ইতিহাসের সাক্ষী: ১৯৭৩ সালে কিভাবে তেলকে অস্ত্র হিসেবে কাজে লাগিয়েছিল ওপেক

'তেল নেই' : যুক্তরাষ্ট্রে ডেট্রয়েট শহরে একটি পেট্রোল পাম্প - অক্টোবর ১৯৭৩
ছবির ক্যাপশান, 'তেল নেই' : যুক্তরাষ্ট্রে ডেট্রয়েট শহরে একটি পেট্রোল পাম্প - অক্টোবর ১৯৭৩
Published

উনিশ শ' তিয়াত্তর সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে যখন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সমর্থনে বিমানযোগে অস্ত্র পাঠাতে শুরু করলো - তখন মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলো পাল্টা অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছিল তেলকেই।

তারা কমিয়ে দিল তেলের উৎপাদন, বাড়িয়ে দিল তেলের দাম, আর ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তাদানকারী সব দেশে তেল সরবরাহ কমিয়ে দিল ।

সারা পৃথিবীতে শুরু হলো তেল সংকট, কোনো কোনো দেশে তেলের দাম চারশ' গুণেরও বেশি বেড়ে গেল।

তখন পর্যন্ত সারা দুনিয়ায় তেল শিল্পে রাজত্ব করছিল হাতেগোণা কয়েকটি বড় তেল কোম্পানি।

বড় বড় তেলক্ষেত্রগুলো ছিল সৌদি আরব, ইরাক, ইরান, কুয়েত - এসব মধ্যপ্রাচ্যের দেশে, কিন্তু সেই তেল উত্তোলন করছিল সেই বড় পশ্চিমা কোম্পানিগুলো, তেলের দামও নির্ধারণ করছিল তারাই।

এবং তেলের দাম তখন ছিল খুবই সস্তা।

কিন্তু ১৯৭৩ সালে বিশ্ব যা দেখেছিল, তা ছিল সেই তেলের নিয়ন্ত্রণের হাতবদলের এক লড়াই।

আর সেটা ঘটেছিল আকস্মিকভাবে তেলের দাম বাড়িয়ে দেবার মধ্যে দিয়ে।

সৌদি তেলমন্ত্রী শেখ আহমেদ জাকি ইয়ামেনি
ছবির ক্যাপশান, সৌদি তেলমন্ত্রী শেখ আহমেদ জাকি ইয়ামেনি

আরব নেতারা বললেন, তারা জানতেন যে তেলের দাম কম রেখে উৎপাদনকারী দেশগুলোকে প্রতারিত করা হচ্ছে।

কিন্তু ব্যাপারটা বোঝা গেল তখনই - যখন তেলের উৎপাদক দেশগুলো যখন সেই দামের ওপর নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নিল । কারণ সব পশ্চিমা দেশই তখন এক সুরে কথা বলতে শুরু করলো।

অনেকে বলছিলেন, 'আরব বিশ্বের লোকেরা বলছে তেলের দাম তিনগুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেবার কথা। তবে এটা তাদের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের অনুকুল হবে না - একসময় তারা এটা বুঝতে পারবে।'

কিন্তু সৌদি তেলমন্ত্রী শেখ আহমেদ জাকি ইয়ামেনি তখন বলেছিলেন, "সস্তা জ্বালানি উৎসের যুগ শেষ হয়ে গেছে। এটা এক নতুন যুগ।"

"এখন আর এমনটা আশা করা ঠিক হবে না যে তেলের দাম বাজারে যেমন হওয়া উচিত, উৎপাদনকারীরা তার চেয়ে কম দাম মেনে নেবে।"

কিভাবে শেষ হয়েছিল সস্তা তেলের যুগ এবং শক্তিধর দেশ হিসেবে উত্থান ঘটেছিল আরব দেশগুলোর - তার একজন সাক্ষী হলেন ইরাকের তেল সংক্রান্ত সাবেক ফেডারেল আন্ডার সেক্রেটারি ড. ফাদিল চালাবি।

