হোলি আর্টিজান হামলা: 'শহীদ পরিবারের মর্যাদা পাই'- জঙ্গি হামলায় নিহত পুলিশ সদস্য রবিউল ইসলামের স্ত্রী

ছবির উৎস, শামসুজ্জামান শামস
২০১৬ সালের ১লা জুলাই গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় নিহত হয় দু'জন পুলিশ সদস্য সহ অন্তত ২২জন, যাদের মধ্যে ছিলেন পুলিশের সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম।
গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে ১লা জুলাই সন্ধ্যায় দেশি-বিদেশি বেশ কয়েকজন নাগরিক জিম্মি হওয়ার পর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি দল তাদের উদ্ধার করতে গেলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লক্ষ্য করে বিস্ফোরক নিক্ষেপ করে জঙ্গিরা।
ঐ বিস্ফোরকের আঘাতে নিহত হওয়া দুই পুলিশ কর্মকর্তার একজন ছিলেন রবিউল ইসলাম।
সেই হামলার বিচারের রায়ে সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন রবিউল ইসলামের স্ত্রী উম্মে সালমা।
উম্মে সালমা বলেন, "আমরা আশা করছিলাম যে এই মামলার আসামীরা সর্বোচ্চ সাজা পাবে। উচ্চ আদালতেও যেন এই রায় বহাল থাকে এবং দ্রুত বাস্তবায়ন হয়, এটিই এখন কাম্য।"
'আমরা শহীদ পরিবারের মর্যাদা পাই'
২০১৬ সালে রবিউল ইসলাম যখন মারা যান তখন তার স্ত্রী তাদের দ্বিতীয় সন্তান নিয়ে অন্ত:সত্ত্বা ছিলেন।
রবিউল ইসলাম মারা যাওয়ার কয়েকমাস পরই তাদের কন্যাসন্তানের জন্ম হয়।
ঐ ঘটনার পর উম্মে সালমা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিভাগে চাকরি নেন।
বর্তমানে এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই থাকেন তিনি।
"আমাদের সমাজে দুই সন্তানসহ একজন বিধবা শতরকম প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে জীবনযাপন করে, কিন্তু সেই তুলনায় আমি নিজেকে যথেষ্ট ভাগ্যবান বলবো", বলেন উম্মে সালমা।
"আমার স্বামী দেশের কাজে মারা গিয়েছে, সেজন্য আমার কোনো দু:খ নেই। তাকে যে সবাই শ্রদ্ধা করে ও ভালোবাসে, সেই প্রমাণ আমি অনেকবার পেয়েছি।"
"তাকে যেমন শহীদের মর্যাদা দেয়া হয়, তেমনি আমার পরিবারকেও শহীদ পরিবারের মর্যাদা দেয়া হয়"
উম্মে সালমা বলেন, তার দুই সন্তানকে তাদের বাবার আদর্শে বড় করাই এখন তার জীবনের উদ্দেশ্য।








