ক্যালিফোর্নিয়ায় ট্রাম্প সমর্থকদের বিক্ষোভ
ওয়াশিংটনে ক্যাপিটল হিল ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প সমর্থকরা।
আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের জয় আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করার জন্য অধিবেশন চলার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের শত শত সমর্থক আমেরিকার আইনসভা কংগ্রেসের ভবন ক্যাপিটল-এ ঢুকে পড়ে। এখানে দেখুন সর্বশেষ আপডেট।
ওয়াশিংটনে ক্যাপিটল হিল ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প সমর্থকরা।
সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট ফেসবুক, টুইটার ও ইউটিউব সমর্থকদের প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেয়া বক্তব্যের ভিডিও সরিয়ে নিয়েছে।
ট্রাম্প তার সমর্থকদের বাড়ি ফিরে যেতে বললেও তার বক্তব্যে আবারো নির্বাচনে কারচুপির অসত্য অভিযোগ তুলেছেন।
ফেসবুক ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য সম্পর্কে জানিয়েছে: “আমরা সেটি সরিয়ে নিয়েছি কারণ আমাদের বিশ্বাস তা চলমান সহিংসতা স্তিমিত করার চেয়ে সহিংসতা বাড়ানোতে ভূমিকা রাখবে।”
সহিংসতা শুরু হওয়ার আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ন্যাশনাল মল চত্বরে তার সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন যে নির্বাচন চুরি করা হয়েছে।
ঘণ্টাখানেকের মধ্যে যখন ক্যাপিটল ভবনের ভেতরে ও বাইরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, তখন মি. ট্রাম্প আবারো একটি ভিডিও প্রকাশ করেন এবং আবারো নির্বাচনে কারচুপির অসত্য অভিযোগ তোলেন।
ইউটিউব জানিয়েছে যে তারা ভিডিওটি সরিয়ে নিয়েছে কারণ সেটি ‘নির্বাচনে কারচুপি সংক্রান্ত তথ্য ছড়ানোর নীতি’ ভঙ্গ করেছে।
টুইটার শুরুতে মি. ট্রাম্পের ভিডিও সরিয়ে না নিলেও তার অ্যাকাউন্টের টুইট, রিটুইট, লাইক ও কমেন্ট করার ক্ষমতা রহিত করে।
তবে পরে তারা ভিডিওটি সরিয়ে নেয়।
টুইটার জানিয়েছে: “সহিংসতার সম্ভাবনা থাকায় আমাদের সিভিক ইন্টেগ্রিটি পলিসি অনুযায়ী আমরা এঙ্গেজমেন্ট সীমিত করছি।”
ওয়াশিংটন ডিসি’তে ক্যাপিটল ভবনের আশেপাশে রায়ট পুলিশের টহল চলছে। ওয়াশিংটনের মেয়র রাতে কারফিউ জারি করেছেন।
ডিসি’র পুলিশ প্রধান জানিয়েছেন স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত তারা ৫২ জনকে গ্রেফতার করেছেন।
এছাড়া দু’টি পাইপ বোমও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ওয়াশিংটন ডিসি’র মেয়র মিজ বাউজার কিছুক্ষণ আগে ক্যপিটল হিলের বিক্ষোভ সম্পর্কে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন।
তিনি জানান হাউজ রুমে অধিবেশন চলাকালে কয়েকজন জোরপূর্বক প্রবেশ করে। ঐ দলটির সদস্য ছিলেন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া নারী।
ঐ দলটিকে সাদা পোশাকের কয়েকজন কর্মকর্তা বাধা দেন এবং ঐ অফিসারদের একজনের গুলিতে ঐ নারী মারা যান।
মিজ বাউজার জানান নিহত হওয়া বাকি তিনজনের একজন নারী ও দুই জন পুরুষ।
এছাড়া মেট্রো পুলিশ ডিপার্টমেন্টের অন্তত ১৪ জন সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়া রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে ক্যাপিটল ভবনে প্রবেশ করার পর গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া প্রথম নারী সাবেক মার্কিন সেনা সদস্য স্যান ডিয়েগোর বাসিন্দা অ্যাশলি ব্যাবিট।
ওয়াশিংটন সময় দুপুর ৩টার দিকে তিনি গুলিবিদ্ধ হন এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে নিলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
ওয়াশিংটন ডিসি’র পুলিশ জানিয়েছে ক্যাপিটল ভবনে সহিংসতায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন।
এর আগে পুলিশের গুলিতে এক নারী নিহত হন, পরে ‘মেডিকেল ইমার্জেন্সি’ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় আহত আরো তিনজনের মৃত্য হয়।
এখন পযন্ত ৫২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে- যাদের মধ্যে ৪৭ জনকে কারফিউ ভাঙ্গার জন্য গ্রেফতার করা হয়েছে।
বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প এ্কটি নতুন ভিডিও শেয়ার করেন। ভিডিওতে তিনি তার সমর্থকদের ঘরে ফিরতে অনুরোধ করেন।
ভিডিওটি প্রকাশ করার কিছুক্ষণ আগে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত জো বাইডেন ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানান তার সমর্থকদের বিক্ষোভ থামাতে।