তেলের দাম ৭০ শতাংশ বাড়িয়ে দেবার কথা তিনিই প্রস্তাব করেছিলেন ।

বার্লিনের এক পেট্রোল পাম্পে গাড়ির লাইন
ছবির ক্যাপশান, বার্লিনের এক পেট্রোল পাম্পে গাড়ির লাইন

ইতিহাসের সাক্ষীর এই পর্বে তিনি কথা বলেছেন বিবিসির এ্যালেক্স লাস্টের সাথে।

"বিংশ শতাব্দীর বেশির ভাগ সময় জুড়েই বিশ্ববাজারে তেল শিল্প নিয়ন্ত্রণ করতো সাতটি বড় পশ্চিমা কোম্পানির একটি চক্র" - বলছিলেন ফাদিল চালাবি।

"এদের বলা হতো 'সেভেন সিস্টার্স' বা সাত বোন। এরা মিলে বিশ্বের তেলের মজুতের ৮৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করতো। দাম নির্ধারণ করতো তারাই, এবং তারা দাম কমিয়ে রাখতো। "

"কিন্তু ১৯৫০-এর দশক থেকেই তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো দাবি করতে লাগলো যে, তেলের উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ এবং দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে তাদেরকে আরো বড় ভুমিকা রাখতে দিতে হবে, এ থেকে প্রাপ্ত মুনাফারও অপেক্ষাকৃত বড় অংশ তাদের দিতে হবে।"

এসব দাবি আদায়ের জন্যই ১৯৬০ সালে সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, কুয়েত এবং ভেনেজুয়েলা মিলে গঠন করলো ওপেক - তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন। শিগগীরই এতে যোগ দিলো অন্য আরো কয়েকটি দেশ।

আমেরিকার বোস্টন শহরে জেরিক্যান থেকে গাড়িতে তেল ভরছেন একজন
ছবির ক্যাপশান, আমেরিকার বোস্টন শহরে জেরিক্যান থেকে গাড়িতে তেল ভরছেন একজন

১৯৭৩ সালে ইরাকের তেল সংক্রান্ত ফেডারেল আন্ডার সেক্রেটারি ছিলেন ড. ফাদিল চালাবি। ইরাকে জাতীয়করণকৃত তেল শিল্পের প্রধান ছিলেন তিনিই। তিনি বলছিলেন, ওপেক গঠনের ক্ষেত্রে তাদের মূল প্রণোদনা কি ছিল।

"আমি পুরোনো পদ্ধতির বিরোধী ছিলাম। এতে তেল উৎপাদনকারী দেশগুওলোর স্বার্থ রক্ষিত হচ্ছিল না্ । কারণ তেল ছিল খুবই সস্তা।"

"ওপেক তেল শিল্পের ক্ষেত্রে একটা নতুন দৃষ্টিভঙ্গী নিল। সেটা হলো - তেলের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে মূল উদ্যোগটা নেবে উৎপাদনকারী দেশগুলো, সেভেন সিস্টার্সের মতো তেল কোম্পানিগুলো নয়।"

উৎপাদনকারী দেশগুলো ১৯৭৩ সাল নাগাদ তেল কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে বেশ কিছু ছাড় আদায় করে নিয়েছিল।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র, পশ্চিম ইউরোপ এবং জাপানের মতো দেশগুলোয় তেলের চাহিদা ব্যাপকভাবে বাড়ছিল - এবং তা বাড়তে বাড়তে প্রায় উৎপাদনক্ষমতার সমান সমান হয়ে গিয়েছিল।

ডেনমার্কে তেলের অভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি পেট্রোল পাম্প
ছবির ক্যাপশান, ডেনমার্কে তেলের অভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি পেট্রোল পাম্প

এই সময় ওপেকের একটি বৈঠকে ড. চালাবি প্রস্তাব করলেন, তেলের দাম ৭০ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়া হোক। কিন্তু তেল কোম্পানিগুলো এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করলো।

