ঢাকায় ভোটের আগে সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রকাশ করা জরিপ নিয়ে বিতর্ক

সজীব ওয়াজেদ

ছবির উৎস, SAJEEB WAZED FACEBOOK PAGE

ছবির ক্যাপশান, সজীব ওয়াজেদ
    • Author, আকবর হোসেন
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
  • Published

বাংলাদেশে শনিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তার অন্যতম উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রকাশ করা একটি জরিপের ফলাফল জন্ম দিয়েছে বিতর্ক আর আলোচনার।

মি: ওয়াজেদ একটি জরিপের ফলাফল তুলে ধরার মাধ্যমে দাবি করেছেন, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীরা আওয়ামী লীগের এক-তৃতীয়াংশ ভোট পাবে।

বাংলাদেশে নির্বাচন সংক্রান্ত প্রচার প্রচারণা ভোট শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকেই বন্ধ করার নিয়ম আছে।

ভোট গ্রহণের ৩২ ঘণ্টা আগে সজীব ওয়াজেদ তার ফেসবুকে ওই জরিপের ফল প্রকাশ করে বলেছেন ঢাকা উত্তর এবং দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পাবে।

নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে এ ধরণের জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা এবং সেটির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলেছে বিরোধী দল বিএনপি।

দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিবিসি বাংলাকে বলেন, যেহেতু মি: ওয়াজেদ প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার অন্যতম উপদেষ্টা এবং তার পুত্র, সেজন্য তার কাছ থেকে নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে এ ধরণের বক্তব্য আসলে সেটি নির্বাচনী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপর এক ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

সজীব ওয়াজেদ বলেছেন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরাই মেয়র নির্বাচিত হবেন, তবে এটিকেই সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর চাপ হিসেবে দেখছে বিরোধীরা
ছবির ক্যাপশান, সজীব ওয়াজেদ বলেছেন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরাই মেয়র নির্বাচিত হবেন, তবে এটিকেই সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর চাপ হিসেবে দেখছে বিরোধীরা

মি: আলমগীর বলেন, "ভোটাররা মনে করবেন যে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে লাভ কী? ভোট তো হয়েই আছে আগে"।

নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো: আলমগীর বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ভোটের আগে এ ধরণের জরিপের ফলাফল প্রকাশ করার উপর কোন কোন বিধি-নিষেধ নেই।

নির্বাচন নিয়ে জরিপ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রচলনও আছে। নির্বাচনের সময় জরিপকে সাধারণ বিষয় হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতা ভিন্ন বলে মনে করেন অনেকে।

পরপর দুটো প্রশ্নবিদ্ধ সাধারণ নির্বাচন এবং একের পর এক প্রশ্নবিদ্ধ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কারণে নির্বাচনী ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে বলে অনেকে অভিযোগ করেন।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নির্বাচন নিয়ে জরিপের বিষয়টি বাংলাদেশে একটি নতুন ধারণা। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের বাস্তবতা বিবেচনা নিয়ে বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভেবে দেখা উচিত।

মি: হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলেন, "আমাদের দেশে এমনিতেই মানুষজন নানা কারণে, ভোটের যে পার্সেন্টেজ দেখছি, মনে হচ্ছে যেন ভোটকেন্দ্রে যেতে চাচ্ছে না। সেসব কারণে আমার মনে হয় যে এমন কিছু করা উচিত না যাতে ভোটাররা ইন্টিমিটেডেড হয়। "

মি: ওয়াজেদ দাবি করেছেন জরিপটি করা হয়েছে সামনা-সামনি, কোন অনলাইনে নয়। এতে ঢাকা দক্ষিণের ১২৪৫ ভোটার এবং ঢাকা উত্তরের ১৩০১ জন ভোটার।

তিনি দাবি করেন, এই জরিপের সাথে আসল ফলাফলের কিছুটা পার্থক্য হতেই পারে, কিন্তু সেটি ৫-১০ শতাংশের বেশি হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই কম।

আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ দাবি করেন, জরিপ নিয়ে সন্দেহ করার কোন ভিত্তি নেই।

তিনি বলেন, ঢাকা সিটিতে নাগরিক সুবিধা আওয়ামী লীগ সরকার যেভাবে নিশ্চিত করেছে তাতে জরিপের ফলাফল তাদের পক্ষে এসেছে।

"সমালোচকরা অনেক কথা বলবে, এটা তারা বলতেই পারে," বলছিলেন সেলিম মাহমুদ।

মি: মাহমুদ দাবি করেন, একটি বেসরকারি সংস্থা এই জরিপ করেছে। এর সাথে আওয়ামী লীগের কোন সম্পর্ক নেই।