ভিডিওবার্তায় ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আমি আপনাদের কষ্ট বুঝি, আমি জানি আপনারা আঘাত পেয়েছেন।”
ঐ ভিডিওতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবারো অভিযোগ তোলেন যে নির্বাচনে ‘কারচুপি’ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “ক্যাপিটল হিলে হামলা বিক্ষোভ নয়, এটি বিদ্রোহ।”
আমেরিকার আইন-প্রণেতারা যখন নভেম্বরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জো বাইডেনের জয় আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করার জন্য অধিবেশনে বসেছিলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শত শত সমর্থক তখন আমেরিকার আইনসভা কংগ্রেসের ভবন ক্যাপিটল-এ ঢুকে পড়ে।
দিনের শুরুতে হাজার হাজার ট্রাম্প সমর্থক ''আমেরিকা বাচাও'' নামক একটি গণজমায়েতে অংশ নিতে ওয়াশিংটনে আসে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই জনসভায় ভাষণ দিয়ে জো বাইডেনের বিজয় অনুমোদন করার বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখেন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিলে সহিংসতার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
ক্যানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন 'গণতন্ত্রের ওপর হামলা'র ঘটনায় 'ক্যানাডিয়ানরা অত্যন্ত চিন্তিত।'
আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট অ্যালবার্টো ফার্নান্দেজ জো বাইডেনের প্রতি তার সমর্থন জানিয়েছেন এবং সহিংসতার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন।
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভান ডুক সহিংসতার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন এবং কংগ্রেসের সদস্যধের প্রতি তার সমর্থন জানিয়েছেন।
চিলির প্রেসিডেন্ট সেবাস্টিয়ান পিনেরা 'গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পরিবর্তনের প্রয়াস'এর নিন্দা জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিস্টোরিকাল সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী ১৮১২ সালের যুদ্ধের পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটলে এই ধরণের আগ্রাসন হল।
১৮১৪ সালেওয়াশিংটনে অভিযান চালানের সময় ব্রিটিশ বাহিনী নির্মাণাধীন ক্যাপিটল ভবনে আগুন জালিয়ে দেয়।
আমেরিকার আইন-প্রণেতারা যখন নভেম্বরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জো বাইডেনের জয় আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করার জন্য অধিবেশনে বসেছিলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শত শত সমর্থক তখন আমেরিকার আইনসভা কংগ্রেসের ভবন ক্যাপিটল-এ ঢুকে পড়ে।
দুপুরের পরই আমেরিকার রাজধানী শহরে এই নাটকীয় দৃশ্যে দেখা যায় - শত শত বিক্ষোভকারী ভবনটিতে ঢুকে পড়ছে আর পুলিশ কংগ্রেস সদস্যদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিচ্ছে।
কয়েক ঘণ্টা ভবন কার্যত দখল করে রাখার পর বিক্ষোভকারীরা ধীরে ধীরে ক্যাপিটল প্রাঙ্গণ ছেড়ে বাইরে চলে যেতে থাকে।
এই শোরগোলের মধ্যে মি. বাইডেনের জয় অনুমোদন করার জন্য কংগ্রেস অধিবেশন স্থগিত করা হয়।
হামলা চলাকালে ভবনের ভেতরে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করার খবর পাওয়া গেছে এবং অন্তত একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা যায়।
পরে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নারী মারা গেছেন বলে জানানো হয়।
সহিংসতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী শহর ওয়াশিংটনে বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্ফু জারি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এই কার্ফু কার্যকর থাকবে।
হামলার প্রেক্ষিতে ফেসবুক ঘোষণা করেছে যে তারা আগামী ২৪ ঘণ্টা ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফেসবুক পেজ থেকে কোন পোস্ট অনুমোদন করবে না।
এর আগে টুইটারও ট্রাম্পের অ্যাকাউন্ট ১২ ঘণ্টার জন্য লক করে দিয়েছে।
ক্যাপিটল হিলের সহিংসতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ওয়াশিংটন ডিসি'র মেট্রোপলিটান পুলিশ জানিয়েছে তারা বিভিন্ন ধরণের অন্তত ৫টি বন্দুক জব্দ করেছে।
পুলিশ বিভাগের প্রধান জানিয়েছেন আহত কয়েকজন পুলিশ অফিসারকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।