আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন

আমাকে মূল ওয়েবসাইটে/সংস্করণে নিয়ে যান

এই ডেটা-সাশ্রয়ী সংস্করণ সম্পর্কে আরও জানুন

আফগান শরণার্থী গ্রহণের মার্কিন অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে ঢাকা

কাবুল বিমানবন্দরে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। কয়েকজনের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। চীনা বলছে, তারা ‘আফগান জনগণের ইচ্ছা ও পছন্দ“ সম্মান করে।

সরাসরি কভারেজ

শাকিল আনোয়ার

  1. কাবুল বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ মার্কিন সেনাদের হাতে

    যুক্তরাষ্ট্র ও সহযোগী দেশগুলোর কূটনৈতিক এবং কর্মীদের সরিয়ে নিতে কাবুল বিমানবন্দরের পুরো নিয়ন্ত্রণ হাতে নিয়েছে মার্কিন সৈন্যরা। তারা এয়ার ট্রাফিক ব্যবস্থাও নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করেছে।

    কাবুলের নিয়ন্ত্রণ তালেবান নেয়ার পর যারা রাজধানী থেকে থেকে পালাতে চাইছেন, তাদের দূরে সরিয়ে রাখতে বিমানবন্দরের রানওয়েতে কাঁটাতারের বেড়াও দিয়েছে মার্কিন সৈন্যরা।

    বাণিজ্যিক বিমান চলাচল বেশিরভাগ স্থগিত হয়ে রয়েছে। ফলে হাজার হাজার বেসামরিক আফগান ও বিদেশি নাগরিক বিমানবন্দরে আটকে পড়েছেন।

  2. এক নজরে তালেবান নেতৃত্বের কোথায় কে আছেন

  3. ভিডিও বার্তায় জাতিকে 'প্রশান্তি'র প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তালেবান

    জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া একটি ভিডিও ভাষণে তালেবানের উপ-প্রধান নেতা মোল্লা বারাদার আখুন্দ বলেছেন, এখন সময় হয়েছে আফগানিস্তানের মানুষের সেবা আর তাদের জীবনমান উন্নয়ন করার।

    কাবুল দখল ও বিজয় ঘোষণার একদিন পরে নতুন এই ভিডিও বার্তা প্রচার করা হলো।

    ‘’আমাদের জাতিকে আমরা সবচেয়ে ভাল সেবা দেবো, পুরো জাতির জন্য প্রশান্তি নিয়ে আসবো, তাদের জীবনমানের উন্নয়নের জন্য যতদূর যা করা দরকার, আমরা তাই করবো।‘’

    অন্য যোদ্ধা পরিবেষ্টিত হয়ে ভিডিও ভাষণে বলেন মোল্লা বারাদার আখন্দ।

    তিনি আরও বলেন, ‘’যেভাবে আমাদের এখানে আসতে হয়েছে, তা কাঙ্ক্ষিত ছিল না। সেই সঙ্গে আজ আমরা যে অবস্থানে পৌঁছেছি, তাও কেউ ভাবেনি।‘’

  4. কাবুল বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা অব্যাহত, ফাঁকা গুলি মার্কিন সেনাদের

    বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, আফগানিস্তান ছাড়ার জন্য হাজার হাজার মানুষ বিমানবন্দরের একটি ফ্লাইটে ওঠার চেষ্টা করলে ফাঁকা গুলি করেছে মার্কিন সেনারা।

    ‘’এখানে আমার খুব ভয় লাগছে। তারা আকাশের দিকে অনেক গুলি ছুঁড়ছে,’’একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্স একজন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে বলছে, ‘’জনতা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনতেই ফাঁকা গুলি করা হয়েছে।‘’

    সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অনেকগুলো ভিডিওতে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে।

    অনেকগুলো ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে যে, মানুষজন রানওয়ের দিকে দৌড়ে বিমানে ওঠার চেষ্টা করছে।

    এই বিমানবন্দর নিয়ন্ত্রণ করছে মার্কিন সৈন্যরা।

    জানা যাচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের বিমানগুলোয় কূটনৈতিক কর্মীদের আগে সরিয়ে নিতে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে, যা বিশৃঙ্খলা আর বিভ্রান্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

  5. আফগান যুদ্ধের পেছনে কে কত খরচ করেছে?

