বিবিসি বাংলার লাইভ পেজ থেকে আজকের মত বিদায় নিচ্ছি মানসী বড়ুয়া। আফগান পরিস্থিতির সর্বশেষ পাবেন বিবিসির ওয়েবসাইটে
আফগান পরিস্থিতির সর্বশেষ এবং অন্যান্য খবর জানতে চোখ রাখুন বিবিসি বাংলার পাতায়:
আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
আফগানিস্তানে ফিরছেন শীর্ষ তালেবান নেতারা। সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা জোরদার হচ্ছে। প্রথমবারের মত সংবাদ সম্মেলন করে তালেবান বলেছে, 'আমরা আজ বিশ বছর আগের তালেবান নই'। আফগানিস্তানের সবশেষ পরিস্থিতি নিয়ে বিবিসির লাইভ রিপোর্টিং:
সায়েদুল ইসলাম and মানসী বড়ুয়া
আফগান পরিস্থিতির সর্বশেষ এবং অন্যান্য খবর জানতে চোখ রাখুন বিবিসি বাংলার পাতায়:
আফগানিস্তানের ঘটনা প্রবাহ নিয়ে বিবিসি বাংলার এই লাইভ পাতায় আপনি এখন যোগ দিয়ে থাকলে আজকের মূল খবরগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো:
এসব খবরের বিস্তারিত রয়েছে বিবিসি বাংলার এই পাতায়।
তালেবান শাসনে আফগানিস্তান গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হবে না একথা রয়টার্স সংবাদ সংস্থাকে বলেছেন তালেবানের একজন ঊর্ধ্বতন সদস্য।
তালেবানের সিদ্ধান্ত প্রণয়নকারীদের ঘনিষ্ঠ এই তালেবান সদস্য ওয়াহিদুল্লাহ হাশিমি বলেছেন: “এখানে কোনরকম গণতান্ত্রিক পদ্ধতি থাকবে না, কারণ আমাদের দেশে এর কোন ভিত নেই।
“আফগানিস্তানে কী ধরনের রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থা থাকবে এ নিয়ে আমরা আলোচনা করব না। কারণ এটা পরিষ্কার। আফগানিস্তান চলবে শরিয়া আইনে। সেটাই শেষ কথা।”
তালেবোনের সুপ্রিম নেতা হিবাতুল্লাহ আকুন্দযাদা দেশের সার্বিক দায়িত্বে থাকবেন বলে আমরা মনে করছি, বলেন মি. হাশিমি।
তালেবান আফগানিস্তানের দখল নেবার মাত্র চারদিনের মাথায় পশ্চিমের হেরাত শহরে মেয়েদের স্কুলে ফেরত যাবার খবর পাওয়া গেছে।
ছাত্রীদের করিডরে গল্পগুজব করতে দেখা গেছে বলে জানাচ্ছে বার্তা সংস্থা এএফপি। তালেবান ক্ষমতা দখলের পর এই দৃশ্য আর দেখা যাবে না বলেই অনেকে আশংকা করছিলেন।
তালেবান ১৯৯০এর দশকে যখন আফগানিস্তান নিয়ন্ত্রণ করে, তখন নারী ও অল্পবয়সী মেয়েদের পড়াশোনা ও চাকরির সুযোগ ছিল না।
জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ-এর মাঠ পর্যায়ের প্রধান মুস্তাফা বেন মেসাউদ তালেবানের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতার আলোকে সতর্কতার সাথে হলেও কিছুটা আশাবাদ দেখিয়েছেন। তিনি বলেছেন তালেবান প্রাথমিকভাবে হলেও মেয়েদের শিক্ষার ব্যাপারে সমর্থন দেখিয়েছে।
তিনি বলেছেন তাদের সাথে যে কথাবার্তা হয়েছে তাতে এই আশা তৈরি হয়েছে।
তবে সবাই তালেবানের এই আশ্বাসে বিশ্বাস রাখতে পারছে না।
ইরান আফগানিস্তানের সঙ্গে তাদের সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে বলে ইরানের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত বার্তা সংস্থা মিজান নিউজকে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা।
মন্ত্রণালয়ের সীমান্ত বিষয়ক বিভাগের পরিচালক হোসেইন কাসেমি বলেছেন সীামন্ত সংলগ্ন ইরানের তিনটি প্রদেশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে আফগানিস্তানের ঘটনা প্রবাহ বিবেচনায় এবং "করোনাভাইরাস বিধিনিষেধের" কারণে আফগানিস্তান থেকে আসা শরণার্থীদের তারা যেন ফিরিয়ে দেয়।
