এডিটার'স মেইলবক্স: করোনাভাইরাসে মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে প্রশ্ন

    • Author, সাবির মুস্তাফা
    • Role, সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা
  • Published

স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় মেডিকেল টেকনোলজিস্ট-এর গুরুত্ব বর্তমান মহামারি পরিষ্কার করে দিয়েছে। কিন্তু তারপরও মেডিকেল পেশার এই শাখাকে অবহেলা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ক্রমশঃ বাড়ছে।

গত সপ্তাহে এই বিষয়ে দুটি চিঠি নিয়েছিলাম। আজকেও শুরু করছি এ'বিষয়ে একটি চিঠি দিয়ে, লিখেছেন নারায়ণগঞ্জ থেকে মোহাম্মাদ মোজাম্মেল হোসেন রাসেল:

''বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সূত্র অনুযায়ী প্রতি ১ জন ডাক্তারের বিপরীতে ৩ জন নার্স এবং ৫ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট থাকা উচিত। সেখানে বাংলাদেশে ৭০ হাজার-এর উপরে ডাক্তার আছে। অথচ, রোগ নির্ণয়কারী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এর পোস্ট আছে ৯,২০০। তাও আবার ২০০৮ সালের পর দীর্ঘ ১২ বছর নিয়োগ নাই। সর্বসাকুল্যে এখন মেডিকেল টেকনোলজিস্টের সংখ্যা মাত্র ছয় হাজার। টেস্ট বা রোগ নির্ণয় তো ডাক্তার বা নার্স করে না, তাদের ট্রেনিংও হয় না। রোগ নির্ণয় মেডিকেল টেকনোলজিস্টরাই করে। এই কোন দেশে বসবাস করছি বুঝি না। যাই হোক, টেস্ট করতে সময় বেশি নেয়া, ভুল রিপোর্ট দেয়া, ভুল মানুষ দিয়ে স্যাম্পল কালেকশন করানো, এগুলো জনগণের সাথে তামাশা করা ছাড়া আর কিছু নয়।''

এই মহামারি অনেক দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা খুব কঠোরভাবে প্রকাশ করে দিয়েছে মি. হোসেন। বাংলাদেশে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট-এর অভাব এবং স্বাস্থ্য সেবার এই শাখার প্রতি অবহেলাও একইভাবে প্রকাশ পেয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, এই অভিজ্ঞতা থেকে কতটুকু শিক্ষা নেয়া হবে।

এবার লিখেছেন বগুড়ার শেরপুর থেকে মোহাম্মদ মাসুদ রানা:

''সরকার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেটা করোনা প্রতিরোধে খুব ভালো সিদ্ধান্ত। কিন্তু আমরা যারা কেজি স্কুলে চাকরি করি, তাদের জীবনযাপন গত দেড় মাসেই দুর্বিহ হয়ে উঠেছে। আমরা না পারছি বউ-বাচ্চার মুখে খাবার তুলে দিতে, না পারছি কারো কাছে হাত পাততে। বেঁচে থাকতেই আমরা নরক যন্ত্রণা ভোগ করছি। সরকার আমাদের জন্য তো কিছুই করছে না বা বলছে না।''

বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক, তা নিয়ে সন্দেহ নেই মি. রানা। দেশে সব অর্থনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়ার ফলে অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিভিন্ন খাতে অর্থ বরাদ্দের কথা শোনা যাচ্ছে কিন্তু সেগুলো মানুষের কাছে কীভাবে পৌঁছাবে, তা নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। আশা করা যায় সরকার শীঘ্রই মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। মহামারি প্রতিরোধ করতে গিয়ে তো আর লক্ষ লক্ষ মানুষকে অনাহারের মুখে ঠেলে দেয়া যায় না।

পরের চিঠি লিখেছেন বরিশালের বাকেরগঞ্জ থেকে মোহাম্মদ মোবারক হোসাইন:

''করোনাভাইরাস আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। মানুষ মারা যাচ্ছে কিন্তু তাদের আত্মীয়-স্বজনরা তাদেরকে রিসিভ করতে পর্যন্ত আসছে না, নিজেদের পরিচয় দিচ্ছে না, মানুষ কতটা নিষ্ঠুর হয়ে গেছে। আজ কোথায় হারিয়ে গেল আমাদের মানবতা? আর যে ভাইরা লাশ দাফন বা সৎকার করছে তাদেরকে অসংখ্য শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি। কিন্তু এতো কিছুর মধ্যেও আমাদের বিনোদনের কোন শেষ নেই। এমপি-মন্ত্রীদের একমুঠো ধান মাথায় নিয়ে ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড দেওয়া। কাঁচা ধান কাটা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের বিনোদনমূলক কার্যক্রম বেড়েই চলেছে। এই মানুষগুলো কবে সচেতন হবে।''

এই ধরণের কার্যকলাপ নিয়ে বিতর্ক আগেও হয়েছে মি. হোসাইন। কিন্তু আপনার প্রশ্ন, মানুষ কবে সচেতন হবে, তার উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। তবে আশা করা যায় যে, এসব কাণ্ড যত জনসমক্ষে প্রকাশ পাবে, ততই তারা লজ্জিত হবেন এবং ভবিষ্যতে এগুলো থেকে বিরত থাকবেন।

এবারে উত্তর কোরিয়া নিয়ে একটি প্রশ্ন, করেছেন পঞ্চগড়ের বড়শশী থেকে মোহাম্মদ উজ্জ্বল ইসলাম:

''উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং আন-এর প্রয়াত হওয়ার খবরটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সহ বেশ কিছু টেলিভিশন চ্যানেল ও অনলাইন পত্রিকায় আলোচনা হচ্ছে। খবরটি কতটুকু সত্য? আর উত্তর কোরিয়ার কোন সংবাদের সত্যতা যাচাই করতে অন্য দেশের গণমাধ্যমগুলোর এতো সময়ের প্রয়োজন হয় কেন?''

ভাল প্রশ্ন করেছেন মি. ইসলাম। কিম জং আনের মৃত্যুর খবরটা আসলে খবর না, গুজব। তিনি সম্ভবত গুরুতর অসুস্থ যে কারণে কয়েক সপ্তাহ তাকে জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে না। তবে তার মৃত্যুর খবর এখনো পর্যন্ত শুধুই গুজব।

উত্তর কোরিয়া কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত, একদলীয় শাসন ব্যবস্থার একটি দেশ। সেখানে কোন স্বাধীন গণমাধ্যম নেই এবং তথ্য প্রবাহ সম্পূর্ণ সরকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সেজন্য বিদেশি গণমাধ্যমগুলোকে বেনামী স্থানীয় সূত্রগুলোর ওপর নির্ভর করতে হয়, যারা অনেক সময় ভুল তথ্য দিয়ে থাকে। এই তথ্যর সত্যতা যাচাই করা কঠিন একটি কাজ যেহেতু দেশটি বহির্বিশ্ব থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন। তবে আমরা এটুকু জানি, মি. কিম সত্যিই যেদিন মারা যাবেন, সে খবর কোন না কোন সময় সেদেশের সরকার ঘোষণা করবে।

এবারে একটি ভিন্ন প্রসঙ্গে যাই। পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে লিখেছেন দিনাজপুর থেকে বাপ্পি রায়:

''ভারতে মুসলমানদের উপর সামান্য একটু সমস্যা হলে তা খবরে তুলে ধরেন । কিন্তু হিন্দুদের উপর জঘন্য অত্যাচার করা হচ্ছে তবুও সেটা তুলে ধরেন না । এ রকম পক্ষপাতিত্বর মানে কি?''

খুবই গুরুতর অভিযোগ করেছেন মি. রায়। কিন্তু এখানে আপনি আমাদের প্রতি একদমই ন্যায়বিচার করছেন না। আপনার অভিযোগ পড়ে মনে হচ্ছে আপনি নিয়মিত আমাদের অনুষ্ঠান দেখেন না, শোনেন না বা অনলাইনেও পড়েন না। যদি করতেন তাহলে এ'ধরণের অভিযোগ আপনার মাথায় আসতো না। আমরা ভারতে মুসলিমদের ওপর জুলুম-নিপীড়ন নিয়ে রিপোর্টিং করি, অবশ্যই করি। যখন কোন দেশে একজন নাগরিককে গরু খাওয়ার সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হবে, তখন তো সেটা গুরুত্বের সাথেই খবর করতে হবে।

