আফগানিস্তানের দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি নিয়ে বিবিসি বাংলার লাইভ রিপোটিং আজ এখানেই শেষ হচ্ছে। আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।
আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
আশরাফ গানি অজ্ঞাত স্থানে, প্রেসিডেন্টের প্রাসাদ দখলের দাবি করছে তালেবান
আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট দুজনেই কাবুল ছেড়ে চলে গেছেন । তালেবানের যোদ্ধারা কাবুল শহরে প্রবেশ করতে শুরু করেছে। কিছুক্ষণ আগে কাবুলের বিমানবন্দর এলাকায় গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে। সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে বিবিসির লাইভ সম্প্রচার।
সরাসরি কভারেজ
মানসী বড়ুয়া and পুলক গুপ্ত
মি. গানির 'বিচার করবে জাতি' বলেছেন আফগািনস্তানের শীর্ষ রাজনীতিক
আফগানিস্তানের শান্তি পরিষদের প্রধান এবং দেশটির শীর্ষ রাজনীতিক অবদুল্লা আবদুল্লা আশরাফ গানির দেশ ত্যাগের কথা নিশ্চিত করেছেন।
তালেবানের সাথে শান্তি আলোচনার লক্ষ্য নিয়ে জাতীয় আপোষ বিষয়ক এই উচ্চ পর্যায়ের শান্তি কাউন্সিল গঠন করা হয়।
মি. আবদুল্লা, আশরাফ গানিকে ''সাবেক প্রেসিডেন্ট'' বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন তিনি "দেশকে এই পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে চলে গেছেন"।
"সৃষ্টিকর্তার কাছে মি. গানি দায়বদ্ধ থাকবেন এবং জাতি তার বিচার করবে," ফেসবুকে দেয়া এক ভিডিও বার্তায় বলেন আবদুল্লা আবদুল্লা।
কাবুলে আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল ঘটনা প্রবাহ
প্রেসিডেন্টের প্রাসাদ দখল করার দাবি করছে তালেবান
তালেবান দাবি করছে তারা কাবুলে আফগান প্রেসিডেন্টের প্রাসাদ দখল করেছে।
রোববার আরো আগের দিকে প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানি দেশ ছেড়ে চলে যান। কিছু রিপোর্টে তিনি তাজিকিস্তান চলে গেছেন বলে বলা হয়েছে।
তবে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে এখন আসলে পরিস্থিতি কী - তা স্পষ্ট নয়।
স্থানীয় সাংবাদিক বিলাল সারওয়ারি জানাচ্ছেন, তালেবানের সাথে মতৈক্য হয়েছিল যে মি. গানি প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ক্ষমতা হস্তান্তরের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন – কিন্তু তার পরিবর্তে তিনি ও তার সহযোগীরা দেশ ত্যাগ করেন।
সহযোগীরা বলেন, প্রাসাদের কর্মচারীদের চলে যেতে বলা হয়, এবং এর পর প্রাসাদটি জনশূন্য অবস্থায় পড়ে থাকে।
সরকারি কর্মকর্তারা এ খবর নিশ্চিত করেননি।
কাবুল বিমানবন্দর এলাকায় গোলাগুলি
কাবুল বিমানবন্দর এলাকায় গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন দূতাবাসের এক নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় একথা বলা হয়।
কর্মকর্তারা ওই এলাকায় থাকা মার্কিন নাগরিকদের আশ্রয় নেবার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, কাবুলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অতি দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে।
