বিবিসি বাংলার লাইভ পেজ থেকে আজকের মত বিদায় নিচ্ছি শাকিল আনোয়ার। আফগান পরিস্থিতির সর্বশেষ জানতে চোখ রাখুন বিবিসি বাংলার পাতায়: www.bbcbangla.com
আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
আফগান শরণার্থী গ্রহণের মার্কিন অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে ঢাকা
কাবুল বিমানবন্দরে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। কয়েকজনের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। চীনা বলছে, তারা ‘আফগান জনগণের ইচ্ছা ও পছন্দ“ সম্মান করে।
সরাসরি কভারেজ
শাকিল আনোয়ার
আফগানদের আশ্রয় দিতে আমেরিকার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ
কিছু আফগান নাগরিককে সাময়িকভাবে আশ্রয় দিতে যুক্তরাষ্ট্রের এক অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বিবিসি বাংলার কাদির কল্লোলকে বলেছেন মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাছে এই অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার মার্কিন সরকারের কাছে এ ব্যাপারে কতগুলো প্রশ্নের উত্তর চেয়েছিল – কতজন আফগানকে আশ্রয় দিতে হবে? কতদিনের জন্য দিতে হবে? এবং আর কোনো কোন দেশকে এই অনুরোধ করা হয়েছে?
মি মোমেন বলেন, এসব প্রশ্নের উত্তর না পাওয়ায় আজ (সোমবার) বাংলাদেশ তাদের অপরাগতা জানিয়ে দিয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রকে বলেছেন এমনিতেই ১১ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী নিয়ে বাংলাদেশ হিমশিম খাচ্ছে, ফলে নতুন কোনো শরণার্থী নেয়া এখন সম্ভব নয়।
'তালেবানের কাবুল দখলের মুহুর্তে যেভাবে শহরটা ছেড়ে এলাম '
মার্কিন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার হয়ে গত কয়েক বছর ধরে আফগানিস্তানে কর্মরত ছিলেন সোহিনী সরকার।
সে দেশে চলমান সংঘাতের আঁচ থেকে কীভাবে বেসামরিক মানুষজনকে রক্ষা করা যায় ('কনফ্লিক্ট মিটিগেশন') তা নিয়েই দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছেন তিনি।
রবিবার (১৫ই অগাস্ট) তালেবানের হাতে কাবুলের পতনের দিনেই এয়ার ইন্ডিয়ার শেষ বিমানে রাতে দিল্লিতে এসে নেমেছেন তিনি।
বিবিসি বাংলার সঙ্গে তিনি ভাগ করে নিয়েছেন কাবুলে শেষ কয়েক ঘন্টার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা।
তালেবানের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক রাখবে চীন-রাশিয়া-পাকিস্তান?
আফগানিস্তানের ক্ষমতায় তালেবান ফিরে আসার পর বাকী বিশ্ব যখন দেশটির ভবিষ্যৎ কী দাঁড়াবে তা নিয়ে শংকিত, তখন বেইজিং, মস্কো এবং ইসলামাবাদে দেখা যাচ্ছে কিছুটা ভিন্ন প্রতিক্রিয়া।
বেশিরভাগ দেশ যখন কাবুলে তাদের দূতাবাস থেকে জরুরী ভিত্তিতে দেশে ফিরিয়ে আনছে তাদের কূটনীতিকদের, তখন এই তিন দেশ আফগানিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত এরই মধ্যে দিয়ে রেখেছে।
কাবুল বিমানবন্দরে বিমান ওঠা-নামা বন্ধ, মার্কিন সেনাদের গুলিতে দুজন নিহত
চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে কাবুল বিমানবন্দর থেকে সব ধরনের সামরিক বেসামরিক বিমান ওঠা-নামা বন্ধ হয়ে গেছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের একজন মুখপাত্র এ কথা জানিয়েছেন। কখন বিমান চলাচল শুরু হবে তা পরিষ্কার নয়।
কয়েক হাজার মার্কিন মেরিন সেনা কাবুল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে, কিন্তু দেশ ছেড়ে পালাতে মরিয়া হাজার হাজার মানুষের চাপে তারা হিমশিম খাচ্ছে।
মার্কিন সেনাদের গুলিতে বিমানবন্দরে দুজন আফগান নিহত হয়েছে। আমেরিকানরা দাবি করছে তারা অস্ত্রধারী ছিল।
গতকাল থেকে কাবুল বিমানবন্দরে আরো কমপক্ষে ছজন মারা গেছে। তবে কিভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে তা পরিষ্কার নয়।
কারা এখনও তালেবানের সাথে কথা বলছে?
যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক পশ্চিমা দেশ কাবুলে তাদের দূতাবাস বন্ধ করে দিয়েছে, কিন্তু কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ এখনও তালেবানের সাথে সম্পর্কের রাস্তা খোলা রেখেছে।
- চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন আফগানিস্তানের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরিতে চীন আগ্রহী। “তালেবান বার বার বলেছে তারা চীনের সাথে সুসম্পর্ক চায়। আফগানিস্তানের পুনর্গঠন এবং উন্নয়নে তারা চীনের অংশগ্রহণ চায়। অমরা তাদের ইচ্ছাকে স্বাগত জানাই।“
- রুশ দূতাবাসের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার জন্য আফগানিস্তানে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত দিমিত্রি জিরমভ মঙ্গলবার তালেবান প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করবেন। রুশ সরকার বলেছে তারা তালেবানের সাথে সম্পর্ক তৈরি করতে চায়, কিন্তু তাদেরকে আফগানিস্তানের শাসক হিসাবে স্বীকৃতি দিতে তাড়াহুড়ো করতে চায়না। -
-ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি বলেছেন আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক ব্যর্থতার ফলে সেদেশে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি স্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন মি রাইসিকে উদ্ধৃত করে বলেছে, “আফগানিস্তানে আমেরিকার সামরিক পরাজয় এবং প্রস্থানকে আফগানিস্তানে নিরাপত্তা এবং শান্তির জন্য একটি সুযোগ হিসাবে ব্যবহার করতে হবে।“
-পাকিস্তান আফগান পরিস্থিতি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি, তবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, ‘আফগানরা দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙ্গেছে।‘
এই চারটি দেশ কাবুলে তাদের দূতাবাস বন্ধ করেনি,যদিও ইরান তাদের বেশ কজন কূটনীতিককে দেশে নিয়ে গেছে। ভবিষ্যতে আফগানিস্তানে একটি তালেবান সরকারকে যে এই চারটি দেশ মেনে নেবে তার ইঙ্গিত স্পষ্ট।
আফগান সামরিক বিমান গুলি করে নামিয়েছে উজবেকিস্তান
উজবেকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে আফগান একটি সামরিক জেট বিমানকে গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলছেন বিমানটি উজবেকিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছিল।
বিধ্বস্ত বিমানটিতে কতজন ছিল বা তাদের কেই প্রাণে বেঁচেছে কিনা তা ঐ মুখপাত্র তা বলেননি।
তবে আফগান সীমান্তবর্তী উজবেকিস্তানের সুরকোনদারিও প্রদেশের একজন চিকিৎসক বেপুলাত ওকবোয়েভ বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন আফগান সেনাবাহিনীর পোশাক পরিহিত দুজনকে রোববার সন্ধ্যায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের একজনের শরীরের সাথে প্যারাসুট ছিল।
রোববার উজবেক সরকারি কর্তৃপক্ষ জানায় সীমান্ত অতিক্রম করার দায়ে ৮৪ জন আফগান সৈন্যকে আটক করা হয়েছে।
তালেবান কি আফগানিস্তানকে আবার অতীতে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে?
এবারের তালেবান নিয়ন্ত্রিত আফগানিস্তানের চেহারাটা আসলে কী হবে?
