হোলি আর্টিজানে হামলা নিয়ে কোন সিনেমায় অবিন্তা কবিরের চরিত্র রাখলে আইনি ব্যবস্থা, বলছে পরিবার

হোলি আর্টিজান বেকারি

ছবির উৎস, হোলি আর্টিজান বেকারি

ছবির ক্যাপশান, হোলি আর্টিজান বেকারি
    • Author, রাকিব হাসনাত
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
  • Published

বাংলাদেশে ২০১৬ সালের হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় নিহত বাংলাদেশিদের একজন অবিন্তা কবিরের পরিবার একটি উকিল নোটিশ দিয়ে বলছে, হোলি আর্টিজানের ঘটনা নিয়ে কেউ কোন চলচ্চিত্র বা ওইরকম কিছু তৈরি করলে সেখানে এমন কোন চরিত্র রাখা যাবে না, যা অবিন্তা কবিরের সাথে মেলে।

২০১৬ সালের পহেলা জুলাই রাতে গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় দু'জন পুলিশ সদস্যসহ ২২ জন নিহত হন।

বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ এই সন্ত্রাসী হামলায় শেষ পর্যন্ত সৈন্যদের কমান্ডো অভিযানে নিহত হয়েছিলো পাঁচ জঙ্গি।

বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তৈরি করা ওই ঘটনায় জঙ্গিরা ওই রাতে ২০ জনকে হত্যা করে যাদের ৯ জন ইতালি, ৭ জন জাপান, ৩ জন বাংলাদেশী এবং ১ জন ভারতীয় নাগরিক।

এদের মধ্যে অবিন্তা কবির ছিলেন তার বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। এখন তার পরিবার 'অবিন্তা কবির ফাউন্ডেশন' নামে একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানও গড়ে তুলেছে।

সেই ফাউন্ডেশন বলছে হোলি আর্টিজান বেকারিতে সংঘটিত ঘটনা নিয়ে কেউ যদি কোনো নাটক, সিনেমা, টেলি ফিল্ম, গল্প উপন্যাস বানাতে চান তাহলে তাতে এমন কিছু রাখা যাবেনা যা অবিন্তা কবিরের চরিত্র বা এমন কোনো চরিত্র করা যাবেনা যাতে করে সেটি অবিন্তা কবির মনে হতে পারে।

কমান্ডো অভিযানের মাধ্যমে জিম্মিদশার ইতি হয়েছিলো

ছবির উৎস, আকবর হোসেন

ছবির ক্যাপশান, কমান্ডো অভিযানের মাধ্যমে জিম্মিদশার ইতি হয়েছিলো

এ নিয়ে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আইনজীবীদের মাধ্যমে একটি বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছে গণমাধ্যমে।

যাতে বলা হচ্ছে, "হোলি আর্টিজানকে কেন্দ্র করে কোনোরূপ মিডিয়া নির্মাণের মাধ্যমে সেসকল ঘটনা আবার জনগণের মাঝে প্রচার করলে, তা কেবল সেই দুর্ঘটনার করুণ এবং কষ্টদায়ক স্মৃতিগুলোকেই আবার জাগিয়ে তুলবে, যা অবিন্তার মা ও তার পরিবার প্রতিনিয়ত ভুলে থাকার সংগ্রাম করে যাচ্ছেন"।

আইনজীবী ওমর এইচ খান ও মিতি সানজানা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থকে এ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বলেছেন অবিন্তা কবিরের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সাদৃশ্য রয়েছে এমন কিছু তুলে ধরলে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন তারা।

মিতি সানজানা বিবিসি বাংলাকে বলছেন তারা একটি পাবলিক নোটিশ ও কিছু লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছেন বাংলাদেশ ও ভারতে।

হোলি আর্টিজান হামলার ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী রাকিবুল হাসান রিগ্যান

ছবির উৎস, দেলোয়ার হোসেন বাদল

ছবির ক্যাপশান, হোলি আর্টিজান হামলার ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীদের একজন রাকিবুল হাসান রিগ্যান

কেনো এই আইনি পদক্ষেপের চিন্তা

মিতি সানজানা বলছেন ভারতে কয়েকটি সুপরিচিত প্রতিষ্ঠান আলাদাভাবে ও বাংলাদেশেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান মিলে একটি যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে হোলি আর্টিজান নিয়ে সিনেমা বা মোশন পিকচার নির্মাণের।

"ভারতে ভিভেশ প্রডাকশনস ও তিত্তার লজ প্রডাকশনস এমন উদ্যোগ নিয়েছিলো। ভিভেশের হয়ে মহেশ ভাট এসেছিলেন ও একজন ভিকটিম ফ্যামিলির সাথেও যোগাযোগ করেছিলেন। তার স্কুলসহ নানা জায়গায় গিয়েছেন। তাদের উভয়কেই জানানো হয়েছে অবিন্তা কবিরের পরিবারের অবস্থান। তারা শেষ পর্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করে তাদের উদ্যোগ স্থগিত করেছেন"।

