ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলি সংঘাতের মূলে যে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
ইসরায়েলি আর ফিলিস্তিনিদের দীর্ঘ আট দশকের এই সংঘাত বুঝতে সাহায্য করতে পারে দশটির প্রশ্নের উত্তর
বিবিসি বাংলার এই প্রতিবেদনটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন
আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ও ইসরায়েলের বাহিনীর মধ্যে সংঘাত চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে। গাজায় বিদ্যুৎ, খাবার ও পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ার পর সেখানকার পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সেখানকার সর্বশেষ খবর জানাতে বিবিসি বাংলার লাইভ আয়োজন।
ইসরায়েলি আর ফিলিস্তিনিদের দীর্ঘ আট দশকের এই সংঘাত বুঝতে সাহায্য করতে পারে দশটির প্রশ্নের উত্তর
বিবিসি বাংলার এই প্রতিবেদনটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন
হামাস হল ফিলিস্তিনের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী যারা গাজা উপত্যকা পরিচালনা করে। এই গোষ্ঠীটি ইসরায়েলকে ধ্বংসের শপথ নিয়েছে এবং তারা গাজাকে একটি ইসলামী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন শক্তিধর দেশ হামাসকে সামগ্রিকভাবে বা কিছু ক্ষেত্রে এর সামরিক শাখাকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
তবে এই গোষ্ঠীকে সমর্থন দিয়ে আসছে ইরান- তারা হামাসকে অর্থায়ন, অস্ত্র সরবরাহ এবং প্রশিক্ষণ প্রদান করে আসছে।
গাজা উপত্যকা ইসরায়েল, মিশর এবং ভূমধ্যসাগরের মধ্যে একটি ৪১ কিমি (২৫ মাইল) দীর্ঘ এবং ১০ কিলোমিটার প্রশস্ত অঞ্চল।
এখানে প্রায় ২৩ লাখ মানুষ বসবাস করে। বিশ্বের সর্বোচ্চ ঘণবসতি এলাকা মধ্যে গাজা একটি।
গাজা এবং এর উপকূল রেখার উপর আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণ করে ইসরায়েল এবং এর সীমানা দিয়ে কারা এবং কী ধরণের পণ্য প্রবেশ করবে সেটাও তারা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
শনিবারের হামলার পর থেকে, ইসরায়েল গাজা অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে, ইসরায়েল থেকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
একইভাবে, মিশর নিয়ন্ত্রণ করে কারা তার দেশে গাজার সীমান্ত দিয়ে আসা যাওয়া করছে।
• গাজা উপত্যকা জুড়ে এক লাখ ৮৭ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে – এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
• জাতিসংঘের ৮৩টি স্কুলে এক লাখ ৩৭ হাজার ৫শ মানুষকে আশ্রয় দেয়া হয়েছে।
• গাজায় জাতিসংঘের একটি মাঠ পর্যায়ের কার্যালয় "বিমান হামলার কারণে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।"
• গাজার প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ এই সপ্তাহে জাতিসংঘের খাদ্য রেশন পায়নি কারণ এই খাদ্য বিতরণের কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
শনিবারের হামলার পর ইরানের টেলিভিশনে সম্প্রচারিত বক্তৃতার দেশটির সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন,
"ইসরায়েলের এই ধ্বংসাত্মক হামলায় বহু গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে যেগুলো সহজে মেরামত করা যাবে না।"
আয়াতুল্লাহ আল খামেনি আরও বলেছেন, "এই বিপর্যয়ের জন্য ইহুদিবাদী শাসকদের নিজস্ব কর্মকাণ্ড দায়ী।"
উল্লেখ্য, খামেনি হামাস যোদ্ধাদের হামলার পেছন ইরানের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন, যারা শনিবার সীমান্ত লঙ্ঘন করে শত শত ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছিল।
ইরান হামাস জঙ্গিদের অর্থায়ন ও অস্ত্র সরবারহ করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