এর কিছু আগে বিবিসি’র সংবাদদাতা ইয়ালদা হাকিমকে সরাসরি টিভি সম্প্রচার চলার মধ্যেই যোগাযোগ করেন তালেবান আলোচক সুহায়েল শাহীন।
তিনি বলেন, তারা আফগান জনগণকে ও বিশেষ করে কাবুলে বাসিন্দাদের নিশ্চয়তা দিচ্ছেন যে তাদের জানমাল নিরাপদ থাকবে এবং কারো ওপর কোন প্রতিশোধ নেয়া হবে না।
মি. শাহীন তালেবানকে দেশ ও জনগণের সেবক বলে উল্লেখ করেন।
যেভাবে তালেবান প্রায় পুরো আফগানিস্তানে দখল কায়েম করলো
আফগানিস্তান থেকে বিদেশী সৈন্যদের বিদায়ের পর তালেবানের অগ্রাভিযান চলতে থাকে অতি দ্রুতগতিতে।
নিচের গ্রাফে দেখুন, কীভাবে দেড় মাসেরও কম সময়ের এক ঝটিকা অভিযানে তারা প্রায় পুরো দেশের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ কায়েম করে।
রাশিয়া জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকছে
আফগানিস্তানের পরিস্থিতি আলোচনার জন্য রাশিয়া জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি জরুরি বৈঠক ডাকার পরিকল্পনা করছে।
পররাষ্ট্র বিষয়ে রুশ সংসদের একজন মুখপাত্র বলেছেন মানবিক বিপর্যয় রোধ করা এখন খুবই জরুরি।
ইইউর একজন মুখপাত্র বিবিসিকে বলেছেন যে আফগানিস্তানে মানবাধিকার লংঘন হচ্ছে কিনা এবং নারীর অধিকার মেনে চলা হচ্ছে কিনা তার ওপর নির্ভর করবে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে কিনা।
ভাটিকানে পোপ ফ্রান্সিস বলেছেন একমাত্র আলোচনার মাধ্যমেই আফগানিস্তানে দীর্ঘমেয়াদে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ব্রিটিশ সংসদে গ্রীষ্মকালীন ছুটির মধ্যে এই সংকট নিয়ে আলোচনার জন্য বুধবার সংসদের জরুরি অধিবেশন ডেকেছেন।
কাবুলের কারাগার থেকে তালেবান বন্দীদের মুক্তি
কাবুলের পুল-ই-চরখি কারাগার থেকে তালেবান বন্দীদের মুক্তি দেয়ার ছবির ফুটেজ অনলাইনে পোস্ট করেছে তালেবান সমর্থক একটি সংবাদ সংস্থা।
এটি আফগানিস্তানের সর্ববৃহৎ কারাগার।
রবিবার আরও আগের দিকে তালেবান সৈন্যরা বাগরামে আমেরিকান সমারিক ঘাঁটির সেনা কারাগারের দখল নেয়।
বাগরাম কারাগারে যে পাঁচ হাজার বন্দী ছিল তাদের মধ্যে ছিল তালেবান সদস্য, উগ্রপন্থী যোদ্ধা এবং ইসলামিক স্টেটের সদস্য।
'নারী অধিকারের প্রতি সম্মান দেখাবে তালেবান'
তালেবানের একজন মুখপাত্র বলেছেন, তারা নারীদের অধিকারের প্রতি সম্মান দেখাবেন।
মুখপাত্রটি বলেন, নারীদেরকে একা বাড়ির বাইরে যেতে দেয়া হবে, এবং তাদের শিক্ষা ও কাজের সুযোগও বহাল থাকবে।
মনে করা হচ্ছে, তালেবানকে নিয়ে সারা বিশ্বে যে উদ্বেগ রয়েছে তা অবসানের জন্যই এ বিবৃতি।
তবে ইতোমধ্যে তালেবানে দখলে চলে যাওয়া কান্দাহার থেকে খবর পাওয়া গেছে যে সেখানে ব্যাংকে কর্মরত নারীদের বলা হয়েছে, এখন থেকে তাদের জায়গায় কাজ করবে পুরুষ আত্মীয়রা।
আফগানিস্তানের অন্য জায়গা থেকেও মেয়েদের বাইরে যেতে না দেয়ার এবং বোরকা পরতে বাধ্য করার খবর এসেছে।
