্রীদের ভোগান্তি

কিন্তু সমস্যা হল, দুমাস পর যাত্রীদের প্লেনে চাপার অভিজ্ঞতাও কিন্তু এদিন মোটেই মসৃণ ছিল না।

যার প্রধান কারণ, কেন্দ্রীয় সরকার ফ্লাইট চালানোর সিদ্ধান্ত নিলেও বহু রাজ্য সরকারই সে সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হতে পারেনি।

Skip X post
X কনটেন্টের জন্য কি অনুমতি দেবেন?

এই নিবন্ধে Xএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত X কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।

সতর্কবাণী: তৃতীয়পক্ষের কন্টেন্টে বিজ্ঞাপন থাকতে পারে

End of X post

Banner image reading 'more about coronavirus'
Banner

মহারাষ্ট্র, তামিলনাডুর মতো যে রাজ্যগুলোতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা খুব বেশি, তারা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে এখনই তারা মুম্বাই বা চেন্নাই এয়ারপোর্টে বিমান ওঠানামা করতে দিতে রাজি নয়।

ঘূর্ণিঝড় আম্পানে বিধ্বস্ত কলকাতা বিমানবন্দর খুলে দিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারও তিন-চারদিন বাড়তি সময় চেয়েছে।

ফলত যেটা হয়েছে, শুধু দিল্লি থেকেই আজ নির্ধারিত ৮২টি ফ্লাইটের ওঠানামা বাতিল করতে হয়েছে।

বহু কষ্ট করে দিল্লি এয়ারপোর্টে পৌঁছে যাত্রীরা অনেকে জানতে পেরেছেন, তাদের ফ্লাইট এদিন উড়বেই না।

একই ধরনের ছবি দেখা গেছে মুম্বাই বা ব্যাঙ্গালোর বিমানবন্দরেও – বাতিল হওয়া বিমানের যাত্রীরা হতাশ হয়ে টার্মিনাল বিল্ডিংয়ের বাইরেই বসে পড়েছেন।

বাধ্যতামূলক ওয়েব চেক-ইন করা নিয়েও অনেকেই হিমশিম খেয়েছেন - ফলে বিমান চলাচল শুরু করার চেষ্টা প্রথম দিনেই একটা বড় হোঁচট খেয়েছে।