    আফগানিস্তান যুদ্ধের ব্যয়ভারের বড় অংশটি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০১২ সাল নাগাদ, যখন দেশটিতে এক লাখের বেশি সৈন্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের, তখন বছরে ১০ হাজার কোটি ডলার খরচ হতো।

    ব্রোয়ন ইউনিভার্সিটির ২০১৯ সালের গবেষণা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে ৯৭ হাজার ৮০০ কোটি ডলার খরচ করেছে।

    তবে ওই গবেষণাতে এটিও উল্লেখ করা হয় যে, যুদ্ধের সার্বিক খরচ নিরূপণ করা কঠিন কারণ সরকারের নানা দপ্তরের হিসাব রাখার আলাদা আলাদা ধরন রয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার পরিবর্তনও হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের পরেই আফগানিস্তানে সবচেয়ে বেশি সৈন্য রয়েছে যুক্তরাজ্য ও জার্মানির। যুক্তরাজ্য আফগানিস্তানে ৩ হাজার কোটি আর জার্মানি এক হাজার ৯০০ কোটি ডলার খরচ করেছে বলে ধারণা করা হয়।

  6. বাসিন্দাদের ক্ষতি না করতে মুজাহিদিনদের নির্দেশ তালেবানের

    কাবুলের একজন বাসিন্দা, আয়শা খুররম একটি টুইট বার্তায় জানিয়েছেন, আজ সকালে তিনি ঘুম থেকে উঠেছেন তাদের বাসার দরজার বাইরে চিৎকার আর গুলির শব্দ শুনে।

    তিনি বলছেন, মানুষজন বলাবলি করছিল যে, মুজাহিদিনরা ঘরে ঘরে গিয়ে গাড়ি এবং ধনসম্পদ লুট করে নিয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু যখনি তারা শুনতে পেয়েছে যে, তালেবান কর্মকর্তারা আসছে, তারা দৌড়ে পালিয়েছে।

    এর মাত্র এক ঘণ্টা আগেই তালেবান পুনরায় নিশ্চয়তা দিয়ে বলেছেন যে, তারা আফগান বেসামরিক নাগরিকদের কোনরকম ক্ষতি না করার জন্য যোদ্ধাদের নির্দেশ দিয়েছে।

    উল্লেখ্য যে, কাবুলে প্রবেশের সময় তুলনামূলক উদার মনোভাব প্রদর্শন করেছে তালেবান।

  7. দেশত্যাগের কারণ নিয়ে ফেসবুকে যা লিখেছেন আশরাফ গানি

    তালেবান কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার আগেই রবিবার আফগানিস্তান ছেড়ে পালিয়ে গেছেন প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানি।

    রবিবার ফেসবুকে দেয়া একটি পোস্টে তিনি দেশ ছাড়ার বিষয়ে একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

    তিনি সেখানে লিখেছেন, তিনি একটি কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হয়েছিলেন যে, তিনি কি সশস্ত্র তালেবানের মুখোমুখি হবেন নাকি যে দেশের জন্য ২০টি বছর দিয়েছেন, সেই দেশ ছেড়ে যাবেন।

    ‘’আমাকে সরিয়ে দিতে তালেবানরা পুরো কাবুল ও বাসিন্দাদের ওপর হামলা করতে এসেছে। রক্তপাত এড়াতে দেশ ছেড়ে যাওয়া ভালো হবে বলে আমি মনে করেছি,’’ তিনি লিখেছেন।

    ‘’তরবারি আর বন্দুকের ওপর নির্ভর করে তারা বিজয়ী হয়েছে। এখন আমাদের দেশবাসীর সম্মান, সম্পদ আর আত্মমর্যাদা রক্ষার দায়িত্বও তাদের,’’ তিনি লিখেছেন।

    তবে আশরাফ গানি তাজিকিস্তান নাকি উজবেকিস্তান গিয়েছেন, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

    কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করা ৭২ বছর বয়সী আশরাফ গানি দীর্ঘদিন বিদেশে কাটিয়েছেন। ২০০১ সালে তালেবানের পতনের পর তিনি দেশে ফিরে আসেন।

    ২০১৪ সালে তিনি প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য পুনঃনির্বাচিত হন।

  8. তালেবান আফগান যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করেছে বলে খবর

    কাবুলের দখল নেবার পর আফগানিস্তান যুদ্ধে নিজেদের বিজয়ী ঘোষণা করেছে তালেবান। এর মধ্যে দিয়ে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোটের কুড়ি বছরের উপস্থিতির সমাপ্তি ঘটলো। তালেবান যোদ্ধারা কাবুলের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের দখল নিয়েছে। প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানির কাবুল ত্যাগের মধ্যে দিয়ে সরকার ভেঙ্গে পড়েছে। তালেবানের একজন মুখপাত্র আল জাজিরা নেটওয়ার্ককে বলেছেন, “যুদ্ধ শেষ”। কাবুলে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। শহরের বাসিন্দা ও বিদেশিরা যে যেভাবে পারছে পালানোর চেষ্টা করছে। একজন প্রত্যক্ষদর্শী বিবিসিকে বলেছেন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কর্মীরা নিজেদের ডেস্ক ছেড়ে চলে গেছে। মানুষজন বিমানের দিকে ছুটছে। আজ দিনের শুরুতেই দূতাবাস খালি করার কাজ শেষ করেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং কূটনৈতিক ভবনগুলো থেকে পতাকা নামিয়ে নিয়েছে। আজ দিনের শুরুতেই দূতাবাস খালি করার কাজ শেষ করেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং কূটনৈতিক ভবনগুলো থেকে পতাকা নামিয়ে নিয়েছে।

  9. আপনি যদি একটু আগে আমাদের এই পাতায় যোগ দিয়ে থাকেন:

    আজ আফগানিস্তানে আক্ষরিক অর্থেই একটি নতুন দিন শুরু হয়েছে, যে দেশের রাজধানী কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর বিজয় দাবী করেছে তালেবান।

    গত কয়েক ঘণ্টা জুড়ে যেসব ঘটনা ঘটেছে, এখানে তার সংক্ষিপ্ত একটি বর্ণনা তুলে ধরা হলো:

    • আফগানিস্তানের সরকার ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়েছে। প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানি দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

    • হাজার হাজার আফগান বাসিন্দা আর বিদেশি নাগরিক কাবুল থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। বিমানবন্দরে হযবরল অবস্থা তৈরি হয়েছে।

    • ৬০টির বেশি দেশ এক বিবৃতিতে আফগানিস্তানে নিরাপত্তা আর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার পুনর্বহালের আহ্বান জানিয়েছে। যারা চলে যেতে চান, তাদের নিরাপদে যেতে দেয়ার জন্যও তালেবানদের প্রতি তারা অনুরোধ জানিয়েছেন।

    • আজ দিনের শুরুতেই দূতাবাস খালি করার কাজ শেষ করেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং কূটনৈতিক ভবনগুলো থেকে পতাকা নামিয়ে নিয়েছে।

    • মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, তাদের সৈন্যরা কাবুলের বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে

    • তালেবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় নারীদের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অধিকার কর্মীরা। ইতিমধ্যেই জানা যাচ্ছে যে, তালেবানরা দেশের অনেক এলাকায় বেশ কিছু পরিবর্তন কার্যকর করতে শুরু করেছে।

  10. তালেবান প্রতিশ্রুতির ওপর ভরসা করার সময় এখনো আসেনি

    প্রতিশোধ নেয়া হবে না বলে তালেবান যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেটা তারা রাখবে কিনা, তা বিশ্বাস করার মতো সময় এখনো আসেনি বলে বলছেন বিবিসির দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক বিকাশ পান্ডে।

