ওডেসা শহরে যে কোন সময় হামলা হতে পারে: জেলেনস্কি

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, রুশ বাহিনী এখন দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর শহর ওডেসাতে বোমা হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কৃষ্ণসাগরের তীরের এই ঐতিহাসিক শহরে প্রায় দশ লাখ মানুষ থাকে।

সরাসরি কভারেজ

সায়েদুল ইসলাম and মোয়াজ্জেম হোসেন

  1. ইউক্রেনে হামলা নেটোর দিকে ঠেলে দিচ্ছে ফিনল্যান্ডকে, জন সিম্পসন, বিবিসির ওয়ার্ল্ড অ্যাফেয়ার্স এডিটর

    ইউক্রেনের রাশিয়ার হামলার কারণে প্রতিবেশি অনেক দেশ আশঙ্কায় পড়েছে, যাদের মধ্যে বাল্টিক দেশগুলো থেকে শুরু করে মলদোভা রয়েছে।

    ঐতিহাসিকভাবেই ফিনল্যান্ড নিরপেক্ষ দেশ হিসাবে রয়েছে।

    ১৯৩৯ সালে যখন জোসেফ স্ট্যালিনের সোভিয়েত আর্মি দেশটিতে হামলা করে, তাদের সঙ্গে শক্ত লড়াই করেছিল ফিনল্যান্ড।

    সুইডেন ছাড়া স্ক্যান্ডিনাভিয়ান দেশগুলোর মতো ফিনল্যান্ডে কখনোই নেটোতে যোগ দেয়ার পক্ষে তেমন সমর্থন ছিল না। কিন্তু সম্প্রতি যখন রাশিয়ার সামরিক মুখপাত্র ফিনল্যান্ড ও সুইডেনকে সতর্ক করে দিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন যে, দেশ দুটি নেটোয় যোগ দেয়ার চেষ্টা করলে সামরিক পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে, দুটি দেশের বাসিন্দারাই হতবাক হয়ে গেছেন।

    এরপর থেকেই রাশিয়ার যুদ্ধবিমান প্রায়ই সুইডেনের আকাশসীমা লঙ্ঘন করছে।

    এখন এসব দেশের বাসিন্দারা ভাবতে শুরু করেছেন, নিরপেক্ষ থাকলে যদি রাশিয়া থেকে নিরাপদ থাকা না যায়, তাহলে হয়তো নেটোতে যোগ দিলেই কাঙ্খিত নিরাপত্তা পাওয়া যাবে।

    ফলে দেশদুটির মনোভাবে বড় পরিবর্তন এসেছে। ফিনল্যান্ডে ভাবা হতো, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক খুব ভালো। কিন্তু ইউক্রেনের ঘটনায় সব কিছু বদলে গেছে।

  2. বিশ্বে অর্থনৈতিক 'চরম প্রভাবের' ব্যাপারে সতর্ক করলো আইএমএফ

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করে দিয়েছে যে, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বের অর্থনীতিতে চরম প্রভাব পড়তে যাচ্ছে।

    ''পরিস্থিতি খুবই পরিবর্তনশীল রয়েছে এবং শেষপর্যন্ত ফলাফল কী হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে, কিন্তু অর্থনীতির ওপর এর যে প্রভাব পড়তে যাচ্ছে, তা হবে খুবই মারাত্মক,'' সংস্থাটি একটি বিবৃতিতে বলেছে। ''যুদ্ধ যত বাড়বে, অর্থনীতির ক্ষতি ততো ভয়াবহ হবে।''

    বর্তমান মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়ে চলেছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে যেসব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, সেগুলোর বড় ধরনের পরিণতি রয়েছে। বিশেষ করে ইউক্রেন ও রাশিয়ার সঙ্গে যেসব দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, সেসব দেশে বেশি প্রভাব পড়বে।

    ইউক্রেন যে একশো ৪০ কোটি ডলার সহায়তার জন্য অনুরোধ করেছে, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আইএমএফ সামনের সপ্তাহে আবার জরুরি বৈঠকে বসবে।

