আম্পান পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে সারাদিন যা জানা গেল
বাংলাদেশ ও ভারতে ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র প্রকাশ পাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে মারা গেছে অন্তত ৭২ জন, বাংলাদেশে মৃতের সবশেষ হিসাব ১৬। বাংলাদেশে আর্থিক ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব সাড়ে এগারোশ কোটি টাকা। ঘূর্ণিঝড় সংক্রান্ত সকল ক্ষয়ক্ষতি ও অন্যান্য খবর পেতে নজর রাখুন বিবিসি বাংলার এই লাইভ পাতায়।
সরাসরি কভারেজ
রায়হান মাসুদ and মানসী বড়ুয়া
যশোরের অভয়নগরে একটি গাছও সোজা দাঁড়িয়ে নেই
সৌরভ কুমার দাস, অভয়নগরের এক শিক্ষার্থী বিবিসি বাংলাকে কিছু ছবি পাঠিয়েছেন। যেখানে দেখা গেছে আম্পানের প্রভাবে কীভাবে এই উপজেলায় গাছ ভেঙে পড়েছে।

ছবির উৎস, সৌরভ কুমার দাস
ছবির ক্যাপশান, অভয়নগর উপজেলায় গাছ ভেঙে পড়েছে 
ছবির উৎস, সৌরভ কুমার দাস
ছবির ক্যাপশান, অভয়নগর উপজেলায় গাছ ভেঙে পড়েছে 
ছবির উৎস, সৌরভ কুমার দাস
ছবির ক্যাপশান, বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে 
ছবির উৎস, সৌরভ কুমার দাস
ছবির ক্যাপশান, কোথাও কোথাও ভেঙে পড়েছে বাড়ির টিন ব্রেকিং, আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে সর্বশেষ, সতর্ক সংকেত নামিয়ে আনা হয়েছে তিনে
ঝড় এখন ঝিনাইদহ এলাকা থেকে ঢুকে রাজশাহী পাবনার দিকে ধাবমান।
তবে এটা অনেক দুর্বল হয়ে গেছে।
মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরে এখন তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত।
চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারেও তাই।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রামে ৪ থেকে ৬ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
তবে বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
ব্রেকিং, আম্পানে প্রাণহানি হয়েছে এখন পর্যন্ত ১০ জনের
এদের মধ্যে বেশিরভাগই গাছে চাপা পড়ে মারা গেছেন।
তবে নৌকা বা ট্রলার ডুবেও মারা গেছেন।
আজ নতুন করে মারা গেছেন একজন। যশোরের চৌগাছায় তার বাড়ি।
পটুয়াখালীতে মারা গেছে এক পাঁচ বছর বয়সী শিশু।
মাগুরায় ঝড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন

ছবির উৎস, গৌরাঙ্গ মণ্ডল
ছবির ক্যাপশান, ঝড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন বাংলাদেশে কোন জেলায় কতজন মারা গেছেন
পটুয়াখালী ২
ভোলা ১
বরগুনায় ১
বাগেরহাটে শরণখোলায় ১
সাতক্ষীরায় ১
অন্য আরেকটি জেলায় ১
মোংলা থেকে সর্বশেষ যা জানা যাচ্ছে
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: রাহাত মান্নান বলেন, সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নেয়া লোকজনের মাঝে বৃহস্পতিবার সকালেও খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার দিনে এবং রাতে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নেয় ৪৮ হাজার মানুষ। ঝড় কিছুটা কমে যাওয়ায় তারা এখন নিজ বাড়ীঘরে চলে যাচ্ছেন। তবে ঝড়ে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের তালিকা পাওয়ার পর জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
বন্দরের পশুর চ্যানেলের তীরবর্তী কানাইনগর, কলাতলা, সুন্দরতলাসহ বিভিন্ন জায়গার দুর্বল বেড়িবাঁধের কয়েকটি জায়গা ধ্বসে গেছে।
তবে আবহাওয়া অফিসের দেয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী কয়েক ফুট উচ্চতার জলোচ্ছাসের কথা বলা হলেও মোংলা সমুদ্র বন্দরের পশুর চ্যানেলসহ সুন্দরবনের নদ-নদীর পানির উচ্চতা অনেকটা স্বাভাবিক ছিল।
ফলে মোংলাসহ আশপাশ এলাকায় জলোচ্ছাসে প্লাবিত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে আম্পানের তান্ডবে পূর্ব সুন্দরবনের ঢাংমারী ষ্টেশন, লাউডোব, দুবলা ও মরাপশুর ক্যাম্পের জেটি, ঘরবাড়ীসহ অন্যান্য স্থাপনা এবং বনের গাছপালার বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো: বেলায়েত হোসেন। তবে এতে কোন জেলে নৌকা ডুবি, জেলে নিঁখোজ কিংবা হতাহতের খবর নেই বলেও জানান তিনি।
পশ্চিমবঙ্গ থেকে যেসব ছবি পাওয়া যাচ্ছে

