আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন

আমাকে মূল ওয়েবসাইটে/সংস্করণে নিয়ে যান

এই ডেটা-সাশ্রয়ী সংস্করণ সম্পর্কে আরও জানুন

বিধ্বস্ত হেলিকপ্টার থেকে মরদেহ উদ্ধার করে নেয়া হয়েছে তাবরিজে

হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট এব্রাহিম রাইসি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির আবদোল্লাহিয়ানের মৃত্যুর খবরাখবর নিয়ে বিবিসি বাংলার লাইভ পাতা। এখানে পাবেন এ সংক্রান্ত তাৎক্ষণিক খবর এবং বিশ্লেষণ।

সরাসরি কভারেজ

  1. অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মোখবার কে?

    ইরানের অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি হিসেবে মোহাম্মদ মোখবার-এর নাম অনুমোদন করেছেন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি।

    তিনি দুই মাস এ দায়িত্ব পালন করবেন।

    এর মধ্য পরবর্তীতেও দেশের নেতৃত্ব দেয়ার পথ সুগম হলো তার।

    ২০২১ সালের নির্বাচনে রাইসি ক্ষমতায় আসার পর মোখবারকে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

    ৬৮ বছর বয়সী এই কূটনীতিক সর্বােচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি'র ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।

    ২০১০ সালে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন মোখবারকে "পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সংক্রান্ত তৎপরতায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করে।

    সেতাদ নামে একটি বিনিয়োগ তহবিলের দায়িত্বেও ছিলেন তিনি।

    ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন সরবরাহ করার চুক্তি করতে মি. মোখবার গত অক্টোবরে রাশিয়া সফর করেন।

  2. 'ইসরায়েল জড়িত নয়', দাবি এক কর্মকর্তার

    মধ্যপ্রাচ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে বৈরিতা দীর্ঘদিনের। সর্বশেষ এপ্রিলে পরস্পরের ভূখন্ডে হামলা চালায় দেশ দু'টি। হামলার আর সামনের দিকে না গড়ালেও উত্তেজনা পুরোপুরি হ্রাস পায়নি।

    ইরানের প্রেসিডেন্টের হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় পড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন সিনেটর ও রাজনীতিবিদ কথা বলেছেন।

    সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার জানান, মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সাথে তার কথা হয়েছে।

    "এখনো পর্যন্ত কোনো সন্দেহ করার মত কোনো তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।"

    এক সংবাদ সম্মেলনে মি. শুমার বলেন, ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের যে স্থানে কপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়েছে, সেখানকার আবহাওয়া অত্যন্ত কুয়াশাচ্ছন্ন ও খারাপ ছিল। তাই এটিকে একটি দুর্ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে। তবে, বিষয়টি এখনো পুরোপুরি তদন্তাধীন।"

    ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    তবে, রয়টার্সের কাছে একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা দাবি করেছেন, "রাইসির মৃত্যুর সঙ্গে ইসরায়েল জড়িত নয়।"

    তবে, এ তথ্যের পক্ষে-বিপক্ষে আর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি বার্তা সংস্থাটির ওয়েবসাইটে।

  3. সোলেইমানির ঘনিষ্ঠ ছিলেন আব্দোল্লাহিয়ান

    প্রেসিডেন্ট রাইসির সঙ্গে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় অন্যান্যদের মধ্যে নিহত হয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমিরাব্দোল্লাহিয়ান।

    তাকে, ইরানের শাসন ব্যবস্থার "বিশ্বস্ত ব্যক্তি" বলে বিবেচনা করা হত।

    তিনিই ছিলেন প্রথম ইরানি কর্মকর্তা যাকে ইরান, ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রকাশ্য ত্রিপক্ষীয় সমঝোতায় অংশ নিতে দেখা গেছে।

    তেহরানে ব্রিটিশ অ্যাম্বাসি চালুর পর প্রথম উচ্চ পদস্থ ব্যক্তি হিসেবে তিনি লন্ডন সফর করেন এবং তৎকালীন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ডের সাথে সাক্ষাৎ করেন।

    রিভ্যুলশনারি গার্ডসের সাথেমি. আব্দোল্লাহিয়ান ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। বিশেষ করে জেনারেল কাসেম সোলেইমানির সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল তার।

    মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রক্সি গ্রুপগুলোর সাথেও যোগাযোগ রাখতেন তিনি।

  4. ইরানের দুর্বল বিমান পরিবহন ব্যবস্থা

    রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানায়, মি. রাইসিকে বেল ২১২ মডেলের একটি হেলিকপ্টার বহন করছিল। এই মডেলটি যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি।

    ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পরে যুক্তরাষ্ট্রের এটি ইরানের কাছে বিক্রি করার কথা নয়। সে হিসেবে উড়োযানটি অন্তত ৪৫ বছরের পুরনো।

    এর আগেও আকাশপথে দুর্ঘটনায় দেশটির অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে প্রতিরক্ষা ও পরিবহনমন্ত্রী, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড ও সেনাবাহিনীর কমান্ডার বিমান বা হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।

  5. পাকিস্তান, আরব আমিরাত ও ভেনেজুয়েলার নেতাদের শোকবার্তা

    পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, রাইসি'র মৃত্যুতে "অনেক বড় ক্ষতি" হলো।

    পাকিস্তানে একদিনের শোক ঘোষণার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

    রয়টার্স জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান বলেছেন, এই সময়ে ইরানের পাশে আছে তার দেশ।

    ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো রাইসির প্রশংসা করে বলেছেন, তিনি ছিলেন একজন অকৃত্রিম বন্ধু এবং অসাধারণ নেতা।

  6. শোক ও সমবেদনা জানিয়ে হামাসের বিবৃতি

    ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন হামাস এক বিবৃতিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে।

    "ভ্রাতৃপ্রতীম দেশটির জন্য দুঃখের এই ঘটনায় আমরা মর্মাহত।"

    হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা ইরানের সর্বোত্তম নেতাদের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে বলেও মন্তব্য করা হয়েছে বিবৃতিতে।

    হামাস বর্তমানে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত। সংগঠনটি ইরানি সমর্থনপুষ্ট বলে পরিচিত।

  7. অন্তবর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট

  8. এরপর কী?

      • Author, বাহমান কালবাসি
      • Role, বিবিসি পারসিয়ান

    ইরানের কোনো প্রেসিডেন্ট অসুস্থতা, মৃত্যু, অভিশংসন বা সংসদ কর্তৃক অপসারণের ফলে দায়িত্ব পালন করতে অপারগ হলে করণীয় কী, সেই সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা দেয়া আছে ইসলামী প্রজাতন্ত্রটির সংবিধানে।

    এতে বলা হয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট (বর্তমানে মোহাম্মদ মোখবার) রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

    একই সাথে সংসদ এবং বিচার বিভাগের প্রধানদের সাথে যৌথভাবে পরবর্তী সর্বােচ্চ ৫০ দিনের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আয়োজন করবেন তিনি।

    এই সব কিছুই হতে হবে সর্বোচ্চ নেতার অনুমোদন সাপেক্ষে। কারণ, ইরানের যেকোনো বিষয়ে তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

    এব্রাহিম রাইসি'র মৃত্যুর পর ইরান গতবারের মতোই আরেকটি নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাবে। সাধারণ মানুষের মধ্যে আগেরটি যতটুকু আগ্রহ তৈরি করেছিল এবারো তারচেয়ে বেশি হবার কথা নয়।

    ওই নির্বাচনে রাইসির শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের নির্বাচন থেকে বিরত রাখা হয়েছিল। সর্বনিম্ন ভোট পেয়ে তিনি ক্ষমতায় গেছেন। মোট ভোটারের ৩০ শতাংশের সমর্থন পেয়েছিলেন সদ্যপ্রয়াত প্রেসিডেন্ট।

    পাতানো নির্বাচন বুঝতে পেরে সংখ্যাগরিষ্ঠ ইরানি ভোট বয়কট করেছিলেন।

  9. ভারত ও ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা

    ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইরানের রাষ্ট্রপতি এব্রাহিম রাইসির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বার্তা দিয়েছেন।

    সোমবার এক্সে পোস্টে মি. মোদি লিখেছেন, "তার পরিবার ও ইরানের জনগণের প্রতি আমার সমবেদনা জানাচ্ছি। এই শোকের সময়ে ভারত ইরানের পাশে আছে।"

    ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া সুদানিও এক শোকবার্তায় এব্রাহিম রাইসি'র মৃত্যুতে গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

  10. 'প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অপরাধ'

    মাত্র ২৫ বছর বয়সে এব্রাহিম রাইসি তেহরানের ডেপুটি কৌঁসুলি নিযুক্ত হন।

    যে চারজন বিচারককে নিয়ে ১৯৮৮ সালে "ঘাতক কমিটি" নামে পরিচিত হয়ে ওঠা গোপন ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল, তিনি ছিলেন সেই চারজনের একজন।

    যে হাজার হাজার বন্দী তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য ইতোমধ্যেই জেল খাটছিলেন, ওই ট্রাইব্যুনাল তাদের "পুনর্বিচার" করে।

    এদের বেশিরভাগই ছিলেন বামপন্থী বিরোধী দল মুজাহেদিন-ই-খাল্ক (এমইকে)র সদস্য। এই গোষ্ঠী পিপলস মুজাহেদিন অর্গানাইজেশন অফ ইরান বা পিএমওআই হিসাবেও পরিচিত ছিল।

    ঠিক কতজনকে ওই ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল সেই সঠিক সংখ্যা জানা যায় না। কিন্তু মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলে, প্রায় ৫০০০ পুরুষ ও নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল এবং অজ্ঞাত গণকবরে তাদের মাটি দেয়া হয় - যা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ বলে তারা তুলে ধরে।

    মৃত্যুদণ্ডে তার ভূমিকার কথা মি. রাইসি বারবার অস্বীকার করেছন। তবে তিনি একথাও বলেছেন যে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা রুহুল্লা খোমেইনির জারি করা ফতোয়ার কারণে ওই মৃত্যুদণ্ডাদেশ যুক্তিসঙ্গত ছিল।

    তেহরানের কৌঁসুলির দায়িত্বে বসানো হয় মি. রাইসিকে, এরপর তিনি রাষ্ট্রীয় পরিদর্শক সংস্থার প্রধান হন, দেশটির বিচার বিভাগের প্রথম উপ-প্রধান পদে নিযুক্ত হন এবং ২০১৪ সালে ইরানের মহা কৌঁসুলি (প্রসিকিউটার জেনারেল) পদের দায়িত্ব পান।

    দু বছর পর আয়াতোল্লা খামেনি ইরানের অন্যতম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সম্পদশালী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আসতান-ই কুদস্-ই রাজাভি দেখাশোনার সব দায়িত্ব তুলে দেন মি. রাইসির হাতে।

  11. এব্রাহিম রাইসি: বিপ্লবী থেকে বিচারক

    এবাহ্রিম রাইসির জন্ম ইরানের দ্বিতীয় বড় শহর মাশাদে ১৯৬০ সালে। ইরানের পবিত্রতম শিয়া দরগাটি রয়েছে এই শহরে। মি. রাইসির বাবা ছিলেন একজন ধর্মীয় নেতা। এব্রাহিম রাইসির বয়স যখন পাঁচ তখন তার বাবা মারা যান।

    শিয়া ধর্মীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী তিনি ইসলামের নবীর বংশধরদের মত কালো পাগড়ি পরেন। বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে তিনি ১৫ বছর বয়সে পবিত্র কুম শহরে এক শিয়া মাদ্রাসায় যোগ দেন।

    সেখানে শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায়, তিনি পশ্চিমা সমর্থিত শাহ-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে অংশ নেন।

    অবশেষে ১৯৭৯ সালে আয়াতোল্লা রুহুল্লা খোমেইনির নেতৃত্বে ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে শাহ-এর শাসনের পতন ঘটে।

    বিপ্লবের পর তিনি যোগ দেন বিচার বিভাগে এবং আয়াতোল্লা খামেনির কাছে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়ে বেশ কয়েকটি শহরে কৌঁসুলির দায়িত্ব পালন করেন। আয়াতোল্লা খামেনি ১৯৮১ সালে ইরানের প্রেসিডেন্ট হন।

  12. রাইসি'র রাজনৈতিক জীবন

    ৬৩ বছর বয়সী রাইসি ২০২১ সালে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন।

    দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দেশটির মরালিটি বা নৈতিকতা বিষয়ক আইন কঠোর করার নির্দেশ দেন।