  3. আগুনে ঘৃতাহুতি দেবে, এমন যেকোনো পদক্ষেপের চীন বিরোধিতা করবে

    আগুনে ঘৃতাহুতি দেবে, এমন যেকোনো পদক্ষেপের চীন বিরোধিতা করবে বলে যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে চীন।

    গ্লোবাল টাইমসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিংকেনকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াঙ ইয়ি বলেছেন, ইউক্রেন ও রাশিয়ার সমস্যা সমাধানে তিনি সরাসরি আলোচনাকে গুরুত্ব দেন।

    এই সংকট শুধুমাত্র সংলাপ এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হতে পারে বলে তিনি বলছেন। এখন পর্যন্ত রাশিয়ার হামলার ব্যাপারে কোন মন্তব্য করেনি চীন।

    চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াঙ ইয়ি

    ছবির উৎস, Getty Images

    ছবির ক্যাপশান, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াঙ ইয়ি
  4. রাশিয়ার বন্ধুত্ব থেকে ভেনেজুয়েলাকে সরিয়ে আনতে চায় যুক্তরাষ্ট্র: রিপোর্ট

    ভেনেজুয়েলার সাথে সম্পর্কের উন্নয়নের মাধ্যমে দেশটিকে রাশিয়ার বন্ধু তালিকা থেকে সরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এই সপ্তাহে দেশটিতে সফর করতে যাচ্ছেন বলে জানা যাচ্ছে।

    নির্বাচনে জালিয়াতি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র এমন অভিযোগ তোলার পর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বন্ধ হয়ে যায়।

    ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র যখন ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে, দেশটি অর্থনৈতিক সহায়তার জন্য রাশিয়ার দারস্থ হয়।

    এখন নিকোলাস মাদুরোর সরকারকে মস্কো থেকে সরিয়ে আনার জন্য ওয়াশিংটন চেষ্টা করছে।

  5. পুতিনের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ কারা এবং যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্ব কাদের ওপর?

    পুতিন

    ছবির উৎস, get

    ভ্লাদিমির পুতিনকে দেখলে একজন নিঃসঙ্গ মানুষ বলে মনে হয়। তিনি রাশিয়ার সামরিক বাহিনীকে এমন ঝুঁকিপূর্ণ একটি যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছেন, যা তার দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে ফেলতে পারে।

    কমান্ডার ইন চীফ বা সর্বোচ্চ অধিনায়ক হিসাবে, যেকোনো ধরণের যুদ্ধাভিযানের চূড়ান্ত দায়িত্ব তার উপরেই বর্তায়। তবে তিনি এক্ষেত্রে সবসময় তার অত্যন্ত অনুগত কিছু লোকজনের উপর নির্ভর করেন, যাদের মধ্যে অনেকেই রাশিয়ার নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থায় তাদের কর্মজীবন শুরু করেছিলেন।

    প্রশ্ন হল, প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার মেয়াদকালের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তগুলোতে কারা তাকে পরামর্শ দিচ্ছে?

  6. ইউক্রেনে সোভিয়েত আমলের যুদ্ধবিমান পাঠানোর কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র-পোল্যান্ড: রিপোর্ট

    পোল্যান্ডের সঙ্গে একটি চুক্তির বিষয়ে বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা , যার মাধ্যমে সোভিয়েত জমানার কিছু বিমান ইউক্রেনকে দেবে পোল্যান্ড। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র পোল্যান্ডকে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান দেবে।

    যুক্তরাষ্ট্রের ৩০০ জনের বেশি সিনেটরের সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদামির জেলেনস্কির বেঠকে তিনি জানিয়েছেন, তার দেশের জরুরি ভিত্তিতে এখন অনেক বিমানের দরকার।

    হোয়াইট হাউজের একজন কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমকে বলেছেন, ''আমরা বিষয়টি নিয়ে পোলিশদের সঙ্গে কাজ করছি এবং নেটোর অন্য দেশগুলোর সঙ্গেও কথা বলছি।''

    পোল্যান্ড যদি ইউক্রেনকে বিমান সরবরাহ করে, সেটি পূরণে যুক্তরাষ্ট্র কি করবে, তা নিয়েই বিশেষ করে আলোচনা চলছে।

