করোনাভাইরাস: মহামারি মোকাবেলায় মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগ থেকে তারাবির নামাজ নিয়ে প্রশ্ন

    • Author, সাবির মুস্তাফা
    • Role, সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা
  • Published

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারি অদূর ভবিষ্যতে শেষ হবে কি না, তা নিয়ে কেউ এখনো নিশ্চিত নন। বরঞ্চ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সহ অনেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলছেন, কোভিড ১৯ আরো অনেক দিন থাকবে।

সেরকম দুশ্চিন্তা নিয়ে অনেকেই চিঠি লিখেছেন, প্রশ্ন করছেন, মতামত প্রকাশ করছেন। গত কয়েক সপ্তাহের মত আজকেও মূলত করোনাভাইরাস সংক্রান্ত চিঠি-পত্রই এখানে অগ্রাধিকার পাবে।

তাহলে শুরু করা যাক। প্রথমে রমজান মাসে নামাজ পড়া নিয়ে একটি চিঠি, লিখেছেন রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে মুশফিকুর রহমান ওলিউল্লাহ:

''গত ২২শে এপ্রিল বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পড়ে জানতে পারলাম যে, রমজান মাসে টেলিভিশনের মাধ্যমে তারাবির নামাজ পড়ার পরিকল্পনা চলছে। আমার মতে এটা করা ঠিক হবেনা। কারণ, প্রথমত মুসল্লিরা মসজিদে গিয়ে জামাতে তারাবির নামাজ পড়ার স্বাদ পাবেন না। দ্বিতীয়ত, টেলিভিশন সামনে রেখে নামাজে দাঁড়ালে মনোযোগ ব্যাহত হবে। তাই মুসল্লিদের যন্ত্র নির্ভর না হয়ে এই সংকটময় মুহূর্তে তারাবির নামাজ নিজ নিজ গৃহে পড়া উচিত।''

আমি যতদূর জানি মি. ওলিউল্লাহ, তারাবি এবং অন্যান্য সকল নামাজ বাসায় পড়ার পরামর্শই দেয়া হচ্ছে। টেলিভিশনে তারাবির নামাজ পরিচালনা করা হলে অনেকে উপকৃত হতে পারেন, আর যাদের মনোযোগ ব্যাহত হতে পারে তারা টেলিভিশন বন্ধ করেই নামাজ পড়তে পারেন।

বাংলাদেশে যে বিষয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে, তা হলো মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগ না করা বা করা নিয়ে। এই নিয়ে প্রথম চিঠি লিখেছেন ঢাকা থেকে আবু হানিফা সুমন:

''সবাই টেস্ট বাড়াতে চায় কিন্তু মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগের কথা বলে না। অথচ টেস্ট বাড়াতে মেডিকেল টেকনোলজিস্টের কোন বিকল্প নাই। মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা প্রতিদিন অতিরিক্ত পরিশ্রম করে চলছে। দুই-তিন উপজেলা মিলে একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট। এমতাবস্থায় ছয় হাজার নার্স নিয়োগ হচ্ছে, কিন্তু মেডিকেল টেকনোলজিস্টের কোন খবর নাই।''

এই বিষয়ে আরো লিখেছেন গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া থেকে বিপুল মণ্ডল:

''আমি একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট । আমরা সবাই জানি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে প্রতি একজন ডাক্তারের সাথে তিনজন নার্স এবং পাঁচজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট থাকা উচিত। আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পারলাম দেশে জরুরি ভিত্তিতে ২,০০০ ডাক্তার ও ৬,০০০ নার্স নিয়োগ করা হবে। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট কেন নিয়োগ দেয়া হবে না?

''এখানে উল্লেখ্য করা যেতে পারে যে, গত ১০ থেকে ১১ বছর যাবত কোন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগ করা হয় নাই। যদিও এ বিষয়ে একটি মামলা দেশের উচ্চতর আদালতে চলমান প্রায় একই সময় যাবত। একটি মামলা শেষ হতে কি এতো সময় লাগে যেখানে দেশে হাজার হাজার মেডিকেল টেকনোলজিস্ট বেকার?''