একইসাথে, বাংলাদেশে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হিন্দু পাড়ায় হামলা, রামুতে বৌদ্ধ মন্দির ভাংচুর, পাবনায় বা ভোলায় হিন্দু ছেলেকে ফাঁসিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু করার প্রয়াস, সব ঘটনাই আমরা গুরুত্বের সাথে কাভার করেছি। কাজেই, এখানে পক্ষপাতিত্বের প্রশ্নই ওঠেনা।

ভারতে মুসলমানদের ঘিরে প্রায় ঘটনা ঘটে যেটা এই ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য নেতিবাচক। যেমন সম্প্রতি আজান দেয়া নিয়ে একটি বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল, যেটা নিয়ে লিখেছেন পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে শামীম সরকার:

''ভারতে হঠাৎ কেন ট্রেন্ড করছে 'আজান কিছুতেই বন্ধ হবে না'? এই শিরোনামের প্রতিবেদনের শেষে বলা হয়েছে, বছর কয়েক আগে ভারতে বলিউড গায়ক সোনু নিগমও লাউডস্পিকারে আজান দেওয়ার রেওয়াজ বন্ধ করার ডাক দিয়ে প্রবল বিতর্কর সৃষ্টি করেছিলেন। প্রতিবেদনটি কিছুটা হলেও অসম্পূর্ণ, যেমনটা করে থাকে ধর্মীয় বিভাজনকারি ভারতীয় মিডিয়ারা। ইদানীং সোনু নিগমের সেই ২০১৭ সালের পুরনো মন্তব্য নিয়ে নতুন করে নেটিজেনদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।

''বর্তমানে সোনু নিগম ও তার পরিবার লকডাউন এ দুবাইয়ে আটকে আছেন। তাই অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন তোলেন, দুবাইয়ে তো তাকে রোজ আজান শুনতে হচ্ছে। এখন কেন বিরোধিতা করছেন না সোনু? অনেকে আবার সোনুর পুরনো টুইটের স্ক্রিনশট দুবাই পুলিশকে ট্যাগ করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।''

আপনার বক্তব্য আমি ঠিক বুঝতে পারছি না মি. সরকার। আপনি কি বলছেন, আজান নিয়ে রিপোর্ট-এ সোনু নিগমের কথা বলা ঠিক হয়নি, কারণ সেটা ভারতের ধর্মীয় বিভাজনকারি মিডিয়াগুলো করে? এই যুক্তি আমাদের পক্ষে মানা সম্ভব না, কারণ অন্য মিডিয়া কী করলো বা না করলো, সেটা আমাদের বিবেচ্য না। আমরা দেখবো সোনু নিগমের ঘটনা এখানে প্রাসঙ্গিক কি না। আমাদের মতে সেটা প্রাসঙ্গিক।

আর যদি বলেন, সোনু নিগম এখন কোথায় আছেন, সেখানে আজান নিয়ে কী বলছেন, এসব না থাকায় প্রতিবেদন অসম্পূর্ণ রয়ে গেল, সেটাও মানতে পারবো না। কারণ, মি. নিগম কোথায় আছেন, সেটা আমরা জানি না, এবং তিনি এই প্রতিবেদনের বিষয় ছিলেন না।

আবার ফিরে আসছি করোনাভাইরাস প্রসঙ্গে। গত ২৭ এবং ২৮ এপ্রিলে করোনাভাইরাসের উপসর্গসহ মারা যাওয়া লোকজনের সৎকার নিয়ে আমরা কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছি, তার মধ্যে একটিতে ছিল কীভাবে নারায়ণগঞ্জের একজন মুসলিম কাউন্সিলর মৃত হিন্দু ব্যক্তির মুখাগ্নি করেছিলেন। এই বিষয়ে লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:

''আমরা জানি, মাটি চাপা দেবার পর তো সব জীবাণু ধ্বংস হয়ে যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বলেছে, মৃত্যুর তিন ঘণ্টার মধ্যে করোনাভাইরাসের জীবাণু মারা যায়। এটা তখন মানুষের কোন ক্ষতি করতে পারে না। তারপরও যদি কারও সন্দেহ হয়, তবে পূর্ব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। কিন্তু একজন মৃত্যু ব্যক্তির শেষকৃত্য বাধা দেওয়া বা তা এড়িয়ে চলা কোনভাবেই যৌক্তিক ও সমীচীন নয়।

