ছবিতে ভারতের স্যানিটেশন কর্মীদের জীবন

Published

প্রায় দুই দশক ধরে মুম্বাইয়ের স্যানিটেশন কর্মীদের ছবি তোলার কাজটি করে আসছেন সুধারাক অলওয়ে

ভারতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ যারা মূলত স্যানিটেশনের কাজের সঙ্গে জড়িত তাদের জীবন, সামাজিক অবস্থা, সুবিধা অসুবিধার বিষয়টি তুলে ধরার চেষ্টা করেন এই ফটোগ্রাফার। অলওয়ের তোলা স্যানিটেশনের কর্মীদের কিছু ছবি নিয়ে আমাদের আজকের এই ফটো গ্যালারি।

ঝাড়ু হাতে একজন কর্মী, তার পায়ের ছবি দেখেই বুঝা যাচ্ছে ময়লা আবর্জনা পরিস্কারের কাজ করছেন তিনি।
ছবির ক্যাপশান, ঝাড়ু হাতে একজন কর্মী, তার পায়ের ছবি দেখেই বুঝা যাচ্ছে ময়লা আবর্জনা পরিস্কারের কাজ করছেন তিনি।
পান্নার স্যানিটেশন কর্মী
ছবির ক্যাপশান, মধ্যপ্রদেশের পান্নায় বাল্মিকী সম্প্রদায়ের কর্মীরা অনেক সময় হাতেই 'ল্যাট্রিনের' ময়লা পরিস্কার করেন।
রাতে কাজ করছেন আমানগঞ্জের স্যানিটেশন কর্মী
ছবির ক্যাপশান, বেতাবি বাল্মিকী বলছেন, "এখানে কোন রেস্টুরেন্টে বসে চা পান করার কোন অনুমতি নাই আমাদের। এমনকি ছোট কোন চায়ের দোকানে গেলেও আমাদের প্লাস্টিকের গ্লাস দেয়া হয়, যেখানে অন্যদের কাঁচের কাপ করে চা দেয়া হয়।"। এখানে অনেক নারী কর্মী অ্যাজমা এবং ম্যালেরিয়া রোগে ভুগেন। কিন্তু তাদের স্বাস্থ্যসুরক্ষার কোন ব্যবস্থা নাই, এমনকি অসুস্থ হলে বেতনও কাটা হয়।
উত্তর প্রদেশের মিরাটে বাস করেন ৪২ বছর বয়সী মুকেশ দেবী, তার ঘরে আছে শাশুড়ি, স্বামী, পাঁচ সন্তান, দুই নাতি-নাতনীও আছে। পরিচ্ছন্নতার কাজ করে তিনি মাসে দুই হাজার রুপি উপার্জন করেন।
ছবির ক্যাপশান, উত্তর প্রদেশের মিরাটে বাস করেন ৪২ বছর বয়সী মুকেশ দেবী, তার ঘরে আছে শাশুড়ি, স্বামী, পাঁচ সন্তান, দুই নাতি-নাতনীও আছে। পরিচ্ছন্নতার কাজ করে তিনি মাসে দুই হাজার রুপি উপার্জন করেন।
মুকেশ দেবী
ছবির ক্যাপশান, মুকেশ দেবী বলছেন "এছাড়া আমরা আর কীইবা করতে পারি? আমরা যদি কোনও দোকানও দেই কেউ আমাদের দোকানে কিছু কিনতে আসবে না কারণ আমরা বাল্মিকী'।
আমানগঞ্জের স্যানিটেশন কর্মী
ছবির ক্যাপশান, সান্তোষ তার স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে আমানগঞ্জে কাজ করেন। ১৯৯২ সালে সেপটিক ট্যাঙ্কের ময়লা পরিস্কার করতে গিয়ে তিনি প্রায় মরতেই বসেছিলেন। তার একজন সহকর্মী সেই সময় মারা যান। ট্যাঙ্কটি অনেক গভীর ছিল যে বিষয়ে তাদের কোন ধারণা দেয়া হয়নি। তার একটা চোখ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে কিন্তু কোন ধরনের ক্ষতিপূরণ তিনি পাননি।
স্যানিটেশন কর্মী গিতা মাত্তু, শশী বাল্মিক ও রাজু ডুমার। ভারতের পান্না জেলায় কাজ করেন তারা।
ছবির ক্যাপশান, স্যানিটেশন কর্মী গিতা মাত্তু, শশী বাল্মিক ও রাজু ডুমার। ভারতের পান্না জেলায় কাজ করেন তারা। ভোর ৫টা থেকে রাত একটা পর্যন্ত কাজ করে মাসে প্রায় ৭ হাজার রুপি উপার্জন করেন তারা।
পান্না জেলায় আগ্রা মহল্লায় কাজ করেন গিতা মাত্তু, তার সামনেই রাস্তায় পড়ে আছে একটি আহত গরু।
ছবির ক্যাপশান, পান্না জেলায় আগ্রা মহল্লায় কাজ করেন গিতা মাত্তু, তার সামনেই রাস্তায় পড়ে আছে একটি আহত গরু। গিতা বলছেন, "এই কাজের জন্য কোন সম্মান নেই। কেউ আমাদের সাথে ভালো ব্যবহার করে না। এটা ধন্যবাদবিহীন চাকরি"।
ডম সম্প্রদায়ের মানুষ
ছবির ক্যাপশান, গত বছরের এপ্রিল মাসে বিহারের থিল্লাই গাওয়ের উপকন্ঠে ডোম সম্প্রদায়ের দশটি ঘর পুড়ে যায়, তাদের গবাদি পশুও মারা যায়। আইডি কার্ড, রেশন কার্ড পুড়ে যাবার পর কোন ক্ষতিপূরণ তারা পায়নি।
মিনা দেবি
ছবির ক্যাপশান, ডোম সম্প্রদায়ের মিনা দেবী, মুসলিম একটি এলাকায় পরিচ্ছন্নতার কাজ করেন প্রায় ২৫ বছর ধরে। "এ ধরনের কাজের জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না। কিন্তু এখন আর কোন গন্ধ গায়ে লাগে না। অভাব থাকলে আপনি আর কোন কিছু ভাববেন না। যেই কাজে উপার্জন হবে তাই করবেন। আমার শাশুড়ি এই কাজ করতে করতেই মারা গেছেন। হয়তো আমার ভাগ্যে এমনটাই লেখা আছে"।