    ওয়াশিংটন ভিত্তিক থিংক ট্যাংক উইলসন সেন্টারের উপ-পরিচালক মাইকেল কুগেলম্যান বলছেন, ২০২১ সালের তালেবান জনসংযোগসহ নিজেদের আলাদাভাবে উপস্থাপন করছে।

    ‘’দেখা যাচ্ছে, বিদেশি গণমাধ্যমের জন্য তাদের ইংরেজি ভাষী মুখপাত্র আছে, যার মাধ্যমে তারা নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা তৈরির চেষ্টা করছে,’’ তিনি বলছেন।

    তবে তিনি বলছেন, যেহেতু এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, সুতরাং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক হওয়ার দরকার রয়েছে।

    ‘’আমাদের মনে রাখা ভালো যে, আমরা একটি নিষ্ঠুর জঙ্গি বাহিনীর কথা বলছি, যাদের রক্তপাতের অতীত রয়েছে।‘’

    তিনি মনে করেন, তালেবান যখন সরকার পরিচালনা শুরু করবে, তখন বিশ্বের দেশগুলো কী প্রতিক্রিয়া দেখাবে, সেটা জানতে আরও কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে।

    ‘’ওই এলাকা ঘিরে ভূ-রাজনৈতিক জোটের বড় ধরণের একটি পালাবদল আমরা দেখতে পাবো,’’ তিনি বলছেন।

  11. যেভাবে তালেবান প্রায় পুরো আফগানিস্তানে দখল কায়েম করলো

    আফগানিস্তান থেকে বিদেশি সৈন্যদের বিদায়ের পর তালেবানের অগ্রাভিযান চলতে থাকে অতি দ্রুতগতিতে।

    নিচের গ্রাফে দেখুন, কীভাবে দেড় মাসেরও কম সময়ের এক ঝটিকা অভিযানে তারা প্রায় পুরো দেশের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ কায়েম করে:

  12. মাজার-ই-শরিফ যেন ‘ভুতুড়ে নগরী’, বিকাশ পান্ডে, বিবিসি নিউজ

    শহরটির একজন বাসিন্দা নাসিম জাভেদ (ছদ্মনাম) বলছেন, তিনি তার নিজের প্রিয় এই শহরটিকেই চিনতে পারছেন না। বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আর দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। মানুষজন নিজেদের ঘরবাড়ি থেকে বের হচ্ছেন না।

    ‘’আমাদের জন্যে এটা হচ্ছে উদ্বেগ আর ভয় নিয়ে অপেক্ষা করা যেন অজানা কিছু আমাদের গ্রাস করতে আসছে,’’ তিনি বলছেন।

    মি.জাভেদ বলছেন, মাজার-ই-শরিফ হচ্ছে দেশটির সবচেয়ে উদার শহরগুলোর একটি। তিনি বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের জন্য উদ্বিগ্ন যারা চলচ্চিত্র, সংগীত এবং শিক্ষার মতো যথেষ্ট স্বাধীনতা নিয়ে বড় হয়েছেন।

    ‘’বিশেষ করে তরুণীদের জন্য এটা বেশি কঠিন হয়ে উঠবে। ডাক্তারি পড়তেন, এমন বেশ কয়েকজন নারী শিক্ষার্থীকে আমি চিনি, যারা চমৎকার ডাক্তার হতে পারতেন। কিন্তু এখন তাদের জানা নেই যে, তারা পড়াশুনা কীভাবে শেষ করবেন,’’ তিনি বলছেন।

    তিনি জানাচ্ছেন, তালেবানরা ধনসম্পত্তি লুটপাট করছে বলে শুনতে পেয়েছেন। তার একজন আত্মীয়ের একটি দামী গাড়ি ছিল, যা একটি ব্যস্ত রাস্তা থেকে তালেবানরা নিয়ে গেছে।

    এ ধরণের ঘটনা তাকে এতটাই আতঙ্কিত করে তুলছে যে, তিনি বেশ কয়েকদিন ধরে ঘুমাতে পারছেন না।