এর কিছুটা আঁচ পেতে হলে ১৯৯৬ সাল হতে পাঁচ বছরের তালেবান শাসনের দিকেই ফিরে তাকাতে হবে, লিখেছেন বিবিসির ওয়ার্ল্ড অ্যাফেয়ার্স এডিটর জন সিম্পসন।
লড়াইয়ে জিতে কী ধরনের অস্ত্র হাত করেছে তালেবান?
আফগানিস্তানে চলতি বছর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই তালেবান সরকারি সেনাদের হাত থেকে ছিনিয়ে নেয়া নানা ধরনের অস্ত্রশস্ত্রের ছবি সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করতে শুরু থাকে। এর মধ্যে রয়েছে জঙ্গি হেলিকপ্টার এবং সাজোঁয়া গাড়ি।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা রুসি বলছে, তালেবান একই সাথে কামান, ইউএভি বা দূর-চালিত বিমান, রাইফেল, পিস্তল এবং রাতে দেখা যায় এমন গগলসও তালেবান দখল করেছে।
এসব অস্ত্রশস্ত্রের কিছু পাওয়া গেছে আফগান সরকারি বাহিনীর ঘাঁটিতে।
আফগান বাহিনী থেকে পক্ষ ত্যাগ করেছে যেসব সৈন্য তারাও কিছু অস্ত্র তালেবানের হাতে তুলে দিয়েছে।
বড় অস্ত্রের মধ্যে হেলিকপ্টার তালেবানের দখলে আসার পর তা খবরের শিরোনাম হয়েছে।
তবে রুসি’র গবেষক ড. জ্যাক ওয়াটলিং বলছেন, এসব অস্ত্র বা বিমান চালানোর মতো প্রশিক্ষণ তালেবানের নেই। তবে থার্মাল ইমেজিং, নাইট ভিশন গগলস বা অন্যান্য অপটিকাল সামগ্রী নিয়ে চিন্তা বেশি।
কারণ, এসব যন্ত্র বন্দুকে লাগালে নিশানা অনেক বেড়ে যায়।
এসব অস্ত্রশস্ত্রের কিছু অংশ তালেবান মধ্যপ্রাচ্য, মধ্য এশিয়া, আফ্রিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করছে বলে জানান ড. ওয়াটলিং। এর ফলাফল মারাত্মক হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ার করেন।
এত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র সাধারণ মানুষের হাতে আসায় আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ঝুঁকিও বাড়বে বলেই মনে করছেন তিনি। তালেবান তার প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হলে দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ শুরু হতে পারে।
“আফগান সামরিক বাহিনীর অনেক সদস্য তাদের অস্ত্র বাড়িতে নিয়ে রেখেছেন। উদ্দেশ্য, তার পরিবারের ওপর কোন হামলা হলে তা প্রতিরোধ করা,” বলছেন তিনি, “ফলে অস্ত্রধারী এবং সামরিক প্রশিক্ষণ পাওয়া অনেকেই রয়েছেন যারা হয়তো তালেবানের কথা নাও শুনতে পারেন।“
‘আফগানরা দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙ্গেছে‘ – ইমরান খান
তালেবানের কাবুল দখলের পরদিন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন “আফগানরা দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙ্গেছে।‘
পাকিস্তানে ইংরেজি শিক্ষা নিয়ে এক বক্তৃতায় ইমরান খান এই মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছেন বিবিসি উর্দু বিভাগের সারাহ আতিক।
১৯৯৬ সালে তালেবান আফগানিস্তানে ক্ষমতা দখলের পর যে তিনটি দেশ তাদের স্বীকৃতি দিয়েছিল পাকিস্তান ছিল তাদের একটি।
রোববার তালেবানের কাবুল দখলের পর এখনও পাকিস্তানের সরকার আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি।
তবে আজ (সোমবার) আফগান পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির একটি বৈঠক রয়েছে যেখানে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সহ সামরিক এবং গোয়েন্দা বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা থাকবেন। ঐ বৈঠক থেকে আফগানিস্তান প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
