সেরা ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার খেতাবের জন্য জমা পড়া সেরা কয়েকটি ছবি

ছবির উৎস, Audun Rikardsen
- Author, ম্যাডি মলয়
- Role, জলবায়ু ও বিজ্ঞান বিষয়ক প্রতিবেদক
- Published
- পড়ার সময়: ১১ মিনিট
আর্কটিকের সবচেয়ে ভয়ংকর শিকারিদের একটির মুখোমুখি হলে কেমন অনুভূতি হতে পারে আপনার?
ঠিক এই বিষয়টিই একটি সিলের চোখে অসাধারণ এক ছবিতে তুলে ধরা হয়েছে।
নরওয়ের আলোকচিত্রী অডান রিকার্ডসেন, যিনি মুলত বন্যপ্রাণীদের ছবি তোলেন, তার তোলা এই ছবিটি লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম আয়োজিত এ বছরের ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার অফ দ্য ইয়ার প্রতিযোগিতায় 'হাইলি কমেন্ডেড' বা অত্যন্ত প্রশংসিত ছবির তালিকায় স্থান পেয়েছে।
আর্কটিক ওয়াইল্ডলাইফ ট্যুরস- এর গাইড হিসেবে কাজ করার সময় রিকার্ডসেন একটি সিলের শ্বাস নেওয়ার গর্তের নিচে মোশন সেন্সরযুক্ত একটি ক্যামেরা স্থাপন করেন যেটি পানির নিচেও কাজ করে। এরপর তিনি অপেক্ষা করতে থাকেন।
ভোর ৪টায় একটি স্ত্রী মেরু ভল্লুক সেখানে এসে নিচের দিকে তাকায়।
এরপর রিকার্ডসেন ভল্লুকটি সরে যাওয়ার জন্য আট ঘণ্টা অপেক্ষা করেন, তারপর ক্যামেরাটি উদ্ধার করে ছবিগুলো পর্যালোচনা করেন।
তিনি যখন দেখলেন কী ধারণ করতে পেরেছেন, তখন বলেছিলেন, "আমি ভীষণ আনন্দিত হয়েছিলাম। আমি চিৎকার করছিলাম, তাই সম্ভবত মাইলের পর মাইল দূরের সব মেরু ভল্লুককেও জাগিয়ে তুলেছিলাম।"
রিকার্ডসেন এর আগে ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার অফ দ্য ইয়ার প্রতিযোগিতায় দুটি বিভাগে বিজয়ী হয়েছেন– ২০১৯ সালে 'বার্ডস' এবং ২০২৫ সালে 'ওশান্স: দ্য বিগার পিকচার' ক্যাটাগরির ছবির জন্য।
এই বছরের সব বিজয়ীদের নাম ১৩ই অক্টোবর ঘোষণা করা হবে। এরপর লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম-এ একটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।
প্রতিযোগিতায় অত্যন্ত প্রশংসা পাওয়া আরো কিছু ছবি দেখতে ও পেছনের গল্প জানতে এই প্রতিবেদনটি দেখতে পারেন।

ছবির উৎস, Jack Crockford
শিরোনাম: দ্য আর্ট অফ ফ্লায়িং
আলোকচিত্রী: জ্যাক ক্রকফোর্ড (যুক্তরাজ্য)
বিভাগ: হাইলি কমেন্ডেড বা অত্যন্ত প্রশংসিত
অবস্থান: বুশি পার্ক, লন্ডন
আফ্রিকা থেকে বার্ষিক অভিবাসন শেষে সুইফট পাখিদের লন্ডনে ফিরে আসা দেখছিলেন ক্রকফোর্ড। পাখিদের তীক্ষ্ণ ডাক আকাশ ভরিয়ে তুলছিল।
বেশিরভাগ পাখিই এত উঁচুতে উড়ছিল যে ছবি তোলা সম্ভব ছিল না। তবে নিচু দিয়ে উড়া কয়েকটি পাখি তাকে কাঙ্ক্ষিত ছবিটি ধারণের সুযোগ করে দেয়।
সুইফট পাখিরা জীবনের প্রায় পুরো সময় আকাশেই কাটায় এবং সাধারণত শুধু নিজের বাসা পর্যন্ত নামে।