কয়েকদিন আগে মি. কাসেমি বলেছিলেন আফগানিস্তান থেকে পালানো শরণার্থীর ঢল সামাল দিতে আফগান সীমান্তের কাছে ইরান শরণার্থী শিবির তৈরি করছে।
জাতি সংঘের হিসাব অনুযায়ী, গত বছর অক্টোবর পর্যন্ত ইরানে আফগান শরণার্থীর সংখ্যা ছিল সাত লাখ ৮০ হাজার।
তালেবানের অগ্রযাত্রার মুখে রবিবার বিকেলের দিকে মি. গানি কাবুল থেকে পালিয়ে যান।
এদিকে তাজিকিস্তানে আফগান রাষ্ট্রদূত অভিযোগ করেছেন যে, মি. গানি রবিবার যখন দেশ ছাড়েন তখন তার সাথে করে তিনি ১৬ কোটি ৯০ লক্ষ ডলার নিয়ে যান।
রাষ্ট্রদূত মোহম্মদ জহির আগবার, আশরাফ গানির আফগানিস্তান ত্যাগকে “দেশ ও জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা” বলে বর্ণনা করেন।
তিনি তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবে-তে আফগান দূতাবাসে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন।
তিনি আরও ঘোষণা করেন যে দূতাবাস সাবেক ডেপুটি প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ-কে আফগানিস্তানের অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসাবে স্বীকৃতি দিচ্ছে।
গতকাল বিবিসি নিউজের কাছে পাঠানো এক অডিও বার্তায় মি. সালেহ নিজেকে “আফগানিস্তানের বৈধ তত্ত্বাবধায়ক প্রেসিডেন্ট” দাবি করেন এবং বলেন “যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি”।
আফগানিস্তানের পালিয়ে যাওয়া প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানি সংযুক্ত আরব আমিরাতে রয়েছেন বলে উপসাগরীয় রাষ্ট্রটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ঘোষণা করা হয়েছে।
“ইউএই পররাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করছে যে, মানবিক কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাত আশরাফ গানি এবং তার পরিবারকে দেশটিতে স্বাগত জানাচ্ছে,” বিবৃতিতে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র।
তালেবানের অগ্রযাত্রার মুখে রবিবার বিকেলের দিকে মি. গানি কাবুল থেকে পালিয়ে যান।
আফগানিস্তানের জালালাবাদ শহরের বিক্ষোভে অন্তত একজন নিহত হয়েছে খবর পাওয়া গেছে।
শহর কেন্দ্রের এক চত্বরে স্থানীয় বাসিন্দারা আফগানিস্তানের তিন রঙ-এর জাতীয় পতাকা তোলার চেষ্টা করলে তালেবান যোদ্ধারা গুলি ছোঁড়ে এবং তাতে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিবিসির পশতু বিভাগ খবর দিচ্ছে যে, জালালাবাদ, কুনার এবং খোস্ত শহরেও আফগানিস্তানের জাতীয় পতাকা নিয়ে আজ বিক্ষোভ হয়েছে।
এই বিক্ষোভ দেশের অন্যত্র ছড়িয়ে পড়বে কিনা সেটা এত তাড়াতড়ি বলা যাচ্ছে না। কিন্তু পরিস্থিতি সেখানে দ্রুত বদলাচ্ছে এবং তালেবানের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে বলে জানাচ্ছেন বিবিসি পশতু বিভাগের সাংবাদিকরা।
তালেবানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে টিকে থাকা শেষ গুটিকয় এলাকার একটি পাঞ্জশির উপত্যকা থেকে ছড়ানো এক ভিডিওতে সাবেক নর্দান অ্যালায়েন্সের পতাকা উড়িয়ে মোটরবাইকের বিশাল এক বাহিনীকে যেতে দেখা গেছে। ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এরা নিজেদের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ-র "প্রতিরোধ বাহিনী'' বলে দাবি করেছে।