রোববার টোলো নিউজ নামে আফগান বার্তা সংস্থার প্রধান লোৎফুল্লাহ নাজাফিজাদা একটি ছবি টুইট করেছেন - যাতে দেখা যাচ্ছে যে কাবুলের একটি দেয়ালে থাকা মেয়েদের ছবি সাদা রঙ দিয়ে ঢেকে দিচ্ছেন একজন লোক।
তালেবান মুখপাত্র আরো বলেছেন, সংবাদ মাধ্যমকে অবাধে সমালোচনা করতে দেয়া হবে, তবে তারা 'চরিত্র হননে' লিপ্ত হতে পারবে না।
কাবুলে গুলির আওয়াজ শোনা যাচ্ছে
কাবুলের বিভিন্ন এলাকা থেকে গুলি চলার খবর দিচ্ছে রয়টার্স সংবাদ সংস্থা।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে তারা এই খবর দিয়েছে।
কাবুল শহরে ঢুকছে তালেবান যোদ্ধারা
তালেবান তাদের যোদ্ধাদের কাবুল শহরে ঢোকার আদেশ দিয়েছে।
তাদের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন,কাবুলে লুটপাট ঠেকানোর জন্যই এ আদেশ দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন যেহেতু সরকারি বাহিনী শহরের বিভিন্ন অংশ ও তাদের চেকপয়েন্টগুলো ছেড়ে চলে গেছে – তাই বিশৃঙ্খলা ও লুটপাট ঠেকানোর জন্য তালেবান বাহিনী শহরে ঢুকছে।
এর আগে আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানি দেশ ত্যাগ করেছেন বলে আফগান কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে খবর আসে।
ব্রেকিং, আশরাফ গানি কাবুল ছেড়েছেন বলে খবর
আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানি দেশ ত্যাগ করেছেন বলে আফগান কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে খবর দেয়া হয়েছে।
ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহও দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন বলে খবর দেয়া হয়েছে।
তালেবান যোদ্ধারা ঝটিকা অভিযানে আফগানিস্তানের অধিকাংশ এলাকার দখল নেবার পর রোববার তারা কাবুল শহর ঘিরে ফেলে। এরপর থেকেই পদত্যাগ করার জন্য আশরাফ গানির ওপর চাপ বাড়ছিল।
আশরাফ গানি একটি বিমানে করে তাজিকিস্তান চলে গেছেন বলে রয়টার্স সহ কিছু বার্তা সংস্থা রিপোর্ট করেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তাও একথা বলেছেন।
তবে আফগান প্রেসিডেন্টের অফিস বলেছে, নিরাপত্তার কারণে তারা আশরাফ গানির গতিবিধি সম্পর্কে কিছু বলতে পারছে না। রয়টার্স এ খবর দিয়েছে।
কাবুল থেকে আমেরিকানদের সরিয়ে নেয়ার কাজ জোরদার
যুক্তরাষ্ট্র কাবুলে তাদের দূতাবাসের কর্মীদের সরিয়ে নেয়ার কাজ জোরদার করেছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমস জানাচ্ছে, বিশাল আকৃতির দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট চিনুক এবং দ্রুতগতির ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টারগুলোকে দূতাবাসের স্টাফদের সরিয়ে নেবার কাজে লাগানো হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, একটির পর একটি হেলিকপ্টার দূতাবাসের ভেতরে নামছে, আর কিছুক্ষণের মধ্যেই যাত্রী বোঝাই করে উড়ে যাচ্ছে।
বার্তা সংস্থা এপি জানায়, রোববার সকালে কূটনৈতিক সাঁজোয়া যানের বহর মার্কিন দূতাবাস এলাকা ত্যাগ করতে দেখা যায়।