''বিবিসির প্রতিবেদনে দেখলাম আল মারকাজুল ইসলামী নামের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি কিংবা নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকারের নেতৃত্বে একদল স্বেচ্ছাসেবী ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মৃত্যু ব্যক্তির শেষকৃত্যের যে কাজটি নিষ্ঠার সাথে করছেন, তা অত্যন্ত সাহসী ও অনুপ্রেরণামূলক। যে বা যারা এ অনুপ্রেরণামূলক কাজটি করছে তারা সত্যিই এ সময়ের সাহসী সন্তান।''

আমি যতদূর জানি মি. রহমান করোনাভাইরাসে মৃত ব্যক্তিদের সৎকারের ব্যাপারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা আছে এবং সবাইকে সেই নীতিমালা অনুযায়ী কাজটি করতে হয়। সেজন্য সবাইকে পুরোপুরি নিরাপত্তামূলক পোশাক পড়ে সৎকারের কাজটি করতে হয়। আত্মীয়-স্বজনরা চাইলেই সেখানে আসতে পারবেন না।

সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকার অনেক পদক্ষেপ নিলেও অনেক কিছুই বেশি দেরিতে হচ্ছে বলে মনে করেন মাগুরার শ্রীপুর থেকে রিপন বিশ্বাস:

''এই সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার হিমশিম খাচ্ছে ঠিকই কিন্তু পুরোপুরি অসফল নয়। কিন্তু আমার মনে হয়, পদক্ষেপগুলো গ্রহণে কিছু কালক্ষেপণ হয় এবং হচ্ছে। করোনাভাইরাস আক্রান্ত দেশগুলো থেকে অনেক লোক দেশে ঢুকে পড়েছে এবং তাদেরকে যথাযথ তদারকিতে আনা হয়নি। আমাদের অনেক সুযোগ থাকলেও ব্যাপক প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিগুলোর অসতর্কতামূলক কার্যকলাপ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনা এবং ত্রাণ বিতরণ নিয়ে যে ব্যাপক অব্যবস্থাপনা তাতে দেশের যেকোনো সচেতন নাগরিকের চরম লজ্জা পাওয়ার কথা।''

আশ্চর্যের বিষয় এটাই মি. বিশ্বাস, করোনাভাইরাস কী ভয়াবহ রূপ নিতে পারে তা ফেব্রুয়ারি মাসেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল। চীনের অভিজ্ঞতাও বলে দিচ্ছিল এই মহামারি মোকাবেলা করতে হলে কী করতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশসহ অনেক দেশই বিভিন্ন কারণে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়।

গার্মেন্টস খোলা নিয়ে আরো লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:

''দেশজুড়ে এখন লকডাউন। তারপরও করোনা সংক্রমণের হার বেড়েই চলেছে। ঠিক এই পরিস্থিতিতেও ঢাকা এবং ঢাকার আশপাশের প্রায় হাজার খানেক গার্মেন্টস খুলে দেওয়া হয়েছে। এসব গার্মেন্টস মালিকদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই পোশাক তৈরির কাজ চালিয়ে নেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে পোশাক শিল্পে কর্মরত এই হাজার হাজার শ্রমিকদের মাঝে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা কি আদৌ সম্ভব?

''এই মূহুর্তে পোশাক কারখানাগুলি খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক হয়েছে আমি জানিনা, তবে এটি নিশ্চিত করে বলা যেতে পারে, গার্মেন্টসগুলি খুলে দেওয়ার ফলে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বহু গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এখানে সরকারের আসলেই কি কিছু করার ছিল না?''