ভিডিও: কাবুল বিমানবন্দরে আমেরিকার বিমান উঠতে মরীয়া মানুষ
কাবুল বিমানবন্দরে মার্কিন একটি সামরিক বিমান টেক-অফ করার করার সময় টার্মাকে শত শত আফগান পাশে দৌড়ুতে শুরু করে
‘আফগান জনগণের ইচ্ছা ও পছন্দ আমরা সম্মান করি‘- চীন
চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনইং আজ (সোমবার) এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন আফগান জনগণের ‘ইচ্ছা ও পছন্দকে‘ চীন সম্মান করে।
চীনা মুখপাত্র বলেন, তালেবানের সাথে চীনের যোগাযোগ রয়েছে। “আফগান তালেবান বার বার বলেছে তারা চীনের সাথে সুসম্পর্ক চায়। আমরাও তাদের এই ইচ্ছাকে স্বাগত জানাই।“ তিনি বলেন, “চীন সবসময় আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা এবং ভৌগলিক অখণ্ডতাকে মর্যাদা দিয়েছে।“
তালেবানের কাবুল দখলের পরদিনই চীনা সরকারের পক্ষ থেকে এই মন্তব্য ইঙ্গিত করে কাবুলে ভবিষ্যৎ তালেবান সরকারকে বেইজিং মেনে নিতে প্রস্তুত।
বিশ্বের অনেক দেশ তাদের দূতাবাস বন্ধ করে তাদের কূটনীতিক এবং নাগরিকদের আফগানিস্তানে থেকে বের করে আনার আপ্রাণ চেষ্টা শুরু করলেও চীন জানিয়েছে কাবুলে তাদের দূতাবাস খোলা এবং কাউকেই ফিরিয়ে আনা হবেনা।
চীনা দূতাবাস থকে বলা হয়েছে তালেবান তাদেরকে নিরাপত্তার ভরসা দিয়েছে, তবে আফগানিস্তানে চীনা নাগরিকদের সাবধানে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
রাশিয়াও জানিয়েছে তারা কাবুলে তদের দূতাবাসের কাজ অব্যাহত রাখবে, এবং কাউকেই আফগানিস্তান থেকে সরিয়ে নিচ্ছেনা।
চীন-তালেবান যোগাযোগ
গত ২৮ জুলাই তালেবানের রাজনৈতিক শাখার প্রধান মুল্লাহ আব্দুল গনি বারাদারের নেতৃত্বে তালেবানের একটি উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদল চীন সফর গিয়ে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সাথে দীর্ঘ বৈঠক হয়েছে।
আফগানিস্তানের বিভিন্ন উগ্র ইসলামি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতা নিয়ে চীনের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে উইগুর মুসলিম অধ্যুষিত চীনের শিনজিয়াং প্রদেশের সাথে আফগানিস্তানের ৫০ মাইলের মত সীমান্ত রয়েছে এবং ঐ এলাকায় ইস্ট তুর্কমেনিস্তান ইসলামিক মুভমেন্ট (ইটিআইএম) নামে উইগুর বিচ্ছিন্নতাবাদী একটি গোষ্ঠীর তৎপরতা নিয়ে চীন উদ্বিগ্ন।
‘আমেরিকা বিশ্বাসযোগ্য মিত্র নয়‘
ওদিকে আফগানিস্তানে চলতি ঘটনাপ্রবাহকে চীনের পত্রপত্রিকায় মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অপমানজনক পরাজয় এবং ব্যর্থতা হিসাবে তুলে ধরা হচ্ছে।
চীনা সরকারি মুখপাত্র হিসাবে পরিচিত দৈনিক গ্লোবাল টাইমস তাদের এক সম্পাদকীয়তে লিখেছে আফগানিস্তানে মুহূর্তের মধ্যে ক্ষমতার যে রদবদল তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য “বিশাল একটি আঘাত।“
সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছে, আমেরিকা যেভাবে তাদের কূটনীতিক এবং তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নিতে মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছে তাতে প্রমাণ হয় যে “মিত্র হিসাবে তারা কখনই বিশ্বাসযোগ্য নয়।“
“নিজের স্বার্থের খাতিরে মিত্রদের ছুড়ে ফেলে দেওয়ার প্রয়োজন দেখা দিলে যে কোনো যুক্তিতেই তা করতে তারা দ্বিধা করবে না।“