ছবির উৎস, Sora Miyazawa
শিরোনাম: আরবান ওয়ান্ডারার বা শহুরে পরিব্রাজক
আলোকচিত্রী: সোরা মিয়াজাওয়া (জাপান)
বিভাগ: হাইলি কমেন্ডেড
অবস্থান: টোকিও, জাপান
বৃষ্টির পর একটি ব্যাঙ-কে শহরের রাস্তা ধরে এগিয়ে যেতে দেখেন আলোকচিত্রী মিয়াজাওয়া।
তিনি ধীর শাটার গতিতে সেটির ছবি তোলেন, তারপর ব্যাঙটি আবার ঝোপে লাফিয়ে চলে যায়।
এই ইস্টার্ন জাপানিজ টোড প্রজাতির ব্যাঙ সাধারণত পূর্ব জাপানের বন, তৃণভূমি ও অন্যান্য স্থলভাগের আবাসস্থলে পাওয়া যায়। তবে নগর পরিবেশের সঙ্গেও এরা আশ্চর্যজনকভাবে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে।
End of বিবিসি বাংলায় আরো পড়তে পারেন:

ছবির উৎস, Vegard Byrkjeland Aasen
শিরোনাম: লিফটেড টু দ্য সারফেইস
আলোকচিত্রী: ভেগার্ড বিয়েরজিল্যান্ড আসেন (নরওয়ে)
বিভাগ: হাইলি কমেন্ডেড, বিহেভিয়ার: মামালস
অবস্থান: কেভেনাইঙ্গেন, ট্রমস কাউন্টি, নরওয়ে
নরওয়েজিয়ান ওরকা সার্ভে, অর্থাৎ যেসব ওরকা বা খুনে তিমি নরওয়ের উপকূলে দেখা যায় সেগুলোর ওপর একটি জরিপের জন্য ড্রোন ওড়ানোর সময় একটি পূর্ণবয়স্ক ওরকাকে একটি মৃত শাবকের দেহ বহন করতে দেখেন ফটোগ্রাফার আসেন।
নরওয়ের একটি ফিয়র্ডে (সমুদ্রের খাঁড়ি) বারবার শাবকটিকে ডুবতে দিচ্ছিল ওরকাটি, তারপর আবার পানির ওপর নিয়ে আসছিল। দৃশ্যটি দেখা কঠিন ছিল, কিন্তু আসেন মনে করেছিলেন এটি নথিবদ্ধ করা গুরুত্বপূর্ণ।
এই আচরণ শাবকটিকে পুনরুজ্জীবিত করা অথবা সুরক্ষার চেষ্টা হতে পারে।
এর আগে কিলার হোয়েলদের মৃত শাবক বহন করতে দেখা গেছে। এক ঘটনায় একটি স্ত্রী তিমি অন্তত ১৭ দিন ধরে তার মৃত শাবককে বহন করেছিল।
২০২৬ সালের একটি গবেষণা ইঙ্গিত দিয়েছে, এই ধরনের আচরণ প্রজাতিটির মধ্যে আগে ধারণার তুলনায় আরও বিস্তৃত হতে পারে।

ছবির উৎস, Andrea & Maceo Grammatico
শিরোনাম: বাইটিং ব্যাক
আলোকচিত্রী: অ্যান্ড্রিয়া ও মাসেও গ্রামাটিকো (ফ্রান্স)
বিভাগ: হাইলি কমেন্ডেড, অ্যানিমেল পোর্ট্রেইটস
অবস্থান: সিয়েরপে, সাউথ পুনটারিনাস, কোস্টা রিকা
ছবিগুলো পর্যালোচনা করার সময়ই গ্রামাটিকো যমজরা বুঝতে পারেন যে তারা ফের-দে-লেন্স ভাইপারের মাথায় বসে থাকা একটি মশাকেও ধারণ করেছেন।
তারা এটিকে তাদের "তৈরি সবচেয়ে কঠিন ফোকাস-স্ট্যাকগুলোর একটি" বলে বর্ণনা করেছেন।
অত্যন্ত বিষধর এই সাপটি মধ্য আমেরিকায় অন্য যেকোনো প্রজাতির তুলনায় বেশি প্রাণঘাতী সাপের কামড়ের জন্য দায়ী। এটি খুব ভালোভাবে ছদ্মবেশ নিতে পারে এবং চাষাবাদের এলাকাতেও মিশে থাকতে পারে, ফলে কখনও কখনও শ্রমিকদের চোখ এড়িয়ে যায়।