    একজন কট্টরপন্থী ধর্মীয় নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হতো তাকে।

    এ কারণে তিনি সরকার বিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভের মুখেও পড়েছেন।

    বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর সাথে পারমাণবিক আলোচনায় তিনি কঠোর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন।

    ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হওয়ার জন্য মি. রাইসি নিজেকে প্রস্তুত করছিলেন বলে অনেকে মনে করেন।

    ২০১৯ সালে সর্বোচ্চ নেতা তাকে বিচার বিভাগের প্রধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিযুক্ত করেন।

    মি. রাইসি অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টের ডেপুটি চেয়ারম্যান হিসেবেও নির্বাচিত হন। ৮৮ সদস্যের এই বোর্ড দেশটির সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে থাকে।

  13. বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া, যেসব দেশ উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসে

    ঘটনার পরপর প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশ উদ্ধারকাজে নেমে পড়ে।

    এদের মধ্যে রয়েছে ইরানের মিত্র দেশ রাশিয়া, আজারবাইন ও আর্মেনিয়া।

    রাশিয়ার গণমাধ্যম আরআইএ নভোস্তি জানায়, ৪৭ জন বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী, যে কোন পথে চলতে পারে এমন কিছু যান ও একটি হেলিকপ্টারের সমন্বয়ে তাদের উদ্ধারকারী দলটি গঠন করা হয়েছে।

    তুরস্ক একটি উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে যারা পার্বত্য অঞ্চলে উদ্ধার কাজ চালাতে সক্ষম।

    তুরস্কেরই একটি উদ্ধারকারী ড্রোন প্রথম দুর্ঘটনার স্থানটি খুঁজে পায়।

    সংযুক্ত আরব আমিরাতও সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে এবং জানিয়েছে যে তারা ইরানের পাশে আছে।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ঘটনা অবহিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র।

  14. রাইসিকে সর্বোচ্চ পদের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল

      • Author, লিজ ডুসেট
      • Role, মুখ্য আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা

    ক্ষমতার সর্বোচ্চ শিখরের কাছাকাছি অবস্থানে ছিলেন এব্রাহিম রাইসি। তাকে তৈরি করা হচ্ছিল একেবারে সর্বোচ্চ আসনটির জন্য।

    আকস্মিক দুর্ঘটনা সবকিছুর মোড় ঘুরিয়ে দিল।

    হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রেসিডেন্ট এব্রাহিম রাইসি'র মৃত্যুর পর নতুন করে আলোচনায়, সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার স্থলাভিষিক্ত হবেন কে?

    আয়াতুল্লাহ্ আলি খামেনি'র বয়স এখন ৮৫ বছর। অনেক দিন ধরেই তার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি আলোচনার কেন্দ্রে।

    ইরানের কট্টরপন্থী প্রেসিডেন্টের দুঃখজনক মৃত্যুতে দেশটির নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে, এমনটি ভাবার কারণ নেই।

    তবে, কঠোর রক্ষণশীলদের নিয়ন্ত্রিত কাঠামোকে একটা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

    তার প্রতিপক্ষের লোকেরা হয়তো এই সাবেক আইনজীবীর প্রস্থানে স্বস্তিই খুঁজবেন। তার বিরুদ্ধে ১৯৮০'র দশকে রাজনৈতিক বন্দীদের গণসাজা দেয়ায় ভূমিকা রাখার অভিযোগ আছে। যদিও তিনি বরাবরই সেই অভিযোগ নাকচ করে এসেছেন। প্রতিপক্ষ আশা করে থাকবে, তার সঙ্গে সঙ্গে এই শাসনকালেরও ইতি ঘটবে।

    রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ইরানের ক্ষমতাসীনরা দুঃখ ভারাক্রান্ত হয়ে পড়বেন। আবার, নিজেদের যাত্রা অব্যাহত রাখার ঘোষণাটা দেয়ার সুযোগও থাকছে সেখানে।

    অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টে রাইসি'র আসনটি পূরণ করতে হবে। এই অ্যাসেম্বলি সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে থাকে।

  15. স্থানীয় গণমাধ্যমে বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারের ছবি প্রকাশ

    স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা রেড ক্রিসেন্টে একটি ড্রোন ফুটেজে দেখা গেছে, হেলিকপ্টারটির পাহাড়ে গায়ে পড়ে আছে।

