শেখ মুজিব ও ইন্দিরা গান্ধীর প্রথম দেখা হওয়ার দিনটি

শেখ মুজিবুর রহমান
ছবির ক্যাপশান, শেখ মুজিবুর রহমান
Published
পড়ার সময়: ২ মিনিট

১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারি দিনটি ছিল সোমবার।

ব্রিটিশ সরকারের বিমানে করে সকাল আটটা নাগাদ দিল্লির বিমানবন্দরে অবতরণ করেন শেখ মুজিবুর রহমান।

এর ঠিক দুদিন আগেই পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে লন্ডন পৌঁছেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পুরোধা ব্যক্তি শেখ মুজিবুর রহমান।

দিল্লি বিমানবন্দরে শেখ মুজিবকে স্বাগত জানান ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ভি ভি গিরি এবং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী।

এরপর ভারতের রাজধানী দিল্লিতে শেখ মুজিবকে বিপুল সংবর্ধনা দেয়া হয়। দিল্লির রাস্তায় তাদের গাড়ি বহরের ওপর পুষ্পবর্ষণ করা হয়েছিল।

তখন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তরুণ কর্মকর্তা ছিলেন দেব মুখার্জি, যিনি পরবর্তীতে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সেদিনের ঘটনা স্মৃতিচারণ করে মি: মুখ্যার্জি বিবিসি বাংলাকে বলেন, এর আগে কয়েক সপ্তাহ শেখ মুজিবকে নিয়ে অনেকে বেশ উদ্বিগ্ন ছিলেন।

কারণ পাকিস্তানের কারাগারে তিনি বেঁচে আছেন কিনা - সেটি নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল অনেকের মনে।

আরো পড়ুন:

শেখ মুজিবুর রহমান।
ছবির ক্যাপশান, পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে লন্ডন আসার পর এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান।

দেব মুখার্জি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সহায়তার জন্য ভারতকে অভিনন্দন জানিয়ে শেখ মুজিব উষ্ণ ভাষণ দিয়েছিলেন। ইন্দিরা গান্ধী ও শেখ মুজিব একই মঞ্চে বক্তৃতা করেন সেদিন।

সে ভাষণে শেখ মুজিব বলেন, "আপনাদের প্রধানমন্ত্রী, আপনাদের সরকার, আপনাদের সৈন্য বাহিনী, আপনাদের জনগণ যে সাহায্য এবং সহানুভূতি আমার দুঃখী মানুষকে দেখিয়েছে, চিরদিন বাংলার মানুষ তা ভুলতে পারবে না।"

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আন্তর্জাতিক জনমত গঠনের জন্য ইন্দিরা গান্ধী কূটনীতিকভাবে যে ভূমিকা রেখেছিলেন সেজন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন শেখ মুজিব।

"দুদিন আগেও আমি পশ্চিম পাকিস্তানের অন্ধকার সেলের মধ্যে বন্দি ছিলাম। শ্রীমতি গান্ধী আমার জন্য দুনিয়ার এমন কোন জায়গা নাই যেখানে তিনি চেষ্টা করেন নাই আমাকে রক্ষা করার জন্য। আমি ব্যক্তিগতভাবে তার কাছে কৃতজ্ঞ," দিল্লির ভাষণে বলেছিলেন শেখ মুজিব।

ইন্দিরা গান্ধীর সাথে সেটিই ছিল শেখ মুজিবের প্রথম সাক্ষাৎ। যদিও এর আগের দিন লন্ডনে থাকা অবস্থায় ইন্দিরা গান্ধীর সাথে টেলিফোনে কথা বলেন শেখ মুজিবুর রহমান।

ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী।
ছবির ক্যাপশান, ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী।

মি: মুখার্জি বিবিসি বাংলাকে বলেন, "তার আগে তো শেখ মুজিব সম্পূর্ণ পাকিস্তানের প্রাদেশিক নেতা ছিলেন। তারপরে তিনি জাতীয় নেতা হয়ে উঠেন। তারপরে তো মিলিটারি ক্র্যাক ডাউন শুরু হয়। কাজেই ওনার সাথে তো পূর্বে দেখা হওয়ার কোন সুযোগ হয়নি।"

ইন্দিরা গান্ধীর সাথে শেখ মুজিবুর রহমানের সেই প্রথম সাক্ষাতের মাধ্যমে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করেছিল বলে মনে করেন মি: মুর্খাজি।

তাঁর মতে, শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পরে বহু বছরের জন্য বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক বিঘ্নিত হয়।

Skip YouTube post
Google YouTube কনটেন্টের জন্য কি অনুমতি দেবেন?

এই নিবন্ধে Google YouTubeএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত Google YouTube কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।

সতর্কবাণী: তৃতীয়পক্ষের কন্টেন্টে বিজ্ঞাপন থাকতে পারে

End of YouTube post

দিল্লিতে কয়েক ঘণ্টা অবস্থানের পর শেখ মুজিবকে বহনকারী বিমানটি ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দরে এসে নামে।

তাকে স্বাগত জানানোর জন্য সকাল থেকে দলে দলে মানুষ ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দরে জড়ো হতে থাকেন ।

বিমানবন্দর থেকে তিনি যান তৎকালীন রমনার রেসকোর্স ময়দানে, যেটি বর্তমানে সোহরাওয়ার্দি উদ্যান। স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে তাঁর প্রথম ভাষণ সেখানেই হয়।

বিমানবন্দর আর রেসকোর্সের আশেপাশে ছিল মানুষের ঢল।

ভিডিওর ক্যাপশান, মুজিব জন্মশতবার্ষিকী: কোন আলোকে তাঁকে তুলে ধরা হবে?