ছবির উৎস, Andrew Parkinson
শিরোনাম: উইংস অফ ডার্কনেস
আলোকচিত্রী: অ্যান্ড্রু পার্কিনসন (যুক্তরাজ্য)
বিভাগ: হাইলি কমেন্ডেড, অ্যানিমেল পোর্ট্রেইটস
অবস্থান: ব্রাজিলের নর্দার্ন পানটানাল স্টেট পার্কে দুই নদীর সংযোগস্থল
ব্রাজিলের পানটানাল জলাভূমিতে একটি মৃত কুমিরের ওপর বসে থাকা কালো শকুনের ছবি তোলেন পার্কিনসন।
তিনি নৌকাকে দূরে রেখে দীর্ঘ টেলিফটো লেন্স ব্যবহার করে ছবিটি ধারণ করেন।
শকুনটি উড়ে যাওয়ার পর ফ্রেমের বাইরে অপেক্ষমাণ একটি চিতা বাঘ এসে মৃতদেহটির দখল নেয়।
এরপরই পার্কিনসন ইয়াকারে কাইম্যান প্রজাতির কুমিরটির মাথার পেছনে অস্বাভাবিকভাবে পরিষ্কার ও সোজা একটি ক্ষতচিহ্ন লক্ষ্য করেন, যা সম্ভবত দ্রুতগতির কোনো নৌকার আঘাতে তৈরি হয়েছিল বলে তিনি সন্দেহ করেন।
End of বিবিসি বাংলায় আরো পড়তে পারেন:

ছবির উৎস, Dewald Tromp
শিরোনাম: আই অফ দ্য স্টর্ম
আলোকচিত্রী: ডেওয়াল্ড ট্রম্প (দক্ষিণ আফ্রিকা)
বিভাগ: হাইলি কমেন্ডেড, অ্যানিমেলস ইন দেয়ার এনভায়রনমেন্ট
অবস্থান: নামিব মরুভূমি, নামিবিয়া
নামিব মরুভূমিতে নামাকোয়া ক্যামেলেয়ন প্রজাতির একটি গিরগিটির ছবি তোলার সময় হঠাৎ বাতাস জোরালো হয়ে বালুঝড় শুরু হয়।
দৃষ্টিসীমা দ্রুত কমে যায় এবং শ্বাস নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।
এই ক্যামেলিয়নগুলো মরুভূমির বিশেষজ্ঞ। তারা সরাসরি বাতাস থেকে আর্দ্রতা সংগ্রহ করতে পারে।
তাদের ত্বকে জমা শিশির অণুবীক্ষণিক খাঁজ বেয়ে মুখের দিকে প্রবাহিত হয়। এছাড়া তাদের জিহ্বা গাছপালা, বালু ও পাথরে ঘনীভূত কুয়াশার পানিও সংগ্রহ করতে পারে।