কূটনীতিবিদরা ভবন ত্যাগ করার আগে স্পর্শকাতর দলিলপত্র পুড়িয়ে ফেলছেন, এবং সে কারণে দূতাবাসের ছাদ থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়।
একজন কর্মকর্তা জানাচ্ছেন - তাদেরকে কাবুল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, এবং সেখানে তারা কত সময় থাকবেন তা বলা হচ্ছে না।
বিমানবন্দরটি এখন বিভিন্ন দেশের লোকে পরিপূর্ণ, যেখানে কূটনীতিক, ঠিকাদার এবং বেসামরিক লোক - সবাই কাবুল ছাড়ার অপেক্ষায় সমবেত হচ্ছেন।
'ক্ষমা ঘোষণা' : টুইটারে তালেবানের মুখপাত্রের বিবৃতি
কিছুক্ষণ আগে টুইটারে দোহায় অবস্থানরত তালেবান মুখপাত্র সুহায়েল শাহীনের এই বিবৃতিটি প্রকাশিত হয়েছে:
"আফগানিস্তানে যারা এর আগে আগ্রাসনকারীদের জন্য কাজ করেছে বা তাদের সাহায্য করেছে, অথবা এখন যারা দুর্নীতিবাজ কাবুল প্রশাসনের বিভিন্ন পদে আসীন রয়েছে – তাদের সবার জন্য ইসলামিক আমিরাত দরজা খোলা রেখেছে এবং ক্ষমা ঘোষণা করেছে। আমরা আরেকবার তাদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, যেন তারা দেশ ও জাতির জন্য কাজ করতে এগিয়ে আসেন।"
কাবুল থেকে শহরের বাসিন্দাদের পালানোর হিড়িক
তালেবানের অগ্রযাত্রা এবং রাজধানীর প্রবেশদ্বারে তাদের অবস্থান নেবার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে শহরের বাসিন্দারা কাবুল ছেড়ে পালাতে শুরু করেছে।
কোন পথে শহর ছাড়বে মানুষ তা ঠিক করতে হিমশিম খাওয়ায় রাস্তায় গাড়ির লম্বা লাইন তৈরি হয়েছে। ব্যাংকগুলোতে প্রচণ্ড ব্যস্ততা চোখে পড়ছে, কারণ মানুষ তাদের সঞ্চিত অর্থ তুলে নেবার চেষ্টায় ব্যাংকে ভিড় জমিয়েছে।
আফগানিস্তানের এমপি ফারজানা কোচাই বিবিসির কাছ দিনের আরও আগে শহরের দৃশ্য বর্ণনা করে বলেন: "আমি আমার বাসা থেকে দেখতে পাচ্ছি মানুষজন আসলে পালানোর জন্য রাস্তা দিয়ে ছুটছে।
তিনি আরও বলেন: "আমি জানি না তারা কোথায় যাবার চেষ্টা করছে। ঘর থেকে পালিয়ে তারা কোন্ রাস্তা দিয়ে কোথায় যাবে জানে না। তারা ব্যাগ কাঁধে নিয়ে চলেছে। খুবই হৃদয়বিদারক দৃশ্য।"
এর আগে খবরে বলা হয় পাকিস্তান জানিয়েছে, তাদের সাথে সীমান্তের আফগানিস্তান অংশের দখল তালেবান গ্রহণ করার পর তারা তোরখাম সীমান্ত পারাপার চৌকি বন্ধ করে দিচ্ছে।
ফলে শহর থেকে বেরুনর একমাত্র পথ এখন কাবুল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
"কিছু কিছু মানুষ তাদের গাড়ির মধ্যে চাবি রেখেই গাড়ি থেকে নেমে পড়েছে এবং পায়ে হেঁটে বিমানবন্দরের দিকে যাচ্ছে," জানিয়েছেন একজন বাসিন্দা।
কাবুল ঘিরে ফেলা হয়েছে: তালেবানের বিবৃতি
তালেবান এক প্রকাশ্য বিবৃতি দিয়ে বলছে, তারা কাবুল ঘিরে ফেলেছে। সারা আফগানিস্তানের বড় বড় শহরগুলো দখল করে নেবার পর রোববারই তালেবান যোদ্ধারা রাজধানী কাবুলের প্রবেশদ্বারগুলোতে এসে উপস্থিত হয়।
তালেবানের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, তাদের যোদ্ধাদেরকে আকাশে গুলি ছুঁড়ে উল্লাস করতে দেয়া হবে না। তা ছাড়া আফগান সরকারি বাহিনীর সদস্যদেরকে তাদের বাড়িতে ফিরতে দেয়া হবে বলেও তালেবান জানিয়েছে।