১৯৭৩ সালের অক্টোবর মাসে ভিয়েনায় ওপেকের এক বৈঠক ডাকা হলো দামের ব্যাপারটা নিয়ে আলোচনার জন্য। এবং সেই সময়ই ঘটলো ঘটনাটা।

ড. চালাবি বলছিলেন, "ভিয়েনার বৈঠকে যাবার আগেই আমি সাদ্দাম হোসেনের খুব ঘনিষ্ঠ একজনের সাথে কথা বলছিলাম। তার কাছ থেকেই জানতে পারলাম যে শিগগীরই একটা যুদ্ধ বাধতে যাচ্ছে।"

"আসল যুদ্ধ বাধার আগেই সে আমাকে বললো 'খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা ঘটনা' ঘটতে যাচ্ছে।"

অক্টোবর মাসের ৬ তারিখে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লো মিশর ও সিরিয়া - তাদের লক্ষ্য ছিল ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে হারানো সাইনাই অঞ্চলটি পুনরুদ্ধার। যুদ্ধের শুরুর দিকে আরব বাহিনী ভালোই করছিল।

এই যুদ্ধের মধ্যেই ওপেক এবং তেল কোম্পানিগুলোর বৈঠক বসলো - এবং আলোচনায় কোন অগ্রগতি হলো না।

ওপেক দেশগুলো সিদ্ধান্ত নিলো, তারা কুয়েতে আরেকটা বিশেষ বৈঠকে বসবে। সেই বৈঠক বসলো ১৯৭৩-এ অক্টোবরের ১৬ তারিখ এবং তাতেই নেয়া হলো এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত ।

তেলের অভাবে মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়া গাড়ি ঠেলে নিয়ে চলেছেন একজন: বোস্টন ১৯৭৩
ছবির ক্যাপশান, তেলের অভাবে মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়া গাড়ি ঠেলে নিয়ে চলেছেন একজন: বোস্টন ১৯৭৩

এতে সিদ্ধান্ত হলো, ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো একতরফাভাবে তেলের দাম নির্ধারণ করবে। এতে তেল কোম্পানিগুলোর কোন ভুমিকাই থাকবে না।

শুধু তাই নয়, তারা তেলের দাম ৭০ শতাংশ বাড়িয়ে দিলো।

"এটাই ছিল ক্ষমতার ভারসাম্যে প্রথম পরিবর্তন । তেল কোম্পানিগুলোর হাত থেকে ক্ষমতা চলে গেল ওপেকের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর হাতে" - বলছিলেন ড. ফাদিল চালাবি।

"আমার জন্য এটা ছিল একটা খুশির কথা্, কারণ আমি ভিয়েনায় যা বলেছিলাম - সিদ্ধান্ত ঠিক সেটাই হয়েছিল।"

কিন্তু ওপেকের আরব সদস্য দেশগুলো এখানেই থেমে যায় নি।

অনেক বছর ধরেই তারা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছিল - মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে তেলকে একটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার কথা।

কাজেই ১৯৭৩ অক্টোবর মাসে যখন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে বিমানযোগে জরুরী সামরিক সাহায্য পাঠাতে শুরু করলো - তখন আরব দেশগুলো সিদ্ধান্ত নিল, এবার একটা কিছু করতে হবে।

তেল নেই তাই মেয়রের নির্দেশে রেস্তোরাঁ বন্ধ, আমেরিকার ফিলাডেলফিয়ার ছবি: ১৯৭৩
ছবির ক্যাপশান, তেল নেই তাই মেয়রের নির্দেশে রেস্তোরাঁ বন্ধ, আমেরিকার ফিলাডেলফিয়ার ছবি: ১৯৭৩

আরব তেলমন্ত্রীরা তাদের নির্ধারিত বৈঠকের পরও কুয়েতে রয়ে গেলেন এবং পরদিন অর্থাৎ ১৭ই অক্টোবর নিজেদের মধ্যে আলাদা করে একটা বৈঠক করলেন।