ছবির উৎস, Bence Máté
শিরোনাম: ফ্লক অফ গোল্ড
আলোকচিত্রী: বেন্স মাতে (হাঙ্গেরি), ২০১০ সালের ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার প্রতিযোগিতার বিজয়ী
বিভাগ: হাইলি কমেন্ডেড, বার্ডস
অবস্থান: কেনিয়ার সাভো ইস্ট ন্যাশনাল পার্কের আশনিল আরুবা লজ
একটি ছোট জলাশয়ের কাছে পাখিদের জড়ো হতে দেখছিলেন মাতে।
ঠিক তখনই হাজার হাজার রেড-বিল্ড কেলিয়া পাখির দল সোনালি বিকেলের আলোয় পানি পান করতে নেমে আসে।
এত বিপুল সংখ্যক ডানার নড়াচড়ায় এমন বায়ুপ্রবাহ তৈরি হয়েছিল, যা ৩০ মিটার দূর থেকেও অনুভব করা যাচ্ছিল– বলেন ফটোগ্রাফার।
এই পাখিগুলো দুই মিলিয়ন বা ২০ লাখ পর্যন্ত সদস্যের ঝাঁক গঠন করতে পারে। বাচ্চা ফুটাতে পারে- এই প্রজাতিতে এমন পাখির সংখ্যা দেড়শ কোটি পর্যন্ত হবে বলে ধারণা করা হয়। পৃথিবীতে এই পাখিই সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি রয়েছে বলেও মনে করা হয়।

ছবির উৎস, Ernest Porter
শিরোনাম: মিউচুয়াল ফ্রেন্ডস
আলোকচিত্রী: আর্নেস্ট পোর্টার (দক্ষিণ আফ্রিকা)
বিভাগ: হাইলি কমেন্ডেড, বার্ডস
অবস্থান: দক্ষিণ আফ্রিকার এমপুমালাঙ্গায় মানিয়েলেতি গেইম রিজার্ভ
সংরক্ষিত এলাকায় বন্যপ্রাণীর খোঁজ করতে গিয়ে পোর্টার একটি রেড-বিল্ড অক্সপিকার পাখিকে সাদা গণ্ডারের গায়ে ঠোঁট ঘষতে দেখেন।
এই পাখিরা গণ্ডারের শরীরে থাকা পোকামাকড় খায় এবং প্রহরীর ভূমিকাও পালন করতে পারে। বিপদ এগিয়ে এলে তারা ডাক দিয়ে গণ্ডারকে সতর্ক করে।
সোয়াহিলি ভাষায় এই পাখিকে বলায় হয় 'আসকারি ওয়া কিফারু', যার অর্থ 'গণ্ডারের রক্ষী'।

ছবির উৎস, Allegra Hutton
শিরোনাম: আপ অ্যা ট্রি ইউদাউট অ্যা স্কুইরেল
আলোকচিত্রী: অ্যালেগ্রা হাটন (যুক্তরাষ্ট্র)
বিভাগ: হাইলি কমেন্ডেড, বিহেভিয়ার: মামালস
অবস্থান: ওকাভাঙ্গো ডেল্টা, বতসোয়ানা
হাটন দেখেছিলেন একটি তরুণ চিতাবাঘ একটি কাঠবেড়ালিকে গাছে তাড়া করে তুলেছে।
এর আগে তিনি চিতাবাঘটিকে একটি খরগোশ শিকার করতে ব্যর্থ হতেও দেখেছিলেন।
কাঠবেড়ালিটি আরও ওপরে উঠে পালিয়ে যায়, আর চিতাবাঘটি কিছুক্ষণ কাণ্ড আঁকড়ে থাকার পর অস্বস্তিকরভাবে নিচে নেমে আসে।
তরুণ চিতাবাঘদের জন্য টিকে থাকার বিষয়টি মোটেও নিশ্চিত নয়, কারণ অর্ধেকেরও কম চিতা স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার বয়স পর্যন্ত পৌঁছায়। পুরুষ চিতাবাঘ, সিংহ এবং অন্যান্য শিকারি তাদের জন্য হুমকি।
End of বিবিসি বাংলায় আরো পড়তে পারেন:

ছবির উৎস, Jens Cullmann
শিরোনাম: স্প্লিট-সেকেন্ড এসকেইপ
আলোকচিত্রী: ইয়েন্স কুলমান (জার্মানি)
বিভাগ: হাইলি কমেন্ডেড, বিহেভিয়ার: অ্যামফিবিয়ান্স অ্যান্ড রেপটাইলস
অবস্থান: সেন্ট্রাল কালাহারি গেইম রিজার্ভ, বতসোয়ানা
একটি আফ্রিকান বুলফ্রগ একটি প্রজাপতি ধরতে ঝাঁপিয়ে পড়ে, কিন্তু ব্যর্থ হয়।
ভারী বৃষ্টির পর আগের সফরে ব্যাঙাচি দেখেছিলেন কুলমান। পরের মাসে ফিরে এসে তিনি জলাশয় ও গর্তগুলোতে তরুণ বুলফ্রগ-এ ভরা দৃশ্য দেখতে পান।
তিনি দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে তরুণ ব্যাঙগুলোকে 'নড়াচড়া করে এমন সবকিছু খেতে' দেখেছেন।
পূর্ণবয়স্ক আফ্রিকান বুলফ্রগ -এর দৈর্ঘ্য ১২ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে এবং বছরে প্রায় ১০ মাস তারা মাটির নিচে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে। বৃষ্টির পর তারা প্রজনন ও খাদ্যগ্রহণের জন্য বেরিয়ে আসে।

ছবির উৎস, Gil Wizen
শিরোনাম: হিডেন ড্রাগন
আলোকচিত্রী: গিল উইজেন (ইসরায়েল/কানাডা)
বিভাগ: হাইলি কমেন্ডেড, বিহেভিয়ার: ইনভার্টিব্রেইটস বা অমেরুদণ্ডী প্রাণী
অবস্থান: ইকুয়েডরের নাপো প্রদেশের ওয়াইল্ডসুমাকো বায়োলজিক্যাল স্টেশান
মাত্র ১৫ মিলিমিটার দীর্ঘ একটি লাইকেন ড্রাগন ক্যাটিডিড-এর ছবি তুলছিলেন ইউজেন।
এটি চারপাশের শ্যাওলার সঙ্গে এতটাই মিশে ছিল যে আলাদা করা কঠিন ছিল।
পোকাটি নড়াচড়া করার সময় তিনি সেটিকে দেখতে পান, কিন্তু তারপরও ভিউফাইন্ডারের মধ্যে পটভূমি থেকে আলাদা করা কঠিন ছিল।
শুধু ইকুয়েডরের আন্দিজ পর্বতমালায় পাওয়া যায় এই প্রজাতি। এর কাঁটাযুক্ত বর্ম ছদ্মবেশ ভেদ করতে সক্ষম শিকারিদের হাত থেকে সুরক্ষা দেয়।

ছবির উৎস, Shane Gross
শিরোনাম: কাম অ্যামিড দ্য স্টর্ম
আলোকচিত্রী: শেইন গ্রস (কানাডা) - ২০২৪ সালের ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার বিজয়ী
বিভাগ: হাইলি কমেন্ডেড, ওশানস: দ্য বিগার পিকচার
অবস্থান: ডি'অ্যারোস দ্বীপ, সেশেলস
সূর্যোদয়ের সময় তীরের কাছে বিগআই ট্রেভ্যালি মাছের একটি ঝাঁকের ছবি তুলছিলেন গ্রস, যখন একটি ঝড় এগিয়ে আসছিল।
পানির ওপর ও নিচের অংশ একসঙ্গে ধারণ করা একটি বিভাজিত-স্তরের ছবি তৈরির জন্য তিনি ভাসমান অবস্থায় ভারসাম্য বজায় রাখতে ক্যামেরাটি উল্টো করে ধরেন এবং কৌতূহলী মাছগুলোর দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যান।
বিশ্বের বহু অঞ্চলে বিগআই ট্রেভ্যালি মাছ ধরা হয়, তবে এখানে তারা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। ২০২৩ সালে ডি'অ্যারোস দ্বীপের চারপাশের জলসীমাকে একটি সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা (মেরিন প্রোটেক্টেড এরিয়া) ঘোষণা করা হয় এবং মাছ ধরা নিষিদ্ধ অঞ্চল হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।
এটি ছিল ২০৩০ সালের মধ্যে পৃথিবীর স্থলভাগ ও মহাসাগরের ৩০ শতাংশ সুরক্ষার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী যে উদ্যোগে বিভিন্ন সরকার অংশ নিয়েছে, তারই অংশ।