  13. 'সরকারের ওপর অনাস্থার' প্রমাণ আফগান সরকারের পতন

    আফগানিস্তান বিষয়ক জাতিসংঘের সাবেক বিশেষ দূত পিটার গ্যালব্রেইথ বলেছেন, আফগানিস্তান সরকারের দ্রুত পতন সেদেশের সরকারের ওপর জনগণের আস্থার অভাব আর দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা দুর্নীতিকে প্রমাণ করছে।

    ‘’সরকারি বাহিনীর তুলনায় তালেবানের বাহিনী অনেক ছোট। সরকারি বাহিনীর মতো তাদের কাছে আধুনিক কোন অস্ত্রশস্ত্রও নেই, তাদের কোন বিমান বাহিনীও নেই,’’ বিবিসি গ্লোবাল নিউজওয়্যারকে তিনি বলেছেন।

    ‘’কিন্তু সরকারে এত দুর্নীতি হয়েছে যে, পুলিশ আর সৈনিকরা মাসের পর মাস বেতন পায়নি। তাদের ঠিকমতো গুলি ও খাবার সরবরাহ করা হয়নি। সুতরাং যখন পতন শুরু হয়, এটা পরিষ্কার হয়ে যায় যে, তাদের কেউ লড়াই করতে চায় না এবং এমন যুদ্ধে মারা যেতে চায় না, যেখানে এর মধ্যেই পরাজয় হয়ে গেছে।‘’

    তিনি আরও বলেছেন, ২০ বছর ধরে চলা এই সামরিক অভিযানের ব্যর্থতার জন্য কোন মার্কিন প্রেসিডেন্ট দায়ী,তা নিয়ে বিতর্কের কিছু নেই।

    তার মতে, আমেরিকার আফগানিস্তান সমস্যা শুরু হয়েছে তখন থেকে, যখন স্থানীয় নর্দান অ্যালায়েন্সের পক্ষে তালেবানকে সরিয়ে দিতে আমেরিকা অংশ নিতে শুরু করে।

  14. কাবুল দূতাবাসের সব কর্মীকে সরিয়ে আনার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

    যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, সব কর্মীকে কাবুল বিমানবন্দরে সরিয়ে আনা হয়েছে

    যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর নিশ্চিত করেছে যে, আফগান দূতাবাসের সব কর্মীকে হামিদ কারজাই বিমানবন্দরের একটি ভবনে সরিয়ে আনা হয়েছে।

    দফায় দফায় মার্কিন কর্মীদের বিমানে করে সরিয়ে আনা হচ্ছে। কর্মীদের সরিয়ে আনার এই প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে অতিরিক্ত প্রায় ছয় হাজার সেনা পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

    মার্কিন সৈন্যরা বিমানবন্দর পাহারা দিচ্ছে। সেই সঙ্গে কাবুলের অন্য এলাকাগুলো থেকে গোলাগুলির শব্দ আর সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

  15. নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি আফগানরা

    আফগানিস্তানে নতুন সকালের সঙ্গে সঙ্গে আফগান নাগরিকরা নতুন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন।

    পুরো রাতটি ছিল গভীর উদ্বেগ আর ভয়ের একটি রাত।

    হাজার হাজার আফগান বাসিন্দা আর বিদেশি নাগরিক কাবুল থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা আর ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

    যাদের সেইসব সুযোগ নেই, তারা তালেবানের শাসনেই নিজেদের খাপ খাইয়ে নেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

    গণতান্ত্রিক সরকারের এতো দ্রুত পতনে অনেকেই তাদের বেদনার কথা প্রকাশ করেছেন।

    বিবিসির সংবাদদাতা কাওন খামোশ একটি টুইটার বার্তায় লিখেছেন, কাবুল যেন একটি পারমাণবিক হৃদয়, যা উদ্বেগে ফেটে পড়ার মতো অবস্থায় রয়েছে। ভয়ের সবমুখ, পথে ভয়াবহ জ্যামে আটকে থাকা বেপরোয়া তরুণ আর পরিবারগুলো।

    বিশেষ করে অনেক নারী তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

    শাবানা বাসিজ-রাশিখ, আফগানিস্তানের একমাত্র আবাসিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা, টুইটারে লিখেছেন, তার হৃদয় আজ ভারাক্রান্ত।