মি. সালেহ গতকাল একটি অডিও বার্তায় নিজেকে অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসাবে ঘোষণা করেন।
তাজিকিস্তানে আফগান দূতাবাসের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যেই মি. সালেহকে তাদের প্রেসিডেন্ট হিসাবে তুলে ধরে ছবি পোস্ট করেছে।
এসব কোন ঘটনা নিয়েই তালেবান এখনও পর্যন্ত কোন মন্তব্য করেনি।
আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে জালালাবাদ শহরে আফগানিস্তানের পুরনো পতাকা রক্ষার দাবিতে বিক্ষোভ সম্পর্কে আরও কিছু খবর এসেছে।
নানগারহার প্রদেশের জালালাবাদ শহরের নিয়ন্ত্রণ তালেবান গ্রহণ করে রবিবার সকালের দিকে। বিনা লড়াইয়ে শহরটি দখল করে তালেবান। এর মধ্যে দিয়ে তালেবান, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোরও নিয়ন্ত্রণ নেয়।
কিন্তু আজ এক ভিডিওতে ওই এলাকার এক দল মানুষকে আফগানিস্তানের পুরনো পতাকা হাতে নিয়ে মিছিল করে যেতে দেখা গেছে। মিছিলের জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে গুলি ছোঁড়া হয়েছে বলে খবর এসেছে।
জালালাবাদ থেকে তোলা ওই ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে বিক্ষোভকারীরা তালেবানের পতাকা সরিয়ে সেখানে আফগানিস্তানের পুরনো পতাকা তুলছে এবং আশপাশে সমবেত জনতা সেদিকে তাকিয়ে হর্ষধ্বনি করছে।
তালেবান নতুন ঘোষিত ইসলামিক আমিরাত অফ আফগানিস্তানের জন্য এখন পর্যন্ত যে পতাকাটি ব্যবহার করছে তাতে সাদার ওপর কালো হরফে কালেমা শাহাদাত লেখা আছে।
বিক্ষোভকারীরা কালো, লাল এবং সবুজের যে তিন রঙা পতাকা আজ মিছিলে ব্যবহার করেছে সেটি ক্ষমতাচ্যুত সরকারের প্রতিনিধিত্ব করে।
তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন যে ভবিষ্যতে দেশটির জাতীয় পতাকা কোনটি হবে তা নিয়ে এখন আলোচনা চলছে। নতুন সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
তালেবান কর্মকর্তারা বলছেন তালেবানের সাথে জড়িত হাক্কানি নেটওয়ার্কের ঊর্ধ্বতন নেতা ও সামরিক কমান্ডার আনাস হাক্কানি আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডন্ট হামিদ কারযাইয়ের সাথে কথা বলেছেন।
আফগানিস্তানের সাবেক সরকারের শান্তি দূত আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ কাবুলের ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
তালেবান একটা সরকার গঠনের জন্য তাদের প্রয়াস আরও জোরদার করেছে।
সামাজিক মাধ্যমে এই বৈঠকের ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, তবে তাদের মধ্যে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে তা জানা যায়নি।
কিছু আফগান, সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করেছেন, যে মি. হাক্কানিকে ২০১৬ সালে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল, তিনি দুজন শীর্ষ আফগান নেতার সাথে বৈঠক করছেন এই ছবি দেখে তারা বিস্মিত হয়েছেন।
আনাস হাক্কানি, হাক্কানি নেটওয়ার্কের বর্তমান প্রধান সিরাজুদ্দিন হাক্কানির ছোট ভাই।
হাক্কানি নেটওয়ার্ক আমেরিকার সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকাভুক্ত গোষ্ঠী। এই গোষ্ঠী পাকিস্তান আফগানিস্তান সীমান্ত এলাকায় তালেবানের আর্থিক এবং সামরিক সম্পদের দেখভাল করে।