গাজা থেকে কিছুটা দূরে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে শনিবার থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে ১৭ জন ফিলিস্তিনি মারা গেছেন। জাতিসংঘ এই তথ্য জানিয়েছে।
নিহতদের মধ্যে চারটি শিশু রয়েছে এবং ওই সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ২৯৫ জন।
পশ্চিম তীর গাজা থেকে বিচ্ছিন্ন একটি শহর এবং তারা হামাস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয়।
নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষের ফলে বেশিরভাগ আহত হয়েছেন, তবে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের আক্রমণে ২৩ জন আহত হয়েছেন বলে জাতিসংঘ জানিয়েছে।
গাজা উপত্যকায় রাতভর ব্যাপক বিমান হামলা হয়েছে। আমি গাজা শহরের এমন একটি এলাকায় ছিলাম যেখানে বেশিরভাগ ভবন ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।
বিস্ফোরণের ভয়াবহ শব্দ, আকাশে বিস্ফোরণ এবং কুণ্ডলি পাকানো ধোঁয়া ও অগ্নিশিখায় এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল
আমি প্রায় ২০ বছর ধরে পরিবারের সাথে একটি আবাসিক ভবনে থাকি। বাচ্চারা সারারাত চিৎকার করছে এবং কারোর এক মুহূর্তের জন্য ঘুম হয়নি।
এই এলাকায় দুই দশক ধরে খবর সংগ্রহ করছি, এর মধ্যে গত রাতটি আমি দেখা সবচেয়ে কঠিন রাত।
আজ সকালে আমি বের হতে পেরেছি। আমি যত্রতত্র ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দিয়ে গাড়ি চালাচ্ছিলাম।
রাস্তাঘাটে ভবন ধসে পড়ছে এবং পুরো এলাকা গুড়িয়ে সমান হয়ে গিয়েছে।
সরকারি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন, অবকাঠামো, একটি মসজিদ ও একটি থানা ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।
এরমধ্যে অনেক ভবন আমার চেনা। কিন্তু আশেপাশে ধ্বংসস্তূপ দেখে সেটা আর চেনার উপায় নেই।
ইসরায়েলকে মার্কিন সমর্থন দেয়ার বিষয়ে আলোচনা করতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলি কোহেনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন।
দুই কূটনীতিকের মধ্যে এই ফোনালাপ নিয়ে সম্পর্কিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ব্লিঙ্কেন "সব জিম্মিদের মুক্তি অবিলম্বে নিশ্চিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।"।
সোমবার, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নিশ্চিত করেছেন যে হামাসের হামলায় কমপক্ষে ১১জন মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন - এবং তিনি "নিজেকে এবং তার জনগণকে রক্ষা করার জন্য ইসরায়েলের যা প্রয়োজন তা দিয়ে যাবেন"।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী-আইডিএফ এর মুখপাত্র রিচার্ড হেখট বলেছেন, সামরিক বাহিনী "ভবিষ্যত অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করছে” এবং গাজা সীমান্তে ৩৫টি ব্যাটালিয়ন মোতায়েন করা হয়েছে।
একটি ব্যাটালিয়ন সাধারণত শত শত সৈন্য নিয়ে গঠিত হয়।
শনিবারের ভয়াবহ হামলার জবাবে ইসরায়েল গাজায় একটি বড় পরিসরে স্থল অভিযান শুরু করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সোমবার রাতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, গাজায় বিমান হামলা কেবল ‘শুরু মাত্র’।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আল খামেনি শনিবার হামাসের ভয়াবহ হামলার পেছনে ইরানের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে।
কিন্তু - রয়টার্সের একটি প্রতিবেদন অনুসারে - তিনি বলেছেন: "যারা ইহুদিবাদী শাসকদের উপর হামলার পরিকল্পনা করেছে আমরা তাদের হাতে চুম্বন করি।"