আপনাদের দু'জনকেই ধন্যবাদ মি. আবু হানিফা এবং মি. মণ্ডল। চলমান মামলা নিয়ে কোন মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে এ'টুকু বলা যায় যে, করোনাভাইরাস মহামারি প্রতিহত করার জন্য যা কিছু করার আছে, তার মধ্যে সন্দেহভাজনদের টেস্ট করা হচ্ছে অন্যতম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, টেস্টিং হচ্ছে সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

এই কাজের জন্য যে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লোকবল প্রয়োজন তা নিয়ে কোন বিতর্ক নেই। তাহলে জরুরি ভিত্তিতে কেন নিয়োগ করা হচ্ছে না, সেটা অবশ্যই যুক্তিসঙ্গত একটি প্রশ্ন। আর মি. মণ্ডলের কথা যদি ঠিক হয় যে, বাংলাদেশে হাজার হাজার মেডিকেল টেকনোলজিস্ট বেকার, তাহলে তো কোন অজুহাতই থাকে না।

বিভিন্ন জায়গায় করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীরা যে বৈষম্য এবং হয়রানীর শিকার হচ্ছেন, ত নিয়ে লিখেছেন স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর ফার্মেসি অনুষদ থেকে কাব্য সাহা:

''একজন করোনা রোগী কি ইচ্ছেকৃতভাবে সংক্রমিত হয়েছে? কেউ কি শখ করে কখনো রোগী হতে চায়? একজন অসুস্থ মানুষকে সহানুভূতি বা সামান্য সাহস দিলে সে অর্ধেক ভালো হয়ে যায়। সেখানে আমরা একজন সংক্রমিত মানুষকে অবহেলা অবজ্ঞা করছি।

''এক শ্রেণীর মানুষ তার মা অথবা পরিবারের কেউ সংক্রমিত হওয়াতে রাস্তায় ফেলে আসছে,আবার কেউ ভাড়াটিয়া বলে বাসা ছাড়তে বলছে,এমনকি ডাক্তারদেরও বাসা ছাড়তে কেউ কেউ বাধ্য করছে,নানা ভাবে অপদস্থ করছে। আমাদের বিবেকের শুভ উদয় কবে হবে?

''একজন করোনা রোগী মানেই সে সমাজ থেকে বিতাড়িত, তা কিন্তু নয়। তার থেকে সামাজিক দূরত্ব রাখতে হবে, সচেতন থেকে সহানুভূতিটুকু দিতে হবে। এইটাই মানুষের করনীয় হওয়া উচিত। করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ফিরে আসা কোন মানুষকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন নয়, বরং সহমর্মিতার সহিত তাকে গ্রহণ করতে হবে।''

আপনার সেন্টিমেন্টের সাথে সবারই একমত হওয়া উচিত মি. সাহা। শুধু সেন্টিমেন্ট না, আপনার কথা যে সম্পূর্ণ যুক্তিসঙ্গত সেটাও কেউ অস্বীকার করবেন না। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে অজ্ঞতা, প্রাচীন আমলের কিছু কুসংস্কার এবং সেটা থেকে সৃষ্ট ভয়। এই অযৌক্তিক ভয়ই মানুষকে, এমনকি সাধারণত কাণ্ডজ্ঞানসম্পন্ন মানুষকে, বুদ্ধিহীন, এমনকি বিবেকহীন করে তুলতে পারে।

একই বিষয়ে লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:

''করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী, স্বাস্থ্যসেবী, মৃত ব্যক্তি এদের সবাইকে অনেকে অচ্ছুৎ মনে করছে যা খুবই দুঃখজনক। এটা সম্পূর্ণ আমাদের মন মানসিকতার বিষয়। যেখানে আমাদের পূর্বসতর্কতার পাশাপাশি মানবিক ও সহনশীল দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হওয়া দরকার, করোনা যোদ্ধাদের সর্বতো সহযোগিতা করা দরকার, সেখানে আমরা এর উল্টো আচরণ করছি। এটা কোনক্রমেই প্রত্যাশিত নয়। এক্ষেত্রে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে এবং আমি মনে করি এক্ষেত্রে সরকার ও গণমাধ্যম কার্যকর ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে পারে।''