এই বৈঠকে সৌদি আরব প্রস্তাব করলো, ইসরায়েলের মিত্রদের - বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও নেদারল্যান্ডসকে - তেলের সরবরাহ বন্ধ করে দেবার কথা। এ দুটি দেশই ইসরায়েলকে অস্ত্র পাঠানোর কাজে ভুমিকা রেখেছিল।

ইরাক অবশ্য এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করলো। তাদের প্রস্তাব ছিল আরো বেশি বৈপ্লবিক - তারা বললো, আমেরিকান তেল কোম্পানিগুলোকে যে ছাড় দেয়া হয় তা জাতীয়করণ করতে হবে।

"মি. হামাদি এই বৈঠককে কাজে লাগিয়ে এই বার্তাটা দিলেন যে - ইরাক তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেবার বিরোধী । কারণ, এতে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোই ক্ষতিগ্রস্ত হবে - আমেরিকা নয়।"

"তিনি বললেন, আপনারা যদি আমেরিকাকে শাস্তি দিতে চান - তাহলে তেল শিল্পকে জাতীয়করণ করুন। অন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অবশ্য ইরাকের প্রস্তাব মানলেন না। সভা চলতে থাকলো। সৌদিরা এটাই চাইছিল" - বলছিলেন ড. ফাদিল।

পশ্চিম জার্মানির বন শহরে তেল সংকটের সময় একটি সেতুর ওপর গাড়িশূন্য রাস্তা, একজন চলেছেন সাইকেল চড়ে
ছবির ক্যাপশান, পশ্চিম জার্মানির বন শহরে তেল সংকটের সময় একটি সেতুর ওপর গাড়িশূন্য রাস্তা, একজন চলেছেন সাইকেল চড়ে

তিনি বলছিলেন, বৈঠকটা ছিল খুবই আবেগাক্রান্ত এবং সৌদি আরব ও কুয়েতই এতে নেতৃত্ব দিচ্ছিল।

ড. ফাদিল এর বিরোধী হলেও তিনি বুঝেছিলেন যে ব্যাপারটা খুবই স্পর্শকাতর একটি ইস্যু।

"আমাকে আমার মন্ত্রীর সাথে কথা বলার সময়ও খুবই সতর্ক থাকতে হচ্ছিল। আমি বাথ পার্টির সদস্য ছিলাম না। কাজেই এতে আমার বিপদ হতে পারতো। কিন্তু তবু আমি ঝুঁকি নিয়েছিলাম। আমি আমার মন্ত্রীমহোদয়কে বললাম যে এর ফলে তেল শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। মন্ত্রী আমার কথার জবাবে কিছু বললেন না।"

ইরাক ছাড়া অন্য সব আরব দেশ যুক্তরাষ্ট্র এবং নেদারল্যান্ডসে তেলের সরবরাহ কমানোর ব্যাপারে একমত হলো।

এই নিষেধাজ্ঞা কিছুদিনের মধ্যে আরো কঠোর করা হলো। দক্ষিণ আফ্রিকা এবং পর্তুগালও এর আওতায় পড়লো।

এর ফলে সারা দুনিয়ায় তেলের দাম বেড়ে গেল চারশো গুণ। কোন কোন দেশে এরও বেশি।

পশ্চিমা দেশগুলোয় দেখা গেল তেল সংকট, পেট্রোল পাম্পে লম্বা লাইন পড়লো, শুরু হলো রেশনিং, গাড়ি চালানোর ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা।

তেল ব্যবহার কমাতে আমেরিকায় নতুন নির্দেশ এলো, ঘন্টায় ৫০ মাইলের বেশি গতিতে কেউ গাড়ি চালাতে পারবে না।

তেলের উচ্চমূল্যের প্রতিবাদে বার্লিনে বিক্ষোভ
ছবির ক্যাপশান, তেলের উচ্চমূল্যের প্রতিবাদে বার্লিনে জনতার বিক্ষোভ