    ইউক্রেনের চালকদের বিশেষ করে রাশিয়ার তৈরি বিমান দরকার। কারণ তারা এ ধরনের বিমান চালনায় প্রশিক্ষিত।

    হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শনিবার মি. জেলেনস্কির সঙ্গে কথা বলেছেন, যেখানে তিনি ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তা, মানবিক এবং অর্থনৈতিক সহায়তা দেয়ার উদ্যোগ নেয়ার কথা বলেছেন। অতিরিক্ত তহবিল বরাদ্দের জন্য তিনি কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনা করছেন বলেও জানিয়েছেন।

  7. রাশিয়া থেকে সরে গেছে ভিসা ও মাস্টারকার্ড

    বিশ্বব্যাপী লেনদেনের মাধ্যম মাস্টারকার্ড এবং ভিসা ঘোষণা করেছে যে, ইউক্রেনে হামলার কারণে তারা রাশিয়ায় কার্যক্রম স্থগিত করেছে।

    একটি বিবৃতিতে তারা বলেছে, রাশিয়ার ব্যাংকগুলো এখন আর তাদের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারবে না। সেই সঙ্গে অন্য দেশের কোন ব্যবহারকারীও রাশিয়ার কোন মার্চেন্ট বা এটিএমে এসব কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন না।

    ভিসা জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে তারা রাশিয়ায় সবরকমের কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে যাচ্ছে। অন্য দেশ বা কোম্পানির ইস্যু করা কার্ড রাশিয়াতেও ব্যবহার করা যাবে না।

  8. ভেস্তে গেছে যুদ্ধবিরতি, মারিউপোল তীব্র গোলাবর্ষণ

    ইউক্রেন দাবি করছে ভলনোখাভার কাছে তারা একটি রুশ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে

    ছবির উৎস, UKRAINIAN MILITARY HANDOUT / REUTERS

    ছবির ক্যাপশান, ইউক্রেন দাবি করছে ভলনোখাভার কাছে তারা একটি রুশ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে

    ইউক্রেনের মারিওপোল শহর থেকে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদে সরে যাওয়ার সুযোগ দেয়ার লক্ষ্যে এক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে রাশিয়া রাজী হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তারা আবার শহরটির ওপর অব্যাহত গোলা হামলা চালাচ্ছে। ফলে এই পরিকল্পনা এখন ভেস্তে গেছে।

    স্থানীয় সময় সকাল নয়টায় যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু মারিওপোল শহরের ডেপুটি মেয়র এখন অভিযোগ করছেন, রুশরা এই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে, তারা সেখানে ক্রমাগত গোলাবর্ষণ করে যাচ্ছে। এর ফলে শহর থেকে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষকে সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা তাদেরকে এখন স্থগিত রাখতে হচ্ছে।

    শহরের ডেপুটি মেয়র সের্গেই অরলভ বিবিসিকে বলেন, রুশ গোলাবর্ষণের কারণে এখন সেখানে রাস্তায় বেরুনো মোটেই নিরাপদ নয়। যে পথ ধরে পাঁচ/ছয় হাজার বেসামরিক মানুষকে সরিয়ে নেয়ার কথা ছিল, সেই রাস্তার বিভিন্ন জায়গাতেও লড়াই চলছে।

    তবে এব্যাপারে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় একেবারেই ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছে। তারা বলছে, ইউক্রেনের জাতীয়তাবাদীরাই শহর থেকে বেসামরিক মানুষকে বেরুতে বাধা দিচ্ছে। তারা আরও বলছে, রুশ বাহিনী যখন একটি মানবিক ত্রাণ করিডোর তৈরি করে, তখন রুশ বাহিনীর ওপর গুলি চালানো হয়।

    মারিওপোল শহরে গত কদিন ধরেই তীব্র লড়াই চলছে। সেখানে লোকজনের বাসাবাড়িতে পানি এবং বিদ্যুতের সরবরাহ নেই, খাদ্য এবং ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। মারিওপোল থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন, এমন একজন বিবিসিকে জানিয়েছেন, শহরটির অবস্থা এখন নরকের মতো।

  9. বিবিসি বাংলার লাইভ রিপোটিং-এ স্বাগত জানাচ্ছি সায়েদুল ইসলাম