আপনার সাথে আমি একমত মি. রহমান, যে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে সরকারের ভূমিকাই যথেষ্ট নয়। গণ মাধ্যম এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান যাদের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের ওপর মানুষের আস্থা আছে, তারা সবাই একটি ভূমিকা পালন করতে পারে। সঠিক তথ্য এবং ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ দেয়ার সাথে সাথে ভুয়া তথ্য এবং কুসংস্কার ভেঙ্গে দেয়াও গণমাধ্যমের কর্তব্য বলে আমরা মনে করি।

সচেতনতা বাড়াতে মসজিদের ইমাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন বলে মনে করছেন হারাধন দেবনাথ, যিনি চট্টগ্রামের বাসিন্দা:

''দেশের ৫০ শতাংশ লোক সরকারের নির্দেশ মেনে চলছে। বাকিদের মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে বুঝানো সম্ভব হবে মনে হয়। কেননা সারা দেশে এক যোগে মসজিদে মাইক ব্যবহার করা হয়। করোনা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা সকল মসজিদে পাঠানো হলে ইমামগ নামাজের পরে মানুষকে সচেতন করতে পারেন। এই সচেতনতামূলক কাজ দৈনিক পাঁচবার সারাদেশে একযোগে করা যাবে''

এক সময় নামাজের আগে বা পরে সমবেত মুসুল্লিদের উদ্দেশ্যে ইমামরা বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতামূলক কথা বলতেন মি. দেবনাথ। তবে এখন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য মসজিদে পাঁচজনের বেশি জমায়েত নিষিদ্ধ। সেক্ষেত্রে লাউড স্পিকারের মাধ্যমে এলাকাবাসীদের প্রতি সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য আবেদন তারা করতে পারেন। তবে সেটা কতটা কার্যকরী হবে তা নিয়ে সন্দেহ থাকতে পারে।

মানব সভ্যতার ওপর করোনা।ভাইরাসের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন করে লিখেছেন চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থেকে মোহাম্মদ রেজাউল রহিম:

''এই গতকাল বা পরশুও যে মানব জাতিকে মনে হতো শিক্ষায়, বিজ্ঞানে, প্রযুক্তিতে সেরা, যার হাতের মুঠোয় বিশ্ব, সেই মানুষ এখন সবচেয়ে বড় যুদ্ধের মুখোমুখি। শত্রু অদৃশ্য, অচেনা। এবার হয়তো বদলে যাবে সম্পর্ক, বদলে যাবে প্রেম, ভ্রাতৃত্ববোধ। এই যে এতটা সময় এক যোগে সারা বিশ্বের মানুষ চর্চা করছে মানুষ থেকে দূরে থাকার, ছোঁয়া - বাঁচিয়ে চলার। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কি পড়বে না মানুষের জীবন চর্চায় ?''

পড়বে তো বটেই মি. রহিম। অনেকেই বলছেন, পরিস্থিতি যখন স্বাভাবিক হবে তখন বিশ্ব আর পূর্বের অবস্থায় ফিরে যেতে পারবে না। সামাজিক আচার-আচরণের ওপর করোনাভাইরাস বড় প্রভাব রেখে যাবে। কিন্তু পরিবর্তনগুলো কেমন হবে এবং সেগুলো আদৌ সাধারণ জনগণের কল্যাণে হবে কি না, সেটা নিয়েই চলছে দুশ্চিন্তা।

পরের চিঠি লিখেছেন চাঁপাই নবাবগঞ্জের হরিশপুর থেকে মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন:

''আজ-কাল খুব প্রয়োজন ছাড়া বাহিরে যাচ্ছি না। তাই বলা যায় বিবিসি বাংলা সাথে নিয়মিত মিলিত না হয়ে পারছি না। বিবিসি বাংলায় করোনা নিয়ে বিভিন্ন তথ্য পাচ্ছি। এখন ফোন-ইন এর সময় করোনা নিয়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের প্রশ্নোত্তর খুবই ভালো লাগছে। আর সামাজিক মাধ্যমে আলোচিত বিষয় নিয়ে আলোচনাও খুব আকর্ষণীয়। প্রতিদিনই বিবিসি বাংলায় করোনা নিয়ে বিভিন্ন বিষয় জানছি। সচেতন হচ্ছি এবং অন্যকেও বলছি। তাই সবার উচিৎ সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, হাঁচি-কাশির সময় টিস্যু-রুমাল ব্যবহার, মাস্ক ব্যবহার ইত্যাদি অভ্যাস করা।''