সেই টালমাটাল সময়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে এক বড় তারকা হয়ে উঠেছিলেন সৌদি আরবের তেল মন্ত্রী শেখ আহমেদ জাকি ইয়ামেনি।

মি. ইয়ামেনি নিজে ছিলেন একজন মধ্যপন্থী। কিন্তু তিনিই হয়ে উঠলেন তেলসমৃদ্ধ নতুন শক্তিধর দেশগুলোর মুখপাত্র।

"আমরা যা চাই তা হলো, অধিকৃত আরব এলাকাগুলো থেকে ইসরায়েলের সেনাদের সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার" - মি. ইয়ামেনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, "তাহলে আপনারা ১৯৭৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যেমন তেল পাচ্ছিলেন - সেরকমই আবার পাবেন।"

তিনি বললেন - 'আমাদের কথা হচ্ছে, আমরা যৌক্তিক হারে তেলের দাম বাড়াতে চাই।'

তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে তেলের দাম যদি ব্যারেলপ্রতি ১০ ডলারে এসে দাঁড়ায়, তাহলে পশ্চিম দেশগুলোর তেলের জন্য প্রতি বছর শত শত কোটি ডলার খরচ করতে হবে। ইউরোপের অর্থনীতির ওপর এর প্রতিক্রিয়া কি হবে তা কি তিনি উপলব্ধি করতে পা্রছেন?

জবাবে মি. ইয়ামেনি বললেন, "আপনি কি তাহলে আমাকে বলছেন যে আমাকে কম দামে তেল বিক্রি করতে হবে? নিশ্চয়ই আপনি এরকম কিছু বলছেন না। কিন্তু আপনি যদি সমস্যাটা নিয়ে আলোচনার কথা বলেন, তাহলে আমরা বসতে রাজি আছি।"

বার্লিনের একটি পাম্পে তেল জমিয়ে রাখতে ক্যান নিয়ে এসেছেন গাড়িচালকরা
ছবির ক্যাপশান, বার্লিনের একটি পাম্পে তেল জমিয়ে রাখতে ক্যান নিয়ে এসেছেন গাড়িচালকরা

সাংবাদিকটি তাকে আবার প্রশ্ন করলেন, এভাবে তেলে দাম বাড়লে বিশ্বে উন্নত দেশ এবং উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে ক্ষমতার ভা্রসাম্য কি পাল্টে যাবে না?

জবাবে মি. ইয়ামেনি বললেন, "হ্যাঁ, যাবে।"

এই নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল পরের বছর অর্থাৎ ১৯৭৪ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত। কিন্তু ওপেক এ সংকটকে জীইয়ে রেখেছিল, এবং তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এর ফলে অবিশ্বাস্যরকম ধনী হয়ে ওঠে।

কিন্তু ড. চালাবি বলেন, তেলের মূল্য বৃদ্ধি আসলে শেষ পর্যন্ত ব্যাকফায়ার করেছিল অর্থাৎ ওপেকের জন্য হিতে বিপরীত হয়েছিল, কৌশলের খেলাটা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা তেল কোম্পানিগুলোর হাতেই চলে গিয়েছিল।

"তারা ওপেকের তেলের বিকল্প খুঁজতে শুরু করে, এবং তেলের উচ্চ মূল্য তাদের প্রকল্পগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হতে সহায়তা করে।"

ড. ফাদিল চালাবি বলছিলেন, "তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে জ্বালানির বিকল্প উৎসের জন্য বিপুল বিনিয়োগ হয়।"

"আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকা এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকেও তেল উত্তোলন হচ্ছে। কাজেই তেলের উচ্চমূল্য এখন অনেক টাকা নিয়ে আসছে ঠিকই, কিন্তু ভবিষ্যতে এটা বিশ্ববাজারে ওপেকের অংশ কমিয়ে দিতে পারে।"