    ফুটেজটি প্রকাশ করেছে ইরানি গণমাধ্যম তাসনিম নিউজ

  16. ইরানের অন্তবর্তী প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মোখবার

    ইরানের অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি হিসেবে মোহাম্মদ মোখবার-এর নাম অনুমোদন করেছেন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি।

    তিনি দুই মাস এ দায়িত্ব পালন করবেন।

    ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, আগামী ৫০ দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হবে।

  17. 'হেলিকপ্টারে থাকা সবাই নিহত হয়েছেন'

    ইরানের প্রেসিডেন্ট এব্রাহিম রাইসি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির আবদোল্লাহিয়ানসহ হেলিকপ্টারে থাকা সবাই নিহত হয়েছেন বলে ইরানের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

    ''প্রেসিডেন্ট রাইসি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও হেলিকপ্টারে থাকা অন্য সকল যাত্রী দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে,'' ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্স বার্তা সংস্থাকে বলেছেন। তবে স্পর্শকাতর বিষয় হওয়ায় তিনি নিজের নাম প্রকাশ করতে চাননি।

    এর আগে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রধান পিরহোসেন কলিভান্দ জানান, হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পেয়েছে অনুসন্ধান দল। "সেখানে প্রাণের কোনো অস্তিত্ব নেই।"

  18. ইরানের ঘটনাপ্রবাহ

    • রোববার আজারবাইজানের সীমান্তের কাছে দুটি বাঁধ উদ্বোধন করেন প্রেসিডেন্ট এব্রাহিম রাইসি। এরপর হেলিকপ্টারে ইরানের উত্তর-পশ্চিমে তাবরিজ শহরের দিকে যাচ্ছিলেন তিনি।
    • রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, তাবরিজ থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে দূর্ঘটনার কবলে পড়ে হেলিকপ্টারটি। ইরানের স্থানীয় সময় গতকাল বিকেল চারটার দিকে দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়।
    • প্রেসিডেন্টের বহরে মোট তিনটি হেলিকপ্টার ছিল। অন্য দুটি হেলিকপ্টার নিরাপদে অবতরণ করে।
    • তার সঙ্গে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির আবদোল্লাহিয়ান এবং সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার প্রতিনিধি সৈয়েদ মোহাম্মদ আল হাশেম।
    • দুর্যোগপূর্ণ ও কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় উদ্ধারকাজ চালাতে বেগ পেতে হয়। তুরস্কের পাঠানো একটি ড্রোন প্রথম বিধ্বস্ত হওয়ার এলাকায় একটি 'হিট সোর্স' (উত্তপ্ত স্থান) সনাক্ত করে।
    • ইরানের গণমাধ্যমে বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির বক্তব্য প্রচার করা হয়। তিনি জনসাধারণকে প্রার্থনা করার আহ্বান জানান। রাষ্ট্রের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে কোনো প্রভাব পড়বে না বলেও আশ্বস্ত করেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা।
  19. রাইসির সাথে যারা ছিলেন

    ইরানের প্রেসিডেন্ট এব্রাহিম রাইসি ছাড়াও ওই হেলিকপ্টারে যারা ছিলেন:

    সৈয়েদ মোহাম্মদ আল হাশেম, ধর্মীয় নেতার (খামেনি) প্রতিনিধি ও তাবরিজের ইমাম

    হোসেইন আমিরাব্দোল্লাহিয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    মালিক রাহমাতি, পূর্ব আজারবাইজানের গভর্নর

    সরদার সৈয়েদ মেহদি মৌসভি, প্রেসিডেন্ট প্রোটেকশন ইউনিটের কমান্ডার

    এছাড়াও কয়েকজন নিরাপত্তারক্ষী এবং ক্রু ছিলেন।

  20. হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারা গেছেন

    ইরানের প্রেসিডেন্ট এব্রাহিম রাইসি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির আবদোল্লাহিয়ানসহ হেলিকপ্টারে থাকা সবাই নিহত হয়েছেন বলে ইরানের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

    ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    এ নিয়ে সর্বশেষ সব খবর জানাতে বিবিসি বাংলার এই লাইভ পাতায় আপনাকে স্বাগতম।