সরকার যেহেতু সারা দেশে পরিবহন, অফিস-আদালত দোকান-পাট বন্ধ করে দিতে পেরেছে, তাই কল-কারখানা বন্ধ রাখাও তার পক্ষে অবশ্যই সম্ভব। কিন্তু গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ থাকলে বাংলাদেশ বাজার হারাবে, হয়তো এই ভয় থেকে তারা মালিকদের কারখানা খুলতে নিষেধ করতে পারছে না। আবার এটাও ঠিক যে, গার্মেন্টস মালিকরা সংগঠিত, তারা রাজনৈতিকভাবে খুবই প্রভাবশালী এবং সরকার তাদের স্বার্থ সম্পর্কে সচেতন।

এবারে আমাদের রেডিও অনুষ্ঠান নিয়ে একটি প্রশ্ন, লিখেছেন গোপালগঞ্জের ঘোড়াদাইর থেকে আফিয়া খানম জুলী:

''প্রবাহ অনুষ্ঠানে প্রচারিত বাংলাদেশ সংক্রান্ত খবরগুলির অধিকাংশই পরিক্রমাতে পুনঃপ্রচার করা হচ্ছে। এতে বাংলাদেশের শ্রোতারা পরিক্রমা শুনতে আগ্রহ হারাচ্ছেন বলে মনে করি। বিষয়টিতে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।''

দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য ধন্যবাদ মিস খানম। তবে আমার মনে হয় যারা পরিক্রমা শুনছেন তারা আগ্রহ হারাবেন না। অনেক শ্রোতা আছেন যারা সময়ের অভাবে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় অনুষ্ঠান শুনতে পান না। তাদের কাছে কিন্তু কোন কিছুই পুনঃপ্রচার না। আর যারা প্রবাহ শোনেন তাদের জন্যও কিছু নতুন খবর থাকে এবং নতুন ফিচার থাকে।

সব শেষে. আমাদের পরিবেশনায় আন্তর্জাতিক সংবাদের অভাব নিয়ে লিখেছেন মুশফেক:

''আমি ৪০ বছর ধরে বিবিসি শুনছি। ইদানীং আপনাদের অনুষ্ঠানে শুধু বাংলাদেশি খবর। পৃথিবীতে কত কিছু ঘটছে কিন্তু আপনার সেগুলো এড়িয়ে যান। অনুষ্ঠানে থাকে বাংলাদেশের তিন-চারটি খবর যেগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ না, একটি আন্তর্জাতিক খবর, ভারতের বড়জোর একটি খবর, আর সংক্ষেপে কিছু আন্তর্জাতিক খবর। তাতেই আপনাদের কাজ শেষ।

''ইদানীং ফেসবুকে কী ট্রেন্ড করছে সেটাও শুরু করেছেন। আপনারা কি বিবিসি শ্রোতাদের ম্যাচুর ভেবে আরো বেশি আন্তর্জাতিক খবর দিতে পারেন?''

আমরা সব সময় আমাদের অডিয়েন্সকে ম্যাচুরই ভাবি মি. মুশফেক। কিন্তু অনেক বছর ধরেই আমরা দেখেছি শ্রোতা-পাঠকরা দেশের খবরের প্রতি বেশি আগ্রহী। সেজন্য ঢাকায় আমাদের বড় অফিস স্থাপন করা হয়েছে, যাতে বাংলাদেশের খবর আমরা আরো বেশি সংগ্রহ এবং প্রচার করতে পারি। তার মানে এই না যে এখানে শুধু দেশি খবরই থাকবে। বিবিসি একটি আন্তর্জাতিক মাধ্যম এবং এখানে আন্তর্জাতিক খবরের গুরুত্ব সব সময়ই আছে। আমাদের ওয়েবসাইট দেখলেই সেটা বোঝা যায়। তবে হ্যাঁ, ৩০ মিনিটের রেডিও অনুষ্ঠানে পাল্লাটা বাংলাদেশের খবরের দিকেই একটু ভারি থাকে।

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার:

জাহিদুল ইসলাম, বরিশাল।

মোহাম্মদ আহমেদুল কবির বাবুল, ঢাকা।

ফয়সাল আহমেদ সিপন, ঘোড়াদাইড়, গোপালগঞ্জ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম হোসেন, ঢাকা।

মোহাম্মদ ওমর ফারুক, কুয়াকাটা, পটুয়াখালী।

মোহাম্মদ শিমুল বিল্লাল বাপ্পী, কপিলমুনি খুলনা ।

হাসান আল সাইফ, দৌলতপুর, কুষ্টিয়া।

মোহাম্মদ শীরফুল আলম, ঢাকা।

সৈয়দ সাজ্জাদুল ইসলাম নাদিম, মানামা, বাহরাইন।

কাউসার আহমেদ, ঢাকা।