হাক্কানি নেটওয়ার্ক এলাকার অন্যতম সবচেয়ে শক্তিশালী উগ্রপন্থী গোষ্ঠী, যে গোষ্ঠীকে সবাই ভয় পায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফগান বাহিনী এবং তাদের মিত্র বাহিনীর সদস্যদের ওপর সবচেয়ে সহিংস হামলা চালিয়েছে হাক্কানি নেটওয়ার্ক।
আনাস হাক্কানিকে জেল থেকে মুক্তি দেয়া হয় ২০১৯ সালে। কাবুলে কর্মরত পশ্চিমা দেশের দুজন অধ্যাপককে সেসময় মুক্তি দেয়া হয় আনাস হাক্কানি সহ দুজন কট্টরপন্থী জঙ্গীর মুক্তির বিনিময়ে।
সাম্প্রতিক কয়েক ঘণ্টায় কিছু ফ্লাইট সফলভাবে কাবুল বিমানবন্দর ছেড়েছে, কিন্তু ইউরোপিয়ান দেশগুলো তাদের নাগরিকদের বিমানবন্দর এলাকায় নিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছে।
ফরাসি, জার্মান, ডাচ এবং চেক বিমান টারম্যাক থেকে উড়েছে, কিন্তু দেশ ছাড়ার চেষ্টায় মানুষ বিমানবন্দরের গেটে ঢোকার চেষ্টা করলে গুলি ছোঁড়া হয়েছে বলে খবর আসছে।
গত রাতে একটি ডাচ সামরিক বিমান ৪০জন যাত্রী নিয়ে আকাশে ওড়ে, কিন্তু ওই ৪০ জনের কেউই ডাচ বা আফগান ছিল না। বিমানটিকে রানওয়েতে মাত্র আধ ঘন্টার জন্য থামতে দেয়া হয়।
একটি ডাচ আফগান পরিবার জানিয়েছে বিমানবন্দরের গেটে মার্কিন বাহিনী তাদের ঢুকতে বাধা দেয়। আজও অনেকে বিমানবন্দরে ঢোকার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীরা ডাচ সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন বিমানবন্দরের উত্তর গেটে হুঁশিয়ারিমূলক গুলি এবং কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়া হয়েছে।
আজ সকালে ফ্রান্স জানিয়েছে ২৫ জন ফরাসি নাগরিক এবং ১৮৪ জন আফগানকে তারা আবু ধাবিতে নিয়ে গেছে। এদের অনেকে কাবুলের ফরাসি দূতাবাসে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিল বলে ফরাসি সরকার জানিয়েছে।
চেক একটি বিমানও ৮৭ জনকে নিয়ে আজ প্রাগে পৌঁছেছে।
জার্মান সরকার ১০ হাজার মানুষকে সরানোর কাজ শুরু করেছে। এর মধ্যে ১৩৯ জনকে নিয়ে তাদের প্রথম বিমানটি জার্মানি পৌঁছেছে। এদের উজবেকিস্তান থেকে বিমানে তোলা হয়েছে।
তালেবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সৌদি আরব, পাকিস্তান, তুরস্ক, ইরান, ইন্দোনেশিয়া, বাহরাইন, কাতারসহ মুসলিম বিশ্ব কী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে?
আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় জালালাবাদ শহরের রাস্তায় মানুষের বিক্ষোভের ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে।
বিক্ষোভকারীরা আফগানিস্তানের জাতীয় পতাকা পরিবর্তন না করার জন্য তালেবানের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।
গতকালও অন্যান্য এলাকা থেকে একই ধরনের বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।
কোন কোন ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে যেখানে মানুষ জড়ো হয়েছে সেখানে গুলি ছোঁড়া হয়েছে।
কেউ আহত হয়েছে কিনা জানা যায়নি।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, নাইন ইলেভেন হামলার পরে ২০ বছর পার হয়ে গেছে। ওই হামলার পর আফগানিস্তানকে স্থিতিশীল করার জন্য যা কিছু করা দরকার, সেটা করার জন্যই নেটো বাহিনী সেখানে গেছে।
কনজারভেটিভ মন্ত্রী টোবিয়াস এলউড জানতে চান, এখন সেই একই বাহিনীর কাছে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেয়ার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী একমত কিনা?