চীনা সোশ্যাল মিডিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে ঠাট্টা তামাসাও চলছে।
চীনা সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করা একটি মন্তব্য শেয়ার করেছেন গ্লোবাল টাইমসের চিফ এটির হু শিজিন যাতে একজন লিখেছেন, “তালেবান যত সহজে আফগানিস্তান দখল করে নিলো তা গত মার্কিন নির্বাচনে পর ক্ষমতা হস্তান্তরের চেয়েও সহজ।“
আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশের বিবৃতি
আফগানিস্তানের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ, যা আঞ্চলিক বা তার বাইরেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে করে।
এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার সমৃদ্ধিতে একত্রে কাজ করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে নীতি রয়েছে, সেটি বাস্তবায়নে আফগানিস্তানের সঙ্গে কাজ করতে বাংলাদেশে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বাংলাদেশ মনে করে, দেশটির জনগণের পছন্দ অনুযায়ী একটি গণতান্ত্রিক ও বহুমুখী দেশ হলে তা আফগানিস্তানের স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নের জন্য সহায়ক হবে। বাংলাদেশ নিজেকে আফগানিস্তানের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন সহযোগী ও বন্ধু বলে মনে করে।শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবা, পয়ঃনিষ্কাশন, মানব সম্পদ উন্নয়ন, কৃষি, জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগ মোকাবেলা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ জ্ঞান বিনিময় করার জন্য বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে। বাংলাদেশের বেসরকারি সংস্থাগুলো এসব কাজ গত বিশ বছর ধরে দেশটিতে করে আসছে।
বাংলাদেশ মনে করে, আফগানিস্তানের পুনর্গঠন এবং কোন দিকে তারা যাবে, তা পুরোপুরি নির্ভর করে দেশের জনগণের ওপর। আফগানিস্তানকে একটি শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ আর দক্ষিণ এশিয়া ও বিশ্বের জন্য অবদান সৃষ্টিকারী দেশ হিসাবে বাংলাদেশ দেখতে চায়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে মিলে আফগান জনগণের সাথে কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশ।
সেই সঙ্গে আফগানিস্তানের সব পক্ষকে শান্তি রক্ষা এবং সব বিদেশি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছে বাংলাদেশ।
কাবুল বিমানবন্দরে মরিয়া আফগানদের বিমানে ওঠার চেষ্টা
তালেবান নিয়ন্ত্রিত কাবুলের প্রথম দিনের কিছু ছবি
তালেবান কারা, কীভাবে তাদের উত্থান ঘটেছিল
পশতু ভাষায় তালেবান মানে হচ্ছে 'ছাত্র'। আফগানিস্তান থেকে যখন সোভিয়েত সৈন্যরা পিছু হটলো, তখন ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে উত্তর পাকিস্তানে এই তালেবান আন্দোলনের জন্ম।
১৯৯৫ সালের সেপ্টেম্বরে তারা ইরান সীমান্তবর্তী আফগান প্রদেশ হেরাত দখল করে নেয়। আর এর ঠিক এক বছর পর তারা আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল দখল করে।
তারা প্রেসিডেন্ট বুরহানউদ্দীন রাব্বানির সরকারকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করে নিজেদের সরকার প্রতিষ্ঠা করে।
আফগানিস্তান ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান কী হবে?