মিতি সানজানা বলছেন বাংলাদেশেও তিনটি প্রতিষ্ঠান যৌথ উদ্যোগে একটি চলচ্চিত্র তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে ও তাদেরকেও তারা আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন।

তবে তাদের দিক থেকে এখনো কোনো জবাব বা সিদ্ধান্ত এখনো তারা পাননি।

এছাড়া কোলকাতাতেও একজন এমন একটি উদ্যোগ নিয়েছেন সেখানেও নোটিশ দেয়া হয়েছে।

অবিন্তা কবির ফাউন্ডেশনের এই আইনজীবী বলছেন, "মনে রাখতে হবে যে ঘটনা অনেকের কাছে ভালো গল্প বা সিনেমার প্লট সেটিই কারও জীবনে অবর্ণনীয় কষ্টের ঘটনা। অবিন্তা কবিরের পরিবারের অবস্থান হলো তাদের অনুমতি ছাড়া অবিন্তা কবিরের চরিত্র তুলে ধরা যাবেনা বা এমন কোনো চরিত্র রাখা যাবেনা যেটি অবিন্তা কবির মনে হতে পারে"।

ভিডিওর ক্যাপশান, হোলি আর্টিজান হামলার পুরো ঘটনাপ্রবাহ

আইনগত ব্যবস্থা কি নেয়া যায়?

বিশ্বজুড়ে আলোচিত বহু ঘটনা নিয়ে অনেক নাটক সিনেমা উপন্যাস যেমন হয়েছে তেমনি আরও অনেক মাধ্যমে নানাভাবে এসব ঘটনা উঠেও এসেছে।

এক্ষেত্রে হোলি আর্টিজান বেকারির ভয়াবহ ঘটনা নিয়ে কেউ যদি নাটক সিনেমা বানাতে চান তাহলে এ ধরণের আইনি নোটিশ দিলে উদ্যোক্তাদের জন্য আইনে সেটি মানতে কোনো বাধ্যবাধকতা আছে কি?

এমন প্রশ্নের জবাবে মিতি সানজানা বলেন মনে রাখতে হবে বিষয়টি এখনো উচ্চ আদালতে বিচারাধীন আছে ও এর সাথে দেশের ভাবমূর্তির বিষয় জড়িত আছে।

"আর উনারা (সিনেমা উদ্যোক্তারা) তো ব্যবসা করবে। তারা ছবি নির্মাণ করতে পারেন অনেক বিষয়েই। কিন্তু সংবিধানে রাইট টু প্রাইভেসি আছে। এমনভাবে ফ্রিডম চর্চা করতে পারবোনা যেটা অন্যের অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে। হোলি আর্টিজানে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে যেটা অত্যন্ত জঘন্য ও নিষ্ঠুর। এখন এগুলো নিয়ে মুভি হলে শোরগোল হবে যা অবিন্তার পরিবার চাননা"।

তিনি বলেন নরওয়ে সামার ক্যাম্পে ৭৩ বাচ্চাকে হত্যার ঘটনা নিয়ে মুভি হয়েছে এবং এখানেও হতে পারে।

"তবে যাদের চরিত্র তুলে ধরা হবে তাদের পরিবারের অনুমতি নিতে হবে অবশ্যই। কেউ যদি অনুমতি না দেয় তাহলে তাকে এর বাইরে রাখতে হবে"।

অবশ্য আইনজীবী ব্যারিস্টার জোতির্ময় বড়ুয়া বিবিসিকে বলছেন সুনির্দিষ্ট কোনো আইন নেই বিষয়ে।

"তবে সংসদে পাশ হওয়া আইন না থাকলেও অনেক সময় প্রচলিত প্রথা, অন্য দেশের বিধান, আদালতের আদেশের নজির এসব বিষয় বিবেচনায় নেয়া হয় । রাইট টু প্রাইভেসি -সবার সাংবিধানিক অধিকার। কারণ একজন মানুষ অলরেডি সাফারার। এখন তাকে নিয়ে কোনো কিছুতে তিনি আপত্তি করলে তার অনুমতি নেয়ার বিষয় আছে"।

মিস্টার বড়ুয়া বলেন বাংলাদেশে নজির না থাকলেও অন্য দেশে এমন বিষয় আদালতে এসেছে। এ ধরণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের মতামতকে গুরুত্ব দেয়ার নজির আছে।

"নজির, প্রথা এগুলো বিবেচনা করতে পারে আদালত। তবে চূড়ান্তভাবে নির্ভর করবে আদালত কিভাবে বিষয়গুলো দেখছেন তার ওপর"।