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলছেন, ‘’আমাদের অভিযানে আমরা সফল হয়েছি’’ এবং আফগানিস্তানের প্রশিক্ষণ শিবিরগুলো ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।
‘’সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয়েছে, কারণ আমাদের পুরুষ ও নারী কর্মীরা সেখানে ছিলেন,’’ তিনি বলছেন।
আফগান সংকট নিয়ে জরুরি বিতর্ক শুরু হয়েছে ব্রিটেনের পার্লামেন্টে। ২০ হাজার আফগান শরণার্থী গ্রহণের পরিকল্পনার নিয়ে এর মধ্যেই ব্রিটিশ সরকার সমালোচনার মুখে পড়েছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রথম পাঁচ হাজার শরণার্থী এই বছরের শেষ নাগাদ এসে পৌঁছবে। পরবর্তী পাঁচ বছর ধরে বাকীদের ব্যবস্থা করা হবে।
সাবেক কনজারভেটিভ মন্ত্রী ডেভিড ডেভিসসহ সমালোচকরা বলছেন, যতজনের দায়িত্ব নেয়া উচিৎ, এই সংখ্যা তার কাছে কিছুই না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল বিবিসিকে বলেছেন, পুরো কর্মসূচীটি শুরু এবং চালাতে আরও কিছুটা সময়ের প্রয়োজন।
আফগানিস্তানের ঘটনা প্রবাহ নিয়ে বিবিসি বাংলার এই লাইভ পাতা। আপনি যদি কিছুক্ষণ আগে আমাদের এই পাতায় যোগ দিয়ে থাকেন, তাহলে এখানে আজকের ঘটনাবলীর কিছু সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো:
পশ্চিমা একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানাচ্ছে, আফগানিস্তানের কাবুল থেকে সামরিক বিমানে করে এই পর্যন্ত ২,২০০ জনের বেশি কূটনৈতিক এবং বেসামরিক নাগরিককে সরিয়ে আনা হয়েছে।
আজ সকালের দিকে ১৩১ বাসিন্দাকে কাবুল থেকে তাসখন্দ হয়ে জার্মানির ফাঙ্কফুর্টে নিয়ে আনা হয়েছে।
জার্মান বিমান সংস্থা লুফথানসা ডয়েচে ভেলেকে জানিয়েছে, আগামী দিনগুলোতে তারা এরকম অনেক ফ্লাইট পরিচালনা করবে।
নেদারল্যান্ডসের একটি সি-১৭ পরিবহন বিমানে আলাদাভাবে ৪০ জনকে কাবুল থেকে নিয়ে আসা হয়েছে। তবে সেখানে কোন ডাচ বা আফগান নাগরিক ছিল না।
একজন ডাচ-আফগান নাগরিক বর্ণনা করেছেন, কীভাবে আমেরিকান সৈন্যরা তার পরিবারকে বিমান বন্দরের একটি প্রবেশ পথে ঢুকতে বাধা দিয়েছে।
নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম এনওএসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘’আমেরিকানরা গেটে পাহারা দিচ্ছিল। আমি তাদের আমার পাসপোর্ট দেখিয়েছি এবং বলেছি আমি একজন ডাচ নাগরিক। সেখানে তখন অনেক শব্দ হচ্ছিল, আমি ভালো করে শুনতে পাচ্ছিলাম না যে, তিনি কী বলছেন। যখন আমি তিনবার বললাম যে, আমি একজন ডাচ, তখন তিনি আমাকে বললেন, আমি যদি সরে না যাই, তাহলে আমাকে গুলি করবেন। আমি তখন চলে আসি, কারণ আমি গুলিতে আহত হওয়ার ঝুঁকি নিতে চাইনি।‘’
রোববার তালেবানের হাতে কাবুলের পতনের তিনদিনের মধ্যেই আফগানিস্তানে ফিরেছেন সংগঠনের রাজনৈতিক শাখার প্রধান মোল্লাহ আব্দুল গনি বারাদার।
আমেরিকান হামলার মুখে ২০০১ সালে তালেবানের অন্য নেতাদের সাথে প্রথমে কাবুল, তারপর দেশে ছেড়ে পাকিস্তানে পালিয়েছিলেন মি. বারাদার। এরপর সন্ত্রাসের মামলায় আট বছর পাকিস্তানের কারাগারে ছিলেন।
শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ ২০ বছরের নির্বাসিত জীবন আর কারাবাসের পর মঙ্গলবার বিজয়ীর বেশে দেশে ফিরেছেন তিনি।