ছবির উৎস, NDRC

ছবির উৎস, NDRC

ছবির উৎস, NDRC
পশ্চিমবঙ্গ লন্ডভন্ড, যেসব এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে একেবারে
কলকাতাসহ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে বুধবার বিকেল থেকে ঘূর্ণিঝড় আম্পান সাত-আট ঘণ্টা ধরে ধ্বংসলীলা চালানোর পর এখন কিছুটা শান্ত হয়েছে। তবে এখনো আকাশ মেঘলা রয়েছে।
গতরাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে ১০-১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ৪ জন কলকাতায় মারা গেছেন। এদের মধ্যে দুই জন দেয়াল চাপা পরে এবং দুজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছে। বাকিরা বিভিন্ন জেলায় মারা গেছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলায় ঘূর্ণিঝড়টি প্রথম আঘাত হানে। এই জেলা এবং উত্তর ২৪ পরগনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে তার পরিমাণ কত সেটি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ক্ষয়ক্ষতির পুরো চিত্র পেতে বেশ কয়েক দিন লেগে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সুন্দরবন এবং লাগোয়া এলাকা যেমন পাথরপ্রতিমা, ফুলতলি, নামখানা, বাসন্তি- এসব এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং উত্তর ২৪ পরগনা একেবারে ধ্বংস হয়ে গেছে।
উপকূলবর্তী এলাকা এবং কলকাতার বহু এলাকা এখনো বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। সমস্যা দেখা দিয়েছে মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং ইন্টারনেট সংযোগেও।
বিভিন্ন এলাকায় ঝড়ের কবলে পড়ে গাছ-পালা, ট্রাফিক সিগন্যালের পোস্ট ভেঙ্গে পড়ার খবর মিলেছে। এছাড়া কাঁচা বাড়ি ঘর ভেঙ্গে পড়েছে। বেশ কিছু বাড়ির টিনের চালাও উড়ে গেছে।

ছবির উৎস, Reuters
ছবির ক্যাপশান, শিশুকে আগলে রাখছেন মা ঝড় আঘাত হানার সময়ের একটি ছবি, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ

ছবির উৎস, Getty Images
পশুর নদীতে ট্যুরিস্ট লঞ্চ ডুবি
পশুর নদীতে ট্যুরিস্ট লঞ্চ ডুবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-কাঁচা ঘরবাড়ী ও সুন্দরবনের স্থাপনাসহ গাছপালার ক্ষয়ক্ষতি
ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে মোংলার পশুর নদীতে একটি ট্যুরিস্ট লঞ্চ ডুবে গেছে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠাসহ কাঁচা ঘরবাড়ী ও গাছপালার ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। প্লাবিত হয়েছে চিংড়ি ঘেরও। তবে ঝড়ে এখানে এখন পর্যন্ত কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
বৃস্পতিবারও মোংলা সমুদ্র বন্দরে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত বলবৎ রয়েছে। এর প্রভাবে বৃহস্পতিবার এ এলাকার উপর দিয়ে প্রচন্ড ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়া অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানাচ্ছে, ঘুর্ণিঝড় আম্পান এখন রাজশাহীতে অবস্থান করছে।
সেখানে ক্ষমতা হারিয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে সুপার সাইক্লোনটি।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, তারা যে কোন সময়ে মহাবিপদ সংকেত নামিয়ে স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এর আগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়ে দক্ষিণাঞ্চলীয় সাতক্ষীরা এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে ঘূর্ণিঝড়টি।
বিবিসি বাংলার এই লাইভ পাতায় সারাদিন পাবেন আম্পান নিয়ে সর্বশেষ আপডেট।