তালেবান বলছে, বিমানবন্দর ও হাসপাতালে স্বাভাবিক কাজকর্ম চলবে, এবং জরুরি কোন সরবরাহে বাধা দেয়া হবে না।
বিদেশীদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে যে তারা চাইলে চলে যেতে পারে, নতুবা তালেবান প্রশাসকদের কাছে তাদের উপস্থিতির কথা নিবন্ধন করাতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র তাদের দূতাবাসের কর্মীদের সরিয়ে নেয়ার কাজ জোরদার করেছে।
আরও নতুন নতুন এলাকা তালেবানের কব্জায়
বিভিন্ন খবর থেকে জানা যাচ্ছে, তালেবান বামিয়ান প্রদেশ পুনর্দখল করেছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস সংবাদ সংস্থাকে আফগান সরকারের তিনজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে রাজধানী কাবুলের তিনটি জেলা কালাকান, কারাবাগ এবং পাঘমানে তালেবান বিদ্রোহীরা রয়েছে।
খবরে আরও বলা হচ্ছে, মধ্যাঞ্চলীয় দেইকুণ্ডি প্রদেশের রাজধানী নিলিও তালেবান দখল করে নিয়েছে।
সেখানে প্রশাসন কোনরকম বাধা ছাড়াই আত্মসমর্পণ করেছে বলে জানা যাচ্ছে।
কাবুলে বাসিন্দাদের মধ্যে ‘নজিরবিহীন উদ্বেগ’
কাবুল থেকে বিবিসির একজন সংবাদদাতা বলছেন, শহরে মানুষের মধ্যে ‘নজিরবিহীন উদ্বেগ’ দেখা যাচ্ছে।
বহু দোকান বাজার বন্ধ হয়ে গেছে। কিছু কিছু মানুষ বলেছে তারা “জীবনে কখনও এত উদ্বিগ্ন বোধ করেনি”।
কিছু কিছু সরকারি দপ্তর বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
অনেক সেনা সদস্য এবং পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় তাদের পদ ছেড়ে চলে গেছে।
কোন কোন এলাকা থেকে বিক্ষিপ্তভাবে বন্দুকের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। কিন্তু এসব সূত্রগুলো খুব স্পষ্টভাবে জানা যাচ্ছে না।
তালেবান বিদ্রোহীরা কাবুলের ভেতরে ঢুকে পড়েছে বলে অনলাইনে খবর ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু তালেবানের একজন মুখপাত্র বলেছেন যোদ্ধাদের শহরের প্রবেশ মুখগুলোতে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাদের হামলা না চালানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বাগরাম বিমান ঘাঁটি তালেবানের দখলে
তালেবান বলছে, তারা কাবুলের নিকটবর্তী বাগরাম বিমানঘাঁটি ও কারাগার দখল করেছে।
গত প্রায় ২০ বছর ধরে এটি মার্কিন বাহিনীর তালেবান ও আল-কায়েদার বিরুদ্ধে যুদ্ধ-প্রয়াসের মূল কেন্দ্র ছিল।
গত মাসে মার্কিন বাহিনী এটি ছেড়ে যায়।
কাবুলের রাস্তায় উদ্বিগ্ন মানুষের গাড়ির ভিড়
রাজধানী কাবুলের অনেক লোক গাড়িতে করে শহর থেকে পালানোর চেষ্টা করছেন, এবং এ জন্য শহরের রাস্তায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
রয়টার বার্তা সংস্থা এর আগে জানায়, কেউ কেউ তাদের গাড়ি রাস্তায় ফেলে রেখে পায়ে হেঁটে বিমানবন্দরে যাচ্ছে।
শহরের বহু দোকান, সরকারি অফিস ও বাজার বন্ধ ।
কোথাও কোথাও সেনাবাহিনী ও পুলিশ তাদের ডিউটি পোস্ট ছেড়ে চলে যাচ্ছে।
কাবুলের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্ত গুলির শব্দ পাওয়া গেছে তবে তা কোথা থেকে আসছে তা জানা যায়নি।