ছবির উৎস, Loren Elliott
শিরোনাম: পুলটাইম পাসটাইম
আলোকচিত্রী: লোরেন এলিয়ট (যুক্তরাষ্ট্র)
বিভাগ: হাইলি কমেন্ডেড, আরবান ওয়াইল্ডলাইফ
অবস্থান: মনরোভিয়া, ক্যালিফোর্নিয়া, যুক্তরাষ্ট্র
এলিয়ট একজন স্থানীয় বাসিন্দার বাড়ির রান্নাঘরের জানালা দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাকিয়ে থাকতেন, এই আশায় যে বাগানের মধ্যে দিয়ে প্রায়ই যাতায়াত করা কালো ভাল্লুকগুলোর ছবি তুলতে পারবেন।
তিনি একটি ভাল্লুককে বাগানের পুকুরে ডুব দিতে দেখেন, যা লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিতে বন্যপ্রাণী ও আবাসিক জীবনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সাধারণ সংমিশ্রণকে তুলে ধরে, যেখানে আবাসন প্রকল্পগুলো ভাল্লুকের আবাসস্থলে ঢুকে পড়েছে।

ছবির উৎস, Ralph Pace
শিরোনাম: ওশান প্রোটেকটর
আলোকচিত্রী: রালফ পেইস (যুক্তরাষ্ট্র)- ২০২৫ সালের আন্ডারওয়াটার বিভাগের বিজয়ী
বিভাগ: হাইলি কমেন্ডেড, ওয়েটল্যান্ডস: দ্য বিগার পিকচার
অবস্থান: মন্টেরে বে, ক্যালিফোর্নিয়া, যুক্তরাষ্ট্র
মন্টেরে উপসাগরের অগভীর পানিতে একটি ইলগ্রাসের তৃণভূমির মধ্য দিয়ে ধীরে ভেসে যাচ্ছে একটি সি হেয়ার বা সামুদ্রিক শামুক। সন্ধ্যার আলোয় সেখানে ছবি তুলছিলেন পেস।
তিনি এই দৃশ্যটিকে দেখেছেন একটি আশাব্যঞ্জক প্রতিচ্ছবি হিসেবে, যেখানে "এক কোমল দৈত্য সমুদ্রের শেষ সবুজ তৃণভূমিগুলোকে রক্ষা করছে"।
লাল শৈবাল খেয়ে সি হেয়ারগুলো ইলগ্রাস পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখে। এই শৈবাল কখনও কখনও সূর্যের আলো তৃণভূমিতে পৌঁছাতে বাধা দেয়। উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্রের জন্য ইলগ্রাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি কার্বন শোষণেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাণ্ডার।

ছবির উৎস, Pietro Rojas
শিরোনাম: দ্য শো গৌজ অন
আলোকচিত্রী: পিয়েত্রো রোহাস (গুয়াতেমালা)
বিভাগ: হাইলি কমেন্ডেড,, ফটোজার্নালিজম
অবস্থান: দোহা, কাতার
প্রাণী দিয়ে প্রদর্শনী করা একটি সার্কাস শহরে এসেছে জানতে পেরে রোহাস সেটি নথিবদ্ধ করতে যান। সেখানে তিনি দেখেন, একটি বাদামি ভালুক ছোট একটি মোটরসাইকেলে চড়ে আছে। ভালুকটির মুখে মুখবন্ধনী পরানো ছিল এবং সেটিকে মোটরসাইকেলের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছিল।
তার কাছে এই দৃশ্যটি প্রাণীটির বন্য স্বভাব এবং তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া মানবসৃষ্ট পরিবেশের মধ্যকার বৈপরীত্যকে তুলে ধরেছে।
প্রাণীদের কষ্টের কারণ হতে পারে এমন উদ্বেগ থেকে বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশ এখন সার্কাসে বন্য প্রাণী ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বা তা সীমিত করেছে।
'ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার অফ দ্য ইয়ার' প্রতিযোগিতাটি লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম দ্বারা তৈরি ও প্রযোজিত।