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ‘’বাংলাদেশ সবসময়েই জনতার পক্ষে। সেদেশের (আফগানিস্তানের) ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে সেই দেশের জনতা। ওই দেশের জনতা ওটা নির্ধারণ করলে এবং তারা যদি আমাদের থেকে সাহায্য সহযোগিতা চায়, নিশ্চয়ই আমরা সহায়তা করবো। ‘’
তালেবান যদি সরকার গঠন করে, তাহলেও বাংলাদেশ সহায়তা করবে কিনা জানতে চাওয়া হলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, ‘’ওই দেশের মানুষের জনগণের ইচ্ছায় যারা আসবে, গণতান্ত্রিক উপায়ে, আমরা তাদের সবসময়েই গ্রহণ করি।‘’
কাবুল বিমানবন্দরে হতাহতের খবর
প্রত্যক্ষদর্শীরা বিবিসিকে জানিয়েছেন যে, কাবুল বিমানবন্দরে গুলিতে অন্তত দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
তালেবার কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর শত শত মানুষ আফগানিস্তান ছাড়ার জন্য হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভিড় করেছেন।
শহর থেকে কর্মীদের সরিয়ে নিতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। সোমবার সকালের দিকে ভিড় সরাতে তারা আকাশে ফাঁকা গুলি করেছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি। একজন প্রত্যক্ষদর্শী রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তিনি পাঁচজন ব্যক্তির মৃতদেহ একটি গাড়ি করে নিয়ে যেতে দেখেছেন। আরেকজন বলেছেন, হতাহতরা গুলিতে নাকি ভিড়ে পদদলিত হয়ে মারা গেছেন, তা তিনি নিশ্চিত নন।
পশ্চিমা কূটনৈতিকরা কাবুল ছাড়লেও চীন ও রাশিয়া থাকবে
তালেবান কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের সহযোগী দেশগুলোর কর্মীরা রাজধানী ছাড়তে শুরু করলেও চীন ও রাশিয়া ইঙ্গিত দিয়েছে যে, দূতাবাস বন্ধ করার কোন পরিকল্পনা নেই।
চীন তাদের নাগরিকদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, তারা যেন ঘরের ভেতরে থাকে এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থাকে। সেই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, আফগানিস্তানের বিভিন্ন পক্ষকে তারা অনুরোধ জানিয়েছে যেন তাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রবিবার সেদেশের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, তাদের আফগানিস্তান ছাড়ার কোন পরিকল্পনা নেই।
তালেবানের একটি প্রতিনিধি দল গত জুলাই মাসে চীন সফর করেছেন, যেখানে তারা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং লির সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
সেই সময় ওই বৈঠককে রাজনৈতিক শক্তি হিসাবে তালেবানের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বলে মনে করা হয়েছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা আফগানিস্তানের ক্ষেত্রে ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার’ নীতি নেবে।
কাবুলের কেন্দ্রস্থল ভুতুড়ে শহরে পরিণত হয়েছে
কাবুল তালেবানের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবার একদিন পর শহরের রাস্তাঘাট জনশূন্য হয়ে পড়েছে।
শহরের অসংখ্য কার্পেট আর গহনার দোকানগুলোর পাশাপাশি ছোট ছোট ক্যাফেও বন্ধ রয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দোকানের মালামাল রক্ষা করার জন্য তারা এই ব্যবস্থা নিয়েছেন। অনেকের মধ্যে এই চিন্তাও রয়েছে যে, তাদের পরবর্তী গ্রাহক কোথা থেকে আসবে।
‘’আমি পুরোপুরি শোকের মধ্যে আছি। শহরে তালেবানের প্রবেশ আমাকে ভীত করে তুলেছে, কিন্তু আমাদের সবাইকে গানির (প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানি) ছেড়ে চলে যাওয়া পরিস্থিতিকে সবচেয়ে বেশি খারাপ করে তুলেছে,’’রয়টার্সকে বলেছেন একজন দোকান মালিক।
বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সরকারি অফিসগুলো খালি পড়ে রয়েছে।
কূটনীতিক আর তাদের পরিবারের সদস্যরা চলে যাওয়ায় কাবুলের দূতাবাস এলাকা পুরোপুরি জনশূন্য হয়ে রয়েছে।
তালেবান অবশ্য ঘোষণা দিয়েছে, জনসাধারণ তাদের প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ড খুব তাড়াতাড়ি শুরু করতে পারবেন।
একজন নেতা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, সাধারণ জীবনযাত্রা আগের তুলনায় আরও ভালোভাবে চলবে।