উল্লেখ্য, হামাসকে অর্থায়ন এবং যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সরবরাহের জন্য ইরানকে দায়ী করা হয়।
জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত গিলাদ এরদান বলেছেন, ইসরায়েল থেকে অপহরণের পর গাজায় "১০০ থেকে দেড়শ জনকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে।”
আজ সকালে, ইসরায়েলের সামরিক মুখপাত্র ড্যানিয়েল হাগারি বলেছেন, ৫০ জন জিম্মির পরিবারকে সেনাবাহিনী অবহিত করেছে।
সামরিক বাহিনী জিম্মি সংক্রান্ত আরও তথ্য যাচাই করার সাথে সাথে আরও পরিবারের সাথে যোগাযোগ করবে বলে তিনি জানান।
গাজায় মৃতের সংখ্যা এখন ৭০০ জনের উপরে বলে সেখানকার, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
তারা বলেছে, ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহতদের মধ্যে শতাধিক শিশু ও একশ’র বেশি নারী রয়েছেন।
সোমবার গাজায় একদিনে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ নিহত হয়েছে - প্রায় তিনশ জনের মতো। এরমধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ বেসামরিক নাগরিক বলে জানিয়েছে সেখানকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
ইসরায়েলের হামলায় গাজার এক শরণার্থী বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে- ইসরায়েল বলেছে যে তারা হামাস কমান্ডারের একটি বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল।
কিন্তু যখন তারা সেই বাড়িতে আঘাত করে তখন তার আশেপাশের রাস্তার ও বাড়িঘরের বহু মানুষ নিহত হয়।
সারা রাত ধরে ইসরায়েলি হামলার ফলে গাজায় ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে তথ্য ও ছবি পেতে শুরু করেছে বিবিসি।
ইসরায়েলি বিমান বাহিনী জানিয়েছে, তারা দুইশোর বেশি লক্ষ্যে সারা রাত হামলা করেছে।
শনিবার থেকে বিমান হামলায় গাজায় সাতশোর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী- আইডিএফ বলছে, ইসরায়েলে এবং গাজা উপত্যকার আশপাশে দেড় হাজার হামাস যোদ্ধার লাশ পাওয়া গেছে।
সেইসাথে গাজা উপত্যকার কাছাকাছি সমস্ত ইসরায়েলি কমিউনিটিকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে।
• ইসরায়েল গাজার সঙ্গে তাদের সীমানা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। ইসরায়েলে হামাসের ভয়াবহ হামলার তিন দিন পর এই সীমানা বন্ধ করা হল।
• ইসরায়েলি বিমান বাহিনী বলেছে যে তারা গাজা উপত্যকায় রাতভর ২০০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
• সোমবার সন্ধ্যায়, হামাস হুঁশিয়ারি দেয় যে যদি ইসরায়েল কোন সতর্কতা ছাড়া বিমান হামলা চালিয়ে যায় তাহলে তারা ইসরায়েল থেকে আটক করা জিম্মিদের হত্যা করবে।
• ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গাজার বাসিন্দাদের মিশর নিয়ন্ত্রিত একটি সীমান্ত দিয়ে ওই পারে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে - কিন্তু পরে জানায় যে ওই সীমান্ত বন্ধ আছে।
• জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা- ইউনিসেফ গাজার ভেতরে এবং বাইরে একটি মানবিক করিডোর স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছে, কারণ ইসরায়েল জ্বালানি, বিদ্যুৎ এবং পানি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে।
• ইসরায়েল বলেছে যে শনিবার সকালে হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে তারা ১৫শ হামাস যোদ্ধার মৃতদেহ খুঁজে পেয়েছে।
ইসরায়েল ও গাজায় হামাসের মধ্যে তৃতীয় দিনের মতো লড়াই চলছে।
শনিবার হামাস আকস্মিক হামলা এবং ইসরায়েলি বাহিনীর পাল্টা আক্রমণে এ পর্যন্ত ১৬০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
সেখানকার ঘটনার সবশেষ তথ্য জানাতে বিবিসি বাংলার লাইভ পাতায় আপনাকে স্বাগতম।