আমাদের অনুষ্ঠান শুনে আপনি করোনাভাইরাস সম্পর্কে জানছেন এবং সতর্ক হচ্ছেন জেনে আমাদের ভাল লাগল মি. হোসেন। আশা করি আপনার বন্ধুরা আপনার পরামর্শ অনুযায়ী নিজেদের নিরাপদ রাখছেন।

পরের চিঠি লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:

''গত মঙ্গলবার (একুশ এপ্রিল) কাদির কল্লোল-এর প্রতিবেদন থেকে জানা গেলো, করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী যারা শনাক্ত হয়েছেন বাংলাদেশে, তাদের মধ্যে পনেরো শতাংশই ডাক্তার এবং নার্স সহ চিকিৎসা কর্মী রয়েছেন। পরিষ্কার বোঝা যায় ডাক্তার, নার্স এবং চিকিৎসা কর্মীরা কেউই সুরক্ষিত নয়। কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বার বার বলা হচ্ছে সুরক্ষা সরঞ্জামের কোন ঘাটতি নেই। সব মিলে এমনটা মনে হচ্ছে, করোনা মোকাবেলায় যথাযথ পরিকল্পনা এবং সমন্বয়ের যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে।''

পরিকল্পনা এবং সমন্বয়ের ঘাটতি নিয়ে অভিযোগ অনেকে করেছন এবং বিবিসিতেও এ'নিয়ে প্রতিবেদন প্রচার করা হয়েছে মি. সরদার। তবে ডাক্তার, নার্স, ওয়ার্ড কর্মী, পরিচ্ছন্নতা কর্মী সহ যারা হাসপাতালে কাজ করেন, তাদের নিরাপত্তা শত ভাগ নিশ্চিত করা সম্ভব কি না, তা আমি জানি না। অন্যান্য সময়েও হাসপাতালগুলোতে নানা ধরণের সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে। বর্তমান সময়ে সংক্রমণের সম্ভাবনা বহুগণ বেশি। সেজন্য এখন নিরাপত্তা সরঞ্জাম অনেক বেশি প্রয়োজন।

বাংলাদেশে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর লকডাউনের প্রভাব নিয়ে লিখেছেন খুলনার কপিলমুনি থেকে মোহাম্মদ শিমুল বিল্লাল বাপ্পী:

''বাংলাদেশে করোনা মহামারির কারণে একমাসের অধিক দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। সরকার ছাত্রদের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে টেলিভিশনে ক্লাস নেবার ব্যবস্থা করেছে। আমার প্রশ্ন, এই মহামারির সময় যারা করোনাভাইরাস আক্রান্ত হচ্ছে তাদের বাসার ছাত্ররা কীভাবে লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করবে? বাংলাদেশের সকল গ্রাম শহর নগর হাওর উপকূলীয় এলাকায় সকলের বাসায় কি টেলিভিশন আছে? তাহলে এই ক্লাস নেবার কারণে কিছু ছাত্র উপকৃত হচ্ছে আর কিছু ছাত্র শিক্ষা ব্যবস্থা হতে বঞ্চিত হচ্ছে নয় কি?''

বিষয়টি আপনি ঠিকই ধরেছেন মি. বিল্লাল। অনেকের বাসায় টেলিভিশন আছে, কিন্তু যাদের নেই তারা তো বঞ্চিত হবেই। তবে এটাও ঠিক, কোন পরিকল্পনা ছাড়া জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে এই ব্যবস্থা দীর্ঘ মেয়াদী হবার সম্ভাবনা কম। আমি নিশ্চিত সব স্তরের শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য চিন্তা-ভাবনা সরকারি মহলে শুরু হয়েছে।

আমাদের টেলিভিশন অনুষ্ঠান বিবিসি প্রবাহর একটি প্রতিবেদন, যেটা আমাদের ওয়েবসাইট এবং ইউ টিউব চ্যানেলেও দেয়া হয়েছে, সেটা নিয়ে লিখেছেন ঝিনাইদহ থেকে কাজী সাঈদ:

"করোনাভাইরাস: বাংলাদেশে আক্রান্ত হয়ে সেরে ওঠা কয়েকজনের অভিজ্ঞতা" শিরোনামে বিবিসি বাংলার ভিডিও প্রতিবেদনটি খুবই ভালো লাগলো। এখানে রোগীদের দৃঢ় মনোবল এবং পরিবার ও কাছের মানুষগুলোর সহযোগিতা যে কতটা জরুরি তা খুব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। আমি বিশ্বাস করি এরকম কঠিন মুহূর্তে এ ধরনের প্রতিবেদন অনেক মানুষকে সাহায্য করবে। আশাকরি বিবিসি বাংলা এমন আরো প্রতিবেদন তৈরি করবে , বিশেষ করে লকডাউন এর আওতায় গ্রামীণ জনপদের অবস্থাগুলো তুলে আনা খুবই জরুরি।''

প্রতিবেদন ভাল লেগেছে জেনে আমাদের ভাল লাগল মি. সাঈদ। আমি আপনার সাথে একমত যে, এই মহামারি এবং লকডাউন কীভাবে গ্রামীণ মানুষের জীবন বদলে দিয়েছে, তা নিয়ে প্রতিবেদন করা উচিত। আমরা সেই পরিকল্পনা করছি, তবে এখানে সহকর্মীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতেই হবে।

সব শেষে, আমাদের ওয়েবসাইটে বাইলাইন দেয়ার নিয়ম নিয়ে একটি চিঠি, লিখেছেন পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি থেকে তন্বী, রাইসা, ইভা এবং তুবা:

''আপনাদের প্রকাশিত প্রতিবেদনের কোনটায় প্রতিবেদকের নাম উল্লেখ থাকে, আবার কোনটায় প্রতিবেদকের নাম থাকে না। তাই প্রশ্ন হলো, আপনাদের কোন্ প্রতিবেদনে প্রতিবেদকের নাম উল্লেখ থাকে, আর কোন্ প্রতিবেদনে প্রতিবেদকের নাম উল্লেখ থাকে না?''

কিছু রিপোর্ট লেখা হয় যেগুলো বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশিত তথ্য দিয়ে তৈরি, যেমন কোন সংবাদ সংস্থা, নিউজ পোর্টাল, পত্রিকা, টেলিভিশন ইত্যাদি। সেগুলোতে প্রতিবেদকের নাম থাকে না। যেগুলো বিবিসির নিজস্ব প্রতিবেদন কিন্তু আমরা ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদ করেছি, সেটাতে মূল প্রতিবেদকের নাম থাকে। আর যেগুলো আমাদের সাংবাদিকের নিজস্ব অনুসন্ধান, সাক্ষাৎকার এবং খবর সংগ্রহ থেকে তৈরি, সেগুলোতে প্রতিবেদকের নাম থাকে। তাছাড়া, যেসব প্রতিবেদনে শুধু মাত্র কোন ঘটনার বিবরণ থাকে, তাতে প্রতিবেদকের নাম দেয়া হয় না। কিন্তু যে কোন ঘটনার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনগুলোতে প্রতিবেদকের নাম দেয়া হয়।

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার:

পাভেল মৃধা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

চিন্ময় দাস, খুলনা।

হাসান আল সাইফ, দৌলতপুর, কুষ্টিয়া।

রাজিব হুসাইন রাজু, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ।

ফয়সাল আহমেদ সিপন, ঘোড়াদাইড় , গোপালগঞ্জ ।

মোহাম্মদ ফাহাদ শেখ, রামপাল, বাগেরহাট।

মোহাম্মদ তানজিলুর রহমান, ঢাকা।

আবু হানিফা সুমন, ঢাকা।

বিকাশ বাড়ৈ, কোটালিপাড়া, গোপালগঞ্জ।

আজিজুর রহমান শাহাদাত, নোয়াখালী।

সাইয়িদ মাহমুদ তসলিম, বাফালো, নিউ ইয়র্ক।

দেব প্রসাদ রায়, রংপুর।

মাকামে মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

কামাল হোসেন, শারজাহ, সংযুক্ত আরব আমীরাত।